সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

আদালত চত্বর থেকে হ্যান্ডকাফ পরা আসামির পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
আদালত চত্বর থেকে হ্যান্ডকাফ পরা আসামির পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজত থেকে মো. আজমাইন নামের এক আসামির পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার দুপুরে আশাশুনি থানা থেকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসার সময় তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে। আজমাইন (২৫) আশাশুনি উপজেলার উত্তর গোদাড়া গ্রামের মনিরুল গাজীর ছেলে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনুদ্দিন সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট গোদাড়া গ্রামে একটি মারপিটের ঘটনায় আশাশুনি থানায় একটি মামলা হয় (জিআর- ১৫৭/২৬)। ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে আজমাইনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দুপুর একটার দিকে মহেন্দ্রযোগে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। দেড়টার দিকে আজমাইনকে গারদে নিয়ে যাওয়ার পথে বারান্দায় তোলার সময় হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান তিনি। পরে পলাশপোল বউবাজার এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে আটক করে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় গণপূর্ত কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি, দ্রুত নিয়মিতকরণের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় গণপূর্ত কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি, দ্রুত নিয়মিতকরণের দাবি

সংবাদদাতা: গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের দাবিতে সাতক্ষীরায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন ১৬৪৭নং সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগ।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা গণপূর্ত ভবন প্রাঙ্গণে এ অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে গণপূর্ত বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা অংশ নেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন আবু দাউদ আলম, শেখ মেহদী হাসান, মো. জুবায়দুর রহমান ও মোছা. ফাতেমা খাতুন।

এ সময় বক্তারা বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে এলেও তাদের চাকরি নিয়মিতকরণসহ বেশ কিছু দাবি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রিভিউয়ের রায়, আইন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখার মতামত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের পক্ষে থাকার পরও বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শাখায় অপেক্ষমাণ রয়েছে।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ থাকা নিয়মিতকরণের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের মধ্যে কর্মস্থলে স্থিতিশীলতা ও কর্মস্পৃহা বাড়বে। তাই কোনো ধরনের বিলম্ব না করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের চাকরি নিয়মিত করার দাবি জানান বক্তারা।

এ ছাড়া ভাউচার, দৈনিকভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের অবিলম্বে কার্যভিত্তিক করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগের প্রচলিত প্রথা বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে নিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবিও তুলে ধরেন তারা।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিগুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকলেও এখনো কার্যকর সমাধান হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করবে-এমন প্রত্যাশা করেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন ১৬৪৭নং সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি থেকে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

এক বছর বিচারকশূন্য সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
এক বছর বিচারকশূন্য সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল
৫ হাজারের কাছাকাছি  মামলা ঝুলছে, দ্রুত বিচারক পদায়নের দাবি
বদিউজ্জামান:
সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ আট মাস ধরে কোনো বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একমাত্র এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি  মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন বিচারকার্য বন্ধ থাকায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি সহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর ২৩ আগস্ট একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য একমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে ট্রাইব্যুনালটি বিচারকশূন্য থাকায় বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৫ হাজারের কাছাকাছি মামলা বিচারাধীন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর মামলার বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মামলার বাদী, ভুক্তভোগী নারী ও শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত আদালতে এসে বিচারকার্যের অগ্রগতি না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক বিষয়। এসব মামলার দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তি ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি মাত্র ট্রাইব্যুনালে বিপুলসংখ্যক মামলা এবং দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় মামলার জট নিরসন কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জন্য একজন বিচারক পদায়নের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ/প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় সাতক্ষীরার হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য বিচারক পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য থাকায় বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত একজন বিচারক পদায়ন করা প্রয়োজন।”
আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির সদয় বিবেচনায় এনে দ্রুত সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একজন বিচারক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার মামলার বিচারকার্য পুনরায় গতিশীল হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হবে।

সুন্দরবনে ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ

অনলাইন ডেস্ক: সুন্দরবনের  শ্যালক চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় আশ্রয় নেওয়া জেলে বহর হানা দিয়ে একটি ফিশিং ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী। শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ অপহরণের ঘটনা। তবে রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে অপহরণের বিষয়টি জানাজানি হয়।

 

অপহৃত জেলেরা হলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৮), শিহাব হাওলাদার (৩৫), সাব্বির হাওলাদার (৩০), রিপন হাওলাদার (২৮) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের জাকির হাওলাদার (৪০)। অপহরণের পর জেলেরা কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি বন বিভাগ ও মহাজনরা।

 

অপহৃত জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানান, অপহরণের পর দস্যুরা এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করেনি। জেলেদেরকে বনের কোথায় নিয়ে গেছে তাও জানা সম্ভব হয়নি। অপহরণের খবর শুনে জেলেদের পরিবারে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

 

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর থেকে উঠে বেশ কয়েকটি ট্রলার নিয়ে জেলেরা শ্যালার চরের কালামিয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাত ১০ টার দিকে বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা এসে হানা দেয় জেলে বহরে। এসময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মৎস্য ব্যবসায়ী বাবুল মাঝির একটি ট্রলারসহ তিন জেলেকে এবং অপর দুটি ট্রলার থেকে আরও দুই জেলেসহ মোট পাঁচ জনকে তুলে নিয়ে যায়। জেলে অপহরণের খবর পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জেলেদের অপহরণের কথা আমরা শুনেছি। আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছি। বিষয়টি কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনকে জানানো হয়েছে। হঠাৎ করে বনদস্যুদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে।