বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আমার বাবা, ভালো বাবা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
আমার বাবা, ভালো বাবা/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

‘আমার বাবা ভালো বাবা।’ ছোট্ট তুবার মুখে বলা এই কয়েকটি শব্দই যেন পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য। আদালতের সাক্ষ্য নয়, কোনো তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যও নয়Ñএটি একজন শিশুর বিশ্বাসের কথা। বাবাকে বাঁধা অবস্থায় মারধর করতে দেখেও যে শিশু বাবার হাত ছাড়েনি, নিজের হাতে ক্ষুধার্ত বাবাকে চা-রুটি খাইয়েছে, তার কাছে বাবার পরিচয় একটাইÑতিনি তার বাবা।

 

বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের এই ঘটনা তাই কেবল একজন ব্যক্তিকে চুরির অভিযোগে মারধরের ঘটনা নয়। এর ভেতরে আছে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, সামাজিক অসহিষ্ণুতা, ব্যক্তিগত বিরোধের আশঙ্কা, শিশুর সামনে সহিংসতার ভয়াবহতা এবং সর্বোপরি আমাদের সামাজিক বিবেকের সংকট।অনিক সরদারের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ উঠেছিল।

 

অভিযোগ সত্য কি না, সেটি তদন্তের বিষয়। তাঁর দাবি, পূর্বশত্রুতা ও ভিটেমাটির বিরোধের জেরেই তাঁকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এই দাবিরও সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া দরকার। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্টÑকোনো অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে বেঁধে রেখে মারধর করার অধিকার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই।অভিযোগ আর অপরাধ এক নয়। এই সহজ কথাটিই আমরা বারবার ভুলে যাই।কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত হবে, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ হবে, প্রয়োজন হলে মামলা হবে এবং আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। এর বাইরে গিয়ে কাউকে শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা আইন ও ন্যায়বিচারÑদুটিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে। জনতার হাতে বিচার চলে গেলে সেখানে সত্যের চেয়ে শক্তি বড় হয়ে ওঠে। আর শক্তিশালীর হাতে দুর্বল মানুষের নিরাপত্তা থাকে না। এই ঘটনার সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিকটি অবশ্য অন্য জায়গায়।

 

একটি শিশু তার বাবাকে বাঁধা অবস্থায় মার খেতে দেখেছে।তুবা তখন কোনো আইন জানত না। সে জানত না ‘অভিযুক্ত’ শব্দের অর্থ। সে জানত না চুরির অভিযোগ কীভাবে প্রমাণ করতে হয়। সে শুধু দেখেছে, তার বাবাকে কয়েকজন মানুষ মারছে। তাই সে মানুষের কাছে বিচার চায়নি; বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পায়ে ধরে কেঁদেছে। একজন শিশুর এই আকুতি কি আমাদের সমাজের কাছে যথেষ্ট নয়? বাবার মুখে ক্ষুধার ছাপ দেখে তুবা নিজের হাতে চা ও রুটি তুলে দিয়েছে। দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মানুষ কেঁদেছে, ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, সহমর্মিতা জানিয়েছে। প্রশাসনও পাশে দাঁড়িয়েছে। এসব অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এমন দৃশ্য তৈরি হওয়ার আগেই যদি কেউ শিশুটির কান্না শুনত, তাহলে কি এত দূর গড়াত?

 

আমাদের সমাজে সহিংসতার দৃশ্য অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কেউ মার খাচ্ছে, আর কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেÑএই দৃশ্য এখন আর বিরল নয়। প্রযুক্তি আমাদের হাতে এসেছে তথ্য ও সত্য সংরক্ষণের শক্তি হিসেবে। কিন্তু মানুষের অসহায়ত্বকে বিনোদন বানানোর প্রবণতা আমাদের মানবিকতার বড় সংকেত।তুবার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুতর। কারণ শিশুরা যা দেখে, তা শুধু দেখে না; তারা তা মনে ধারণ করে। বাবাকে মারধরের সেই দৃশ্য তার শৈশবের স্মৃতিতে কতটা গভীর দাগ ফেলবে, তা এখনই বোঝা সম্ভব নয়। একজন শিশুর সামনে পারিবারিক নিরাপত্তার প্রতীক বাবাকে অপমানিত ও নির্যাতিত হতে দেখা তার মানসিক জগতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।তাই এ ঘটনার বিচার শুধু অনিক সরদারের জন্য নয়; তুবার মতো শিশুদের জন্যও জরুরি।

 

আরেকটি বিষয় আমাদের ভাবতে হবে। স্থানীয় বিরোধ, জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব কিংবা ব্যক্তিগত শত্রুতা যদি সত্যিই এই ঘটনার পেছনে থেকে থাকে, তবে তার সমাধানও আইনের পথেই হতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে কাউকে চোর বানিয়ে দেওয়া, সামাজিকভাবে হেয় করা বা শারীরিকভাবে নির্যাতন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ না থাকলে অভিযোগের নামে শাস্তি দেওয়া যাবে না। এই ন্যূনতম নীতিটুকু প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্র ও সমাজÑদুইয়েরই দায়িত্ব। উপজেলা প্রশাসন অনিক সরদারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে।

 

পরিবারটির খোরপোষের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানিয়েছে। মানবিক এই উদ্যোগ আপাতত পরিবারটিকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু এর পাশাপাশি প্রয়োজন ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা।কারণ শুধু একজন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা যথেষ্ট নয়; যে সামাজিক পরিবেশে একজন মানুষকে বেঁধে মারার সাহস তৈরি হয়, সেই পরিবেশও বদলাতে হবে।তুবার একটি চাওয়া খুব সাধারণÑবাবা সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন, একটি কাজ করবেন এবং তাঁদের সংসার আবার স্বাভাবিক হবে। একটি শিশুর কাছে সুখের সংজ্ঞা এতটুকুই। তার কোনো বড় দাবি নেই। সে রাষ্ট্রের কাছে বড় কিছু চায় না। সে শুধু চায় তার বাবা যেন নিরাপদে ঘরে ফেরেন।

 

আমাদের সমাজের দায়িত্ব কি এতটুকু নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা নয়?আজ তুবা বলছে, ‘আমার বাবা ভালো বাবা।’ ভবিষ্যতে তার এই বিশ্বাস যেন ভেঙে না যায়। সে যেন বড় হয়ে মনে না করে, মানুষের সমাজে দুর্বল মানুষের জন্য কোনো নিরাপত্তা নেই, অভিযোগ উঠলেই মানুষকে অপমান করা যায়, আর শিশুর কান্নারও কোনো মূল্য নেই।অনিক সরদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসুক। যদি অপরাধের প্রমাণ থাকে, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই নির্যাতনকে বিচার বলে মেনে নেওয়া যায় না।

 

শেষ পর্যন্ত তুবার কান্নাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি করে যায়-বাবা যদি ভুলও করেন, তাঁর বিচার আইন করবে; কিন্তু বাবাকে আমার চোখের সামনে মারবে কে? এই প্রশ্নের উত্তর আমাদের সবার দিতে হবে। একটি শিশুর বাবার প্রতি ভালোবাসা হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাভাবিক অনুভূতি গুলোর একটি। সেই ভালোবাসাকে যেন আর কখনো নির্যাতনের সাক্ষী হতে না হয়Ñএটাই হওয়া উচিত এই ঘটনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের নানান কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও বিশ্ব শিশু সপ্তাহের নানান কর্মসূচি

‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি (সুবর্ণজয়ন্তী), শিশু অধিকার দিবস এবং বিশ্ব শিশু সপ্তাহ ২০২৬ পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে আগামী ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি যৌথভাবে জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ৬ অক্টোবর সকাল ৯টায় বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকা থেকে একযোগে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষ থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শিশুরা এতে অংশ নেবে।

পরদিন ৭ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে খুলনা শিশু একাডেমিতে শিশুতোষ সাধারণ নৃত্য, দেশাত্মবোধকসংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পথশিশু, শ্রমজীবী শিশু, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুসহ প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ক ও খ গ্রুপে সরাসরি অংশ নিতে পারবে। ৮ অক্টোবর সকাল ১১টায় আলোচনা সভা, বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। তথ্যবিবরণী

খুলনায় পরিবেশ সুরক্ষায় ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
খুলনায় পরিবেশ সুরক্ষায় ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আলোচনা সভা

পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের ভূমিকা শীর্ষক এক আলোচনা সভা খুলনা পাবলিক কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে মাদকের বিস্তার রোধে জোরালো সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে পরিবার থেকে সচেতনতা শুরু করা এবং সন্তানকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া, খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা সামলাতে সরকারের পরিবেশ রক্ষাবিষয়ক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সবাইকে অংশ নেওয়ার তাগিদ দেন।
খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীর আব্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো: আহসানুর রহমান ও কেএমপির উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন কুমার রায়। অনুষ্ঠানে মূল আলোচক ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ এবং সঞ্চালনা করেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক আইনজীবী শেখ অলিউল ইসলাম। তথ্যবিবরণী

সাতক্ষীরায় নতুন কর্মজীবনের পথে ১৯০ সহকারী শিক্ষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নতুন কর্মজীবনের পথে ১৯০ সহকারী শিক্ষক

 

সংবাদদাতা: হাতে নিয়োগপত্র, চোখে নতুন স্বপ্ন-শিশুদের আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে সাতক্ষীরায় কর্মজীবন শুরু করলেন ১৯০ জন নবনিযুক্ত সহকারী শিক্ষক। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে যোগদানপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তাঁরা। নতুন কর্মজীবনে প্রবেশের দিনটি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে ছিল আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের। যোগদান শেষে বিভিন্ন উপজেলার নবনিযুক্ত শিক্ষকরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নবনিযুক্ত শিক্ষকদের উপজেলা পর্যায়ে ৪ থেকে ৮ অক্টোবর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হবে। ১১ অক্টোবর তাঁদের বিদ্যালয়ে পদায়নের আদেশ দেওয়া হবে। পরদিন ১২ অক্টোবর তাঁরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। নতুন শিক্ষকদের যোগদানের মধ্য দিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত হলো ১৯০ জন নতুন শিক্ষক। তাঁদের হাত ধরেই বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের পাঠদান ও ভবিষ্যৎ গড়ার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।