বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

এবার সত্যি সত্যি শুরু হয়েছে শাঁখরা বাজার সংলগ্ন বেইলি ব্রিজের সংস্কার কাজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
এবার সত্যি সত্যি শুরু হয়েছে শাঁখরা বাজার সংলগ্ন বেইলি ব্রিজের সংস্কার কাজ

ÃU

সীমান্ত প্রতিনিধি: অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা থানার সংযোগ স্থল শাখরা বাজার সংলগ্ন বেইলি ব্রিজটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসির মধ্যে ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে।

 

শাখরা-কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ জাকিরুল ইসলাম জানান, ব্রীজটি দীর্ঘ দিন যাবৎ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রতিনিয়ত ব্রিজে ঘটেছে দুর্ঘটনা। ইতিমধ্যে গত কয়েক মাস পূর্বে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথকভাবে ব্রিজটির সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেন। দেবহাটা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আল ফেরদৌস আলফা নিজস্ব অর্থায়নে ব্রিজটি কিছুটা চলাচলের উপযোগী করে দেন। তারপরও জনগনের ভোগান্তির অন্ত ছিল না।

এলাকাবাসীরা আরো জানায়, বহুদিনের প্রাচীন এই বেইলি ব্রিজটি বহুবছর ধরে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। প্রায়ই ব্রিজের ভাঙা অংশে পড়ে হাত পা ভেঙে কেটে-কুটে গুরুতর জখম হয়েছে অনেকেই। সাইকেল ভ্যান ভেঙে ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখিও হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরের প্রকৌশলীরা ব্রিজটি মেরামতেরও প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। তারপরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে, এবার সত্যি সত্যি কাজ শুরু হলো বলে তারা মনে করছেন।

জানা গেছে, ব্রিজটি সংস্কারে সরকারিভাবে ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে বুধবার (০৭/১০/২৬) সকাল ৭ টার সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ব্রিজটির সংস্কার কাজ শুরু করা হয়েছে। কাজটি শুরু হওয়ায় এলাকাবাসির মধ্যে ঈদের আনন্দ বিরাজ করছে। সেই সাথে এলাকাবাসি বিভিন্ন সময়ে ব্রিজের সংস্কার কাজ উদ্বোধনকারী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ঠ সকল মহল ও সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

 

Ads small one

আন্তর্জাতিক জন্ম নিবন্ধন দিবস: একটি শিশুর প্রথম আইনি পরিচয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক জন্ম নিবন্ধন দিবস: একটি শিশুর প্রথম আইনি পরিচয়

সাকিবুর রহমান বাবলা

৮ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক জন্ম নিবন্ধন দিবস। এটি জাতিসংঘ ঘোষিত কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস নয়; ২০১৮ সালে জনসন বেবি ও সেভ দ্য চিলড্রেনের যৌথ ‘দি রাইট স্টার্ট’ উদ্যোগের মাধ্যমে দিনটির আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রচার ও পালন শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় জন্ম নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং জন্মের পর প্রতিটি শিশুর আইনি পরিচয় নিশ্চিত করাই ছিল এ উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

জন্ম নিবন্ধন নিছক একটি সনদ বা কয়েকটি সংখ্যার সমষ্টি নয়; এটি রাষ্ট্রের কাছে একজন মানুষের অস্তিত্বের প্রথম সরকারি স্বীকৃতি। জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে শিশুর নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতা ও পারিবারিক পরিচয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সরকারি রেকর্ড তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বিবাহ নিবন্ধন, উত্তরাধিকারসহ নানা নাগরিক ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই রেকর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ফলে এটি শিশুর বর্তমান নিরাপত্তার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নাগরিক জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শিশুর জন্মের পর অবিলম্বে তাকে নিবন্ধন করতে হবে; জন্ম থেকেই তার নাম ও জাতীয়তা অর্জনের অধিকার রয়েছে এবং যতদূর সম্ভব পিতা-মাতাকে জানা ও তাদের দ্বারা লালিত-পালিত হওয়ার অধিকারও রয়েছে। একইভাবে আইসিসিপিআর-এর ২৪(২) অনুচ্ছেদ প্রত্যেক শিশুর জন্মের পর অবিলম্বে নিবন্ধনের অধিকার স্বীকার করেছে। জাতিসংঘের লিগ্যাল আইডেন্টিটি অ্যাজেন্ডাও জন্ম নিবন্ধনকে আইনি পরিচয় প্রতিষ্ঠার মৌলিক উপায় হিসেবে বিবেচনা করে।

জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৯-এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য, জন্ম নিবন্ধনসহ, আইনি পরিচয় নিশ্চিত করাই এ লক্ষ্যের উদ্দেশ্য। নির্ভরযোগ্য জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থা শুধু ব্যক্তির অধিকার রক্ষা করে না; জনসংখ্যা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের নির্ভুল পরিসংখ্যান তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জন্ম নিবন্ধনের ধারণা আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সৃষ্টি হলেও মানুষের জন্ম, বংশ ও পরিচয় সংরক্ষণের সামাজিক রীতি বহু প্রাচীন। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনে নাম, বংশপরিচয় ও গুরুত্বপূর্ণ জীবনের ঘটনাবলি লিখে রাখার ঐতিহ্য ধীরে ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক নিবন্ধন ব্যবস্থায় রূপ নেয়। ইউরোপে ১৬শ শতাব্দী থেকে গির্জাভিত্তিক নথি এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থা বিস্তৃত হয়। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ১ জুলাই ১৮৩৭ থেকে বেসামরিক জন্ম, বিবাহ ও মৃত্যু নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা চালু হয়।

বাংলাদেশের ভূখন্ডে আধুনিক জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি ব্রিটিশ আমলের ১৮৭৩ সালের ‘বার্থস অ্যান্ড ডেথস রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট’-এর সঙ্গে যুক্ত। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন পুরোনো কাঠামো চললেও ২০০১–২০০৬ সালে ইউনিসেফ-বাংলাদেশের সহায়তায় পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে নতুনভাবে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম বিস্তৃত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৭ ডিসেম্বর ২০০৪ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ প্রণীত হয় এবং ৩ জুলাই ২০০৬ থেকে তা কার্যকর হয়।

বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নিবন্ধন তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয় এবং ১৭ অঙ্কের অনন্য জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহৃত হচ্ছে। আইনে শিশুর জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মসংক্রান্ত তথ্য নিবন্ধকের কাছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে; বিলম্ব হলেও নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও ফি দিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ আছে।

জন্ম নিবন্ধন শিশুকে বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম, মানবপাচার ও বিভিন্ন ধরনের শোষণ থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়সের নির্ভরযোগ্য সরকারি প্রমাণ থাকলে শিশুর বয়স নিয়ে জালিয়াতি কমানো সম্ভব হয়। কোনো শিশু হারিয়ে গেলে বা বাস্তুচ্যুত বা ভবঘুরে হলে তার পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায়ও জন্ম নিবন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ, দুর্যোগ ও বাস্তুচ্যুতির পরিস্থিতিতে জন্ম নিবন্ধনের অভাব ভবিষ্যতে রাষ্ট্রহীনতা ও আইনি পরিচয় সংকটের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

অগ্রগতি সত্ত্বেও বিশ্বে এখনও বিপুলসংখ্যক শিশু জন্ম নিবন্ধনের বাইরে। ইউনিসেফ-এর সর্বশেষ বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১৫ কোটি শিশু এখনো নিবন্ধিত নয়; আরও পাঁচ কোটির বেশি শিশুর জন্ম নিবন্ধিত হলেও তাদের হাতে জন্মসনদের প্রমাণ নেই। নিম্নআয়ের পরিবার, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চল, দুর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা, দারিদ্র্য, সচেতনতার অভাব, বাস্তুচ্যুতি ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এ ক্ষেত্রে বড় বাধা।

বাংলাদেশে দুর্গম ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, দরিদ্র পরিবার এবং প্রশাসনিক বা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে সবার জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করা এখনও একটি চলমান চ্যালেঞ্জ; যদিও সরকার এ বিষয়ে পৃথক দপ্তর গঠন করেছে। তবে নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আরও সহজ, সুলভ, স্বচ্ছ এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্থানীয় সরকার সেবার সঙ্গে সমন্বিত করা জরুরি।

আধুনিক সরকারি জন্ম নিবন্ধন কোনো ধর্মীয় আচার থেকে সরাসরি উদ্ভূত নয়; তবে বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে শিশুর নামকরণ, বংশপরিচয় সংরক্ষণ এবং সমাজে তার আগমন ঘোষণা করার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। ইসলামে শিশুর সুন্দর নাম রাখা, পিতৃপরিচয় সংরক্ষণ এবং পরিচয় বিকৃত না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হিন্দুধর্মে নামকরণ সংস্কার শিশুর সামাজিক ও ধর্মীয় পরিচয় প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ আচার। খ্রিষ্টীয় সমাজে গির্জার বাপ্তিস্ম ও চার্চ রেজিস্টারে জন্ম বা দীক্ষার তথ্য সংরক্ষণের ঐতিহ্য রয়েছে। বৌদ্ধ সমাজেও শিশুর নামকরণ ও মঙ্গলকামনার সামাজিক-ধর্মীয় রীতি প্রচলিত। এসব ঐতিহ্যকে আধুনিক রাষ্ট্রীয় জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়; তবে পরিচয় সংরক্ষণের মানবিক ও সামাজিক প্রয়োজনের সঙ্গে এদের একটি ঐতিহাসিক সাদৃশ্য রয়েছে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর ৬ অক্টোবর জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবস পালিত হয়। তবে আন্তর্জাতিকভাবে ৮ অক্টোবরের দিবসটিও আমাদের মনে করিয়ে দেয়-একটি শিশুকে জন্মের পর শুধু পৃথিবীতে স্বাগত জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; তাকে রাষ্ট্রের নথিতে দৃশ্যমান করাও জরুরি।

জন্ম নিবন্ধন তাই কাগজের সনদ নয়, এটি একজন মানুষের ‘অধিকার পাওয়ার অধিকার’-এর প্রথম ভিত্তি। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি শিশুকে আইনি পরিচয়ের আওতায় আনা মানে তাকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক মর্যাদার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া। একটি শিশুকে গণনায় আনা মানে শুধু একটি সংখ্যা যোগ করা নয়-একটি জীবনকে রাষ্ট্র ও পৃথিবীর কাছে দৃশ্যমান করা। আর যে রাষ্ট্র তার প্রতিটি শিশুকে জন্ম থেকেই দৃশ্যমান ও স্বীকৃত করে, সে রাষ্ট্রই অধিকতর মানবিক, নিরাপদ ও ভবিষ্যৎমুখী।

সাতক্ষীরায় সড়ক-নিরাপত্তা সংকট: আর কত প্রাণ গেলে জাগবে প্রশাসন?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সড়ক-নিরাপত্তা সংকট: আর কত প্রাণ গেলে জাগবে প্রশাসন?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সাতক্ষীরার সড়ক যেন দিন দিন সাধারণ মানুষের জন্য এক অদৃশ্য আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে। সাতক্ষীরা-খুলনা ও সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কোথাও প্রাণ যাচ্ছে, কোথাও কেউ আহত হয়ে দীর্ঘদিনের জন্য কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন, আবার কোনো পরিবার একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটিকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।

 

প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতার কথা শোনা যায়, আইন প্রয়োগের আশ্বাস আসে। তারপর আবার সবকিছু আগের মতো হয়ে যায়। প্রশ্ন-আর কত প্রাণ গেলে আমরা বুঝব এটি বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়, একটি দীর্ঘস্থায়ী সড়ক-নিরাপত্তা সংকট? সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের বেপরোয়া গতি বা অসতর্কতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাথে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত গতি, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, অবৈধ থ্রি-হুইলারের দাপট, যথাযথ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

 

কিছু জায়গায় সড়কের পাশে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জনবসতি রয়েছে, অথচ সেখানে পর্যাপ্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইন, জেব্রা ক্রসিং বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই। ফলে একটি ব্যস্ত মহাসড়ক একই সঙ্গে যানবাহনের চলাচলের পথ এবং মানুষের দৈনন্দিন পারাপারের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা একটি সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলা। কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সবকিছুর সঙ্গে জেলার সড়ক যোগাযোগ সরাসরি যুক্ত। ফলে সড়কে নিরাপত্তাহীনতা শুধু কয়েকটি দুর্ঘটনার হিসাব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলার অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে সাতক্ষীরা-খুলনা এবং সাতক্ষীরা-যশোর সড়কে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যান একই সড়ক ব্যবহার করে।

 

যানবাহনের এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও কৃঙ্খলা না থাকায়, দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়ক নিরাপত্তার আলোচনায় পথচারীদের কথা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। অথচ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে মহাসড়ক পার হতে হয়। কোথাও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, কোথাও পর্যাপ্ত আলো নেই, আবার কোথাও সড়কের পাশে বাজার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও পথচারীর জন্য পারাপারের সঠিক ব্যবস্থা নেই।

লেখক: গাজী মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা, উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী।

 

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশ অমান্য মন্দিরের ঘেরের মাছ লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশ অমান্য মন্দিরের ঘেরের মাছ লুট

পত্রদূত ডেস্ক: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশ উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার দেবহাটার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধাগোবিন্দ মন্দিরের ঘের থেকে মাছ লুট করা হয়েছে।

পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য তপন কুমার রায় জানান, সম্প্রতি একই এলাকার বাবুরালী গাজীর ছেলে জামাল ফারুক ও মাহাবুবর রহমান ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের ৩৫ শতক জমি ক্রয় সূত্রে দাবি করে ১৯৯৫ সালে দেঃ ১/৯৫ মামলা করলেও পরের বছর খারিজ হয়ে যায়।

 

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর জামাল ফারুক ও মাহাবুবর রহমান মন্দিরর জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মার্চ গভীর রাতে মন্দিরের প্রাচীর ভাংচুর ও তাদের চাষকৃত গলদা, বাগদা, রুই, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুঠ করে নিয়ে যায জামাল ফারুক ও মাহাবুবর রহমানসহ তাদের ভাড়াটিয়া লোকজন। বাধা দেওয়ায় তাদের ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়।

 

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এরপর গত ১৫ জুলাই মন্দিরের পুকুর ও ঘের থেকে জামাল ও মাহাবুবরের নেতৃত্বে আবারো মাছ লুট করার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় জামাল ফকির বাদি হয়ে আদালতে সিআরপি-১৪৬/২৬ নং মামলা করে। মামলায় হীরুলাল, প্রভাস রায়সহ চারজনকে বিবাদী করা হয়। সোমবার আদালত থেকে জামিন নেন তারা। এতে ক্ষুব্ধ জামাল ফারুক, মহিদ, বাবর আলী, মিন্টু, এলা ঢালীসহ ১০/১২ জন সোমবার বিকেলে মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

 

৯৯৯ এ ফোন দিলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক বিপ্লব মালাকারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে তিনি জামাল ফারুকসহ চারজনের নামে থানায় জিডি করেন। মঙ্গলবার দুপুরে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন মন্দিরে আসেন। তারা মন্দিরের সাইনবোর্ড ও নেটপাটা সন্ধ্যর মধ্যে ফেরৎ দেওয়ার জন্য জামাল ফারুককে নির্দেশ দেন। একইসাথে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জলাশয় থেকে মাছ না ধরার জন্য নির্দেশ দেন।

তপন রায় অভিযোগ করে বলেন, মন্দিরের সাইনবোর্ড ও নেটপাটা ফেরৎ না দিয়ে বুধবার সকালে জামাল ফারুকের নেতৃত্বে আবারো মন্দিরর ঘেরের মাছ লুট করা হয়। বাধা দিলে সশস্ত্র ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করে বাড়ির মধ্যে চলে আসে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকাড়া গ্রামের জামাল ফারুক সাংবাদিক পরিচয় জেনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা জানান, নির্দেশনা না মানলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।