মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কপিলমুনিতে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান, সড়ক নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান, সড়ক নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনিতে প্রধান সড়ক সরলীকরণের নামে প্রাথমিক নকশা পরিবর্তন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ পরিশোধ না করেই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কপিলমুনি বাজারের অধিগ্রহণকৃত জমির স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তৃতীয় দফায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রবিবার সকাল থেকে বুলডোজার দিয়ে কপিলমুনি জাফর আউলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের মূল্যবান আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার ন্যূনতম সময়টুকুও দেওয়া হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শেখ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনা ও প্রায় তিন শতক জমির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা। কিন্তু সওজ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব মূল্যায়নে তা পৌনে তিন কোটি টাকা নির্ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত সেই টাকা পরিশোধ করেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী তানিমুল ইসলামের কাছে মালামাল সরানোর সময় চাওয়া হলেও তিনি তা না দিয়ে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। এর আগে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের কারণে সওজের এই অভিযান ছয় মাস বন্ধ ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মূল নকশা পরিবর্তন করে সড়ক সোজা করতে গিয়ে নতুন করে দুটি বিপজ্জনক বাঁক তৈরি করা হয়েছে। এতে স্থানীয় হাসপাতাল ও মাদ্রাসার সামনের অংশটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৬ ও ৭ ডিসেম্বর মাদ্রাসার একটি ভবন ভাঙতে গেলে সওজ কর্মকর্তারা বাধার মুখে পড়েন এবং অভিযান স্থগিত হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতেও স্থানীয়রা মূল নকশা বজায় রাখার দাবি জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদও মূল নকশা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও উচ্ছেদ শুরু হওয়ায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

 

Ads small one

পানীয় জল সংরক্ষণে মাটির ‘মেটে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
পানীয় জল সংরক্ষণে মাটির ‘মেটে’

শ্যামনগর প্রতিনিধি: উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপদ পানীয় জল সংরক্ষণ, প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় উৎসাহিত করতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মাটির তৈরি পাত্র (মেটে) বিতরণ করা হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বারসিক’-এর উদ্যোগে উপজেলার ২৫০টি পরিবারের মাঝে এ মেটে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে শ্যামনগর উপজেলার আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ শামসুজ্জাহান কনক। প্রথম পর্যায়ে আটজন নারীর হাতে মাটির মেটে তুলে দেওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্লাস্টিকের পাত্রে পানি রাখা জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এর বিকল্প হিসেবে মাটির পাত্র ব্যবহার সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত। এটি বিদ্যুৎ ছাড়াই পানি প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা রাখে, পানির গুণাগুণ বজায় রাখে এবং প্লাস্টিক দূষণ কমায়।
অনুষ্ঠানে মাটির মেটে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম, নিরাপদ পানি সংরক্ষণ, এবং এর স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় মৃৎশিল্পের বিকাশ ও পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

শ্যামনগরের কৈখালীতে পাচারের অভিযোগে বিএডিসির ৭৫ বস্তা সার আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরের কৈখালীতে পাচারের অভিযোগে বিএডিসির ৭৫ বস্তা সার আটক

0-4480x2016-0-0-{}-0-12#

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে পাচারের অভিযোগে বিএডিসির ৭৫ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই), সকাল ১০ টায় কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী চেয়ারম্যান বাড়ী মোড়ে চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে উক্ত সার জব্দ করা হয়। চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম জানান, বিএডিসির সার মূলত নিবন্ধিত সার ডিলার ও কৃষকেরা পেয়ে থাকেন।

 

সরকারের সমন্বিত নীতিমালা অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলাররা বিএডিসি থেকে সরকারি মূল্যে ও কোটায় সার তুলে মাঠ পর্যায়ে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কৈখালী ইউনিয়নের বোশখালী গ্রামের আদর আলীর পুত্র, আরিক এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ আমিনুর রহমান শাপলা এন্টারপ্রাইজ নামীয় একটি লাইসেন্স নিয়ে বিএডিসির সার উত্তোলন করেন। শাপলা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্সের মালিক সাতক্ষীরার জনৈক রোজিনা খাতুন।

কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রহিম আরো বলেন, আমিনুর রহমানের বিএডিসির লাইসেন্স না থাকার পরেও সাতক্ষীরার রোজিনা খাতুনের নামীয় শাপলা এন্টারপ্রাইজের লাইসেন্স ব্যবহার করে সার উত্তোলন করে কৈখালী ইউনিয়নের প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ন্যায্য মূল্যে বিক্রয় না করে কৌশলে উচ্চ দামে অন্য ইউনিয়নে বিক্রয় করে আসছেন। আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শাপলা এন্টারপ্রাইজের ট্রেড লাইসেন্স নাই বা ইউনিয়নে সারের কোন গোডাউন নাই। বিষয়টি নিয়ে আমি বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে অভিযোগ করলেও সমাধান হয়নি। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নে সার পাচার করার সময় আমি জব্দ করি।

জয়াখালী গ্রামের কৃষক মোহাম্মাদ আলীর পুত্র হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা বিএডিসির ডিলালের কাছে গিয়ে সার ক্রয় করতে পারি না। সার নিলে বিষ নিতে হবে এমন শর্ত বেধে দেন ডিলার। এ কারনে বাইরে থেকে বেশি দামে সার ক্রয় করতে হয়।
এ বিষয়ে আমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।

শ্যামনগর উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দিবাশীষ দাস বলেন, বিষয়টি চেয়ারম্যান জানানোর পরে স্যারকে অবগত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক বলেন, বিষয়টি জানার পরে কৃষি অফিসারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

যশোরে জামায়াতের এমপির বাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
যশোরে জামায়াতের এমপির বাড়ি ভাঙচুর, মহাসড়ক অবরোধ

অনলাইন ডেস্ক: যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের শহরের নীলগঞ্জের বাড়ি ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায় বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে ওই নারীর মাথা ফেটে যায়।

জানা যায়, বিরোধের এ ঘটনা সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খুললে গোলাম রসুল তা বন্ধ রাখতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে তারা একত্রিত হয়ে এমপির বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।

 

বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব সময়ই গোলাম রসুল ও তার মেয়ে খারাপ আচরণ করে আসছেন। এরপর এমপির মেয়ে এক নারীকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তার ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাকে মারপিটের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তারা এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ের বিচারের দাবিতে দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান করে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খানসহ একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন।

 

এ বিষয়ে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা জানান, তার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুরা বিভিন্ন সময় এসে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করেছিলেন তার মেয়ে অন্যনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়েছে। এখন অহেতুক তাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।