কপিলমুনিতে ক্ষতিপূরণ ছাড়াই উচ্ছেদ অভিযান, সড়ক নকশা পরিবর্তনের অভিযোগ
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনিতে প্রধান সড়ক সরলীকরণের নামে প্রাথমিক নকশা পরিবর্তন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ পরিশোধ না করেই উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কপিলমুনি বাজারের অধিগ্রহণকৃত জমির স্থাপনার ক্ষতিপূরণ না দিয়ে তৃতীয় দফায় এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
রবিবার সকাল থেকে বুলডোজার দিয়ে কপিলমুনি জাফর আউলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বেশ কিছু দোকানপাট ও বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাঁদের মূল্যবান আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার ন্যূনতম সময়টুকুও দেওয়া হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শেখ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, উচ্ছেদ হওয়া স্থাপনা ও প্রায় তিন শতক জমির বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে তিন কোটি টাকা। কিন্তু সওজ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব মূল্যায়নে তা পৌনে তিন কোটি টাকা নির্ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত সেই টাকা পরিশোধ করেনি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, উচ্ছেদ অভিযানের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী তানিমুল ইসলামের কাছে মালামাল সরানোর সময় চাওয়া হলেও তিনি তা না দিয়ে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন। এর আগে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের কারণে সওজের এই অভিযান ছয় মাস বন্ধ ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মূল নকশা পরিবর্তন করে সড়ক সোজা করতে গিয়ে নতুন করে দুটি বিপজ্জনক বাঁক তৈরি করা হয়েছে। এতে স্থানীয় হাসপাতাল ও মাদ্রাসার সামনের অংশটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৬ ও ৭ ডিসেম্বর মাদ্রাসার একটি ভবন ভাঙতে গেলে সওজ কর্মকর্তারা বাধার মুখে পড়েন এবং অভিযান স্থগিত হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের গণশুনানিতেও স্থানীয়রা মূল নকশা বজায় রাখার দাবি জানান। স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদও মূল নকশা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও উচ্ছেদ শুরু হওয়ায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।










