শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কয়রায় জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, বিচারে মানববন্ধনে উত্তাল এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
কয়রায় জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যু, বিচারে মানববন্ধনে উত্তাল এলাকা

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুরুতর আহত পল্লী চিকিৎসক গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রিয়জন হারানোর শোক বুকে নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন নিহতের পরিবারের সদস্য, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের রাজ্জাক চেয়ারম্যানের মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান ও মনিরুজ্জামান বেল্টু, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শরিফুল আলম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম খোকা, উপকূল ও সুন্দরবন সংরক্ষণ আন্দোলনের সভাপতি এম আনোয়ার হোসেন এবং নিহত গোলাম রব্বানীর মেয়ে বৈশাখী ও ছেলে বিল্লাল সরদারসহ অন্যরা।
বক্তারা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একজন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

 

গোলাম রব্বানীর মৃত্যুর কারণ ও সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। স্বজনকে হারিয়ে পরিবারটি গভীর শোক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানান তাঁরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ অক্টোবর সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মঠবাড়ী গ্রামে ১৩ শতক সরকারি জমির দখল ও কলাগাছ কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাম রব্বানী (৫২) এবং তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্দিক সরদার (২৬)-এর পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গোলাম রব্বানীসহ চারজন গুরুতর আহত হন। আহত অন্যরা হলেন তাঁর ছেলে বিল্লাল সরদার (১৭), স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৮) ও মা রাহিলা বেগম (৫৫)।

আহতদের প্রথমে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গোলাম রব্বানীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ অক্টোবর বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আজমিরা খাতুন (১৮) ও তাসলিমা বেগম (৩৫) নামের দুজনকে আটক করা হয়েছে।

Ads small one

আবার ইমরানুর ও শিরিন দ্রুততম মানব-মানবী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৭ অপরাহ্ণ
আবার ইমরানুর ও শিরিন দ্রুততম মানব-মানবী

কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে আবারও দেশের দ্রুততম মানব–মানবী হয়েছেন ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার।

শত্রিবার (২৩ অক্টোবর)জাতীয় স্টেডিয়ামে পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড় ১০.৫৩ সেকেন্ডে শেষ করে প্রথম হন ইমরানুর রহমান। ১০.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন নৌবাহিনীরই মোহাম্মদ ইসমাইল। ১০.৭৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় স্থান সেনাবাহিনীর তারেক রহমানের।

নারীদের ১০০ মিটারে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে শীর্ষস্থান দখল করেন শিরিন আক্তার। দ্বিতীয় হয়েছেন সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন, সময় ১২.২৩ সেকেন্ড। ১২.৩৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে তৃতীয় হন নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান।

জয়ের পর শিরিন বললেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে প্রথম হয়ে ভালো লাগছে।’ এই পারফরম্যান্স সাফ প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতেও অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে আশা করছেন এ অ্যাথলেট।

অন্যদিকে অ্যাথলেটদের সুযোগ-সুবিধা উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইমরানুর রহমান। আয়োজকদের প্রত্যাশা, অ্যাথলেটদের জন্য মানসম্মত আবাসন, পুষ্টিকর খাবার ও যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

পিএইচপি ত্রুটিতে সতর্কতা: সাইবার ঝুঁকি কতটা গভীর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
পিএইচপি ত্রুটিতে সতর্কতা: সাইবার ঝুঁকি কতটা গভীর?

বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি কত প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষা না করে সার্ভার যাচাই ও নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে হবে।

পিএইচপির ত্রুটিটি আসলে কী?

ওয়েবসাইট ও ওয়েবভিত্তিক সেবা তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি। এই ভাষার মূল সফটওয়্যারে সম্প্রতি দুটি গুরুতর নিরাপত্তাত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। এগুলোকে একসঙ্গে ‘পিএইচপি২শেল’ নামে উল্লেখ করা হচ্ছে। এগুলোর শনাক্তকরণ নম্বর ‘সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৮’ ও ‘সিভিই-২০২৬-১০৯৬১৯। ত্রুটি দুটির ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২, যা উচ্চ ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।

ত্রুটি দুটির কারণে কিছু পরিস্থিতিতে কোনো ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই ছাড়াই দূর থেকে আক্রান্ত সার্ভারে ক্ষতিকর নির্দেশনা চালানো সম্ভব হতে পারে। এতে সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, তথ্য চুরি কিংবা ওয়েবসাইটের কার্যক্রম ব্যাহত করার ঝুঁকি রয়েছে। অর্থাৎ, সমস্যা শুধু ওয়েবসাইটের কোনো পৃষ্ঠায় নয়; ওয়েবসাইট পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত মূল সফটওয়্যারেও।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনএইচএস ইংল্যান্ড ডিজিটাল জানিয়েছে, ত্রুটি দুটির কার্যকর প্রয়োগ দেখানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার আশঙ্কা বেশি। তবে কোনো সার্ভারে ত্রুটি থাকা মানেই এই নয় যে সেটি ইতিমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে।

কারা এর ঝুঁকিতে?

যেসব ওয়েবসাইট ও সার্ভারে ত্রুটিযুক্ত পিএইচপি সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো ঝুঁকিতে থাকতে পারে। এর মধ্যে সরকারি পোর্টাল, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সংবাদমাধ্যম, অনলাইন ব্যবসা এবং বিভিন্ন ওয়েবভিত্তিক সেবা রয়েছে। তবে ঝুঁকি নির্ভর করছে কোন সংস্করণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সার্ভারের বিন্যাস কেমন এবং নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রয়োগ করা হয়েছে কি না; এসব বিষয়ের ওপর।

বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় তথ্য বাতায়নের ওয়েবসাইটগুলো পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) সূত্রের ভাষ্য, তাদের জাতীয় পোর্টাল পিএইচপিতে তৈরি নয়। ফলে সেগুলো সরাসরি এই ত্রুটির ঝুঁকিতে থাকার কথা নয়। তবে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা পিএইচপিতে তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

দেশের কতটি ওয়েবসাইট বা সার্ভারে পিএইচপি চলছে, তার পূর্ণাঙ্গ ও যাচাই করা হিসাব পাওয়া যায়নি। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ডিজিটাল ফরেনসিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর হাসান জোহার ধারণা, বাংলাদেশের সরকারি ওয়েবসাইটের ৬০ থেকে ৮৫ শতাংশে পিএইচপি ব্যবহৃত হতে পারে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে তানভীর হাসান জোহা বলেন, প্রথমেই কোন সার্ভারে পিএইচপির কোন সংস্করণ চলছে, তার তালিকা করতে হবে। বিশেষ করে সরাসরি ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত সার্ভারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরীক্ষা ও সুরক্ষিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট কেন বন্ধ?

গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেসময় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইটটি অফলাইনে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার পর এটি চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।

একই সময়ে পিএইচপির ত্রুটি নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কতা জারি হওয়ায় দুটি ঘটনার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট এই ত্রুটির কারণে আক্রান্ত হয়েছিল, এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ব্যাংকের প্রকাশিত বক্তব্যে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার কারণ হিসেবে সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি এড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে কী ঘটছে?

পিএইচপির ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডের কিছু সংস্থা ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে বা সেবা সীমিত করেছে। জাপানের নোমুরা ও মিতসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যানশিয়াল গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানও সেবা স্থগিত করার খবর এসেছে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাউডফ্লেয়ার তাদের ব্যবস্থায় হামলার চেষ্টা হাজার থেকে লাখে বেড়ে যাওয়ার তথ্য জানিয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান সেনসিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ লাখ সার্ভারের মধ্যে প্রায় ১৫ লাখে তখনো নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রয়োগ করা হয়নি। এই তথ্যগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ঝুঁকির ব্যাপকতা বোঝালেও বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট আক্রান্ত হয়েছে; তা প্রমাণ করে না।

ঝুঁকি কমাতে এখন কী করা দরকার?

বাংলাদেশ সরকারের সাইবার নিরাপত্তা ঘটনার প্রতিক্রিয়া ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা বিজিডি ই-গভ সার্ট ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে সতর্কতা জারি করে। সংস্থাটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সার্ভারে কোথায় পিএইচপি ব্যবহৃত হচ্ছে, কোন সংস্করণ চলছে এবং কোনগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে, তা দ্রুত শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে।

পিএইচপি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ত্রুটি সমাধানে ৮.৫.১২, ৮.৪.২৭, ৮.৩.৩৬ ও ৮.২.৩৫ সংস্করণ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের ব্যবহৃত সংস্করণ অনুযায়ী উপযুক্ত নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রয়োগ করতে হবে। শুধু ওয়েবসাইটের অ্যাপ্লিকেশন বা কাঠামো হালনাগাদ করলেই হবে না; সার্ভারে ওয়েব অনুরোধ পরিচালনাকারী পিএইচপি সফটওয়্যারেও সংশোধন কার্যকর হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

তাৎক্ষণিকভাবে হালনাগাদ করা সম্ভব না হলে ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে প্রবেশাধিকার সীমিত করা, নির্দিষ্ট ঠিকানা থেকে সংযোগ অনুমোদন করা এবং প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সার্ভারের ইন্টারনেট সংযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সার্ভারের সাম্প্রতিক লগ পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক অনুরোধ, অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা কিংবা সন্দেহজনক কার্যক্রমের চিহ্ন খুঁজতে হবে। আগে থেকেই কোনো অনুপ্রবেশ ঘটেছে কি না, সেটিও যাচাই করা জরুরি। সফটওয়্যার হালনাগাদ করলেই আগের অনুপ্রবেশ বা ক্ষতিকর পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূর হয় না।

তানভীর হাসান জোহা মনে করেন, শুধু নিরাপত্তা সফটওয়্যার কিনে রাখলেই হবে না। সময়মতো হালনাগাদ, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি, পরীক্ষিত ব্যাকআপ এবং সাইবার ঘটনার জবাব দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দল থাকা জরুরি। তার ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কোনো দাবি তদন্তের সূত্র হতে পারে, কিন্তু সেটি নিজে থেকেই কোনো সিস্টেম আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ নয়।

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রস্তুতি কতটা?

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ তদন্তে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) সাইবার অপরাধের ১৯১টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি জিআর এবং ১৫৯টি সিআর মামলা। এসব মামলায় ১০১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) আট বিভাগে সাইবার অপরাধের ৩০৫টি মামলা হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৪০৬ জনকে।

পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে। সিআইডির সাইবার ট্রেনিং সেন্টার, ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুলে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। ডিএমপির গোয়েন্দা শাখায় সাইবার ল্যাব রয়েছে; কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটে ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ১ অক্টোবর ঢাকায় আলাদা সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠনের কথা জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এতে পুলিশ ও অন্যান্য পর্যায়ের ৪ হাজার ৫৯২ জন জনবল রয়েছে। বিভাগ, জেলা ও থানাপর্যায়ে সাইবার অপরাধ তদন্তে আলাদা কার্যক্রম বা ডেস্কও চালু করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ সাধারণ সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় সহায়ক হলেও পিএইচপি২শেলের মতো নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত দুর্বলতা মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করতে সার্ভার পর্যায়ের তদন্ত, দ্রুত তথ্য বিনিময় ও ডিজিটাল ফরেনসিকের কার্যকারিতাও দেখতে হবে।

আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন দ্রুত যাচাই

পিএইচপির নিরাপত্তাত্রুটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আবার যাচাই ছাড়া কোনো ওয়েবসাইট বা প্রতিষ্ঠানকে আক্রান্ত ঘোষণা করাও ঠিক হবে না। কোনো সার্ভার ঝুঁকিতে আছে কি না, সেটি নির্ভর করে ব্যবহৃত সফটওয়্যার সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ এবং সার্ভারের বিন্যাসের ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর এখনই সার্ভারের তালিকা তৈরি, ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ শনাক্ত, নিরাপত্তা হালনাগাদ প্রয়োগ এবং সন্দেহজনক কার্যক্রমের তদন্ত করা দরকার। সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও অপরিচিত লিংকে প্রবেশ, পাসওয়ার্ড বা এককালীন পিন (ওটিপি) দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘ভবিষ্যতে সাইট বন্ধ না করে সেবা চালু রাখার প্রস্তুতিও জরুরি, যেমন স্ট্যাটিক মিরর ও বিকল্প ঘোষণা-মাধ্যম। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত সফল হামলার খবর আমি পাইনি। তাই আতঙ্ক নয়, দ্রুত পদক্ষেপই কাম্য।’

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘শুধু অফিসিয়াল অ্যাপ ও চ্যানেল ব্যবহার করুন। ওটিপি বা পিন কাউকে দেবেন না, আর ‘সাইট বন্ধ, লিংকে তথ্য দিনৎ ধরনের বার্তা এড়িয়ে চলুন। সাইবার নিরাপত্তা ভয়ের নয়, অভ্যাসের বিষয়।’

সম্পাদকীয়/ উপকূলের নিরাপত্তা ও মেগা প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ উপকূলের নিরাপত্তা ও মেগা প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে

উপকূলীয় অঞ্চল শ্যামনগরের দুই দুটি অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের সাম্প্রতিক পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক সফর নয়, বরং এটি শ্যামনগরের প্রান্তিক জনপদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সংকট ও মানুষের জীবনযাত্রার বাস্তব চিত্র পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। গাবুরায় চলমান মেগা প্রকল্পের কাজের মান পর্যবেক্ষণ এবং মুণ্ডা জনগোষ্ঠীর জীবনমান নিয়ে পৃথক দুটি বৈঠকে ভূখণ্ডটির মূল সমস্যাগুলো অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—যেখানে প্রধান হয়ে দাঁড়িয়েছে জলদস্যুদের পুনরুত্থান, অবকাঠামোগত অনিশ্চয়তা, মেগা প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও জলবায়ু-দুর্গত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।

গাবুরার মতো বিচ্ছিন্ন উপকূলীয় দ্বীপে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা স্বস্তির। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের মূল আশঙ্কার জায়গাটি প্রকল্পের নকশা প্রকাশের অভাব, স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং কাজের গুণগত মান নিয়ে। উপকূলীয় এলাকায় বারবার দেখা গেছে, সঠিক তদারকি ও টেকসই পরিকল্পনার অভাবে কোটি কোটি টাকার বাঁধ অল্প কয়েক বছরের মধ্যে নদীর পেটে বিলীন হয়ে যায়। তাই জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে মেগা প্রকল্পের কাজের মান ও সঠিক নকশা জনসমক্ষে প্রকাশের যে দাবি উঠেছে, তা প্রশাসনিক গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত। শুধু দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন নয়, টেকসই বাঁধ ও সড়ক নির্মাণই পারে জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এই জনপদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে।

একই সঙ্গে সুপেয় পানির তীব্র সংকট, স্বাস্থ্যসেবার দৈন্যদশা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব উপকূলীয় এলাকার নিত্যদিনের বাস্তবতা। আরও ভয়াবহ সংকেত দিচ্ছে সুন্দরবনে জলদস্যুদের নতুন করে বেপরোয়া তৎপরতা। একসময় আত্মসমর্পণ করা জলদস্যুদের কেউ কেউ আবারও পুরানো অপরাধের পথে পা বাড়াচ্ছে—এ তথ্য উপকূলের জেলে, বাওয়ালি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং জীবিকাকে চরম হুমকিতে ফেলেছে। জলদস্যু দমন না হলে সুন্দরবন-নির্ভর হাজার হাজার পরিবারের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়বে।

অন্যদিকে, সুন্দরবনের ভূমিপুত্র বলে পরিচিত আদিবাসী মুণ্ডা সম্প্রদায়ের সংকট আরও গভীর ও সংবেদনশীল। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম শিকার এই নৃগোষ্ঠী আজ নিজেদের ভাষা, সংস্কৃতি, খাসজমি ও মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার মুখোমুখি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বণ্টন ও উপবৃত্তির সুযোগ সম্প্রসারণের দাবিগুলো তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের সঙ্গেই সম্পর্কিত।

জেলা প্রশাসক উভয় স্থানেই সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ ও সংকট নিরসনের আশ্বাস দিয়েছেন, যা ইতিবাচক। কিন্তু উপকূলীয় মানুষের কাছে মৌখিক আশ্বাস অপেক্ষা কার্যকর বাস্তবায়ন বহুগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা মনে করি, গাবুরার মেগা প্রকল্পে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের পর্যবেক্ষণের সুযোগ এবং নিয়মিত কারিগরি অডিট জরুরি। সুন্দরবনে জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বিত এবং জোরালো চিরুনি অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে মুণ্ডা জনগোষ্ঠীর মতো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভূমি বণ্টন ও সামাজিক সুরক্ষার বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক রূপরেখা তৈরি করা আবশ্যক। সুন্দরবন উপকূলের টেকসই উন্নয়ন কেবল বড় বাজেটের প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ নয়; তার মূল চাবিকাঠি প্রজা-বান্ধব স্বচ্ছতা, জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।