শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের ঠাঁই হবে না: যুব ঐক্য পরিষদের পরিচিতি সভায় বক্তারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১২ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজ ও ভূমিদস্যুদের ঠাঁই হবে না: যুব ঐক্য পরিষদের পরিচিতি সভায় বক্তারা

সংবাদদাতা: তারুণ্যের ঐক্য, মানবিক মূল্যবোধ ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ সাতক্ষীরা জেলা শাখার নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাতক্ষীরার ম্যানগ্রোভ সভাঘরে জেলা যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অমিত কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নিখিল কুমার বালা।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য সাহা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুন বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার শীল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ, জেলা খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি স্বপন বৈরাগী ও সাধারণ সম্পাদক পৌল সাহা।

 

সভাপতির বক্তব্যে অমিত কুমার ঘোষ বলেন, ‘সাতক্ষীরার মাটিতে কোনো চাঁদাবাজ বা ভূমিদস্যুর স্থান হবে না। সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন বা নিপীড়ন হলে যুব ঐক্য পরিষদ শক্ত হাতে তা প্রতিরোধ করবে এবং অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনতে রাজপথে থাকবে।’

 

অনুষ্ঠানে শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী সৌরভ ম-লকে শিক্ষা উপকরণ ও আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংগ্রামী যুবক রামপ্রসাদ তরফদারকে শারদীয় শুভেচ্ছা উপহার এবং সাতক্ষীরার দেশীয় পণ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখায় তরুণ উদ্যোক্তা অনুপ নন্দীকে ‘যুব উদ্যোক্তা সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।

 

Ads small one

ভোরের আলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
ভোরের আলো

মহসিন আলম মুহিন
ভোরের আলো দূর করে দেয় রাতের কালো,
নবোদ্যমে আগামীর পথ চলা আবার শুরু হলো।
নতুন সূর্য মনের মাঝে আলো ফেলে বলে,
বেরিয়ে আসো আমার মতো আঁধার পিছে ফেলে।
ভোরের হাওয়ায় প্রাণটা জুড়ায়, আশা গুলো হাসে,
চিন্তা গুলো সব মুক্তো হয়ে আসে অবশেষে,
ভোরের আলোয় তিমির কাটে-রবির ছটা আকাশে।

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর ৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে প্রথমবারের মতো ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ফ্রান্স সরকার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৩ হাজার বাড়তি বদলি শিক্ষক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ প্রস্তাব দেন শিক্ষামন্ত্রী। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের আরও একদিনের সহিংস বিক্ষোভ শেষে এ ঘোষণা এল। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে আরও বেশি বরাদ্দের দাবিতে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৮৭৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের ৮৬ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের কম।

ছাত্র ইউনিয়নগুলো তিন সপ্তাহের এই আন্দোলনের চতুর্থ পর্ব বলে অভিহিত করা বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে সারা দেশে প্রায় ৭১ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। প্যারিসের বাস্তিলে জড়ো হন ২৪ হাজার মানুষ। পুলিশের ওপর পাথর ও হাতে তৈরি আতশবাজি নিয়ে হামলা চালানো দলগুলোকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। বোর্দোতে বিক্ষোভকারীরা একটি হাইস্কুলে ভাঙচুর চালায়। মার্সেইয়ে একজন উপপ্রধান শিক্ষককে মারধর করা হয়।

শুক্রবার ৩ হাজার ৫০০ হাইস্কুলের মধ্যে প্রায় ১৪০টি পুরোপুরি বা আংশিক বন্ধ ছিলো, যা আগের কয়েক দিনের তুলনায় অনেক কম। তবে আগামী মঙ্গলবার আবার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগের বিষয়ে জেফ্রের ঘোষণাই প্রথম বাস্তব ছাড়। শিক্ষকের অনুপস্থিতি এবং বদলি কর্মী থাকা সত্ত্বেও তাদের জায়গায় কাউকে না দেওয়ায় অনেক ক্লাসের সময় নষ্ট হচ্ছে। ফরাসি শিক্ষাঙ্গনের সংশ্লিষ্ট সবাই দীর্ঘদিন ধরেই এটি স্বীকার করে আসছেন।

মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে নতুন সফটওয়্যার চালু হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের তালিকায় থাকা প্রায় ৫০০ হাইস্কুলে ৩ হাজার বদলি শিক্ষক পাঠানো সম্ভব হবে। এর অনেকগুলোই অভিবাসী-অধ্যুষিত শহরতলিতে, যেখানে শিক্ষকের সংকট সবচেয়ে তীব্র।

জেফ্রে আরও জানান, ঘাটতি পূরণে যেসব শিক্ষক বাড়তি সময় কাজ করতে চান, তাদের জন্য বিদ্যমান প্রকল্পের আওতায় আরও অর্থ বরাদ্দ করা হবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ২০২৭ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটে শিক্ষাখাত নিয়ে আলোচনায় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থী নেতাদের প্রতিক্রিয়া ছিল অন্তত সতর্ক। তিনটি প্রধান হাইস্কুল ইউনিয়নের সবচেয়ে মধ্যপন্থী রনুভো স্কুলের প্রতিনিধি নাথানায়েল কমবারি বলেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে পালিত হয়, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন শিক্ষার্থীরা। তার ভাষ্য, আমাদের দাবির একটি অংশের সঙ্গে মেলে, এমন কিছু ঘোষণা এসেছে। তবে স্বাভাবিকভাবেই মানুষ অর্থ ও আরও সুনির্দিষ্ট ফল দেখতে চায়।

কয়েক বছরের মধ্যে ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে গুরুতর শিক্ষার্থী অন্দোলন। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ ও কৃষি খাতের দুর্দশাও বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, এমন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আন্দোলন চলছে। আগামী শনিবার ১৭ অক্টোবর পুনরুজ্জীবিত ‘হলুদ জ্যাকেট’ আন্দোলন বিক্ষোভের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ জয় করে লবণাক্ত ঘেরে তরমুজের হাসিমুখ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ জয় করে লবণাক্ত ঘেরে তরমুজের হাসিমুখ

এস এম বিপ্লব হোসেন: একদিকে লোনা পানির ঘেরে ভেসে বেড়াচ্ছে মাছ ও চিংড়ি; অন্যদিকে সেই ঘেরের চারপাশের উঁচু আইলে ডালপালা মেলে ঝুলছে রসালো তরমুজ। কোনো কোনো ঘেরে তৈরি মাচায় দোল খাচ্ছে করলা, বরবটি ও শসা। জলবায়ু পরিবর্তন, মারাত্মক লবণাক্ততা আর মিঠা পানির চরম সংকটে যখন উপকূলীয় এলাকার কৃষি থমকে দাঁড়িয়েছিল, তখন সাতক্ষীরার কৃষকেরা অনাবাদি ঘেরের পাড়কে কাজে লাগিয়ে দেখিয়েছেন নতুন জীবনের পথ। অফসিজন বা অসময়ের তরমুজ চাষে উপকূলের বুকজুড়ে এখন নতুন স্বপ্নের বুনন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় প্রায় ১৪১ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় প্রায় ৬৫ হেক্টর বেশি। একসময় যা ছিল কেবল লোনা পানির পরিত্যক্ত বেড়ি, সেখানে এখন কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনা ও প্রযুক্তির স্পর্শে ফলছে বিভিন্ন জাতের ফল ও সবজি।

দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, ঘেরের পাড়ে বিস্তৃত মাচা বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। স্থানীয়রা জানান, চৈত্র-বৈশাখ মাসে কোনো কোনো এলাকায় পানির লবণাক্ততা ১২ থেকে ১৫ পিপিটিতে গিয়ে ঠেকে। এই বৈরী পরিবেশে প্রথাগত ফসল ফলা নো অসম্ভব হলেও বিশেষ প্রযুক্তি আর উন্নত বীজ ব্যবহার করে সাফল্য মিলছে।

কৃষক নিরঞ্জন বলেন, লোনা ঘেরের আইলে ফসল হবেÑএমন ধারণা আগে কারো ছিল না। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে উন্নত জাতের বীজ ও পরিচর্যা পদ্ধতি প্রয়োগ করে তরমুজের পাশাপাশি করলা, বরবটি ও ঢেঁড়সের বাম্পার ফলন পেয়েছেন তাঁরা।

আরেক কৃষক কৃষ্ণ ম-ল মাছ চাষের পাশাপাশি ঘেরের পাড়ে তরমুজের আবাদ করে ইতিমধ্যেই প্রায় এক লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে যে ফসল আছে, তা থেকে আরও দেড় লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন তিনি।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সমতল জমিতে বিঘা প্রতি তরমুজ চাষে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও বাজারদর ভালো থাকলে বিক্রি হয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। বর্তমানে এলাকায় সুপ্রিম হানি, ব্ল্যাক বেবি, তৃপ্তি, সুগারকুইন ও বাংলা লিংকের মতো উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ হচ্ছে।
এই নতুন কৃষি বিপ্লবে যুক্ত হয়েছেন ঘরের নারীরাও। চারা রোপণ, মাচা তৈরি থেকে শুরু করে ফল সংগ্রহÑসবখানেই তাঁদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় এক দিনমজুর জানান, ঘেরের আইলে তরমুজ চাষ শুরু হওয়ায় এখন প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা মজুরিতে নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নেও ছড়িয়ে পড়েছে এই অসময়ের তরমুজ। বেসরকারি সংস্থা ‘উন্নয়ন প্রচেষ্টা’র কৃষিবিদ নয়ন হোসেন জানান, পিকেএসএফের সহযোগিতায় তাদের প্রকল্পের আওতায় ২১ জন কৃষক ২৮ বিঘা জমিতে আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

দেবহাটার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাক আহমেদ বলেন, কুলিয়া এলাকায় প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ জন কৃষক পতিত বেড়িতে তরমুজ ফলাচ্ছেন। তবে চারা রক্ষায় বাড়তি যতœ ও সেচের মিঠা পানির অভাব দূর করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ বলেন, ২০২০ সাল থেকে প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে। তবে সাফল্যের পাশাপাশি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তনের ঝুঁকি কাটিয়ে উঠতে টেকসই সেচ ব্যবস্থা ও বৈজ্ঞানিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপকূলের লবণাক্ততায় ঘেরের অনাবাদি আইলগুলো যেভাবে খাদ্য উৎপাদন ও অর্থ উপার্জনের উৎস হয়ে উঠছে, তা জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।