মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

জাতীয় আইন সহায়তা দিবস: সেবাগ্রহীতাদের ৭৫ শতাংশই নারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় আইন সহায়তা দিবস: সেবাগ্রহীতাদের ৭৫ শতাংশই নারী

রাজধানীর নিম্ন আদালত পাড়ায় সরকারি আইনি সহায়তা কেন্দ্রে (লিগ্যাল এইড) আসা মানুষের ভিড় জানান দিচ্ছে, সমাজে পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা কতটা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। ২০২৫ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দপ্তরে আসা মোট সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে তিন জনই নারী।

চাঁঁদপুর থেকে এসে সকাল থেকে লিগ্যাল এইড অফিসের সামনে বসে আছেন বসে আছেন লিলি বেগম।কোলে রয়েছে ছোট্ট একটি সন্তান। আরও এক সন্তানকে বাসায় রেখে এসেছেন নানির কাছে।তার সাথে আছেন দুজন নারী। লিলি বেগম ভারাক্রান্ত মনে জানান, তার স্বামীর সাথে ৮ বছরের সংসার। দুইটা সন্তান তাদের।কিন্তু এখন স্বামী কোনো খোঁজ খবর নেয়না। এমনকি ভরনপোষণ দেয়না।এর জন্য দু’সন্তান নিয়ে বেকায়দায় পরে আছেন লিলি বেগম। তার স্বামী শেখ সাজু আহমেদ ঢাকার চকবাজারের বাসিন্দা। স্বামীর বিরুদ্ধে ভরনপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আইনি সহায়তা নিতে এখানে এসে বসে আছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে অবস্থিত জেলা লিগ্যাল এইড অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী এই নারীকে দেখা গেছে।

লিলি বেগম ছাড়াও এখানে বিভিন্ন সমস্যায় পরে আইনি সহায়তা নিতে বসে আছেন অনেকেই।এদের সিংহভাগই নারী।এদের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। ঢাকার কামরাঙ্গীচর থেকে এসেছেন এক নারী।তার স্বামী অন্য কাউকে বিয়ে করে আর খোঁজ নিচ্ছে না।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ নারী বলেন, অভাবের সংসার এমনিতেও। এই অবস্থায় শুনছি স্বামী অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে। কোনও কূল না পেয়ে এখানে চলে এসেছি আইনি সহায়তা নিতে।দেখি কি হয়।

রাজধানীর নিম্ন আদালত পাড়ায় সরকারি আইনি সহায়তা কেন্দ্রে (লিগ্যাল এইড) আসা নারীদের ভিড় জানান দিচ্ছে, সমাজে পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা কতটা অসহায় অবস্থায় রয়েছেন। ২০২৫ সালের বার্ষিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই দপ্তরে আসা মোট সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে প্রতি চারজনের মধ্যে তিন জনই নারী, যারা মূলত পারিবারিক নির্যাতন বা অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে আইনি সুরক্ষার সন্ধানে এসেছেন।

​ভুক্তভোগী নারীদের সংখ্যা

পরিসংখ্যান বলছে, আইনি পরামর্শ নিতে আসা ৩ হাজার ৪ শো ৫৮ জনের মধ্যে ২ হাজার ৬ শো ১৩ জনই ছিলেন নারী। সমীকরণ অনুযায়ী ​নারী ভুক্তভোগী মোট সেবাগ্রহীতার ৭৫.৫৬ ভাগ।বাকি ​ ২৪.২০ ভাগ (৮৩৭ জন) পুরুষ ।এরমধ্যে ​তৃতীয় লিঙ্গ ০.২৩ ভাগ (৮ জন) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইনি সংকটে পড়া নারীরাই পুরুষদের তুলনায় ৩ গুণ বেশি সাহায্যের জন্য লিগ্যাল এইডের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

​পারিবারিক মামলা ও অপরাধের চিত্র

অসহায়ত্বের এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয় মামলার ধরণ দেখলে। এক বছরে জমা পড়া ২হাজার ১৪২টি মামলার মধ্যে বিশাল একটি অংশ পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের।লিগ্যাল এইডের গত এক বছরের তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক মামলা এসেছে ১ হাজার চারশো ২৬ টি। যা মোট মামলার সমীকরণে ৬৬.৫৫ ভাগ।

​ফৌজদারি মামলা ৩৯৬টি যা মোট মামলার ১৮.৪৮ ভাগ। ​দেওয়ানী মামলা ৩২০ টি যা সমীকরণে ১৪.৯৪ ভাগ। অর্থাৎ, লিগ্যাল এইডে আসা প্রতি ১০টি মামলার মধ্যে অন্তত ৭টিই পারিবারিক বিরোধ সংক্রান্ত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব মামলার সিংহভাগই দেনমোহর আদায়, ভরণপোষণ বা নির্যাতনের অভিযোগ কেন্দ্রিক।

আদালতের দীর্ঘসূত্রতা ও মামলার জট কমাতে ২০২৫ সালে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি বা (এডিআর)-এ বিশেষ সাফল্য দেখা গেছে। এ সময়ে সর্বমোট ২ হাজার ৬২ টি মামলার মধ্যে, মামলাপূর্ব (প্রি কেইস) ৭৯৯টি বিরোধ সফলভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে। এছাড়া আদালতে বিচারাধীন (পোস্ট কেইস) ১৩১টি মামলার মধ্যে ৪৪টি বিরোধ আপোষ-মীমাংসার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এই মধ্যস্থতার মাধ্যমেই ভুক্তভোগীরা সোয়া কোটি টাকার বেশি পাওনা বুঝে পেয়েছেন।এটি মূলত অসহায় মানুষের পাওনা,নারীদের দেনমোহর বা খোরপোশের টাকা যা দীর্ঘ আইনি লড়াই ছাড়াই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

​ ২০২৫ সালে কারাগার থেকে মোট ২ হাজার ৯৬৩ জন কারাবন্দির আইনি সহায়তার আবেদন বা মামলা লিগ্যাল এইড অফিসে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে বিভিন্ন আদালত থেকে আরও ১১৪টি মামলা আইনি সহায়তার জন্য এই দপ্তরে রেফার করা হয়েছে।

লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে শতভাগ আইনি সহায়তা পেয়েছেন এমন একজন নারীর সাথে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। বেসরকারি প্রজেক্টে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা ওই নারী তার স্বামীর সাথে পারিবারিক বিভিন্ন ঝামেলা নিয়ে বহুদিন আদালতে ঘুরে পরে লিগ্যাল এইডের শরণাপন্ন হন।সেখানে যাওয়ার পরে মাত্র একটি তারিখের মধ্যে গত বছরের আগস্ট মাসে পারিবারিক কলোহ থেকে নিষ্পত্তি পান।লিগ্যাল এইডের আইনজীবী ও বিচারকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এখানকার সবাই অনেক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে।এজন্য আমার মত যারা সেবাপ্রত্যাশি তারা খুব সহজেই তাদের সমস্যা সমাধান করতে পারেন।

জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুই জানান, লিগ্যাল এইড বর্তমানে একটা ভরসার জায়গা হয় উঠেছে। এখানে কম সময়ে বিনা খরচে আইনি সহায়তা পাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তার মধ্যে নারীরাই বেশি। কারন পারিবারিক সমস্যা নারীরাই বেশি ভুক্তভোগী হয়।একপর্যায়ে তারা আইনি সহায়তার ব্যপারে হিমশিম খায়।সেই সমস্ত মানুষদের জন্য জেলা লিগ্যাল এইড অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে।এখানে অন্যান্য আদালতের চেয়ে কি কি সুবিধা আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে মামলার প্রাথমিক অবস্থা, বা চলমান মামলা এমনকি কারাগারে থাকা আসামিরাও সেবা পেয়ে থাকেন।যে কোনো ধরনের অসচ্ছল আসামি বিনামূল্যে আইনি সেবা পেয়ে থাকেন।এখানকার অন্যতম ব্যপার হচ্ছে, মামলা না করেও শুধুমাত্র আলোচনা সাপেক্ষে সমাধান দেওয়া হয়।এমনকি বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি বিচারকের সাথে কথা বলে দুপক্ষের মধ্যে সমঝোতা করতে পারেন।

লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আরেক আইনজীবী মো.হাকিম বাহাউল হক বলেন, এখানে যারা আইনি সহায়তার জন্য আসেন তাদরকে আমরা মামলায় না ঠেলে দিয়ে সমঝোতা করে দেই।এরপরও যারা মামলার দিকে জান তাদের খুব কম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি করে থাকি।এখানে নারী,পুরুষ থেকে শুরু করে তৃতীয় লিঙ্গের যারা আছেন তারাও আইনি সহায়তা নিতে আসেন।

জেলা লিগ্যাল এইডের অফিস সহকারী জুবায়রা ফেরদৌসী জানান,প্রতিদিন অনেক মানুষকে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সহায়তা দিয়ে থাকি।এদের মধ্যে নারীই বেশি।এখানে দেওয়ানি, ফৌজদারী, পারিবারিক মামলা সহ বিভিন্ন ধরনের মামলার ফ্রি সেবা দেওয়া হয়।এছাড়াও এখানে আদালত থেকে প্রাপ্ত মামলার ব্যপারেও সহায়তা দেওয়া হয়।

Ads small one

সাতক্ষীরায় সড়কের পাশে মরা গরু ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সড়কের পাশে মরা গরু ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ

ইব্রাহিম খলিল: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতা সংলগ্ন বাইপাস সড়কের পাশে একটি মরা গরু ফেলে রাখার ঘটনায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে মরা গরুটিকে সেখানে ফেলে রেখে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, জনবহুল সড়কের পাশে এভাবে মরা প্রাণী ফেলে রাখা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই গরুটি পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত সড়কের পাশে এভাবে বিভিন্ন মৃত পশু ফেলে রাখা হয়। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, রাস্তার পাশে এভাবে মরা গরু ফেলে রাখায় আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। কিছু সময় পরই দুর্গন্ধ ছড়াবে, তখন চলাচল করাই কঠিন হয়ে যাবে। দ্রুত এটি অপসারণ করা দরকার। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরা গরুটি অপসারণ করা হবে। জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপ আরো জোরদার করা এবং শহরের যানজট, পরিচ্ছন্নতা, ট্রাক টার্মিনাল ও সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, থানার অফিসার ইনচার্জ এইচএম শাহীন, উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র সাবেক অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন, পৌর জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক ইউনুস আলী বাবু, মাওলানা আহম্মদ আলি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন নাহার আক্তার, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোতাহার হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার হুমায়ুন কবির, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, মাহবুবুর রহমান মফে, বিশাখা তপন সাহা, কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহবায়ক এমএ সাজেদ, সাংবাদিক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কাজী সিরাজ, জাহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও চিংড়ি রেনুসহ ত্রিশ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় বিজিবির অভিযানে গাঁজা ও চিংড়ি রেনুসহ ত্রিশ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, কুশখালী, মাদরা, পদ্মশাখরা ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল ও মোটরসাইকেলসহ ভারতীয় শাড়ি, গাঁজা, চিংড়ি মাছের রেণু পোনা ও মোবাইল ফোনের স্পিকার আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, পদ্মশাখরা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন হাড়দ্দাহ জোড়া তালগাছ ও পল্লী শ্রী আমবাগান হতে ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেণু পোনা আটক করে। কুশখালী বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার শ্মশান ঘাট ও ছয়ঘড়িয়া হতে ২ লাখ ৭০ হাজার ২০০ টাকার ৫.২ কেজি গাঁজা, ১ টি মোটরসাইকেল ও ১ টি মোবাইল ফোন আটক করে।

 

মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার শ্মশান ঘাট হতে ৫২ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় সিল্ডেনাফিল ট্যাবলেট আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার গেরাখালী হতে ৭০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানাধীন মজুমদারের খাল হতে ৪ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের স্পিকার আটক করে। আটক মালামালের সর্বমোট মূল্য ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৭০০ টাকা।
বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়।

 

এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।