বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

কয়রায় পোল্ডার নং-১৪/১ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলছে জোরেশোরে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
কয়রায় পোল্ডার নং-১৪/১ পুনর্বাসন প্রকল্পের কাজ চলছে জোরেশোরে

জি এম আমিনুল হক: বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ক্রমশ প্রকট হয়ে উঠছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের উদ্যোগে খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় বাস্তবায়নাধীন “পোল্ডার নং-১৪/১ পুনর্বাসন” প্রকল্পটি ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২৩১.২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে গৃহীত এই প্রকল্পটি ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পায়।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো পোল্ডারের বাঁধ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো পুনরুজ্জীবনের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং লবণাক্ততা দূরীকরণ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জনজীবনে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীর মরফোলজিক্যাল পরিবর্তনের কারণে অনুমোদিত ডিজাইন প্রাপ্তিতে প্রায় দেড় বছর বিলম্ব হওয়ায় টেন্ডার প্রক্রিয়াও পিছিয়ে যায়। ফলে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত প্রকল্প মেয়াদে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বাস্তবতার প্রেক্ষিতে প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে প্রকল্পটির অধীনে মোট ৪৮টি প্যাকেজে কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ বাস্তবায়ন করছে ২৫টি এবং খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ বাস্তবায়ন করছে ২৩টি প্যাকেজ। সার্বিক অগ্রগতি ইতোমধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশে পৌঁছেছে এবং কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ৯২.৯৩ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং ডিএলএসসি সভাও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে চার ধারা নোটিশ জারির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, খুব শিগগিরই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পোল্ডার ১৪/১ এর প্রায় ৩০.২০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ স্থায়ী সুরক্ষার আওতায় আসবে। এর ফলে কয়রা উপজেলার প্রায় ২৯৩৩ হেক্টর এলাকা সরাসরি উপকৃত হবে। একই সঙ্গে পোল্ডারের অভ্যন্তরীণ খালগুলোতে মিঠা পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা কৃষি জমিতে সেচ প্রদান এবং গৃহস্থালী কাজে ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা হ্রাসের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। উন্নত হবে যোগাযোগ ব্যবস্থা, সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন, জোয়ার-ভাটা, ঝড়ো হাওয়া ও মৌসুমি নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে পোল্ডারের অভ্যন্তরে লবণাক্ত পানি প্রবেশ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সবমিলিয়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ এই অঞ্চলে পোল্ডার ১৪/১ পুনর্বাসন প্রকল্পটি একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

 

 

 

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।