রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় সহ.সাধারণ সম্পাদক কলারোয়ার জয়তু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের কেন্দ্রীয় সহ.সাধারণ সম্পাদক কলারোয়ার জয়তু

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ.সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন সাতক্ষীরার কলারোয়ার সন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম জয়তু। তিনি রাজধানী ঢাকায় আইটি খাতের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

অতিসম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ড. কে এম আই মন্টিকে। কমিটিতে ১নং সদস্য হিসেবে নাম রয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।

সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ওই কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জয়তু।

রফিকুল ইসলাম জয়তু সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের শাকদাহ গ্রামের মরহুম মুন্সী আব্দুল জব্বার ও মিসেস ছকিনা খাতুনের পুত্র। তিনি শাকদাহ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসরাঈল হোসেন ও ডিবি হেড কোয়ার্টারে কর্মরত এএসআই শফিকুল ইসলামের ভাই।

রফিকুল ইসলাম জয়তুর রাজনৈতিক হাতেখড়ি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। ছাত্রজীবনে তিনি কলারোয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নেতা ছিলেন। যশোর এমএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। গেলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গণসংযোগ ও প্রচার উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন ৯০ গণ আন্দোলনের এই অংশীজন। সর্বশেষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধের প্রজন্ম কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হলেন।

রাজনৈতিক জীবনের বাইরে রফিকুল ইসলাম জয়তু সামাজিক, সাংস্কৃতিক, জনসেবামূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। থেকেছেন মানুষের পাশে, রয়েছেন এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে। দেশ-বিদেশে ঘুরে সাতক্ষীরার কলারোয়াকে পরিচিতি করিয়েছেন। রাজধানীতে বসবাস করলেও কলারোয়া ও কলারোয়ার মানুষকে রেখেছেন নিজের কাছে। তিনি সামাজিক সংগঠন কলারোয়া উপজেলা সমিতি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক; সাতক্ষীরা জেলা সমিতি, ঢাকার নির্বাহী সদস্য ও বৃহত্তর খুলনা সমিতি, ঢাকার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি, ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এমপি ও সাধারণ সম্পাদক ড. কে এম আই মন্টিকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে রফিকুল ইসলাম জয়তু জানান, আগামীতে খুলনা বিভাগের অধীনস্থ সকল জেলা-উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়নসহ সকল ইউনিটের কমিটি দ্রুত সম্পন্ন করতে সকলের দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

 

Ads small one

তালায় অপ্রতিরোধ্য মাটিখেকো গ্রুপ, আইন-কানুন মানছে না কেউ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
তালায় অপ্রতিরোধ্য মাটিখেকো গ্রুপ, আইন-কানুন মানছে না কেউ!

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা তালা উপজেলায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে একের পর এক বা একাধিক ফসলি জমি ও কপোতাক্ষ বেঁড়িবাধের মাটি গিলছে ভাটাগুলো। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই চালু থাকা ইটভাটায় প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ আর শঙ্কা।

সূত্রে জানাযায়, তালা উপজেলায় বিভিন্ন ভাটায় মাটি সরবারহ করতে সক্রিয় রয়েছে একটি মাঠিখোগো সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম কাজ হলো কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে ফসলি জমির উর্বর অংশ কেটে ভাটায় পৌছে দেওয়া। এছাড়া ৫৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে খননকৃত কপোতাক্ষ বেঁড়িবাধের মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করা। রাত যতই গভীর হয় ততই সক্রিয় হয় সিন্ডিকেট। রাতের আধারে কিংবা কখনো দিনের বেলায় প্রকাশ্য দানব গাড়ীতে কপোতাক্ষের বিভিন্ন স্থান থেকেই মাটি বহন করে তারা। কেউ প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে তাদের বলা হয় তাদের কাছে প্রশাসনের অনুমতি আছে।

ভাগবাহ গ্রামের সুনীল দাশ জানান, এলাকায় ভাটা নির্মাণের শুরু থেকেই নিজের ক্ষমতা জাহির শুরু করেন ভাটার মালিক। এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ ও ফসলি জমি এলাকা হওয়ায় প্রথম থেকে সেখানে ভাটা নির্মাণে বাধা দিয়েছিল এলাকাবাসি। তবে কোন বাধাই আটকাতে পারেনি ইটভাটা নির্মাণ কার্যক্রম। ভাটা এলাকায় একটি মন্দির থাকায় স্থানীয় সনাতন ধর্ম্বাবলম্বীরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য ক্ষমতার বলে ভাটা স্থাপনে সফলতো হয়েইছিল, উপারন্তু অভিযোগকারীরা সংখ্যলঘু সম্প্রদায়ের হওয়ায় তাদের দেশছাড়া করবার হুমকি দেওয়া হয়।

 

২০২০ সালে কপোতাক্ষ নদের তীরে রাখা ভাটার মাটির চাপে বেঁড়িবাধের প্রায় ৫০০ মিটার অংশ ভেঙ্গে নদী গর্ভে চলে যায়। সে সময় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এসব নিয়ে লেখালেখি হলেও কিছুই হয়নি। পরবর্তীতে সেই মাটি উত্তোলনের নামে বেঁড়িবাধের আরও ৫০০ মিটার অংশের মাটি কেটে ভাটার কাজে ব্যবহার করা হয়। চলতি বছরেই এর ব্যাতায় ঘটেনি। কপোতাক্ষ নদের বেঁড়িবাধের বিভিন্ন অংশের মাটি ভাটায় ব্যবহার করার পাশাপাশি সিন্ডিকেট তৈরি করে মাটির ব্যবসায় নেমেছে একটি চিহ্নিত মহল। এসকল অপকর্মের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েও কোন ফল পাওয়া যায় না।

পাটকেলঘাটা এলাকার স্বাধীন নামের এক ব্যক্তি জানান, গভীর রাতের শুরু হয় কপোতাক্ষ বেঁড়িবাধের মাটি কাটার কর্মযজ্ঞ। শত শত মাটি বহরকারী ডাম্পার গাড়ীতে মাটি পরিবহন করায় শব্দে আমরা ঘুমাতে পারি না। প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের লোকেরা হুমকি দিয়ে বলে প্রশাসনের অনুমতি পেয়ে সবকিছু করছি। আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে লাভ হবে না। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।

বিষয়টি নিয়ে তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর ব্যবহ্নত মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। সংবাদদাতা: আজমল হোসেন জুয়েল

 

অনাবৃষ্টিতে পুড়ছে জনপদ: দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
অনাবৃষ্টিতে পুড়ছে জনপদ: দেবহাটায় তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যস্ত

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টিতে যেন আকাশ থেকে আগুন ঝরছে। উপকূলীয় জনপদ দেবহাটায় বইছে তপ্ত লু হাওয়া, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে তাপমাত্রা। প্রখর রোদ আর অসহনীয় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া যেন একপ্রকার কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই সূর্যের তীব্র তাপ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। খেটে খাওয়া মানুষ-বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী-পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। অনেকেই কাজের প্রয়োজনে বের হলেও খুঁজছেন ছায়া আর স্বস্তির সামান্য আশ্রয়।

উপজেলার সখিপুর এলাকার রাজমিস্ত্রির শ্রমিক রবিউল ও শফিকুল, এবং কৃষি শ্রমিক রশিদ, ওসমান ও বাজ্জাক বলেন, “এই তীব্র গরমে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এদিকে, তীব্র গরমের কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েই চলেছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত তাপদাহে হিটস্ট্রোক, ডায়রিয়া ও পানিশূন্যতার মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও মারাত্মক হতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ অনাবৃষ্টির ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক স্থানে নলকূপে পানি উঠছে না, ফলে দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

এ পরিস্থিতিতে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা পরামর্শ দিয়েছেন-প্রচন্ড রোদে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া, পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান করা, হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা এবং শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যতœ নেওয়া জরুরি।

প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি দ্রুত বৃষ্টিপাতের আশায় দিন গুনছেন দেবহাটার মানুষ।

আশাশুনিতে অবৈধ আর্থিক জাল, ঝুঁকিতে মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:১৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে অবৈধ আর্থিক জাল, ঝুঁকিতে মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় ‘সমবায়’ নামটি আজ অনেকের কাছে আস্থার নয়, বরং আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠছে। নিবন্ধিত সমবায়ের আড়ালে কিংবা একেবারেই নিবন্ধনবিহীনভাবে গড়ে ওঠা অসংখ্য সমিতি ও মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম-যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠান গ্রামগঞ্জের সহজ-সরল মানুষদের কাছ থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করছে।

 

ব্যাংকের চেয়েও বেশি লাভের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা আমানত নিচ্ছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই অর্থের নিরাপত্তা বা ফেরতের কোনো নিশ্চয়তা নেই। সুযোগ বুঝে অনেক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। জেলা সমবায় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আশাশুনি উপজেলায় নিবন্ধিত সমবায় সমিতির সংখ্যা ১৭৯টি। এর মধ্যে সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় রয়েছে ১২টি। নিবন্ধিত এসব সমিতি সরকারি নিয়ম মেনে সদস্যদের মধ্যে সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করার কথা। তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অনেকেই নিয়ম ভেঙে সদস্যের বাইরের মানুষদের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করছে।

 

অন্যদিকে, বুধহাটা, পাইথলী, কুল্যা, গুনাকরকাটি, বাহাদুরপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লা ও বাজার এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য অনিবন্ধিত সমবায় সমিতি। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের নেই কোনো বৈধ অনুমোদন, নেই কার্যক্রমের স্বচ্ছতা। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও ছবি সংগ্রহ করে নামমাত্র কমিটি গঠন করেন। পরে সেই কমিটির আড়ালে ‘সমবায় সমিতি’ বা ‘মাল্টিপারপাস’ প্রতিষ্ঠানের নামে কার্যক্রম শুরু করেন।

 

অনেক ক্ষেত্রে সমবায় অফিসের অসাধু কিছু কর্মচারীর সঙ্গেও তাদের সখ্য গড়ে ওঠে, যার ফলে নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে এসব প্রতিষ্ঠান নির্বিঘেœ চালিয়ে যায় অবৈধ লেনদেন। সমবায়ের নিয়ম অনুযায়ী, একটি সমিতি তার নির্দিষ্ট এলাকার সদস্যদের মধ্যেই সঞ্চয় ও ঋণ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখবে। কিন্তু আশাশুনির বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ সমিতিই সেই নিয়ম মানছে না। তারা সদস্য বহির্ভূত ব্যক্তিদের কাছ থেকেও চেক বা পাসবইয়ের মাধ্যমে আমানত নিচ্ছে এবং নির্ধারিত এলাকার বাইরেও ঋণ বিতরণ করছে।

 

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো-এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর তদারকি নেই। বিশেষ করে বুধহাটা বাজারে একাধিক অনিবন্ধিত সমবায়ের কার্যক্রম প্রকাশ্যেই চললেও তা দেখার যেন কেউ নেই। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার ঝুঁকিতে পড়ছেন। এরই মধ্যে বুধহাটা বাজারের ‘প্রগতি ঋণদান সমবায় সমিতি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার আমানত নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, তাদের জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে তারা এখন দিশেহারা।

 

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়েও তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আমানতের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় হলে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করে। কখনো তারা গা-ঢাকা দেয়, আবার কখনো ফিরে এসে ‘দিচ্ছি, দেব’ বলে গ্রাহকদের ঘুরিয়ে রাখে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, যারা স্বপ্ন দেখেছিলেন সামান্য সঞ্চয় থেকে কিছু লাভের।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত সমবায় কার্যক্রম শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্যও হুমকিস্বরূপ। তারা মনে করেন, দ্রুত এসব ভুয়া সমবায় চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সুধী মহল বলছেন, সমবায় অধিদপ্তরের নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত অডিট নিশ্চিত করা এবং অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানো এখন সময়ের দাবি।

 

পাশাপাশি গণমাধ্যম ও প্রশাসনের সমন্বয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার ফাঁদে না পড়ে। সমবায়ের মূল দর্শন ছিল পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি। কিন্তু সেই দর্শনকে পুঁজি করে যদি প্রতারণার জাল বিস্তার করা হয়, তবে তা শুধু একটি ব্যবস্থার ব্যর্থতা নয়-এটি সমাজের জন্যও এক গভীর সংকেত।