জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের দোয়া ও খাদ্য বিতরণ
টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি। চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে ৪–৩ গোলে হারিয়ে ক্লাব ইতিহাসে সাফল্যের নতুন গল্প লিখেছে পিএসজি।
রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে এই শতাব্দীতে চ্যাম্পিয়নস লিগ ধরে রাখল পিএসজি। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালে টানা ৩টি শিরোপা জিতেছিল রিয়াল।
বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় পিএসজি-আর্সেনালের এই স্নায়ু পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত জিতেছে ফরাসি ক্লাবটি। আর্সেনালকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছে পিএসজি।
টাইব্রেকারে শেষ শটে পিএসজির লুকাস বেরালদো জাল খুঁজে পেলেও আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস মেরে দেন বারের ওপর দিয়ে। তাতেই রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার কীর্তি গড়ে প্যারিসের ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটে মারকিনিওসের ক্লিয়ারেন্স লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে কাই হাভার্টজের সামনে চলে আসে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জার্মান ফরোয়ার্ড গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। পিএসজি গোলকিপার মাতবে সাপোনভ তাঁর মাথার ওপর দিয়ে বুলেট গতিতে যাওয়া বলটি ধরার সুযোগই পাননি।
পিএসজি এই ম্যাচে মাঠে নেমেছিল গত বছরের ফাইনাল শুরু করা ১০ জন নিয়েই। যে একটি পরিবর্তন, সেটি এই সাপোনভই। এক বছর আগে এই মঞ্চে শিরোপাজয়ের অভিজ্ঞতা আছে বলেই হয়তো পিএসজি শুরুতে গোল হজম করলেও আড়ষ্ট হয়ে যায়নি; বরং গোলের পর আর্সেনাল অনেকটা নিচে নেমে রক্ষণ সামলানোয় বেশি মনোযোগ দিলে আক্রমণের ধার বাড়ান উসমান দেম্বেলে, ফ্যাবিয়ান রুইস, দিজিয়ের দুয়েরা। যদিও গোলের প্রবল সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি, দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্টই থেকে গেছে।
প্রথমার্ধের বিরতির আগে হাভার্টজ আর্সেনালকে দ্বিতীয় গোলও এনে দিচ্ছিলেন প্রায়, সেটি হয়নি মারকিনিওসের দৃঢ়তায়।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে পিএসজির লক্ষ্য ছিল সময় নষ্ট করার। বিরতি শেষে ইংলিশ ক্লাবটি মাঠে ফেরে পিএসজির দুই মিনিট পর। খেলা শুরু হওয়ার পর সময় নষ্ট করার কারণে হলুদ কার্ডও দেখেন ক্রিস্টিয়ান মস্কেরা। ৬৫ মিনিটে স্প্যানিশ এই রাইটব্যাকই সুযোগ করে দেন পিএসজিকে ম্যাচে ফেরার। বল নিয়ে বক্সে ঢোকা খিচা কাভারাস্কেইয়াকে মস্কেরা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় পিএসজি। দেম্বেলে সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরলাইনে সমতা আনতে ভুল করেননি (১-১)।
এরপর ম্যাচে পিএসজির নিয়ন্ত্রণ শুধু বেড়েছেই। কাভারাস্কেইয়ার একটি শট পোস্টে লাগে, বারকোলা দুটি সহজ সুযোগ নষ্টও করেন। তবে কোনো দলই গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। এই আধা ঘণ্টার খেলায় অবশ্য আর্সেনালও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। টিম্বার ও গিওকেরেস সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল গড়ায় টাইব্রেকারে।
আর্সেনালের দ্বিতীয় শট নিতে যাওয়া এবেরেচি এজের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পরপরই পিএসজির নুনো মেন্দেসের শট ঠেকিয়ে দেন দাভিড রায়া। ৪ শট শেষে তাই টাইব্রেকার ফলও থাকে সমতায়। তবে শেষ শটে আর সমতা রাখতে পারেনি আর্সেনাল। ব্রাজিলিয়ান সেন্টারব্যাক মাগালাইসের বারের ওপর দিয়ে চলে গেলে উৎসব শুরু হয়ে যায় পিএসজি শিবিরে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এত দিন শুধু রিয়াল মাদ্রিদেরই টানা দুটি শিরোপা (মূলত হ্যাটট্রিক) জেতার কীর্তি ছিল। ২০২৫ সালের আগপর্যন্ত একটি শিরোপার জন্য অপেক্ষায় থাকা পিএসজি এবার টানা ট্রফি জিতে নাম লেখাল রিয়ালেরই পাশে।
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। তাই ছুটির শেষ দিন রোববার (৩১ মে) ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছেন অনেকে। কমলাপুর রেলস্টেশনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফেরা কর্মজীবী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রোববার ভোর থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশনে অবস্থান করে দেখা গেছে, একের পর এক ট্রেনে রাজধানীতে ফিরছেন ঈদে ঘরমুখো মানুষ।
যাত্রীরা বলছেন, মোটামুটি নির্বিঘ্নেই ফিরতে পারছেন তারা, ট্রেনে খুব বেশি ভিড় নেই। তবে কোনো কোনো ট্রেন কিছুটা বিলম্বে কমলাপুর আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে সকাল থেকে যে ট্রেনগুলো ছেড়ে এসেছে, সেই ট্রেনগুলোতে বাড়তি ভিড় বা অতিরিক্ত ভিড় দেখা যায়নি। অর্থাৎ, প্রতিটা ট্রেনই বেশ স্বস্তি নিয়ে ঢাকায় এসেছে।
যাত্রীদের অনেকেই জানান, সময়মতো স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়েছে। তবে বিশেষ করে নেত্রকোনা, জামালপুর, ময়মনসিংহ থেকে এই অঞ্চলের যে ট্রেনগুলো ঢাকায় এসেছে, সেই ট্রেনগুলো অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এর কারণ হিসেবে যাত্রীরা বলছেন, সময়মতো ট্রেন স্টেশন থেকে ছাড়লেও গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছাতে দুই-তিন ঘণ্টা দেরি হয়েছে, কারণ মাঝখানে বেশ কয়েকটি ট্রেনের সঙ্গে ঐ ট্রেনগুলোর ক্রসিং হয়েছে। অর্থাৎ, ডাবল লাইন না থাকায় সিঙ্গেল লাইনের কারণে একটি ট্রেনকে বসিয়ে অন্য একটি ট্রেনকে অতিক্রমের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বেশ কিছু ট্রেনের বিলম্বের ঘটনা ঘটেছে। তবে ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী না থাকায় বেশ স্বস্তি নিয়েই কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রীরা ফিরেছেন।
এখন পর্যন্ত কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরে ফেরা মানুষের অতিরিক্ত চাপ দেখা যায়নি। বিশেষ করে যাদের আজ অফিস রয়েছে বা ঢাকায় জরুরি কাজ রয়েছে, তারা আজ ঢাকায় ফিরছেন। এখন পর্যন্ত পুরো পরিবার নিয়ে অনেকেই আসেননি।
কমলাপুর রেলস্টেশনে রেলওয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ এখন পর্যন্ত ঘরে ফেরা মানুষের জন্য কোনো ঈদ স্পেশাল ট্রেন কোথাও থেকে ছেড়ে আসছে না। সারাদেশের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে আজ মোট ৪৩টি আন্তঃনগর এবং ২৩টি লোকাল মেইল কমিউটারসহ মোট ৬৬টি ট্রেন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরবে। সোমবার থেকে এরসঙ্গে যুক্ত হবে ঈদ স্পেশাল ট্রেন, চলবে প্রতিদিন একটি করে।
সকাল থেকে যে কয়েকটি ট্রেন ফিরে এসেছে, দুই-একটি ট্রেন ছাড়া সব ট্রেনই আসলে সময়মতো ফিরেছে। স্টেশন থেকে সময়মতো ছেড়েছে, কমলাপুরে সময়মতো ফিরেছে।
সকাল পৌনে ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থামে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। ট্রেনটিতে যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ ছিল না।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে সপরিবারে ফিরেছেন আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, বাড়ি থেকে আসতে ইচ্ছা করে না তারপরও কর্মের খাতিরে ঢাকায় ফিরতে হয়। কারণ এই চাকরির উপার্জনেই তো পরিবার চলে।
সকাল সোয়া ৮টায় ৫ নম্বর প্যাটফর্মে থামে ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস। এ ট্রেনেও যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ ছিল না। নির্বিঘ্নেই গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
এই ট্রেনের যাত্রী শাহাদাত হোসাইন বলেন, আমি ব্যবসা করি। ব্যবসার একটা কাজে জরুরি প্রয়োজনে চলে আসতে হয়েছে। মোটামুটি ঝামেলাহীনভাবেই এসেছি। ট্রেনেও খুব একটা ভিড় ছিল না। তবে পরিবার নিয়ে আসিনি, পরিবার আসবে আরও কিছুটা কিছুদিন পর। বাচ্চাদের স্কুলও খুলবে আরও ৪ থেকে ৫ দিন পর।
গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে সরকারি ছুটি শুরু হয়। টানা সাত দিনের ছুটি শেষ হচ্ছে আজ।
সংবাদদাতা: মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বনির্ভর বাংলাদেশের রূপকার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় দোয়া মাহফিল ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে ২০২৬) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা শহরের সংগীতা মোড়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ তারিকুল হাসান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি সোহেল আহমেদ মানিক, সাতক্ষীরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান ভূট্টু, সদস্য সচিব শরিফুজ্জামান সজিব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক প্রভাষক আনোয়ারুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন পাড়, জেলা কৃষক দলের সাবেক আহবায়ক আহসানুল কাদির স্বপন, আসাদুজ্জামান খোকন, মনজুরুল মোর্শেদ মিলন, মহাসিন আলম, শিবলু রহমান, খালিদ হাসান সুমন, মো. রাজিবুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গোলাম সরোয়ার, সদস্য সচিব জাকির হোসেন আফিল, শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলী হাসান খান হাবলু, সদস্য সচিব শেখ আজিজুর রহমান সেলিম, শিমুল, মুকুল, রাজেশ, এডভোকেট জিয়া, ইসমাইল হোসেন নিরব, রাব্বি, মুকুলসহ জেলা ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর অবদান এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তাঁর আদর্শ ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও দলের সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।