শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৪ অপরাহ্ণ
দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন। বর্ষার দীর্ঘ সিক্ততা পেরিয়ে বাংলার আকাশে এখন শরতের নীল। সাদা মেঘের ভেলা, মাঠের পাশে কাশফুল, ভোরের ঘাসে শিশির আর শিউলির সুবাসÑসব মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নতুন করে সাজছে। দূরে কোথাও ঢাকের আওয়াজ। পূজার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

 

মানুষের মনে উৎসবের উচ্ছ্বাস। কিন্তু এই সৌন্দর্যের দিকে তাকিয়ে একটি প্রশ্ন কি আমরা নিজেদের করতে পারিÑযে শরৎকে আমরা এত ভালোবাসি, সেই শরৎ কি আগের মতো আছে?বাংলার ঋতুচক্র বদলাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বৃষ্টির ধরন বদলেছে, ঋতুর স্বাভাবিক ছন্দে এসেছে অস্থিরতা। কখনো অতি বৃষ্টি, কখনো দীর্ঘ অনাবৃষ্টি। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও পানির সংকট। উপকূলীয় জনপদে তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লবণাক্ততা। ফলে আশ্বিনের নীল আকাশের নিচেও মানুষের জীবন অনেক সময় অনিশ্চয়তার কালো মেঘে ঢাকা থাকে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় এলাকায় শরৎ মানেই আর শুধু বর্ষা বিদায়ের স্বস্তি নয়। অনেক জায়গায় বর্ষার পানি আশ্বিনেও থেকে যায়। কোথাও রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে, কোথাও খাল-নদীর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ। আবার অন্যদিকে লবণাক্ততার কারণে সুপেয় পানির সংকট তীব্র হয়। একই জনপদে কখনো পানি বেশি, কখনো পানযোগ্য পানি নেইÑএ এক নির্মম বৈপরীত্য।

 

দীর্ঘদিন ধরে নদী-খাল দখল, জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ, দুর্বল পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং পরিবেশ বিধি না মানার কারণে আমরা নিজেরাই অনেক সমস্যাকে জটিল করেছি। যে খাল একসময় বর্ষার পানি বহন করত, আজ কোথাও তা দখল ও পলি জমে সংকুচিত। যে জলাভূমি অতিরিক্ত পানি ধরে রাখত, সেখানে উঠেছে স্থাপনা। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, আবার পানি নেমে গেলে শুরু হয় পানির সংকট। আশ্বিন কৃষকের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমন ধানের মাঠে তখন সবুজের সমারোহ। কৃষকের চোখে নতুন ফসলের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নের সঙ্গে উদ্বেগও আছে।

 

বৃষ্টি ঠিকমতো হবে কি না, অতিরিক্ত পানি ধান নষ্ট করবে কি না, লবণাক্ত পানি ঢুকবে কি না, উৎপাদন খরচের তুলনায় ধানের দাম মিলবে কি নাÑএসব প্রশ্ন কৃষকের ঘুম কেড়ে নেয়। আমরা শহর থেকে শরতের সৌন্দর্য দেখি; কৃষক মাঠে দাঁড়িয়ে শরতের ঝুঁকি দেখেন। এটাই বাস্তবতার পার্থক্য। কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনযাত্রা জড়িত। অথচ কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ে, শ্রমিকের মজুরি বাড়ে, সার-বীজ-কীটনাশকের দাম বাড়েÑকিন্তু বাজারে কৃষক ন্যায্য দাম পাবেন কি না, তার নিশ্চয়তা সবসময় থাকে না।

 

মধ্য স্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য থাকলে উৎপাদকের ঘাম আর ভোক্তার পকেটÑদুইয়ের মাঝখানে তৈরি হয় এক অস্বচ্ছ ব্যবধান। আশ্বিনের উৎসবের বাজারও এই বাস্তবতার বাইরে নয়। দুর্গাপূজা সামনে। প্রতিমাশিল্পী ব্যস্ত। ম-প সাজানোর কাজ চলছে। নতুন পোশাক, কেনাকাটা, আলোকসজ্জাÑসব মিলিয়ে বাজারে বাড়ছে ব্যস্ততা। উৎসব মানুষের মধ্যে আনন্দ আনে, স্থানীয় অর্থনীতিতেও গতি আনে। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য উৎসবের আনন্দের সঙ্গে হিসাবের খাতাও বড় হয়ে ওঠে। একটি উৎসব তখনই সার্থক, যখন তার আনন্দ সমাজের সর্বস্তরে পৌঁছায়। আর এখানেই আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন আসে।

 

বাংলাদেশের হাজার বছরের সংস্কৃতিতে উৎসব মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমানোর একটি বড় মাধ্যম। দুর্গাপূজা হোক কিংবা অন্য কোনো ধর্মীয় উৎসবÑউৎসবের মূল শক্তি মানুষের অংশগ্রহণে। পাড়া-প্রতিবেশী একে অপরের পাশে দাঁড়াবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করবেÑএটাই হওয়া উচিত উৎসবের চেতনা। উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভাজন নয়, সংহতি তৈরি হওয়া প্রয়োজন।আশ্বিন আমাদের এ কথাও মনে করিয়ে দেয়Ñপ্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে শুধু কবিতা লিখলে হবে না, বাস্তব কাজও করতে হবে। কাশফুলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমরা শরৎকে ভালোবাসার দাবি করতে পারি; কিন্তু একই সঙ্গে যদি খাল ভরাট করি, নদীর তীর দখল করি, জলাভূমি ধ্বংস করি, নির্বিচারে গাছ কাটিÑতাহলে সেই ভালোবাসা কতটা সত্য? পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা সৌন্দর্যের প্রশংসায় নয়, ব্যবহারে। আমাদের নদী ও খালকে বাঁচাতে হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখতে হবে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় শুধু প্রকল্প নয়, প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। কারণ উন্নয়ন যদি মানুষের বসবাসের পরিবেশকে ধ্বংস করে, তাহলে সেই উন্নয়নের অর্থ নতুন করে ভাবতে হবে। আজকের আশ্বিন আমাদের সামনে একটি আয়না ধরে। সেখানে একদিকে দেখা যায় বাংলাদেশের চিরচেনা শরৎÑনীল আকাশ, সাদা মেঘ, কাশবন ও শিউলি।

 

অন্যদিকে দেখা যায় জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ, লবণাক্ততার কষ্ট, কৃষকের অনিশ্চয়তা, নদীর মরণদশা এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান জীবনযুদ্ধ। এই দুই ছবির মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের একই সঙ্গে সৌন্দর্য ও সংকটÑদুটিই দেখতে হবে। শরৎ শুধু প্রকৃতির ঋতু নয়; এটি আমাদের আত্মসমালোচনারও সময় হতে পারে। আমরা কী রেখে যাচ্ছি আগামী প্রজন্মের জন্য? নদীহীন ভূখ-? ভরাট খাল? লবণাক্ত কৃষিজমি? জলাবদ্ধ জনপদ? নাকি এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে নদী প্রবাহিত হবে, কৃষকের মাঠ সবুজ থাকবে, মানুষ নিরাপদ পানি পাবে এবং উৎসব হবে সবার আনন্দের? এই সিদ্ধান্ত কেবল সরকারের নয়। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে এখানে।

 

দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন। সে আমাদের কাছে কোনো অলৌকিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসেনি। বরং নীরবে বলে যাচ্ছেÑপ্রকৃতির ভাষা বুঝুন, মানুষের কষ্ট দেখুন, ভুলগুলো স্বীকার করুন। শরতের নীল আকাশ আমাদের চোখকে স্বস্তি দিক, কিন্তু সেই স্বস্তি যেন বিবেককে ঘুম পাড়িয়ে না দেয়। কাশফুল ফুটুক। শিউলি ঝরুক। ঢাক বাজুক। পূজার আলোয় আলোকিত হোক জনপদ। কিন্তু সেই আলোর বাইরে যেন কোনো মানুষের ঘর অন্ধকারে না থাকে। আশ্বিন আসুক নতুন আশার বার্তা নিয়ে। নদীতে ফিরুক প্রাণ, খালে ফিরুক প্রবাহ, কৃষকের মুখে ফুটুক স্বস্তির হাসি, উপকূলের মানুষ পাক নিরাপদ পানি, আর উৎসব হয়ে উঠুক সত্যিকারের সম্প্রীতির উৎসব। দুয়ারে দাঁড়িয়ে আশ্বিন। এবার শুধু তাকে স্বাগত জানালেই হবে নাÑতার বার্তাটিও শুনতে হবে।

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

সাতক্ষীরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, আহত ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, আহত ১

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মেহেদী হাসান সবুজ (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে মহাসড়কের পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের ওপর মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক জেলার আশাশুনি উপজেলা সদরের আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি একমি কোম্পানিতে সেলস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী শাহিন বিশ্বাস ও আল আমিনসহ স্থানীয় লোকজনের সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে কাজ শেষে কুমিরা থেকে মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরা শহরের দিকে যাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান। পথে পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের ওপর পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাঁকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকের সামনের চাকার নিচে পিষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে ঘাতক ট্রাকটি পালিয়ে গেছে।

এদিকে সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কের মাধবকাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। নিহতের নাম সোহান (১৯)। সে ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের বলাডাঙ্গা মিস্ত্রিপাড়ার মৃত সবুরের ছেলে।

 

আহত জিম একই গ্রামের রওশন আলীর ছোট ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল যোগে মাধবকাটি বাজার এলাকায় মেইন রোডে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা। এ সময় তাদেরকে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসা অবস্থায় সোহান হোসেন মারা যান। আর আহত জিমকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সদরের ধুলিহর ও আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় ব্যাপক ব্ষয়ক্ষতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সদরের ধুলিহর ও আশাশুনির বড়দলে আকস্মিক টর্নেডোয় ব্যাপক ব্ষয়ক্ষতি

জিএম আমিনুল ইসলাম/বিএম আলাউদ্দীন: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে আকস্মিক টর্নেডো ঝড়ে চারটি কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে উত্তর বাইনতলা গ্রামে প্রবল বাতাসের সঙ্গে আকস্মিক এ ঝড়ের ঘটনা ঘটে। এতে চারটি বসতঘর, ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাতে হঠাৎ প্রচন্ড বেগে বাতাস শুরু হয়। একপর্যায়ে টর্নেডোর মতো ঝড়ে উত্তর বাইনতলা গ্রামের মৃত রহিম মোল্যার ছেলে দাউদ মোল্যা, আইয়ুব আলী মোল্যা, সাহেব আলী মোল্যা ও তার ছেলে নয়ন মোল্যার মোট চারটি কাঁচা বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ের তান্ডবে ঘরের এলবেস্টারের ছাউনি ও বেড়া উড়ে যায়। একই সঙ্গে ঘরের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ে এবং ভেতরে থাকা আসবাবপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে বড়দল ইউনিয়নের জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল গফুর সানা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন যুবদল নেতা শরিফুল ইসলাম শরীফ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
পরে আব্দুল গফুর সানা ও শরিফুল ইসলাম শরীফ নিজস্ব তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা।

এদিকে, টর্নেডো ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি জানতে লোক পাঠিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের যুগীপোতা ও শুকদেবপুর গ্রামে গভীর রাতে আকস্মিক টর্নেডোর হানায় একটি মন্দিরসহ একাধিক কাঁচা বসতঘর লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আঘাত হানা এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
টর্নেডোর তা-বে যুগীপোতা গ্রামের উৎপল সরকার, জ্ঞানেশ সরকার, আকলিমা খাতুন এবং শুকদেবপুর গ্রামের একটি মন্দির ও মন্টু বিশ্বাসসহ একাধিক ব্যক্তির বসতবাড়ি, গোয়ালঘর ও বিচলির গাদা তছনছ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এ ঘটনায় আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

ঘটনার পর ২৬ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত দুর্ঘটনাকবলিত গ্রাম, ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও ঘরবাড়ি পরিদর্শন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সমস্যার বিষয়টি শোনেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি সহায়তার জন্য দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিদর্শনকালে ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল, জিএম আমিনুল হক, ইউপি সদস্য তপন কুমার শীলসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতাপনগরে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করলেন জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করলেন জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কর্মীরা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের তালতলা বাজার থেকে প্রতাপনগর মাদ্রাসা পর্যন্ত বেহাল সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অংশ সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে সড়কের খানাখন্দ ভরাট করে যাতায়াত উপযোগী করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। প্রতাপনগরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের প্রতিদিন বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। জামায়াত ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে সাময়িক সংস্কারকাজ সম্পন্ন হওয়ায় চলাচলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।

সংস্কারকাজে অংশ নেন আশাশুনি উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি প্রভাষক শাহজাহান হোসেন, উপজেলা জামায়াতের সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা রিয়াসাত আলী, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা অহিদুজ্জামান, শ্রমিক নেতা আলহাজ মাওলানা মোয়াজ্জেম হোসাইন, ওয়ার্ড সভাপতি মাওলানা বেলাল হোসেন ও তালতলা বাজার কমিটির সভাপতি ডা. খাইরুল ইসলাম। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য সড়কটি দ্রুত সরকারি উদ্যোগে সংস্কার করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।