মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

দেবহাটায় ব্যতিক্রমী নাচ-গান ও পটচিত্রে সচেতনতার জাগরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ব্যতিক্রমী নাচ-গান ও পটচিত্রে সচেতনতার জাগরণ

পত্রদূত রিপোর্ট: সুর, রঙ আর গল্পে ভর করে জনসচেতনতার এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া। পটগান আর পটচিত্রের মেলবন্ধনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া।

উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই জীবিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কমিউনিটির নেতৃত্বে পূর্বকুলিয়ায় এই জনসচেতনতামূলক পটগান ও পটচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন বাস্তবায়ন করে বেসরকারি সংস্থা ‘আনন্দ’। সহযোগিতায় ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা বিএমজেড ও ডাবি¬উএইচএইচ।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণ সঞ্চার করে সুশীলনের কালচার টিমের দক্ষ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। নাচ, গান আর জীবন্ত পটচিত্রের মাধ্যমে তারা তুলে ধরেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের গুরুত্ব। সহজ ভাষা আর লোকজ উপস্থাপনায় বার্তাগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আনন্দের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা রুমন বড়–য়া বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সম্পৃক্ততাও বাড়ায়।
তিনি আরও বলেন, মানুষকে সচেতন করতে হলে তাদের হৃদয়ে পৌঁছাতে হয়। পটগান ও পটচিত্রের মতো লোকজ মাধ্যম সেই কাজটিই সহজভাবে করে—আনন্দের মধ্য দিয়ে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো গ্রহণ করে এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে আগ্রহী হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না।
প্রদর্শনী সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সুশীলনের কালচার টিমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেন, কালচারাল টিম ম্যানেজার রিমা আক্তার, কালচারাল এনিমেটার লিজা পারভীন, মিউজিক সুপারভাইজার অনিমেষ বড়াল, কালচারাল অর্গানাইজার পবিত্র কুমার, লাবনী রায়, শেখর বৈরাগী ও সাথী বিশ্বাস।
আয়োজনে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত পরিবেশনা আর জীবন্ত বার্তায় মুগ্ধ দর্শকরা জানান, এমন উদ্যোগ তাদের সচেতনতার পাশাপাশি আনন্দও দিয়েছে।

গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর শেষে বিকেলের সতেজ আবহাওয়ায় আয়োজন মানুষের মধ্যে শুধু বিনোদন নয় সৃষ্টি করেছে প্রয়োজনীয় সচেতনতা। লোকজ সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সচেতনতার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস যেন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পূর্বকুলিয়ার এ আয়োজন প্রমাণ করেছে সচেতনতা ছড়াতে শুধু বক্তব্য নয়, দরকার হৃদয় ছোঁয়া উপস্থাপন।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়, কারণ এটি মানুষকে বিনোদনের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। পটগান ও পটচিত্রের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য খুবই কার্যকর। সবার বিশ্বাস, এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হবে।

সুশীলনের কালচার টিমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেন বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার। আমরা চেষ্টা করেছি গান, গল্প আর চিত্রের মাধ্যমে এমনভাবে বার্তা পৌঁছাতে, যাতে মানুষ সহজেই বুঝতে পারে এবং নিজের অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

 

 

Ads small one

তালায় ১৫ বছর শিকলবন্দী তরুণীর পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
তালায় ১৫ বছর শিকলবন্দী তরুণীর পাশে দাঁড়ালো উপজেলা প্রশাসন

শহিন আলম, খলিষখালী (পাটকেলঘাটা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রামের মোড়লপাড়ায় ২৪ বছর বয়সী মিতু নামের এক তরুণী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছে। এনিয়ে সম্প্রতি “তালায় ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী তরুণী, চিকিৎসা পেলে সুস্থতার আশা” শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

 

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিস আফরোজা আখতার এর নির্দেশে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাহাত খান তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. খালিদ হাসান নয়নকে সঙ্গে নিয়ে মিতুর বাড়িতে সরেজমিন পরিদর্শনে যান। এ সময় তারা মিতুর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক জানান, যথাযথ চিকিৎসা পেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এ আশ্বাসে পরিবারের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতুর মায়ের হাতে কিছু শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ তুলে দেন। পাশাপাশি তিনি মিতুর সম্পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর কথা জানান।

সাতক্ষীরায় সড়কের পাশে মরা গরু ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সড়কের পাশে মরা গরু ফেলে রাখায় জনদুর্ভোগ

ইব্রাহিম খলিল: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতা সংলগ্ন বাইপাস সড়কের পাশে একটি মরা গরু ফেলে রাখার ঘটনায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে মরা গরুটিকে সেখানে ফেলে রেখে যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানান, জনবহুল সড়কের পাশে এভাবে মরা প্রাণী ফেলে রাখা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। সময় যত গড়াচ্ছে, ততই গরুটি পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। স্থানীয়রা জানান, প্রতিনিয়ত সড়কের পাশে এভাবে বিভিন্ন মৃত পশু ফেলে রাখা হয়। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, রাস্তার পাশে এভাবে মরা গরু ফেলে রাখায় আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। কিছু সময় পরই দুর্গন্ধ ছড়াবে, তখন চলাচল করাই কঠিন হয়ে যাবে। দ্রুত এটি অপসারণ করা দরকার। এ ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পাশাপাশি দায়ীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরা গরুটি অপসারণ করা হবে। জনস্বার্থে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপ আরো জোরদার করা এবং শহরের যানজট, পরিচ্ছন্নতা, ট্রাক টার্মিনাল ও সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

অতিথি ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পী কুমার দাশ, থানার অফিসার ইনচার্জ এইচএম শাহীন, উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র সাবেক অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন, পৌর জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক ইউনুস আলী বাবু, মাওলানা আহম্মদ আলি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নূরে আলম নাহিদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন নাহার আক্তার, উপজেলা সহকারী প্রোগ্রামার মোতাহার হোসেন, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কমান্ডার হুমায়ুন কবির, ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, মাহবুবুর রহমান মফে, বিশাখা তপন সাহা, কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহবায়ক এমএ সাজেদ, সাংবাদিক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, কাজী সিরাজ, জাহিদুল ইসলাম, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।