দেবহাটায় ব্যতিক্রমী নাচ-গান ও পটচিত্রে সচেতনতার জাগরণ
পত্রদূত রিপোর্ট: সুর, রঙ আর গল্পে ভর করে জনসচেতনতার এক অনন্য মঞ্চ হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পূর্বকুলিয়া। পটগান আর পটচিত্রের মেলবন্ধনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও হৃদয়ছোঁয়া।
উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলায় জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই জীবিকায়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কমিউনিটির নেতৃত্বে পূর্বকুলিয়ায় এই জনসচেতনতামূলক পটগান ও পটচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ব্যতিক্রমধর্মী এ আয়োজন বাস্তবায়ন করে বেসরকারি সংস্থা ‘আনন্দ’। সহযোগিতায় ছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা বিএমজেড ও ডাবি¬উএইচএইচ।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণ সঞ্চার করে সুশীলনের কালচার টিমের দক্ষ কর্মকর্তা ও সদস্যরা। নাচ, গান আর জীবন্ত পটচিত্রের মাধ্যমে তারা তুলে ধরেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের গুরুত্ব। সহজ ভাষা আর লোকজ উপস্থাপনায় বার্তাগুলো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে আনন্দের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা রুমন বড়–য়া বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সম্পৃক্ততাও বাড়ায়।
তিনি আরও বলেন, মানুষকে সচেতন করতে হলে তাদের হৃদয়ে পৌঁছাতে হয়। পটগান ও পটচিত্রের মতো লোকজ মাধ্যম সেই কাজটিই সহজভাবে করে—আনন্দের মধ্য দিয়ে মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো গ্রহণ করে এবং নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে আগ্রহী হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না।
প্রদর্শনী সফলভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সুশীলনের কালচার টিমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেন, কালচারাল টিম ম্যানেজার রিমা আক্তার, কালচারাল এনিমেটার লিজা পারভীন, মিউজিক সুপারভাইজার অনিমেষ বড়াল, কালচারাল অর্গানাইজার পবিত্র কুমার, লাবনী রায়, শেখর বৈরাগী ও সাথী বিশ্বাস।
আয়োজনে স্থানীয় শত শত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রাণবন্ত পরিবেশনা আর জীবন্ত বার্তায় মুগ্ধ দর্শকরা জানান, এমন উদ্যোগ তাদের সচেতনতার পাশাপাশি আনন্দও দিয়েছে।
গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুর শেষে বিকেলের সতেজ আবহাওয়ায় আয়োজন মানুষের মধ্যে শুধু বিনোদন নয় সৃষ্টি করেছে প্রয়োজনীয় সচেতনতা। লোকজ সংস্কৃতির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সচেতনতার এই ব্যতিক্রমী প্রয়াস যেন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পূর্বকুলিয়ার এ আয়োজন প্রমাণ করেছে সচেতনতা ছড়াতে শুধু বক্তব্য নয়, দরকার হৃদয় ছোঁয়া উপস্থাপন।
চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ডিস্ট্রিক্ট রিপোর্টার আমিনা বিলকিস ময়না বলেন, এ ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়, কারণ এটি মানুষকে বিনোদনের মধ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। পটগান ও পটচিত্রের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার এই প্রয়াস গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য খুবই কার্যকর। সবার বিশ্বাস, এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দৃশ্যমান হবে।
সুশীলনের কালচার টিমের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেন বলেন, সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার। আমরা চেষ্টা করেছি গান, গল্প আর চিত্রের মাধ্যমে এমনভাবে বার্তা পৌঁছাতে, যাতে মানুষ সহজেই বুঝতে পারে এবং নিজের অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।







সচ্চিদানন্দ দে সদয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান