রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবহাটার কৃতী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের যৌথ গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য মনোনীত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫২ অপরাহ্ণ
দেবহাটার কৃতী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের যৌথ গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য মনোনীত

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি. ইনস্টিটিউশনের এসএসসি ২০২০ ব্যাচের কৃতী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের একটি যৌথ গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য মনোনীত হয়েছে। মেহেদী হাসান বর্তমানে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সাম্প্রতিক উদ্ভাবন নিয়ে আগামী ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ খ্রী. ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় আন্তর্জাতিক সেমিনারে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তিনজনের যৌথভাবে প্রস্তুত করা গবেষণাপত্রটি কংক্রিটের কর্মক্ষমতা উন্নতকরণে সূক্ষ্ম সমষ্টির ভিন্নতার প্রভাবের বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে জেআইসিএসডি-২০২৭ কমিটির সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ মনোয়ার হোসেন গবেষণাপত্রটি সেমিনারে উপস্থাপনের জন্য মনোনীত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন।
গবেষণাটিতে কংক্রিট তৈরিতে ব্যবহৃত বালি বা মিহি অ্যাগ্রিগেটের আকার, আকৃতি ও পরিমাণের তারতম্য কংক্রিটের গুণগত মান ও কর্মক্ষমতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কংক্রিটের উন্নত বন্ধন, পানি প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ফাটল কমানোর ক্ষেত্রে মিহি অ্যাগ্রিগেটের ভূমিকার বিষয়টিও গবেষণায় গুরুত্ব পেয়েছে।

মেহেদী হাসান দেবহাটা সরকারি বি.বি.এম.পি. ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম ও মিসেস মুরশিদা পারভীনের ছেলে। তাঁর এই গবেষণাভিত্তিক সাফল্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, মেহেদী হাসানের এই অর্জন দেবহাটার জন্য গর্বের বিষয়। তাঁরা তাঁর গবেষণাক্ষেত্রে আরও সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে উত্তরোত্তর অগ্রগতি কামনা করেছেন।

 

Ads small one

নিরাপদ গর্ভপাত অধিকার দিবস: প্রজননগত ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
নিরাপদ গর্ভপাত অধিকার দিবস: প্রজননগত ন্যায়বিচার ও স্বাস্থ্যসেবার প্রশ্ন

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নিরাপদ গর্ভপাত দিবস। দিনটি কেবল কোনো নির্দিষ্ট মত প্রকাশের উপলক্ষ নয়; বরং অনিরাপদ গর্ভপাতজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ, নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা এবং মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যাধিকার ও মর্যাদা রক্ষার বৈশ্বিক আহ্বান। ২০২৬ সালের দিবসটির মূল সুর-‘একতাবদ্ধ কর্মপন্থা: প্রজননগত ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়া এবং সামগ্রিক গর্ভপাত সেবায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে জরুরিভাবে শক্তিশালী করা।’

প্রজননগত ন্যায়বিচার বলতে কেবল কোনো বিশেষ চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগকে বোঝায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানসম্মত সেবা, সঠিক তথ্য, বৈষম্যহীনতা, গোপনীয়তা রক্ষা এবং স্বায়ত্তশাসনের অধিকার। আর্থিক বা সামাজিক অবস্থানের কারণে কেউ যেন সেবাবঞ্চিত না হন-তা নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে এই দিবসের ঐতিহাসিক প্রতীকী সূত্র ছিল ১৮৭১ সালে ব্রাজিলে পাস হওয়া ‘ল অব ফ্রি বার্থ’ (রিও ব্রাঙ্কো ল), যা দাসী নারীদের সন্তানকে আইনি মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়ার একটি অংশ ছিল। পরবর্তীতে লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু হয়ে ২০১১ সালে আন্দোলনটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ প্ররোচিত গর্ভপাত ঘটে, যার ৪৫ শতাংশই অনিরাপদ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ নারী অনিরাপদ গর্ভপাতজনিত জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। বৈশ্বিক মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রতিরোধযোগ্য কারণটির সঙ্গে সম্পর্কিত। উপযুক্ত সময়সীমা, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা নিশ্চিত করা গেলে এ ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অন্যদিকে, অদক্ষ ব্যক্তি বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অপচিকিৎসা গুরুতর রক্তক্ষরণ ও অঙ্গহানির মতো প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশের আইনগত প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বুঝতে ১৮৬০ সালের দন্ডবিধির (ধারা ৩১২-৩১৬) পাশাপাশি ‘মেনস্ট্রুয়াল রেগুলেশন’ বা এমআর ব্যবস্থার পার্থক্য জানা প্রয়োজন। জীবন রক্ষা ব্যতীত স্বেচ্ছায় গর্ভপাত শাস্তিমূলক অপরাধ হলেও, ১৯৭৯ সাল থেকে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির অধীনে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও নিয়মে এমআর সেবা চালু রয়েছে। তাই সংবাদ বা সচেতনতামূলক নিবন্ধে এমআর ও প্ররোচিত গর্ভপাতকে এক করে না দেখে সঠিক পরিভাষা ব্যবহার করা দরকার।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিটি ও নারী বৈষম্য বিলোপ সনদ-এ নারীর জীবন, স্বাস্থ্য ও সমতার অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোতে বিষয়টিকে ঢালাও অধিকার হিসেবে না দেখে ব্যক্তির স্বাস্থ্যাধিকার ও রাষ্ট্রের আইনি ব্যবস্থার সমন্বয়ে মূল্যায়ন করা হয়।

এটি শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞান বা আইনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে ধর্ম, নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ যুক্ত। ইসলাম, খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের চিন্তাবিদদের মধ্যে পরিস্থিতি ও গর্ভকালের ভিন্নতার ভিত্তিতে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। মায়ের জীবন রক্ষা ও জটিল পরিস্থিতিতে ধর্মীয় নীতিমালায় শিথিলতার আলোচনা পাওয়া যায়। তাই কোনো একক দৃষ্টিভঙ্গিকে পুরো ধর্মের একমাত্র অবস্থান হিসেবে তুলে না ধরে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি অনুধাবন করা প্রয়োজন।

শহরের সচ্ছল মানুষের তুলনায় গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থ, দূরত্ব, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধার কারণে মানসম্মত চিকিৎসা থেকে বেশি বঞ্চিত হন। বাংলাদেশে অনিরাপদ গর্ভপাত রোধে কয়েকটি বিষয় জরুরি: পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচার, স্বীকৃত এমআর সেবা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া, প্রজননস্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জটিলতায় দ্রুত পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করা।

নিরাপদ গর্ভপাত অধিকারের মধ্যদিয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে যে, চিকিৎসা নিতে এসে কোনো নারী যেন অপমান, ভয় বা সামাজিক বিচারের শিকার না হন। গর্ভপাত নিয়ে সমাজে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু সচেতনতার অভাবে বা ভুল পদ্ধতিতে যেন কোনো জীবন অকালে ঝরে না পড়ে-এই মানবিক জায়গায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতার সুযোগ রয়েছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং সম্মানজনক প্রজননস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই আন্তর্জাতিক নিরাপদ গর্ভপাত দিবসের মূল বার্তা।

 

 

 

বজ্রপাত ও মৃত্যু/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
বজ্রপাত ও মৃত্যু/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বজ্রপাত সাতক্ষীরার মানুষের কাছে নতুন কোনো দুর্যোগ নয়। বর্ষার কালো মেঘ, বিদ্যুতের ঝলকানি আর হঠাৎ বিকট শব্দÑএর সঙ্গে উপকূলের মানুষ পরিচিত। কিন্তু পরিচিত এই প্রাকৃতিক ঘটনাই প্রতিবছর কেড়ে নিচ্ছে মানুষের প্রাণ। বিশেষ করে আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে কৃষি, মৎস্যঘের, নদী ও জলাভূমিনির্ভর জীবিকার কারণে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এই তিন উপজেলার বাস্তবতা বুঝতে হলে মানুষের কর্মক্ষেত্রের দিকে তাকাতে হবে। এখানে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন মাঠে, ঘেরের পাড়ে কিংবা নদীতে কাজ করেন।

 

২০২১ সালের সরকারি ক্ষয়ক্ষতির হিসাবে আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে প্রায় ১৯ হাজার ৪৫৯টি মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, যার মোট আয়তন ছিল প্রায় ১২ হাজার ৬৫ হেক্টর। এটি বজ্রপাতের পরিসংখ্যান নয়; তবে কত বিপুলসংখ্যক মানুষ উন্মুক্ত জলাভূমি ও ঘেরকেন্দ্রিক কর্মক্ষেত্রে যুক্ত, তার একটি ধারণা দেয়। আশাশুনির আনুলিয়া, প্রতাপনগর, শ্রীউলা, খাজরা, বড়দল ও বুধহাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় মৎস্যচাষ ও কৃষির বিস্তার রয়েছে। ঘেরের শ্রমিক কিংবা মালিককে দিনের বিভিন্ন সময়ে খোলা জায়গায় থাকতে হয়।

 

বজ্রপাত শুরু হলে অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত নিরাপদ পাকা ভবনে পৌঁছানোর সুযোগ থাকে না। ঘেরের মাঝখানে থাকা টিনের ঘর বা অস্থায়ী স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয় মনে করার প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ফলে বজ্রপাতের মৌসুমে ঘেরভিত্তিক কর্মীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রয়োজন। শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, রমজাননগর, মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুরের মানুষের জীবনের সঙ্গে নদী, খাল, ঘের ও সুন্দরবন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। জেলেদের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আরও বেশি। নদীর মাঝখানে বজ্রপাত শুরু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকে না।

 

২০২৬ সালের জুনে শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে একজন জেলে নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার ঘটনা সেই বাস্তবতাই সামনে আনে। একই বছর মৎস্যঘেরে কাজ করতে গিয়ে এবং ধানক্ষেতে কাজ করার সময়ও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর এসেছে। অর্থাৎ এখানে আক্রান্ত হচ্ছেন শুধু কৃষক নন-জেলে, ঘেরশ্রমিক ও সাধারণ মানুষও। কালিগঞ্জের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, নদী-খাল ও মৎস্যঘের বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। ফলে বর্ষাকালে মাঠ ও জলাভূমিতে কর্মরত মানুষের বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো, বজ্রপাত কখনো একটি পরিবারের একাধিক সদস্যকেও একসঙ্গে কেড়ে নেয়।

 

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কালিগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনসহ একাধিক মানুষের বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের শোক নয়; স্থানীয় সমাজ ও অর্থনীতির ওপরও বড় আঘাত। সাতক্ষীরায় বজ্রপাত নিয়ে আলোচনা হলেও আশাশুনি, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে গত পাঁচ বা দশ বছরে ঠিক কতজন মারা গেছেন, কতজন আহত হয়েছেন এবং কোন ইউনিয়ন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ-তার সমন্বিত প্রকাশ্য তথ্য খুবই প্রয়োজন। প্রতিটি ঘটনার তথ্য সংরক্ষণ করা হলে সহজেই জানা যাবে-কোন এলাকায় মৃত্যুর হার বেশি, কৃষক না জেলে কারা বেশি আক্রান্ত, কোন মাসে ঝুঁকি বাড়ে এবং ঘটনাগুলো প্রধানত মাঠ, ঘের না নদীতে ঘটে।

 

বজ্রপাতের সময় গাছের নিচে না দাঁড়ানো, খোলা মাঠ ও জলাশয় থেকে সরে যাওয়া-এসব সচেতনতা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু মাঠের কৃষক বা ঘেরের শ্রমিক যদি কাছাকাছি নিরাপদ ভবনই না পান, তাহলে শুধু সচেতনতার বার্তা কতটা কার্যকর হবে? তাই বড় কৃষিজমি ও ঘের এলাকায় নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা দরকার। ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক ও অন্যান্য পাকা ভবনকে প্রয়োজনে আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে।

 

নদীতে থাকা জেলেদের জন্য মোবাইলভিত্তিক দ্রুত আবহাওয়া সতর্কবার্তাও কার্যকর হতে পারে। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বজ্রপাতে আহতদের জরুরি চিকিৎসার প্রস্তুতি রাখা প্রয়োজন। উপকূলের মানুষকে বলা সহজÑবজ্রপাতের সময় বাইরে যাবেন না। কিন্তু কৃষক, জেলে বা ঘেরশ্রমিকের পক্ষে সব সময় কাজ বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তাঁদের জীবিকা প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তাই সমাধানও হতে হবে বাস্তবভিত্তিক। কাজ বন্ধ নয়, ঝুঁকি কমানোÑএই নীতিতে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

 

আশাশুনি-শ্যামনগর-কালিগঞ্জে ইউনিয়নভিত্তিক বজ্রপাতের তথ্যভান্ডার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, নিরাপদ আশ্রয়, আগাম সতর্কবার্তা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ-এই পাঁচটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। বজ্রপাত থামানো মানুষের হাতে নেই। কিন্তু মৃত্যুর সংখ্যা কমানোর সুযোগ আছে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে মৃত্যুর পর শোক প্রকাশের চেয়ে মৃত্যুর আগে প্রস্তুতি জরুরি। সাতক্ষীরার কৃষক মাঠে যাবেন, ঘেরশ্রমিক ঘেরে যাবেন, জেলে নদীতে নামবেনÑএটাই তাঁদের জীবন। রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো সেই জীবনকে যতটা সম্ভব নিরাপদ করা। বজ্রপাত প্রকৃতির ঘটনা; কিন্তু বজ্রপাতে মৃত্যু কতটা হবে, তার একটি অংশ নির্ভর করে আমাদের প্রস্তুতির ওপর।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

সাতক্ষীরায় ঝনু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ঝনু হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

সংবাদদাতা: ‎সাতক্ষীরায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত আব্দুর রকিব ঝনুর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‎‎সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা মোড়ে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‎‎মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য দেন।
‎‎বক্তব্য রাখেন, নিহতের পিতা আব্দুর রশিদ, চাচাতো ভাই আশরাফুল আলম ডাবলু, চাচা সামছুর রহমান, স্ত্রী মর্জিনা খাতুন,ভাবি হোসনেয়ারা, চাচাতো ভাই ফয়ছাল আহম্মেদ, ছোট ভাই বিল্লাল।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঘটনার দিন ৫০/৬০ জন ত্রাস সৃষ্টি করে ঝনুর ওপর হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে আব্দুর রকিব ঝনুর মৃত্যু হয়।

‎‎বক্তারা আরো বলেন, এ ঘটনায় মামলা হলেও মামলার অধিকাংশ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে অভিযুক্তরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তারা।

‎সমাবেশ থেকে বক্তারা হত্যাকান্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

‎মানববন্ধনে নিহত ঝনুর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বক্তারা বলেন, একজন সন্তান ও ভাইকে হারানোর বেদনা নিয়ে তারা দিন কাটাচ্ছেন; তাদের একমাত্র দাবি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার। বক্তারা, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।