সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ জরুরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ জরুরী

মিনাক্ষী শীল

রাজধানীর কাফরুল, কলেজ গেট ও চিটাগাং রোডে শুক্রবার রাতে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ওদিকে যাত্রাবাড়ি, মালিবাগ, মগবাজার, রামপুরা, আগারগাঁও, মহাখালি ও বাবুবাজারে ককটেল ও হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এসব ককটেল হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা বাড়ছে, যাতে মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও শংকা দেখা দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলার এহেন অবনতি পুলিশের শোচনীয় ব্যর্থতার নামান্তর। অর্ন্তর্বতী সরকারের সময় পুলিশের অনুপস্থিতি বা অপারগতা সাধারণ বাস্তবতা হিসাবে দেখা দিয়েছিল। তখনো এ ধরনের সন্ত্রাস ও নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। এখন বিপুল ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার ক্ষমতায়।

 

ছয় মাসের অধিক সময় সরকার ক্ষমতাসীন অথচ এই সময়ে নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ছাড়া উন্নতি হয়নি। পুলিশ আগের মতো নিরাপত্তার সংকটে নেই, ট্রমায় নেই। প্রশ্ন ওঠে, তারপরও আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হচ্ছে না কেন? এই ছয় মাসে সারাদেশে খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, ডাকাতি ইত্যাদি অপরাধ উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কোনো কোনো অপরাধের সঙ্গে আগের মতো পুলিশের সংশ্লিষ্টতাও লক্ষ্য করা গেছে। পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য ও অফিসার পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। যোগ্যতা যাই থাক, তারা মূলত রাজনৈতিক বিবেচনায় মনোনীত। ফলে প্রত্যাখ্যাত রাজনীতি ও নিষিদ্ধ দলের প্রতি এখনো তাদের আনুগত্য রয়েছে বলেই ধারণা করা যায়।

 

স্বভাবতঃই এ ধরনের পুলিশের কাছ থেকে সরকার যথাযথ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতা পাচ্ছেনা। এমতাবস্থায় পুলিশের খোলনোলচে পাল্টে পুনর্গঠিত করা ছাড়া উপায় নেই বলে মনে করে ওয়াকিবহাল মহল। আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ছাড়া কোনো সরকারের সফলতা ও জনপ্রিয়তা প্রমাণিত হয়না। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের ক্ষেত্রেও এটা সমানভাবে প্রযোজ্য। সঙ্গত কারণেই ফ্যাসিস্ট সরকার এবং নিষিদ্ধ দলের সদস্য ও গু-াপা-ারা বর্তমান সরকার সফল হোক, তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাক, তা চায় না। তাদের ভারতীয় প্রভুরাও চায় না। শুরু থেকেই তাই তারা সরকারকে ব্যর্থ ও অসফল করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, বিএনপি সরকারের ২১০দিনে ৩৭১ বার দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তারা আতংক সৃষ্টি করছে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কতদূর যেতে পারে, তার প্রমাণ রয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় তাদের আচরণ ও কর্মের মধ্যে। বর্তমান সরকারকে একদিনের জন্যও পতিত ফ্যাসিস্টরা শান্তিতে থাকতে দেবেনা, তাদের অরাজকতা সৃষ্টির লাগাতার চেষ্টাই তার সাক্ষ্য বহন করে। এখনো প্রশাসনে, পুলিশে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আওয়ামীপন্থীদের অবস্থান প্রায় অটুট রয়েছে। ফ্যাসিস্টরা নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টির কাজে তাদের সাহায্য-সহযোগিতা নিতে পারে এবং পেতেও পারে। ইতোমধ্যে কিছু ঘটনায় এ ধরনের আলামত লক্ষ্য করা গেছে।

 

সম্প্রতি পুলিশের একজন ওসি বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আবার ফিরবে, আওয়ামী লীগ এলে কিছুই হবে না। সব ঠিক হয়ে যাবে। ডিসেম্বরে দেরি হয়ে গেছে, এই মাসেই শেখ হাসিনার আসা উচিৎ ছিল। শেখ হাসিনা ফিরলে পুলিশ কিছুই করতে পারবেনা।’ এই যদি পুলিশ নামধারীদের মাইন্ডসেট হয়, তবে তাদের কাছ থেকে কী আশা করা যায়! এ রকম আওয়ামী-অন্ধ পুলিশের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়, তা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের ঠিক করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা, নাগরিক নিরাপত্তা, শান্তি-স্থিতি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের অনিবার্য ও অগ্রবর্তী ভূমিকার কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখেনা। পুলিশকে দেশবান্ধব, নাগরিকবান্ধব, সৎ, ন্যায়নিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল হওয়া বাধ্যতামূলক। পুলিশের ভাবমর্যাদা ও সম্মান যথেষ্ট বিনষ্ট হয়েছে। এখন সেই ভাবমর্যাদা ও সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।

 

সরকারকে এদিকে গুরুত্বের সঙ্গে নজর দিতে হবে। দুঃখজনক হলেও একটি প্রসঙ্গ এখানে বিশেষভাবে স্মরণ করতে হচ্ছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জঙ্গী কার্ড খেলার ক্ষেত্রে পুলিশকে যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে। মসজিদ, মাদরাসায় জঙ্গী খোঁজা হতো এবং পাওয়াও যেতো। টুপি-দাঁড়িওয়ালা মানুষ, কোরআন-কেতাব পড়া শিক্ষার্থী, আলেম-ওলামা জঙ্গী হিসাবে চিহ্নিত হতো। তাদের অনেককে হত্যা করা হতো, অনেককে অপরিসীম নির্যাতন-নিপীড়ন শিকারে পরিণত করা হতো। ওই সময় এ ধরনের ঘটনা ছিল খুবই স্বাভাবিক। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে, ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই ছিল সাজানো, পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক। দেশ মৌলবাদী বা জঙ্গীরাষ্ট্র হয়ে যাচ্ছে, তার প্রমাণ হিসাবে ঘটনাগুলো ঘটানো হতো।

সম্প্রতি রাজধানীতে ঘটা এরকম একটি ঘটনার খবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। এখানেও মসজিদকেই নিশানা করা হয়েছে। তেজগাঁওয়ের ওই মসজিদ থেকে জঙ্গী বা উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য সন্দেহে ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য মতে, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তারা বৈঠক করছিল। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। আসলেই তারা উগ্রবাদী বা জঙ্গী কিনা, পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।

 

বিষয়টি বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। কাজেই তার অনুপুংখ তদন্ত হতে হবে। এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ফ্যাসিস্টরা এবং তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা ভারত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বাংলাদেশে উগ্রবাদী ইসলামের জয় হয়েছে বলে প্রচার করে আসছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও পত্র-পত্রিকায় বাংলাদেশ মৌলবাদী বা জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এখানে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দুদের কোনো নিরাপত্তা নেই, তারা নানা ভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে ইত্যাদি ধরনের মিথ্যাচার করছে। সরকারকে এব্যাপারে সতর্ক ও সাবধান হতে হবে। জঙ্গী আটকের খেলা বন্ধ করতে হবে। জজমিয়ার নাটক এদেশে কেউ আর দেখতে চায়না। আশার কথা, এ দেশের মানুষ উগ্রবাদী ও জঙ্গী নয়।

 

দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা অতীতের আওলিয়া-দরবেশদের উত্তরাধিকারী ও অনুসারী। সাধারণ মানুষও মানবিক, সহনশীল, সহৃদয়। বাংলাদেশের মৌলবাদী বা জঙ্গীরাষ্ট্র হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। সরকার মৌলবাদী বা জঙ্গীরাষ্ট্র চায়না। জাতীয় সংসদে যে স্ট্রংবিরোধী দল রয়েছে, তারাও চায়না। ইসলামে উগ্রবাদ, মৌলবাদ বা জঙ্গীবাদের কোনো স্থান নেই। সুতরাং এ বিষয়ে সকল অপপ্রচার সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে লিবারেল মুসলিম দেশ এবং তার উন্নতি-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য নিরবচ্ছিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাকে সহযোগিতা করা মানে দেশকে এগিয়ে নেয়া। কোনো কারণেই যেন তার এ মিশন ব্যাহত না হয়, আমাদের সকলকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

মিনাক্ষী শীল সাবেক শিক্ষার্থী খানজাহান আলী মহাবিদ্যালয়, সমাজকর্ম বিভাগ, খুলনা

 

Ads small one

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে

ন্যাম ভবন থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে ব্রিফ করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও জোনের ডিসি ইবনে মিজান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেছি। সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে বলেও জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নং ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান ভবনটির লোকজন। এসময় শেরেবাংলা নগর থানায় ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানালা দিয়ে মরদেহ দেখে পিবিআই এবং সিআইডি’র ফরেনসিক টিমকে আসতে বলেন।

ব্রিফিংয়ে ইবনে মিজান জানান, এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় এই দুজন ওই ফ্ল্যাটে ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই এক তরুণীর সঙ্গে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে জামায়াতে ইসলামী ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কার আদেশে দলীয় তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা নারী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং তারা চলতি বছরের ১৭ জুন বিয়ে করেছেন।

বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে জানালেও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় তার এমপি পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়নি। এ নিয়ে সংসদীয় কমিটিতেও বিতর্ক হয় এবং একটি কমিটি থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নজরুল ইসলাম দাবি করেন, বহিষ্কারের পরও ‘খাতা-কলমে’ তিনি জামায়াতের সদস্য। এ বক্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা হয়।

সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪০ পূর্বাহ্ণ
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা

দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে অবমূল্যায়নের ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশি টাকা। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গত এক বছরের হিসাবে টাকার মান বেড়েছে দশমিক ০৬ শতাংশ। আর ৩০ আগস্ট থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হয়েছে দশমিক ৭৭ শতাংশ।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে। এই সময়ে এক ডলারের বিপরীতে টাকার দর ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় ওঠে। অর্থাৎ এই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে ৩৮ টাকা ২০ পয়সা বা ৪৫ দশমিক ০৫ শতাংশ।

তবে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এসে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। ৩০ আগস্ট ডলারের দাম সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় ওঠার পর ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। ফলে ওই সময়ে ডলারের বিপরীতে টাকার মান বেড়েছে ৯৫ পয়সা।

যেভাবে কমেছে টাকার মান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে প্রতি ডলারের দাম ছিল ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা। ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে তা কমে ৮৪ টাকা ৮০ পয়সায় নামে। অর্থাৎ এক বছরে ডলারের দাম কমেছিল ১০ পয়সা। বিপরীতে টাকার মান বেড়েছিল দশমিক ১২ শতাংশ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সময় আমদানি কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কম থাকা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ওই সময়ে ডলারের চাহিদা ও সংকট তুলনামূলক কম ছিল। ফলে টাকার মান কিছুটা শক্তিশালী হয়েছিল।

কিন্তু ২০২১ সাল থেকে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি দেশে আমদানিও বাড়ে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠে। ওই বছর টাকার মান কমে যায় ১ দশমিক ১৮ শতাংশ।

এরপর ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এতে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। একই সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় দেশে ডলারের সংকট আরও তীব্র হয়।

ফলে ২০২২ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১০৫ টাকা ৮৫ পয়সায়। এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছিল ২০ টাকা ৫ পয়সা বা ২৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। একই হারে কমে যায় টাকার মান।

এরপরও টাকার ওপর চাপ অব্যাহত ছিল। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে ১১০ টাকা হয়। ওই বছর ডলারের দাম বাড়ে ৪ টাকা ১৫ পয়সা বা ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম আরও ১০ টাকা বেড়ে ১২০ টাকায় ওঠে। এক বছরে টাকার মান কমে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ।

২০২৫ সালেও টাকার অবমূল্যায়ন অব্যাহত ছিল। ওই বছরের ডিসেম্বর শেষে ডলারের দাম বেড়ে ১২২ টাকা ৩৩ পয়সায় দাঁড়ায়। এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা বা ১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

এবার উল্টো চিত্র

তবে চলতি বছর এসে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনের ধারায় পরিবর্তন এসেছে। গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত হিসাবে টাকার মান কমার পরিবর্তে বেড়েছে দশমিক ০৬ শতাংশ।

এরপর আগস্টের শেষ দিকে ডলারের দর আবার কিছুটা বাড়লেও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তা কমে আসে। ৩০ আগস্ট প্রতি ডলারের দাম ১২৩ টাকা ৯৫ পয়সায় উঠেছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর তা কমে ১২৩ টাকায় নেমে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, এই সময়ে টাকার মান বেড়েছে দশমিক ৭৭ শতাংশ।

আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতিও তুলে ধরা হয়েছে। গত বছরের জুনের তুলনায় চলতি বছরের জুনে বেশ কয়েকটি দেশের মুদ্রার মান কমেছে।

এ সময়ে ভারতের রুপির অবমূল্যায়ন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার মুদ্রার মান কমেছে ১০ শতাংশের বেশি। ইন্দোনেশিয়ার রুপিয়াহর মান কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ।

অন্যদিকে একই সময়ে মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত ও চীনের ইউয়ানের মান বেড়েছে প্রায় ৪ শতাংশ করে। পাকিস্তানি রুপির মান বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।

অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে অবমূল্যায়নের পর চলতি সময়ে বাংলাদেশি টাকা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে এসেছে।

টাকার মান কমলে যে চাপ বাড়ে

ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের সরাসরি প্রভাব পড়ে আমদানি ব্যয়ের ওপর। আমদানিকারকদের বেশি টাকা দিয়ে একই পরিমাণ ডলার কিনতে হয়। এতে আমদানি করা জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের খরচ বাড়ে।

এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে। পণ্যের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। বিশেষ করে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় এর প্রভাব পড়ে।

এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রায় নেওয়া ঋণের বিপরীতে বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয়। ফলে টাকার অবমূল্যায়নের সঙ্গে দেশের বৈদেশিক ঋণের টাকার অঙ্কের দায়ও বাড়ে।

অন্যদিকে টাকার মান শক্তিশালী হলে আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ কিছুটা কমে এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে টাকার হিসাবে চাপ কমতে পারে। তবে এর প্রভাব নির্ভর করে আমদানি, রফতানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।

 

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো লিটারে ২০ টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো লিটারে ২০ টাকা

দেশের এক লাফে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেন; চার ধরনের তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। আজ রবিবার (২২০ সেপ্টেম্বর) জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন দাম কার্যকর হবে আগামীকাল সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর থেকে। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার হবে।

এর আগে ডিজেল ১১৫, কেরোসিন ১৩৫, পেট্রল ১৪০ এবং অকটেন ১৪৫ টাকা লিটারে বিক্রি হয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বাড়লেও জনস্বার্থে দেশে তা পুরোপুরি সমন্বয় করা হয়নি। এতে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে।

এর আগে ১৯ এপ্রিল থেকে ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা করা হয়। একই সময়ে কেরোসিন ১৮, পেট্রল ১৯ এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়ানো হয়। জুনে কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম আরও ৫ টাকা করে বাড়ে। এরপর জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত ছিল।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলে প্রতি লিটারে বিপিসির লোকসান প্রায় ৮৯ টাকা। এতে দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে বছরে বিপিসির লোকসান প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়৷