সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

পুঁজিবাজারে ৮ মাসে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
পুঁজিবাজারে ৮ মাসে বিদেশি লেনদেন বেড়েছে ৩৭.৬ শতাংশ

সংস্কার উদ্যোগ ও বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার ফলে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। শুধু তাই নয়, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই লেনদেনের পরিমাণ গত বছরের পুরো বছরের মোট লেনদেনের প্রায় ৯৪ শতাংশে পৌঁছেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১ হাজার ১৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বা ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার পেছনে বাজার সংস্কারের বিভিন্ন উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক সূচক নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির সময় কমিয়ে আনার উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, বিদেশি লেনদেন বৃদ্ধির পেছনে ডিএসইর একক কোনো উদ্যোগ কাজ করছে না। বরং বাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে এমার্জিং মার্কেটে উন্নীত করার প্রস্তুতি, এমএসসিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের এনআইটিএ-সংক্রান্ত বিধি সহজ করা এবং টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা গেছে।

তিনি বলেন, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নন-রেসিডেন্ট ইনভেস্টরস টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআইটিএ ব্যবস্থার একটি জটিলতা সম্প্রতি সহজ করা হয়েছে। আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর প্রতিটি লেনদেনের সময় এনআইটিএ হিসাবের মাধ্যমে অর্থের হিসাব করতে হতো। ডিএসইর পক্ষ থেকে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মটি সহজ করে।

নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি লেনদেনের সময় আলাদাভাবে হিসাব না করে বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ থেকে অর্থ প্রত্যাবাসনের সময় প্রয়োজনীয় হিসাব সম্পন্ন করতে পারবেন। এতে বিদেশি বিনিয়োগের প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর পাশাপাশি টি+১ সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় যাওয়ার উদ্যোগও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। পুঁজিবাজারে পেশাদার ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সম্মিলিত প্রভাবে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করেন নুজহাত আনোয়ার।

ডিএসই’র তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিদেশি লেনদেনে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী। জানুয়ারিতে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭৭ কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৬৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬৩ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ৭৯৫ টাকা।

মার্চে লেনদেন কমে ২৭২ কোটি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৯৮০ টাকা এবং এপ্রিলে ১৭৫ কোটি ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬০ টাকায় নেমে আসে। তবে মে মাসে বিদেশি লেনদেনে বড় উত্থান ঘটে। ওই মাসে লেনদেন হয় ৮৩১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৭৭১ টাকা, যা চলতি বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এরপর জুনে বিদেশি লেনদেন হয়েছে ৫৪০ কোটি ১৬ লাখ ৬১ হাজার ৪৭০ টাকা এবং জুলাইয়ে ৫২৩ কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৯৬৬ টাকা। আগস্টে তা কিছুটা কমে ৩১৮ কোটি ৫৭ লাখ ২৭ হাজার ৯৯১ টাকায় দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসে বিদেশি লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৯ টাকা। ওই বছরের জানুয়ারিতে লেনদেন ছিল ১৮১ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১০৫ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে ২৬৪ কোটি ১৩ লাখ ৯৯ হাজার ২৬২ টাকা হলেও মার্চে কমে দাঁড়ায় ১৭১ কোটি ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ টাকা।

এপ্রিল ও মে মাসে লেনদেন আবার বাড়ে। এপ্রিলে ৪২৬ কোটি ৯৪ লাখ ১ হাজার ২৯৮ টাকা এবং মে মাসে ৫০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১৯ হাজার ১৪২ টাকা লেনদেন হয়, যা ওই বছরের প্রথম আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। জুনে তা কমে ২৮৫ কোটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৯ টাকা হলেও জুলাইয়ে বেড়ে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৬৬ হাজার ২১৭ টাকা হয়। আগস্টে লেনদেন দাঁড়ায় ৩৭১ কোটি ৫৬ লাখ ৩ হাজার ৫৪৮ টাকা।

২০২৫ সালের পুরো বছরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মোট লেনদেন ছিল ৩ হাজার ৯২০ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ২১ টাকা। এর বিপরীতে চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৭০১ কোটি ২৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৮ টাকা, যা গত বছরের পুরো বছরের প্রায় ৯৪ শতাংশ। সূত্র: বাসস

Ads small one

আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন
বদিউজ্জামান: ‘আইনগত সেবা পাওয়া আপনার অধিকার—নিশ্চিত করেছে সরকার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আইনগত সহায়তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়।
বিলবোর্ড স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ নাছির উদদীন ফরাজী, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস, সিভিল জজ মোঃ হাসানুল বান্না, সিভিল জজ লাবিব মেজবাহ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান ও আরা সংস্থার পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরার উদ্যোগে স্থাপিত বিলবোর্ডে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সুযোগ ও পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, নির্যাতিত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষসহ নির্ধারিত শ্রেণির নাগরিকরা সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকারী।
বিলবোর্ডের তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা, আপস-মীমাংসা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা পাওয়া যায়। দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক ও অন্যান্য মামলায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি চলমান মামলায়ও আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এতে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নির্যাতিত নারী ও শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তি, কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত বা নির্দিষ্ট কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছলসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলবোর্ডে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পেতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করার সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, উপজেলা লিগ্যাল এইড অফিস এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা নেওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ আইনি অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, আবেদন পদ্ধতি এবং লিগ্যাল এইডের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন’—এই লক্ষ্য আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বিলবোর্ডটি বাস্তবায়নে রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরা, সাতক্ষীরা। সহযোগিতায় রয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ট্রাইডিশন এইড, অর্থায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রচারে রয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরা।

কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
কলারোয়া প্রতিনিধি: ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন কলারোয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শশী ভূষণ পাল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর  আবু নসর, সরকারি জিকেএফ কে পাইলট হাইস্কুলের  প্রধান শিক্ষক সুদীপ বিশ্বাস, একাডেমিক সুপারভাইজার তাপস কুমার দাস, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান  প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল, সুপার মাওলানা ওসমান গনি, শিক্ষক নেতা বাকী বিল্লাহ শাহী, সহকারী শিক্ষক আরিফুজ্জামান কাঁকন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ সাজেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ মোল্লা।

কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম
কলারোয়া প্রতিনিধি: প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতার জন্য ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া। দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিবছরই নতুন কোনো শিল্পভাবনা নিয়ে হাজির হন এখানকার প্রতিমাশিল্পী ও পূজা আয়োজকরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিলের আবরণে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। অভিনব এই শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিনই পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
কলারোয়া পৌরসভাধীন উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এবার দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, অসুর ও মহিষাসুরসহ মোট ১৬টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিমার গায়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বসানো হচ্ছে সাদা তিল। সব মিলিয়ে প্রতিমাগুলোতে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালে চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে এবং গত বছর পাটের আঁশ ব্যবহার করে প্রতিমা নির্মাণ করে চমক সৃষ্টি করেছিল পালপাড়া পূজামণ্ডপ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো নির্মাণের মূল কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমার শরীরে আঠা দিয়ে একেকটি করে সাদা তিল বসানোর সূক্ষ্ম কাজ চলছে। তালুতে তিল নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দেওয়ার এই কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে বসিয়ে প্রতিমার শরীরে নান্দনিক নকশা ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হচ্ছে ধৈর্য, নিখুঁত হাতের কাজ ও শিল্পীর দক্ষতা।
প্রতিমাশিল্পী খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনির বাসিন্দা প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, প্রতিমা নির্মাণ, তিল বসানো ও রঙের কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগছে। তিনি চার সহকর্মীকে নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। তিল বসানোর কাজ শেষ করতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, “পরিষ্কার সাদা তিল হাতের তালুতে নিয়ে প্রতিমার গায়ে একে একে বসিয়ে দেওয়ার কাজটি বেশ কঠিন। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে স্থাপন করতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিতে হয়।”
পূজা মণ্ডপ কমিটির কোষাধ্যক্ষ অশ্বিন পাল জানান, এবার প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জাসহ সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবারও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পূজা মণ্ডপের দায়িত্বশীলদের আলোচনার মাধ্যমে সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “কলারোয়া উপজেলার মধ্যে আমরাই প্রতিবার নতুন কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করি। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
পূজা মণ্ডপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার ফলেই এই ব্যতিক্রমী কাজ সম্ভব হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধান ও পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসা পেয়েছিল। এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল দিয়ে তৈরি প্রতিমাটিও মানুষের নজর কাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পালপাড়া পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে, সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানো শুধু একটি ব্যতিক্রমী শিল্পপ্রয়াস নয়; এর মাধ্যমে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মাটি, শস্য, শিকড় ও ঐতিহ্যকেও তুলে ধরা হচ্ছে। দেশীয় উপকরণকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের সামনে লোকজ সৃজনশীলতার একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু প্রকাশ হালদার জানান, এ বছর কলারোয়া উপজেলায় ৪৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে সাদা তিলের আবরণে তৈরি ব্যতিক্রমী প্রতিমা ইতোমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজর কেড়েছে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতের কারুকাজ, অন্যদিকে দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। ফলে এবারের দুর্গাপূজায় উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতার এক আকর্ষণীয় কেন্দ্র।