শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস: একটি সমাজ-নির্দেশিকা গ্রন্থ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস: একটি সমাজ-নির্দেশিকা গ্রন্থ

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর

জাতীয় অধ্যাপক ও সমাজ বিজ্ঞানী ড. রংগলাল সেন (১৯৩৩-২০১৪) বাংলাদেশে সমাজ বিজ্ঞানের বিকাশে রেখে গিয়েছেন অসামান্য অবদান। তাঁর মূল্যবান গ্রন্থসম্ভার এরই সাক্ষ্য বহন করে চলছে। এই গ্রন্থসম্ভারই তাঁকে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা জীবন সম্পন্ন হওয়ার পরও যতদিন সুস্থ ছিলেন, ততদিনই কলম চালিয়েছেন দুর্নিবার নেশায়। তাঁর লেখাপড়ার নিয়মটি ছিল একেবারে অধ্যবসায়ী পরীক্ষার্থীর মত। শুধু তাই নয়, দিনের ২৪টি ঘণ্ট্ইা কাটাতেন কঠোর ছকের অধীনে। আমার প্রত্যক্ষ শিক্ষক ছিলেন বিধায় তাঁকে খুব কাছে থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার।

সময় ও সুযোগ পেলে একটু পড়াশুনার চেষ্টা করি। তিন-চারদিন আগে বই পত্র গোছাতে গিয়ে হাতে পড়লো অধ্যাপক সেনের‘ বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস’ নামক বিখ্যাতগ্রন্থটি। মনে পড়ে গেলো প্রায় তিন যুগ আগেকার কথা, যখন ছাত্র ছিলাম। বইটি আলাদা করে রাখি। পড়ে একবারও মনে হয়নি পুরোনো কোনো বই। সম্প্রতিকালে বাংলাদেশের যে সমাজ চিত্র আমরা প্রত্যক্ষ করি, তা উক্ত গ্রন্থে বর্ণিত চিত্রের চেয়ে খুব একটা ভিন্নতর বলেনি। মনে প্রেরণা জাগে বইটি সম্পর্কে কিছু লেখার। সামাজিক স্তরবিন্যাস ছিলো অধ্যাপক সেনের অত্যন্ত প্রিয় বিষয়গুলোর অন্যতম, এটি সমাজ বিজ্ঞানের অন্যতম মৌলিক প্রত্যয়ও বটে।

সামাজিক স্তর বিন্যাস ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমাজের সামাজিক চেহারার সন্ধান মিলে। গ্রন্থটি প্রথমে বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত হয় ভাষা শহীদ গ্রন্থমালার অন্যতমগ্রন্থ রূপে, ১৯৮৫ সালে। ২০০২ সালের দিকে ড. সেন এতে কিছু সংযোজন ও পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। বাংলা একাডেমীর অনুমতি সাপেক্ষে পরে নিউ এজ পাবলিকেশনস থেকে দ্বিতীয় বারের মত এটি প্রকাশ লাভ করে, ২০০৩ সালে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গ্রন্থটির ব্যাপক চাহিদার কারণে বাংলা একাডেমী থেকে ১৯৯৭ সালে ও নিউ এজ পাবলিকেশনস থেকে ২০০৬ সালে পুনর্মুদ্রিত হয়।

অগণতাান্ত্রিক ও স্বার্থবাদী সামাজিক স্তরবিন্যাস এবং এর পেছনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতার ফলে সমাজে উঁচু-নীচু নানা শ্রেণী জন্ম লাভ করে। উঁচু শ্রেণীর লোকজন অধিকতর মাত্রায় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগের মাধ্যমে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করে। রংগলাল সেনের অনেক লেখায় বিষয়টি সুস্পষ্ট ভাবে ওঠে এসেছে। তাঁর সুপরিচিত ও পাঠকনন্দিত গ্রন্থ ̒বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস’-এ বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।

গ্রন্থের প্রথম অধ্যায়‘ সামাজিক স্তরবিন্যাস, অসমতা, এবংসচলতার তত্ত্ব ও প্রত্যয়’ -এ বর্ণিত ধারণা সমূহের তাত্ত্বিক কাঠামো অঙ্কন করে এসবের মার্কসীয় ও ওয়েবারীয় দৃষ্টিভঙ্গী উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশেষত, সামাজিক স্তর বিন্যাসের উদ্ভব ও বিকাশ তথা ঐতিহাসিক পটভূমি, প্রাচ্য-প্রতীচ্যে স্তরবিন্যাসের বিভিন্ন ধরনের প্রকাশিতরূপ, স্তর বিন্যাসের মাত্রা প্রভৃতি সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায় ‘বাংলাদেশের সামাজিক স্তর বিন্যাসের সূচনা ও প্রাক-মুসলিমযুগে দাস-সামন্ত তন্ত্রের প্রথম পর্যায়ে এর স্বরূপ’ -এ বাংলায় কিভাবে সামাজিক স্তর বিন্যাস উৎপত্তি লাভ করে এবং মুসলিমদের আগমনের পূর্বে অর্থাৎ হিন্দু-বৌদ্ধ যুগে সামাজিক স্তর বিন্যাসের ব্যবস্থাটিকি অবস্থায় ছিল, তা আলোচিত হয়েছে। বর্ণ ব্যবস্থাকে স্তর বিন্যাসের মূল সূচক হিসেবে চিহ্নিত করে ড. সেন লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সমাজেবর্ণ ব্যবস্থার বিকাশের দিক থেকে গুপ্ত যুগছিল সূচনা পর্ব, পালদের আমল হল বিস্তৃতিকাল আর সেন যুগ হল সুনির্দিষ্ট পর্যায়। গুপ্ত যুগেই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণেতর জাতিসমূহ দত্ত, পাল, মিত্র, বর্মণ, দাস, ভদ্র, সেন, দেব, ঘোষ, কু-ু, পালিত, নাগ, চন্দ, দাম ইত্যাদি উপাধি ধারণ করে। … বর্ণ বিন্যাসের সাথে রাষ্ট্রের ঘনিষ্ট সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল। বস্তত প্রাচীন বাংলার সমাজে ক্ষমতার কাঠামোর স্বরূপ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে এ সম্পর্কটি বিবেচনা করতে হয়।” তিনি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বাংলার সামাজিক স্তরবিন্যসের প্রত্যয়টিকে ‘দাসপ্রথা ও সামন্তবাদের আবিস্কার’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তৃতীয় অধ্যায় ‘মুসলিম শাসনামলে দাস-সামন্ততন্ত্রের দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস’-এ বর্ণিত হয়েছে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দাস ও সামন্ততন্ত্রের ধারাবাহিকতায় বাংলা অঞ্চলে সামাজিক স্তরবিন্যাসের ধরন ও প্রকৃতি। লেখক বলেছেন, ‘বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাংলার মুসলিম সমাজে চারটি গোষ্ঠীলক্ষ্য করা যায়। প্রধমটিতে রয়েছেন বহিরাগত আমীর-ওমরাহ। তারা মূলত নগরবাসী, কিংবা নগরের আশে পাশে সপরিবারে বসবাস করতেন। দ্বিতীয় আগন্থক মুসলিম জনগোষ্ঠী, যারা বাংলায় বিয়ে-শাদী করে বিভিন্ন অঞ্চলে বসতি বিস্তার করেন। তৃতীয়, বাংলার ধর্মান্তরিত মুসলমানরা- এরা মূলত গ্রামের বাসিন্দা এবং চতুর্থ, মিশ্র মুসলমান- যাদের পিতা বা মাতার কেউ হিন্দু ছিলেন।’ এ সময়ে নানা উপাদানের প্রভাবে বিশেষত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে স্তরবিন্যাসে নানা উত্থান-পতনের মাত্রা পরিলক্ষিত হয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

‘ঔপনিবেশিক বৃটিশ আমলে সামন্ত-ধনতান্ত্রিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সামাজিক স্তরবিন্যাস’ শীর্ষক চতুর্থ অধ্যায়ে সামন্ততন্ত্রের ভেতর থেকে উদ্ভূত ধনতন্ত্রের আওতায় (যাকে আধা সামন্ততন্ত্র ও আধা ধনতন্ত্র বলা যায়) সামাজিক স্তরবিন্যাসের স্বরূপ আলোচনা করা হয়েছে। ড. সেনের কথায়, ‘‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, পত্তনীপ্রথ, খাজনা ও প্রজাস্বত্ত¦ আইনের প্রভাবে উনিশ শতকে বাংলার কৃষি সমাজে যে উলম্বী ধরনের সামাজিক স্তরবিন্যাস বিকাশ লাভ করে, তার একটি বাস্তব চিত্র হলোÑ জমিদারীর আয়তন ভেদে জমিদাররা ছিল প্রধানত দুটি স্তরে বিভক্ত; স্তরবিন্যাসের উচ্চমঞ্চের একদিকে ছিল গুটিকয়েক বড় জমিদার, অন্যদিকে ছিল সংখ্যাগরিষ্ট ক্ষুদে জমিদার। স্থায়ীইজারা দান ও অব্যাহত পত্তনী প্রথার ফলে ক্রম-প্রসারমান একটি বহুস্তর বিশিষ্ট মধ্যস্বত্বভোগী গোষ্ঠী। খাজনা ও প্রজাস্বত্ব আইন সত্ত্বেও রায়তদের ভেতর প্রচ- পার্থক্য সমন্বিত এক বিরাট কৃষক জনগোষ্ঠী। স্তর বিন্যাসের সর্বনি¤েœ একটি ভূমিহীন কৃষি-শ্রমিক শ্রেণীর সৃষ্টি।”

পরবর্তীতে বৃটিশ আমলের শেষ দিক পর্যন্ত সামাজিক স্তর বিন্যাসের অবস্থা কেমন ছিল, তা এ অধ্যায়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পঞ্চম অধ্যায় ‘পাকিস্তান আমলে পুঁজিবাদী পর্যায়ে বাংলাদেশের সামাজিক স্তর বিন্যাস’- এ নতুন ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার অধীনে সামাজিক স্তর বিন্যাস এক নবতররূপ পরিগ্রহ করে। সরকারের নীতিমালা ও পৃষ্টপোষকতায় শুরু হয় নি:স্বকরণের এক নগ্ন প্রক্রিয়া। ড. সেন লিখেছেন, ‘‘১৯৫১ সালে ভূমিহীনের সংখ্যা ছিল শতকরা ১৪.৩ ভাগ, যা ১৯৬১ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ১৭.৫ ভাগে দাঁড়ায়; এবং ১৯৬৭-৬৮ সালে এর পরিমাণ শতকরা ২০ ভাগে উন্নীত হয়। উক্ত ধনবাদী ধারায় সৃষ্ট গ্রামের বিত্তবান শ্রেণীর হাতে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভুত হয়।

 

১৯৬০-৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের গ্রামীণ জনসংখ্যার মধ্যে শতকরা ৫২ ভাগ পরিবার ও জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ ছিল সম্পূর্ণ দরিদ্র। আর ঐ সময় গ্রামীণ জনসংখ্যার মধ্যে পরিবার হিসেবে শতকরা ১০ ভাগ ও জনসংখ্যার শতকরা ৫ ভাগ ছিল চূড়ান্ত দরিদ্র। কিন্তু ১৯৬৮-৬৯ সালে এটি বেড়ে সম্পূর্ণ দরিদ্র পরিবারের শতকরা হার দাঁড়ায় ৮৪ ভাগে, গরীব জনসংখ্যা হয় শতকরা ৭৬ ভাগ। তেমনি চূড়ান্ত দরিদ্র পরিবারের শতকরা হার প্রায় শতকরা ৩৫ ভাগে পৌছায়, যা মোট জনসংখ্যার ২৫ ভাগ।”ষষ্ঠ অধ্যায় ‘স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের পুজিবাদী পর্যায়ে সামাজিক স্তরবিন্যাস’- এ বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর থেকে সামাজিক স্তরবিন্যাসের গতি-প্রকৃতি বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

উপসংহারে এসে বাংলাদেশের সামাজিক শ্রেণী সমূহ চিহ্নিত করার প্রয়াস পরিলক্ষিত হয়। চিহ্নিত আটটি শ্রেণী হল, ‘‘ক. শিল্প শ্রমিক শ্রেণী, খ. বিরাট সংখ্যক গ্রামীণ সর্বহারা, গ, কৃষক, ঘ. শহরের বস্তিবাসী, ঙ. মধ্যবিত্ত বা মধ্য স্তরের জনসমষ্টি, চ. বুর্জোয়া, ছ. জোতদার।” অত:পর তিনি সামাজিক স্তরবিন্যাসের আলোকে বাংলাদেশের জনসমষ্টির তিনটি স্তর নিরূপণ করে যে মূল্যবান দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন তা সকল স্তরের গবেষক ও চিন্তাবিদের জন্য অবশ্য পঠিতব্য বলে আমার মনে হয়: ‘‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮৭ জন নি¤œস্তরে, শতকরা ৮ জন মধ্যস্তরে ও শতকরা ৫ জন উচ্চস্তরে অবস্থান করছে।

 

বর্তমান বাংলাদেশে যে অর্থনীতি, শিল্পনীতি, ভূমিনীতি ও উন্নয়ন-কৌশল চালু আছে তার মাধ্যমে মাত্র ঐ ৫ ভাগ লোকই উপকৃত হচ্ছে। …অতএব বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কল্যাণ সাধনে যারা সত্যিকার আগ্রহী তাদেরকে অবশ্যই উক্ত সামাজিক স্তরবিন্যাসের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় রেখে এমন মৌলিক পরিবর্তনের কথা ভাবতে হবে, যার ফলে ঐ ধরনের বৈষম্যমূলক সমাজ- ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটে এবং এর পরিবর্তে একটি শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানেই রাজনীতির সাথে উন্নয়ন পদ্ধতির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক বিদ্যমান।”

গ্রন্থের আলোচনা পদ্ধতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভূমিকাংশে ড. সেন বলেছেন, ‘যে কোন দেশের সামাজিক স্তর বিন্যাস ঐতিহাসিকভাবে বিকশিত হওয়ার কারণে আমি বাংলাদেশের সামাজিক স্তর বিন্যাসকে উৎপাদন ব্যবস্থা তথা মৌলিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আলোকে বিন্যস্ত করেছি।” তাইতো গ্রন্থের আলোচনায় রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতা ও সহায়তায় কিভাবে সামাজিক স্তর বিন্যাসের ধারা ও ধরন প্রকাশিত হয়েছে, তা অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

 

তাই মনে করি যে, গ্রন্থটি সকলের পাঠকরা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা সুষম উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবাধিকার, মানবসম্পদ, রাজনীতি, অর্থনীতি, কিংবা নৈতিক ও সমতা ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করেন বা অন্তত ভাবনা চিন্তা করেন, তাদের নিকট বইটি দিক-নির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।

লেখক: মানবাধিকার কর্মী ও গবেষক

Ads small one

ফকিরহাটে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া অনুষ্ঠিত

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাটে এইচএসসি, আলিম ও সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও মানসিক প্রস্তুতি জোরদার করতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ফকিরহাট কাজি আজহার আলী কলেজ শাখা এ আয়োজন করে।

শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় কাজি আজহার আলী কলেজ অডিটোরিয়ামে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও দোয়া মাহফিল শুরু হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বাগেরহাট জেলা সভাপতি হাফেজ মোরশেদ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি মোঃ সাইফুল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল হোসেন অপু।

কাজি আজহার আলী কলেজ শাখার সভাপতি নাজমুস সাকিবের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ আবুল আলা মাসুম, ছাত্রশিবির ফকিরহাট পূর্ব থানা শাখার সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, পরীক্ষার ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটিই শেষ নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ পথচলার একটি সূচনা মাত্র। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

তারা আরও বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেকে এগিয়ে রাখতে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ভাষাগত দক্ষতা ও সৃজনশীল চিন্তাভাবনা ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যর্থতায় হতাশ না হয়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আদর্শিক বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।

শেষে উপস্থিত শতাধিক পরীক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পরে তাদের সফলতা কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞা অর্জন করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞা অর্জন করতে হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রজ্ঞাও অর্জন করতে হবে। মেধাবী প্রজন্মই দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাগেরহাটসহ সমগ্র বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।

তিনি আজ (শনিবার) বাগেরহাট জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বৃত্তি অর্জন কেবল একটি স্বীকৃতি নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব। জেলা পরিষদ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করতে যে বৃত্তি প্রদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নানা পারিবারিক প্রতিকূলতার কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষা অব্যাহত রাখা সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, জনগণের করের অর্থে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। ব্যক্তিগত সাফল্যের গন্ডি পেরিয়ে সমাজ, দেশ ও মানবকল্যাণে নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি সকল কৃতি শিক্ষার্থীকে সমাজ ও সভ্যতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক সচিব ড. মো: ফরিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনুপ দাশ,  সরকারি প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: জাহাঙ্গীর আলী ও খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খোন্দকার আছিফ উদ্দিন রাখী বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো: আবু রিয়াদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সামানিয়া জান্নাত অহনা ও মো: আরহাম গাজী। বাগেরহাট জেলা পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বাগেরহাট সদরসহ জেলার নয়টি উপজেলার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা-বিশ^বিদ্যালয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজের চারশত ১৮জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তথ্যবিবরণী

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুর হত্যাবার্ষিকী পালন

একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জন্মভূমির সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বালুর ২২তম হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার ক্লাবের পক্ষ থেকে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তরিকুল ইসলাম।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, ‘হুমায়ুন কবীর বালু ছিলেন একজন নির্ভীক সাংবাদিক। তাঁকে যারা হত্যা করেছে, তাদেরও সঠিক বিচার হয়নি। এই মামলার পুনরায় তদন্ত এবং প্রকৃত আসামি ও এর মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া এই হত্যা মামলার আসামিদের সাজা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

স্মরণ সভায় বক্তৃতা করেন, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও আজীবন সদস্য মকবুল হোসেন মিন্টু, ক্লাবের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন ও কাজী শামীম আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহেব আলী ও মল্লিক সুধাংশু, ক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, সিনিয়র সদস্য মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ মাকসুদুর রহমান (মাকসুদ) ও কে এম জিয়াউস সাদাত, ক্লাব সদস্য আতিয়ার পারভেজ, রকিব উদ্দিন পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, এ এইচ এম শামিমুজ্জামান, এস এম নূর হাসান জনি ও সাংবাদিক আবু তাহের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী মোতাহার রহমান, সহ-সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য সোহেল মাহমুদ, ক্লাব সদস্য এস এম কামাল হোসেন,বাপ্পী খান, রিংটন মন্ডল, আল মাহমুদ প্রিন্স, মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, আলমগীর হান্নান, মোঃ হুমায়ুন কবীর, মো. আজিজুল ইসলাম, মোঃ রবিউল গাজী (উজ্জ্বল), এস এম বাহাউদ্দিন, তিতাস চক্রবর্তী, মোঃ হেলাল মোল্লা, আলী আবরার, মোঃ সোহেল রানা, মোঃ রফিক আলী, তুফান গাইন, ইমাম হোসেন সুমন, মোঃ আনিছুর রহমান কবির, মো. রাজু হাওলাদার, নূরুল আমিন নূর, মো. মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মোঃ হাবিবুর রহমানসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

এর আগে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ ক্লাব চত্বরে অবস্থিত শহিদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এছাড়া স্মরণসভার শুরুতে সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত সাংবাদিকদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

 

এছাড়া হুমায়ুন কবীর বালুসহ নিহত ও মৃত্যুবরণকারী অন্যান্য সাংবাদিকদেরও আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ক্লাবের ইমাম হাফেজ মাওলানা মো. ইউসুফ হাবিব।

উল্লেখ্য, গত ২০০৪ সালের ২৭ জুন নগরীর ইসলামপুর রোডে অবস্থিত নিজ কার্যালয় জন্মভূমি ভবনের সামনে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি