সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিদেশিদের জন্য ভিসার নতুন দরজা খুলছে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
বিদেশিদের জন্য ভিসার নতুন দরজা খুলছে বাংলাদেশ

বিদেশি বিনিয়োগকারী, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশে আসার পথে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন ভিসানীতি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় দুই দশকের পুরোনো ভিসা কাঠামো বদলে বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থানকে সহজ, দ্রুত এবং একইসঙ্গে নিরাপত্তানির্ভর করতে প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘ভিসানীতি-২০২৬’।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবিত নতুন ভিসানীতির খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়। খসড়াটি আরও পরিমার্জন এবং কার্যকর কাঠামো তৈরির জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির লক্ষ্য শুধু বিদেশিদের ভিসা দেওয়া নয়, বরং বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, পর্যটন, আতিথেয়তা খাত, দক্ষ মানবসম্পদ এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তরের জন্য একটি আধুনিক অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলা। একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং পারস্পরিকতার নীতিও বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে খসড়া নীতিমালায়।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, ২০০৬ সালের পর প্রায় ২০ বছর পর নতুন করে ভিসানীতি করা হচ্ছে। পুরোনো ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও ভিসা পেতে দেরি হতো। নতুন নীতির মাধ্যমে বিদেশিদের দ্রুত বাংলাদেশে আসার সুযোগ তৈরি করতে চায় সরকার, যাতে বিনিয়োগ ও ব্যবসা বাড়ে।

তিনি জানান, আগে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে পারস্পরিকতার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেত।

অর্থাৎ অন্যদেশ বাংলাদেশিদের যে মেয়াদের বা যে ধরনের ভিসা দিত, বাংলাদেশও অনেক ক্ষেত্রে সেই কাঠামো অনুসরণ করত। এখন সরকার অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিনিয়োগবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি নিতে চায়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাষ্য, বিদেশ থেকে যত বেশি বিনিয়োগ আসবে, দেশের অর্থনীতির জন্য ততই ভালো।

নতুন খসড়ায় ৩৪ ধরনের ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, জাহাজ ও বিমানের ক্রু, উন্নয়ন সহযোগী, বিদেশি কর্মী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, এনজিওকর্মী, মানবিক সহায়তাকর্মী, খেলোয়াড় ও সাংস্কৃতিক কর্মী, গবেষক, শিক্ষার্থী, পর্যটক, ট্রানজিট যাত্রী, চিকিৎসাপ্রার্থী, রোগীর সহকারী এবং ধর্মীয় সফরকারীদের জন্য পৃথক ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসানীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা। খসড়ায় ‘বি’ বা ব্যবসা ভিসার আওতায় আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই, বোর্ড বা কারিগরি বৈঠক, বাণিজ্য মেলা, পণ্যমান যাচাই, ক্রয়-বিক্রয় আলোচনা এবং শ্রমিক নিয়োগসংক্রান্ত কাজে আসতে পারবেন।

এ ভিসা প্রথম দফায় এক বছর পর্যন্ত একাধিকবার প্রবেশের সুযোগসহ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রতিবার অবস্থানের সীমা থাকবে ৯০ দিন। পরে নির্দিষ্ট শর্তে এর মেয়াদ দুই বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জন্য ‘পিআই’ বা প্রাইভেট ইনভেস্টর ভিসার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে একক বিদেশি মালিকানা কিংবা যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগকারী ব্যক্তিরা এ ভিসা পাবেন। প্রথম দফায় এক বছর পর্যন্ত একাধিকবার প্রবেশের সুযোগ থাকবে। বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা ও কাজের অনুমতির ভিত্তিতে এটি পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।

কমপক্ষে ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়ন সাপেক্ষে ‘নো ভিসা রিকোয়ার্ড’ সুবিধা দেওয়ার কথাও খসড়ায় উল্লেখ আছে।

বিদেশি দক্ষ কর্মী, পরামর্শক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ক্ষেত্রেও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস, শাখা বা লিয়াজোঁ অফিস, পিপিপি প্রকল্প এবং বিদেশি বিনিয়োগভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের জন্য ‘ই-টু’ ক্যাটাগরির ভিসা রাখা হয়েছে।

এ ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার সুপারিশ ও কাজের অনুমতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশকারী কিছু ভিসাধারীকে দেশে আসার ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে, ব্যবসা, পর্যটন, গবেষণা, শিক্ষা বা পারিবারিক ভিসার অনেক ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান নিষিদ্ধ থাকবে।

অর্থাৎ সরকার একদিকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য পথ সহজ করতে চাইলেও, অন্যদিকে সাধারণ ভিসা ব্যবহার করে অননুমোদিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত রাখতে চাইছে।

পর্যটন খাতেও নতুন নীতির সম্ভাব্য প্রভাব রয়েছে। পর্যটক ভিসায় বিনোদন, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা, সম্মেলন, সেমিনার, কর্মশালা ও স্টাডি ট্যুরের জন্য বাংলাদেশে আসার সুযোগ থাকবে। খসড়ায় পর্যটক ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।

একইসঙ্গে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য বিনিয়োগ, ব্যবসা বা পর্যটনের উদ্দেশ্যে ৩০ দিনের ভিসা অন অ্যারাইভালের সুযোগ রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে হোটেল বুকিং, ফেরত টিকিট, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হবে।

বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যও আলাদা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষক বা প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের জন্য সাংবাদিক ভিসার ব্যবস্থা থাকবে। তবে শুটিং, সরঞ্জাম ব্যবহার, কাজের ধরন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের মতো বিষয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

নতুন নীতির আরেকটি আলোচিত দিক ই-ভিসা ব্যবস্থা। খসড়ায় বলা হয়েছে, বর্তমানে মেশিন রিডেবল ভিসা বাধ্যতামূলক থাকবে। তবে ভবিষ্যতে কম্পিউটারভিত্তিক বা ইলেকট্রনিক ভিসা ব্যবস্থা চালু হলে ভিসা নম্বর ও পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারভিত্তিক কোডে পরিচালিত হবে।

তবে ই-ভিসা এখনই পুরোপুরি চালু হচ্ছে না। কিন্তু প্রস্তাবিত নীতিমালা ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ভিসা কাঠামো তৈরির ভিত্তি তৈরি করছে।

খসড়ায় নিরাপত্তা যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন করবে। বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর বাংলাদেশে ভিসা, নো ভিসা রিকোয়ার্ড, ভিসা অন অ্যারাইভাল, ট্রানজিট ভিসা, এক্সিট পাস এবং ভিসার ক্যাটাগরি পরিবর্তনের দায়িত্বে থাকবে।

অন্যদিকে, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো ভিসা ইস্যু করবে। প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা সংস্থা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামতও নেওয়া হবে।

তবে নতুন ভিসানীতির বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়। বিনিয়োগকারীর জন্য দ্রুত ভিসার ব্যবস্থা করা হলেও কাজের অনুমতি, নিরাপত্তা ছাড়পত্র, কর নিবন্ধন, বিমানবন্দর ও বন্দর ইমিগ্রেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় না থাকলে নীতিটির সম্ভাব্য সুবিধা সীমিত হয়ে যেতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুততর ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী ডিজিটাল যাচাই, তথ্যভান্ডার বিনিময় এবং জবাবদিহিমূলক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা গেলে নতুন ভিসানীতি দেশের বিনিয়োগ ও পর্যটন কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান বলেন, ২ জুলাইয়ের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে খসড়াটি পরিমার্জনের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামত এবং পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তের পর নতুন ভিসানীতির চূড়ান্ত কাঠামো নির্ধারিত হবে।

Ads small one

ভারতের ‘কাঁঠাল রাজধানী’ পানরুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
ভারতের ‘কাঁঠাল রাজধানী’ পানরুটি

মুচমুচে চিপস, সুগন্ধি তরকারি থেকে শুরু করে জিভে জল আনা মিষ্টি কিংবা স্মুদি; সবখানেই ভারতীয় রান্নাঘরে কাঁঠালের কদর বহু পুরোনো। গাছের সবচেয়ে বড় ফল হিসেবে পরিচিত এই কাঁঠাল ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উৎপাদিত হলেও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল তার বিশাল উৎপাদন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কারণে এক অনন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। স্থানটি হলো তামিলনাড়ুর কুড্ডালোর জেলার পানরুটি শহর, যাকে বলা হয় ভারতের ‘কাঁঠাল রাজধানী’।

যদিও এটি কোনও প্রাতিষ্ঠানিক খেতাব নয়, তবুও ব্যাপক চাষাবাদ ও জমজমাট বাণিজ্যের কারণে পানরুটি ভারতের কাঁঠাল রাজধানী হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। এখানকার উষ্ণ আবহাওয়া ও উর্বর মাটি কাঁঠাল চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। পানরুটির কাঁঠালের বিশেষত্ব হলো এর প্রাকৃতিক মিষ্টি স্বাদ, শক্ত ও রসালো কোয়া, তীব্র সুগন্ধ এবং বিশাল আকৃতি। এখানকার কাঁঠাল শুধু কাঁচা বা পাকা ফল হিসেবেই বিক্রি হয় না, বরং এটি দিয়ে চিপস ও হরেক রকমের মিষ্টিও তৈরি করা হয়।

ভরা মৌসুমে পানরুটির পাইকারি বাজার, রাস্তার ধারের দোকানগুলো কাঁঠালে ভরে ওঠে এবং তা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়। কেরালা, কর্ণাটক বা আসামের মতো রাজ্যেও প্রচুর কাঁঠাল উৎপাদিত হয়, তবে পানরুটি তার সুনির্দিষ্ট চাষ পদ্ধতি এবং শক্তিশালী বাজার নেটওয়ার্কের কারণে আলাদা। এখানকার বহু কৃষক পরিবারের কাছে কাঁঠাল চাষের ঐতিহ্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে। কাঁঠালের পাশাপাশি পানরুটি কাজুবাদাম চাষের জন্যও বিখ্যাত, যা তামিলনাড়ুর অন্যতম প্রধান কৃষি কেন্দ্র হিসেবে এই অঞ্চলের পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

আর্জেন্টিনার জার্সি পরে রাস্তায় ১৩ ‘চারপেয়ে’ ফুটবল ভক্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে রাস্তায় ১৩ ‘চারপেয়ে’ ফুটবল ভক্ত

বিশ্বকাপ ফুটবলের জ্বরে কাঁপছে পুরো আর্জেন্টিনা। শুক্রবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে জিতে শেষ ষোলতে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল মেসির দল। শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় দেখা মিললো এক অদ্ভুত ফুটবল ভক্ত দলের। তবে এই ১৩ জন ভক্ত দুই পায়ে হাঁটে না, তারা চার পায়ে চলে এবং মাঝে মাঝে ঘেউ ঘেউ করে ডাক ছাড়ে!

পেশায় ডগ ওয়াকার ৩৩ বছর বয়সী নাহুয়েল মেনেঘিনি (যিনি ‘নানো’ নামে পরিচিত) আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের জার্সি, কলার ও লিশ (কুকুর বাঁধার দড়ি) পরিয়ে একদল কুকুরকে নিয়ে প্রতিদিন রাজধানীর সান ক্রিস্তোবাল এলাকার রাস্তায় বের হচ্ছেন। নানো বলেন, দেশ, বিশ্বকাপ এবং এই কুকুরগুলোর প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি এটি করেছি।

ডগ ওয়াকারের নিজের পরনেও ছিল ভক্তদের মতো পোশাক। সরু ফুটপাত দিয়ে একসঙ্গে এতগুলো কুকুরকে দক্ষ হাতে সামলে নিয়ে যাওয়ার সময় পথচারীরা হেসে উঠছেন এবং মুঠোফোনে ছবি তুলছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দলটিকে ডাকা হচ্ছে ‘লা পেরোনেতা’ নামে। নামটির মাধ্যমে মূলত কোচ লিওনেল স্কালোনির অধীনে থাকা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ডাকনাম ‘লা স্ক্যালোনেতা’কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। দলটির এই কাণ্ড দেখে ৮০ বছর বয়সী এদগার্দো পেরেস ছবি তুলতে তুলতে বলেন, শ্রমিক বা পেনশনভোগী আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনে এখন কোনও কিছুই ঠিকঠাক চলছে না। আমাদের ভালো থাকার একমাত্র আনন্দ এখন এগুলোই।

গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব পার হওয়ার পর নানোর মাথায় এই ভাবনা আসে। তিনি নিয়মিত যে কুকুরগুলোকে নিয়ে হাঁটেন, তাদের মধ্যে ‘সিরিও’ ও ‘রবার্তা’ নামের দুটি কুকুরের মালিক মেসির ১০ নম্বর জার্সি কিনে দিয়েছিলেন। তা দেখে নানো অনুপ্রাণিত হয়ে একটি পোষা প্রাণীর দোকান থেকে বিভিন্ন আকারের আর্জেন্টিনার জার্সি কিনে বাকি কুকুরগুলোকেও পরিয়ে দেন। শুধু তা-ই নেই, আর্জেন্টিনার পতাকার সঙ্গে মিলিয়ে হালকা নীল ও সাদা রঙের লিশ এবং কলারও তৈরি করেন তিনি। লিশের মধ্যে তিনি তিনটি রিভেট বা বোতাম যুক্ত করেছেন, যা যথাক্রমে ১৯৭৮, ১৯৮৬ এবং ২০২২ সালের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের প্রতীক। আর কলারে ঝুলিয়ে দিয়েছেন ‘নানোর কুকুর’ লেখা ট্যাগ।

প্রতিদিন প্রায় ৬০টি ব্লক চষে বেড়ানো এই কুকুরগুলো এখন স্থানীয় সেলিব্রিটি। ৭৩ বছর বয়সী দোরা মাইসানো এদের দেখে বলেন, সবাই ১০ নম্বর জার্সি পরে আছে। একেই বলে দেশপ্রেম! দেখতে ভীষণ মিষ্টি লাগছে।

নানো জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা যদি বিশ্বকাপ থেকে বাদও পড়ে, তবুও এই কুকুরগুলো ‘চিরকাল’ এই জার্সি পরে থাকবে। তবে তার বিশ্বাস দল এবার চতুর্থ ট্রফি জিতবে এবং সেটি হলে তিনি কুকুরের দড়িতে আরেকটি বোতাম যুক্ত করবেন।

সূত্র: এপি

১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ সাবাড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ সাবাড়

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নিউ ইয়র্কের কোনি আইল্যান্ডে বসেছিল ঐতিহ্যবাহী হটডগ খাওয়ার প্রতিযোগিতা। তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরম উপেক্ষা করে হাজারো মানুষের সামনে মাত্র ১০ মিনিটে ৬৬টি হটডগ সাবাড় করে আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট ধরে রেখেছেন বিখ্যাত প্রতিযোগী জোয়ি ‘জজ’ চেস্টনাট। নারীদের বিভাগেও নিজের শিরোপা ধরে রেখেছেন মিকি সুডো।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত নাথানস ফেমাস ফোর্থ অব জুলাই প্রতিযোগিতায় ২১ বার অংশ নিয়ে ৪২ বছর বয়সী চেস্টনাট এ নিয়ে ১৮ বারের মতো চ্যাম্পিয়নের প্রতীক ‘মাস্টার্ড বেল্ট’ জিতলেন। চেক প্রজাতন্ত্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৩ জন প্রতিযোগীকে হারিয়েছেন তিনি। প্রতিযোগিতা শেষে স্পোর্টস বেটিং কোম্পানি পলিমার্কেট-এর লোগোযুক্ত জমকালো নেকলেস গলায় জড়িয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে চেস্টনাট বলেন, এটি একটি স্বপ্ন, অসাধারণ অনুভূতি। পৃথিবীর আর কোথাও এর চেয়ে ভালো জায়গা নেই।

প্রতিযোগিতার আগে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিওতে একে তিনি ‘সবচেয়ে দেশপ্রেমমূলক খেলা’ বলে আখ্যা দেন।

প্রতিযোগিতায় চেস্টনাট দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ৪১ বছর বয়সী প্যাট্রিক বার্টোলেত্তিকে (যিনি ৫০টি হটডগ খেয়েছেন) সহজেই পরাজিত করেন। তবে তিনি ২০২১ সালে নিজের গড়া ৭৬টি হটডগ খাওয়ার রেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি।

অন্যদিকে, নারীদের বিভাগে ফ্লোরিডার ৪০ বছর বয়সী মিকি সুডো ৩৮টি হটডগ খেয়ে দ্বাদশবারের মতো গোলাপি রঙের মাস্টার্ড বেল্টটি নিজের করে নেন। ২০২৪ সালে তিনি রেকর্ড ৫১টি হটডগ খেয়েছিলেন। খেলা শেষে সুডো তার স্বামীর পারফরম্যান্স দেখতে দর্শকদের সঙ্গে যোগ দেন। উল্লেখ্য, তার স্বামী ২০২১ সালে মাত্র ৩ মিনিটে ৫০টি সেদ্ধ ডিম খেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ার পর সুডোকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ব্রুকলিনের প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং তীব্র আর্দ্রতার কারণে হটডগের নরম ভাব পরিবর্তন হয়ে যাওয়ায় এবার প্রতিযোগিতা বেশ কঠিন ছিল বলে জানান দুই চ্যাম্পিয়নই। ১৯৭২ সাল থেকে কোনি আইল্যান্ডে থাকা মূল নাথানস ফেমাস রেস্তোরাঁর বাইরে মাথায় ফোমের হটডগ আকৃতির ক্যাপ পরে ভক্তরা ভিড় করেছিলেন। মঞ্চের সবচেয়ে কাছে থাকা অতি-উৎসাহী ভক্তরা আবার রেইনকোট পরে এসেছিলেন, যাতে কোনও প্রতিযোগী বমি করে দিলে গা বেঁচে যায়।

সূত্র: এপি