সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: গাড়ির শহর নয়, মানুষের শহর চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস: গাড়ির শহর নয়, মানুষের শহর চাই

সাকিবুর রহমান বাবলা

শহর মানুষের জন্য-গাড়ির জন্য নয়। অথচ আধুনিক নগরজীবনের একটি বড় বৈপরীত্য হলো, মানুষের চলাচলের জন্য নির্মিত সড়কের বিপুল অংশ ক্রমেই ব্যক্তিগত গাড়ির দখলে চলে যাচ্ছে। একটি গাড়িতে অনেক সময় একজন বা দুজন মানুষ চলাচল করলেও সেই গাড়ি সড়কের উল্লেখযোগ্য জায়গা দখল করে। ফলাফল-যানজট, জ্বালানি অপচয়, বায়ু ও শব্দদূষণ, কর্মঘণ্টার ক্ষতি এবং নগরজীবনে বাড়তি চাপ। এই বাস্তবতার বিপরীতে সচেতনতা তৈরির একটি প্রতীকী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস। প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর দিবসটি পালিত হয়। ইউরোপে পরিবেশ ও জ্বালানি-সচেতনতার বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে এর ধারণার বিকাশ ঘটে; ২০০০ সালে ইউরোপীয়ন কমিশন বার্ষিক ‘ইন টাউন উইদাউট মাই কার’ কর্মসূচির মাধ্যমে এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারণার রূপ দেয়। বর্তমানে এটি ইউরোপীয়ন মোবিলিটি সপ্তাহের ১৬–২২ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির সমাপনী ‘কার-ফ্রি ডে’ হিসেবে পালিত হয়।

গাড়িমুক্ত দিবসের অর্থ এই নয় যে আধুনিক সমাজে সব গাড়ি নিষিদ্ধ করে দিতে হবে। এর মূল দর্শন হলোÑব্যক্তিগত গাড়িনির্ভরতা কমানো এবং মানুষের সামনে বিকল্প, নিরাপদ ও কার্যকর চলাচলের ব্যবস্থা তুলে ধরা। হাঁটা, সাইকেল, রিকশা, বাস, মেট্রোরেল, ট্রেনসহ গণপরিবহন ও সক্রিয় যাতায়াতের মাধ্যমকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এই উদ্যোগের কেন্দ্রীয় বার্তা। ইউরোপীয়ন কমিশনের ‘ইউরোপিয়ান মোবিলিটি উইক’-ও আচরণগত পরিবর্তনের মাধ্যমে গণপরিবহন, হাঁটা, সাইক্লিং ও অন্যান্য পরিচ্ছন্ন পরিবহনব্যবস্থাকে উৎসাহিত করে।

 

বাংলাদেশেও দিবসটির একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতা রয়েছে। ২০০৬ সালে বেসরকারি উদ্যোগে দেশে প্রথমবার বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস পালনের তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে দিবসটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পালিত হয়ে আসছে।

ঢাকার যানজটের জন্য শুধু ব্যক্তিগত গাড়িকে এককভাবে দায়ী করা যায় না; অপর্যাপ্ত গণপরিবহন, রাস্তার সীমাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অবৈধ দখল ও পার্কিং, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নির্মাণকাজ এবং যানবাহনের সমন্বয়হীনতাও এর জন্য দায়ী। বিশ্বব্যাংকও ঢাকার যানজটকে অবকাঠামো ও গণপরিবহনের ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেছে। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নগর পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ২০০৬ সালের এক ঢাকাকেন্দ্রিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, শহরের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ বাসিন্দা গাড়ি ব্যবহার করলেও মিরপুর রোডের প্রায় ৬০ শতাংশ জায়গা গাড়ি দখল করে রাখতÑযা ব্যক্তিগত গাড়ির জায়গা ব্যবহারের অসমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র।

পরিবহন খাত জলবায়ু পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-এর হিসাবে, ২০২৪ সালে সড়ক পরিবহন খাতের কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন ৬ গিগাটনের কিছু বেশি ছিল এবং এর ৬০ শতাংশের বেশি এসেছে যাত্রীবাহী গাড়ি ও ভ্যান থেকে।

ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমানো শুধু যানজটের বিষয় নয়; এটি জ্বালানি দক্ষতা ও জলবায়ু নীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। আইইএ-এর হিসাবে পরিবহন খাত বিশ্বব্যাপী মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৩০ শতাংশের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে গণপরিবহন ও সাইক্লিংয়ের মতো অধিক দক্ষ পরিবহনব্যবস্থা জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে পারে।

গাড়ির নির্গমনে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পাশাপাশি নাইট্রোজেন অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ও সূক্ষ্ম কণাসহ বিভিন্ন দূষক থাকতে পারে। যানবাহনের ধরন, জ্বালানির মান, ইঞ্জিনের অবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং যানজটের পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্গমনের মাত্রাও পরিবর্তিত হয়। ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের গবেষণাতেও যান চলাচল ও নির্মাণকাজ-প্রবণ এলাকায় পিএম২.৫-এর উচ্চমাত্রার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন পরিবহনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু একই সঙ্গে পরিবহন খাত দেশের জ্বালানি ব্যবহারের একটি বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্যের সঙ্গে পরিবহন খাতের সম্পর্ক রয়েছে এবং দেশের মোট নির্গমনের প্রায় ১৫ শতাংশ পরিবহন খাত থেকে আসে।

এ কারণে ব্যক্তিগত গাড়ির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। যানজটে দীর্ঘ সময় গাড়ি চলাচল বা ইঞ্জিন চালু রেখে দাঁড়িয়ে থাকলে একই দূরত্ব অতিক্রম না করেও জ্বালানি খরচ হয়। ফলে যানজট কমানো মানে শুধু সময় বাঁচানো নয়Ñজ্বালানি সাশ্রয়ও।
বাংলাদেশের বায়ুদূষণের স্বাস্থ্যগত মূল্যও অত্যন্ত বড়। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে ১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি অকালমৃত্যু এবং ২৫০ কোটির বেশি অসুস্থতার দিন ছিল; সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ব্যয়ের অর্থনৈতিক মূল্য জিডিপির ৮.৩ শতাংশের সমপরিমাণ বলে অনুমান করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান কেবল গাড়ির কারণে নয়Ñবায়ুদূষণের সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝায়।

তবে এই দিবসে পুরো দেশের সব ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহন একদিন বন্ধ করে দিলে সেটিকে নিঃশর্তভাবে ইতিবাচক বলা যাবে না। অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও পণ্য সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ প্রয়োজনসম্পন্ন মানুষের চলাচলসহ অপরিহার্য সেবার জন্য যানবাহন প্রয়োজন। তাই বাস্তবসম্মত গাড়িমুক্ত কর্মসূচিতে জরুরি ও প্রয়োজনীয় চলাচলের জন্য সুস্পষ্ট ব্যতিক্রম এবং পর্যাপ্ত বিকল্প পরিবহন থাকতে হবে। এর দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব হলো মানুষের আচরণ ও নগর পরিবহন নীতিতে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা।

বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যানবাহনের নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন পরিদর্শন ও বৈদ্যুতিক গণপরিবহনের দিকে এগোচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রকল্পে ঢাকায় ৪০০টি শূন্য-নির্গমন বৈদ্যুতিক বাস চালুর উদ্যোগ, যানবাহন পরিদর্শন কেন্দ্র সম্প্রসারণ এবং নির্গমন পরীক্ষার ব্যবস্থা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ দেখায় যে সমাধান শুধু গাড়ি কমানো নয়; পরিবহনব্যবস্থাকে পরিচ্ছন্ন, দক্ষ ও জনবান্ধব করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

নাগরিকের দায়িত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্র ও নগর কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আরও বড়। মানুষকে শুধু ‘গাড়ি ব্যবহার করবেন না’ বললেই হবে না; তাকে নিরাপদ, সাশ্রয়ী, সময়নিষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ বিকল্প দিতে হবে। কারণ ভালো গণপরিবহন ছাড়া গাড়িনির্ভরতা কমানো কঠিন।

বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা তাই গাড়িবিরোধিতা নয়Ñঅতিরিক্ত গাড়িনির্ভরতার বিরুদ্ধে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নগরদর্শন। ব্যক্তিগত গাড়ি প্রয়োজনীয় হতে পারে, কিন্তু একটি শহরের পরিবহনব্যবস্থা যদি এমন হয় যে অল্পসংখ্যক মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ির সুবিধার জন্য বিপুলসংখ্যক মানুষকে যানজট, দূষণ ও সময়ের ক্ষতি সহ্য করতে হয়, তাহলে সেই ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

একটি বাসে বেশি মানুষ, একটি সাইকেলে শূন্য জ্বালানি, একটি হাঁটার পথে কোনো পার্কিংয়ের প্রয়োজন নেইÑএই সরল সত্যের মধ্যেই টেকসই নগরপরিকল্পনার একটি বড় দর্শন নিহিত। বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস সেই দর্শনকে বছরে একদিন দৃশ্যমান করে। কিন্তু প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন ২২ সেপ্টেম্বরের প্রতীকী বার্তা বছরের বাকি ৩৬৪ দিনেও নগর পরিকল্পনা, পরিবহননীতি এবং নাগরিক আচরণে প্রতিফলিত হবে।

শহরের সড়ক যত বেশি মানুষের জন্য উন্মুক্ত হবে, শহর তত বেশি বসবাসযোগ্য হবে। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত গাড়ি কমানো নয় শুধুÑলক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি শহর গড়ে তোলা, যেখানে মানুষের চলাচল গাড়ির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Ads small one

বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
বাসভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। সেক্ষেত্রে সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাস; উভয় ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিআরটিএর বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাড়া সমন্বয় কমিটির বৈঠকে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা ও সুপারিশ করা হয়।

নতুন প্রস্তাবে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ভাড়া বাসে ১০ টাকা ও মিনিবাসে ৮ টাকা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এএসএম আহমেদ খোকন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪৩ পয়সা এবং নগর বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৭৩ পয়সা হবে। আমরা আমাদের প্রস্তাব বিআরটিএর কাছে দিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বিআরটিএ এটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে।

বৈঠকে থাকা কমিটির একজন সদস্যও জানান, সিটি সার্ভিস ও দূরপাল্লার বাসে কিলোমিটারপ্রতি ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ভাড়া আগের মতোই রাখার প্রস্তাব রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পরিবহন মালিকেরা ভাড়া আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি অন্তত ৪০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব ছিল। তবে কমিটির আলোচনায় এর চেয়ে কম হারে, অর্থাৎ ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

এখন বিআরটিএর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

রবিবার রাতে সরকার চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। প্রতিটি জ্বালানির দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এতে ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে। নতুন দর সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

গণপরিবহনের বড় একটি অংশ ডিজেলচালিত। ফলে ডিজেলের দাম এক লাফে ২০ টাকা বাড়ায় বাস পরিচালনার খরচও বেড়েছে। এই বাড়তি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে জ্বালানি খরচের পাশাপাশি বাস পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও হিসাবের মধ্যে রাখা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাসের ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। ২৩ এপ্রিলের প্রজ্ঞাপনে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৫৩ পয়সা এবং ডিটিসিএ এলাকার মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

এরও আগে ২০২২ সালের আগস্টে ডিজেলের দাম ৮০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। তখন দূরপাল্লার বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা এবং মহানগরের বাসে ৩৫ পয়সা বাড়ানো হয়। পরে ডিজেলের দাম ৫ টাকা কমানো হলে ওই বছরের ৩১ আগস্ট দূরপাল্লার বাসের ভাড়া ২ টাকা ২০ পয়সা থেকে কমিয়ে ২ টাকা ১৫ পয়সা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাসের ভাড়া ২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ৩ টাকা কমার পরও ভাড়া সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন দূরপাল্লা ও মহানগরের ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৩ পয়সা কমানোর সুপারিশ করেছিল বিআরটিএ।

বাংলাদেশে এলএনজি খাতে কারা আগ্রহী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে এলএনজি খাতে কারা আগ্রহী

 

বাংলাদেশের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র, চীনের পর এবার রাশিয়ার একটি কোম্পানির আগ্রহ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি দেশে এলএনজি সরবরাহ করছে। সম্প্রতি চীনের একটি কোম্পানির সঙ্গে আরও একটি এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশের চুক্তি হয়েছে। এরপর রাশিয়ার একটি কোম্পানিও বাংলাদেশে এলএনজি নিয়ে প্রস্তাব দিয়েছে।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকট কাটাতে নতুন প্রকল্প নিতেই হবে। তবে প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি দেশের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থও বিবেচনা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে জ্বালানির চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ১০ কার্গো এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। প্রতিটি কার্গো আমদানিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে মাসে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। ভবিষ্যতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন আরও কমে গেলে আমদানির পরিমাণ বাড়াতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
‘গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো’

সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে মরিয়মের লাশের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার বাবা মাসুম বিল্লাহ ও মা। তাদের সঙ্গে ছিলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা ও চাচা মো. মোস্তাসিব। মেয়েকে হারিয়ে কাঁদছিলেন মাসুম বিল্লাহ দম্পতি। তাদের সবাইকে বিষণ্ন দেখাচ্ছিল।

মরিয়মের পরিবার ও স্বজনেরা বলেন, ন্যাম ভবনে থাকাকালে মরিয়মের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। মরিয়মকে হত্যার পর তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তারা।

মর্গের সামনে বসে সঙ্গে কথা বলেন মরিয়মের ফুফু শামসুর নাহার রোকসানা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, মরিয়মের সঙ্গে প্রতিদিনই কথা হতো। ফোনে মরিয়ম কান্নাকাটি করতো। বলতো, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম তাকে আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল দিতেন, এমনকি গায়েও হাত তুলতেন। বলতো, তোর জন্য আমার সব শেষ, বেঁচে থাকা হারাম হয়ে গেছে।’

রোকসানা বলেন, ‘এছাড়া প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম উঠতে বসতে বাপ-মা তুলে গালাগাল দিতো, গায়েও হাত তুলতো।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘সতিনের সংসার বলে কথা, বোঝেনই তো। গলায় ফাঁস দিলে ভিডিও বের হওয়ার পরেই দিতো, বিয়ের পর কেন গলায় ফাঁস দেবে।’ মরিয়মকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন বলার সময় তার দু’চোখ ভিজে আসে।

রোকসানা বলেন, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম ও মামা ওবায়দুর মরিয়মের মৃত্যুর জন্য দায়ী।

মর্গ

একই অভিযোগ করেন মরিয়মের চাচা মোস্তাসিব। তিনি বলেন, মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এরপর হত্যার ঘটনা চাপা দিতে তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।

মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই কণ্ঠ ভারী হয়ে ওঠে মাসুম বিল্লাহর। তিনি বলেন, ‘ওর ছোট মনে বড় কষ্ট। ফোন দিলে কথা বলতে চাইতো না। আমি গেলে আমার সঙ্গে দেখা হতো। এমপির বাসা ছিল ওর জন্য জেলখানা।’

তিনি বলেন, ‘মেয়ে এসব বলতো আর আমার পা জড়িয়ে কাঁদতো। ওবায়দুলের কথা বলতো। ওরে খুব বিশ্বাস করে আজকে ওর এই পরিণতি। ওই ঘটনা না ঘটলে ওরে এমপি হোস্টেলে আইসা থাকা লাগে না। এভাবে মেয়ের জীবনও শেষ হতো না।’

এ ঘটনার জন্য নিজের শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে দায়ী করে মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ও (মরিয়ম) বলতো আমি বাইরে মুখ দেখাবো কীভাবে। সে আমার মামা, আমার এত বড় ক্ষতি করবে আমি বুঝতে পারিনি। আমাকে মাফ করে দেন, আমি বাপের থেকে তাকে বেশি বিশ্বাস করতাম। বিশ্বাস করে আজকে আমি এই পরিণতি ভোগ করতেছি।’

মুদি দোকানি মাসুম বিল্লাহ বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল তার আপন খালু। বাবার খালুর সঙ্গে কীভাবে মেয়ে সম্পর্কে জড়ালো; এমন প্রশ্নে মাসুম বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। অনেক পরে জানতে পারছি। যখন জেনেছি, মেয়েকে রক্ষার আর কোনও পথ ছিল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি তো চাই সঠিক তদন্ত, আমি যেন ন্যায়বিচারটা পাই; প্রকৃত দোষী যেন শাস্তি পায়।’

ন্যাম ভবনের ওই ফ্ল্যাটে পুলিশ মরিয়মের হাতে লেখা চিরকুট বলে যে কাগজগুলো উদ্ধারের কথা জানিয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুম বলেন, ‘এগুলো ওর লেখা কিনা, সেটা আমি বলতে পারছি না। আমি ওর লেখা চিনি না।’

মামলায় যে অভিযোগ

রবিবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

মামলার এজাহারে মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেছেন, চলতি বছরের জুনে তার শ্যালক ওবায়দুর রহমানের ‘প্রত্যক্ষ প্ররোচনায়’ সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের সঙ্গে তার বড় মেয়ে মরিয়মের (১৯) বিয়ে হয়। সংসদ ভবনের বিপরীতে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের ২০৩ নম্বর বাসায় নজরুল ও মাকছুদার সঙ্গে থাকতেন মরিয়ম।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নজরুল ও মাকছুদা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে মরিয়ম তার পরিবারকে বলে গেছেন।

এর মধ্যে রবিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল মোবাইল ফোনে মাসুম বিল্লাহকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে মরিয়মকে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে থাকতে দেখেন বাবা মাসুম বিল্লাহ। লাশ উদ্ধারের সময় মেয়ের বিছানার ওপরে তার লেখা ‘সুইসাইড নোট’ দেখতে পান বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন তিনি।

চিরকুটে যা লিখে গেছেন মরিয়ম

মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের সময় বেশ কয়েকটি চিরকুট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

একটি চিরকুটে লেখা আছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই…তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই…।’

আরেকটিতে লেখা, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবইবা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে যেয়ে দেখি তুমিতো ছিলে বিপক্ষের সেনাপতি।

‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো, কারণ আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি ধ্বংসের শেষ দাঁড়িয়েও মুখে হাসি রেখেছি। ভেবে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’

আরেকটি চিরকুটে দুটি লেখা আছে। একটিতে আছে, ‘সে ছিলো অন্য নারীর স্বামী। কাগজে কলমে অধিকার ছিল তার বউ এর…!!! আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!!’

অপর লেখায় আছে, ‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশির সম্মানের। কারণ ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়…ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

কী বলছে পুলিশ

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, মামলায় গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমসহ তিন জনকে আসামি করা হয়েছে। অপর আসামি মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান।

তিনি বলেন, মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা এ মামলায় গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওবায়দুর পলাতক বলেও জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে, চিরকুটটি মরিয়মের হতে পারে। তবে লেখাটি মরিয়মের কিনা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত করে বলা যাবে।

এমপি গাজী নজরুল ৪ দিনের রিমান্ডে

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন।

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।

ওবায়দুর পলাতক, বলছে পুলিশ

মরিয়ম আত্মহত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার ৩ নম্বর আসামি ওবায়দুর পলাতক। সম্পর্কে মরিয়মের মামা হলেও এমপির কাছে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে আত্মহত্যার ঘটনায় তাকে দায়ী করছে পরিবার। একই সঙ্গে তাকে এজাহারভুক্ত করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য ও তার প্রথম স্ত্রী গ্রেফতার হলেও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ওবায়দুর।

তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ওবায়দুরকে ধরতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় তাকে খোঁজা হচ্ছে। একাধিক টিম তাকে ধরতে কাজ করছে।

ওবায়দুরের বিষয়ে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘ওবায়দুর সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল। তার জন্য আজ আমার মেয়েকে হারাতে হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পুরো পরিবারটা তছনছ করে দিয়েছে সে। সে আমার মেয়েকে এমপির কাছে না নিলে আসলে কিছুই হতো না। আজ তার জন্যই আমরা আমাদের মেয়েকে হারিয়েছি।’