নিজস্ব প্রতিনিধি: “শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদকে শিশুশ্রম ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সফলতা উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ১১টায় কুলিয়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রভাস চন্দ্র এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রাম, সুশীলনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মামুন হোসেন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর স্পন্সর অফিসার পল্টন বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সচিব ফারুক হোসেন, ইউপি সদস্যা ফাতেমা খাতুন এবং ইউপি সদস্য প্রেম কুমার, এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শিশু উপদেষ্টা কমিটির সহ-সভাপতি অনামিকা পাড়।
সংস্থার কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুশীলনের মনিটরিং অফিসার শরিফুজ্জামান, সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার জ্যোৎস্না বালা, নিলাদ্রী বিশ্বাস ও রিপন হোসেন এবং জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার আকরম ফারুক ও জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মমতাজ বেগম।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুলিয়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল হক, শিক্ষক রবিউল ইসলাম, ধর্মীয় নেতা শিক্ষক ইদ্রিস আলী এবং ধর্মীয় নেতা ইন্দ্রজিত সরকারসহ ভিডিএস এর সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং স্কুলগামী ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা।
শিশু ফোরাম, যুব ফোরাম ও স্থানীয় সংগঠনের সহযোগিতায় এবং ১নং কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদনে এই গৌরবময় ঘোষণাটি বাস্তবায়িত হয়। সমগ্র কার্যক্রমে সার্বিক কৃতজ্ঞতায় ছিল ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রাম, সুশীলন।
বক্তারা বলেন, কুলিয়া ইউনিয়নকে শিশুশ্রম ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মুক্ত ঘোষণা করা এলাকার শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। এখন থেকে এই ইউনিয়নে কোনো শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কঠোর নজরদারি বজায় রাখবেন। এলাকার প্রতিটি শিশুকে একটি সুন্দর ও স্বপ্নময় ভবিষ্যৎ উপহার দিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। সমগ্র অনষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সুশীলনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান।