ব্রাজিলকে ‘বাঁচিয়ে’ প্রশংসায় ভাসছেন ভিনিসিয়ুস
নেইমার নেই। তাই ব্রাজিলের আক্রমণভাগে বাড়তি দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই নিতে হবে—এটা জানতেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেই চাপ সামলে মরক্কোর বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। ইসমায়েল সাইবারির গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দুর্দান্ত নৈপুণ্যে সমতা ফেরান ভিনিসিয়ুস। তাঁর সেই গোলেই অন্তত হার এড়াতে পেরেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ম্যাচের ৩২তম মিনিটে ব্রুনো গিমারেসের ফিরতি পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাঁ দিকে কাট করে একজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দেন ভিনিসিয়ুস। এরপর জোরালো শটে দূরের পোস্ট ঘেঁষে বল জালে পাঠান তিনি।
গোলটির পর সতীর্থের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন ডগলাস সান্তোস। তিনি বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস একটা জিনিয়াস। ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে তাকে পাহারা দেওয়া কঠিন। চোখের পলকে সে প্রতিপক্ষকে ফাঁকি দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে। এটা সে আবারও করে দেখাল এবং এটা ছিল সুন্দর একটা গোল।’
ভিনিসিয়ুস মাঠে থাকলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগও যেন অন্যরকম হয়ে ওঠে। বিশ্বকাপে তার উপস্থিতিতে ব্রাজিল সাতটি গোল করেছে, আর সবগুলো গোলেই কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন ২৫ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। আগেই বলেছিলেন, ‘আমি এখানে কোনও ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে আসিনি। আমি এখানে এসেছি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে। এই টুর্নামেন্টে আমি যদি কোনও গোল না-ও করি এবং আমরা যদি শিরোপা জিতি, তবে আমার চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হবে না।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগেও বারবার হেক্সা জয়ের লক্ষ্য সামনে এনেছিলেন ভিনিসিয়ুস। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে দলের অর্জনই তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাঠে ফল পেতে হলে গোলও করতে হয়। নেইমারের অনুপস্থিতিতে সেই দায়িত্বের বড় অংশ এখন তাঁর কাঁধে। মরক্কোর বিপক্ষে তিনি সেই আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন।
টানা ২৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকা মরক্কোর বিপক্ষে যখন ব্রাজিল ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন দলের সবচেয়ে বড় তারকার কাছ থেকেই কিছু একটা প্রত্যাশা ছিল। ভিনিসিয়ুস ঠিক সেটাই করেছেন। তাঁর দুর্দান্ত গোলে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট পেয়েছে ব্রাজিল।
ডগলাস সান্তোস আবারও বলেন, ‘ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে তাকে মার্ক করা ভীষণ কঠিন। সে খুব সহজেই প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বেরিয়ে যায়। সে আবারও সেটাই করেছে, আর গোলটি সত্যিই দুর্দান্ত ছিল।’
ব্যক্তিগত পুরস্কার নিয়ে আগ্রহ নেই বললেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। কিংবদন্তি রোনালদো নিজ হাতে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে তাঁকে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি আমি আরও অনেক উন্নতি করতে পারব। আমি একটি গোল করেছি ঠিকই, তবে টেকনিক্যাল দিক থেকে আমি শতভাগ ফর্মে ছিলাম না। আমি বিশ্বাস করি আমি আরও উন্নতি করতে পারব এবং আক্রমণে আরও বেশি অবদান রাখতে পারব। রক্ষণে আমি অনেক সাহায্য করতে পেরেছি।’
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় প্রথমার্ধে আমরা খুব বাজেভাবে শুরু করেছিলাম। একটি গোল খেয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। উদ্বোধনী ম্যাচে নিজের ছন্দ খুঁজে পাওয়া সবসময়ই কঠিন। আমাদের বল আরও বেশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, পজেশন ধরে রাখতে হবে এবং এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বল পাস করতে হবে। প্রতিপক্ষরা প্রায়শই রক্ষণাত্মক খেলবে এবং কাউন্টার-অ্যাটাকে আমাদের আঘাত করার চেষ্টা করবে।’
পরবর্তী ম্যাচ নিয়েও আশাবাদী ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘এখানে বেশি কিছু বলার নেই। আমাদের স্রেফ কাজ করে যেতে হবে, কারণ পরের ম্যাচটি একদম দোরগোড়ায়। বিশ্বকাপে কোনও ম্যাচই সহজ নয়। এই টুর্নামেন্ট জিততে হলে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে এবং নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে।’
গ্রুপ ‘সি’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে যাওয়া হাইতির বিপক্ষে আগামী শুক্রবার ফিলাডেলফিয়ায় আবারও মাঠে নামবে ব্রাজিল।









