রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভুল করলে জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
ভুল করলে জনগণ ক্ষমা করবে না: মির্জা ফখরুল

ভুল করলে জনগণ ক্ষমা করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের মানুষ সহজ-সরল নেই। তারা সবকিছু বোঝেন, সবকিছু জানেন। তারা কাউকে ক্ষমাও করে না। আমাদের যে ছেলেরা রক্ত দিয়েছে, যারা প্রাণ দিয়েছে, বাংলাদেশকে আবার একটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে, তাদের সেই রক্তের ধারাকে যেন আমরা কখনোই ম্লান হতে না দিই। আমাদের কারণে কখনো যেন তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
শনিবার (২৩ মে) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনের ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (ইঞ্জিনিয়ার্স ডে) উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রকৌশলীদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশের উন্নয়ন ও নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রকৌশলীদের আরও সক্রিয়, দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। আপনাদের প্রতি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনেক। তারা প্রত্যাশা করে, আপনারা যে প্ল্যানিংগুলো করবেন,কাজগুলো করবেন তা যেন জনশক্তির কাজের লাগে। নিঃসন্দেহে আপনারা বাংলাদেশের অগ্রগতিকে অনেক দূরে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পিরোজপুর জেলায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। সেটা এলজিইডি ডিপার্টমেন্ট থেকেই হয়েছে। এ বিষয়গুলোর দিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দৃষ্টি দেবেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আজকে নতুন যে সূর্যোদয় হয়েছে, আসুন আমরা সবাই সেই সূর্যোদয়ের আলোয় আলোকিত হই। বাংলাদেশের জন্য একটা নতুন দিগন্ত সৃষ্টি করি। যাতে আমরা খুব দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইইবি প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যানস প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু। তিনি বলেন, আইইবি প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতা ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই প্রতিষ্ঠান দল-মত নির্বিশেষে সব প্রকৌশলীকে একত্রিত করে দেশের উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং জাতি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ প্রকৌশলী সমাজ গড়ে তোলার মাধ্যমে আইইবি দেশের অগ্রযাত্রায় ধারাবাহিক অবদান রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মঈনুল ইসলাম খান ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী সানজিদা ইসলাম (তুলি), প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিম ক্যামেলিয়া, প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ এবং স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুল বাকী।

আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের সম্পাদক প্রকৌশলী কে. এম. আসাদুজ্জামান চুন্নুর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন আইইবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান।

Ads small one

ইরান নিয়ে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত: ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
ইরান নিয়ে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত: ট্রাম্প

ইরানকে ঘিরে কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার পর এবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে বড় অগ্রগতির দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ থামাতে সমঝোতার অধিকাংশ বিষয় নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। এখন শুধু বাকি রয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদন ও শেষ মুহূর্তের কিছু সমন্বয়।
শনিবার (২৩ মে) ট্রাম্প জানান, এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টিও থাকবে। তবে এটি এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, জর্ডান, মিশর, তুরস্ক ও বাহরাইনের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনালাপের পর এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও আলাদা করে কথা বলেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত বিষয় ও বিস্তারিত দিকগুলো বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হবে।’

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদ দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার আয়োজন করতে পারবে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ফোনালাপের পর দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, আলোচনায় অগ্রগতিতে আঙ্কারা সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, কোনও সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

অন্যদিকে মিশরের প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে সব পক্ষকে কূটনৈতিক উদ্যোগ কাজে লাগিয়ে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তির জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি আবার হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অনুরোধে তা আপাতত স্থগিত রাখেন। এরপর থেকে কখনও তিনি উত্তেজনা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনও বলেছেন চুক্তি খুব কাছাকাছি।

শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় ঢাকা ইরানের একটি ছবিও পোস্ট করেন।

এদিকে পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনির শনিবার ইরান সফর শেষ করেছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে সফরটিকে ‘সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে।

তবে তেহরানের কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। কারণ, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র দুবার ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালিয়েছিল।

শিশু রামিসার ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:২০ অপরাহ্ণ
শিশু রামিসার ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট সম্পন্ন হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে ধর্ষণেরও প্রমাণ মিলেছে। রোববার (২৪ মে) ফরেনসিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে।
ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশু রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। এরপর ধর্ষণ শেষে প্রথমে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে তার দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে রোববার আদালতে চার্জশিট দেয়া হবে।

এদিকে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা চ্যানেল 24 কে ডিএনএ রিপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু ঈদের পর: আইনমন্ত্রী

অন্যদিকে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনায় আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। একই দিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত গ্রেপ্তার সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা জানায়, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শিশু রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল জোরপূর্বক তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাথরুমে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এতে শিশু রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এর মধ্যেই তার মা রামিসার খোঁজে তাদের দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন।

ওই সময় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে শরীর থেকে আলাদা করেন। সেই সঙ্গে দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। একই সময় শিশুটির সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয়। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী একই রুমে ছিল। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে করা ‎পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীতে ‎সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।

আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে কাটা মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়।

অন্যদিকে ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলেও পুলিশের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের কাছে সিক্রেট সার্ভিসের ওপর গুলি, হামলাকারী নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:১৮ অপরাহ্ণ
হোয়াইট হাউজের কাছে সিক্রেট সার্ভিসের ওপর গুলি, হামলাকারী নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউজের কাছে একটি চেকপয়েন্ট হামলা চালাতে গিয়ে সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে এক বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে এক পথচারী আহত হয়েছেন। খবর বিবিসির।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি ওয়াশিংটন ডিসির ১৭তম স্ট্রিট ও পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে অবস্থিত একটি সিক্রেট সার্ভিস চেকপয়েন্টের দিকে এগিয়ে যান। এরপর তিনি নিজের ব্যাগ থেকে একটি অস্ত্র বের করে সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুরক্ষায় নিয়োজিত ফেডারেল সংস্থা ‘সিক্রেট সার্ভিস’ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি চেকপয়েন্টে অস্ত্র বের করার আগে তা একটি ব্যাগের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন।

জবাবে সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টরাও পাল্টা গুলি চালান। এতে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে কাছের একটি হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

গোলাগুলির ঘটনায় এক পথচারীও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তবে তিনি হামলাকারীর গুলিতে নাকি সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে আহত হয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ভেতরেই ছিলেন। ঘটনার পরপরই হোয়াইট হাউজকে লকডাউন করা হয়। এ ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের কোনো কর্মী আহত হননি।

হোয়াইট হাউজের উত্তর চত্বর থেকে ৩০টিরও বেশি গুলির শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত সংবাদকর্মীরা। নিরাপত্তার স্বার্থে সাংবাদিকদের দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুমে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা পুরো এলাকাটি অবরুদ্ধ করে ফেলেন।

এদিকে ঘটনার পর হোয়াইট হাউজের কমিউনিকেশন ডিরেক্টর স্টিভেন চিউং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমএক্স-এ জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং ঘটনার পরও তিনি রাত ৮টা পর্যন্ত দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে গেছেন। প্রতিনিধি সভার রিপাবলিকান সদস্যরাও ট্রাম্পের নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, তার সংস্থা ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সিক্রেট সার্ভিসকে পূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “এই হামলা আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের প্রতিদিনকার ঝুঁকির কথাই মনে করিয়ে দেয়।”

রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি ‘স্টে-অ্যাওয়ে অর্ডার’ (নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা) জারি ছিল, যা অমান্য করেই তিনি হোয়াইট হাউজ প্রাঙ্গণে আসেন।

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ওয়াশিংটনের একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঠিক এক মাসের মাথায় এবার হোয়াইট হাউজের বাইরে হামলার ঘটনা ঘটলো। নিহত হামলাকারীর নাম-পরিচয় কিংবা তার এই হামলার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও প্রকাশ করেনি প্রশাসন। সিক্রেট সার্ভিস জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে।