বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

মুক্তমত: আইনের শাসন, ক্ষমতা, বিচারহীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা: কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত: আইনের শাসন, ক্ষমতা, বিচারহীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তা: কোথায় দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ?

কাজী মামুনুর রহমান মাহিম
“বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”Ñ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম উচ্চারিত এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে যে বৈষম্যহীনতার প্রত্যাশা সামনে এসেছিল, চব্বিশের জুলাই-আগস্টের পটপরিবর্তন এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের একটি শাসনামলের অবসানের পর বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিলÑআইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানবাধিকারের নিশ্চয়তা মিলবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠবে, এমন প্রত্যাশার কথাই বিভিন্ন মহলে উঠে এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনা সেই প্রত্যাশার সামনে একের পর এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন হাজির করছে।
ন্যাম ভবনের মতো সংসদ সদস্যদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ভবনে একজন তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মোছা. মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্ল্যাটটি জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচিত হওয়া সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

একজন সাংবাদিক এবং আইন ও নীতি বিশ্লেষক হিসেবে এখানেই আমার প্রথম প্রশ্নÑরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের জন্য নির্ধারিত আবাসিক ভবনেও যদি একজন নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের সুরক্ষা-ব্যবস্থা নিয়ে আমরা কতটা নিশ্চিন্ত হতে পারি?

মরিয়মের এই করুণ পরিণতির তদন্তই নির্ধারণ করবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায় কার। কিন্তু এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী ঘটনাবলি, অভিযোগ, নথি, ভিডিও ফুটেজ, কথিত কাবিননামা, বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত নথিÑসবকিছুই যদি তদন্তের আওতায় না আসে, তাহলে পূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন কঠিন হয়ে পড়বে।
এর আগেও গাজী নজরুলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ ও বিতর্ক সামনে এসেছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এক নারীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ওই নারীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছিলেন। পরে জামায়াত তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

ঘটনাপ্রবাহের বিভিন্ন প্রতিবেদনে চাকরির প্রলোভন, মগবাজারের একটি হোটেলে অবস্থান, পরবর্তী সময়ে বিয়ের দাবি এবং একটি কাবিননামা সামনে আসার কথাও এসেছে। ওই কাবিননামার প্রস্তুতি, নিবন্ধন ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও ছিল পরস্পরবিরোধী। গাজী নজরুল নিজে মরিয়মকে তাঁর আইনসম্মত দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন। ফলে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ, পাল্টা বক্তব্য এবং নথিগত প্রশ্নের একটি ধারাবাহিকতা তৈরি হয়েছিল।
এর সঙ্গে যদি জন্মসনদ জালিয়াতির মাধ্যমে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীকে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানোর অভিযোগও যুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর। তবে এসব অভিযোগের কোনটি সত্য, তা নির্ধারণের দায়িত্ব তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের। তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্মকা-ের জন্য প্রচলিত আইনে দায় সৃষ্টি হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে গাজী নজরুলের যোগাযোগ বা সম্পর্কের সূত্র তৈরি হয়েছিলÑএমন অভিযোগও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। পরবর্তীতে ওবায়দুর রহমানের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গাজী নজরুল হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন পান। ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই জামিনের তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

এরপর ২০ সেপ্টেম্বর ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। ২১ সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এখানেই রাষ্ট্রের কাছে বড় প্রশ্নÑএকজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে যখন একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে, তখন তদন্ত কতটা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত থাকে? আইন কি সবার জন্য একইভাবে প্রয়োগ হচ্ছে? নাকি ক্ষমতার অবস্থান বিচারপ্রক্রিয়ার বাস্তবতায় কোনো না কোনো সুবিধা তৈরি করে?
সাংবাদিক আদালত নন। সাংবাদিকের কাজ রায় দেওয়া নয় বরং সত্য উদ্ঘাটনের জন্য প্রশ্ন তোলা। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কারও অপরাধ বা নির্দোষতা নির্ধারণ করবেনÑএটাই আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কোনো ঘটনা, নথি, বক্তব্য বা প্রক্রিয়ার মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিলে সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সেই প্রশ্নগুলো সামনে আনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করা।

আইনি বিশ্লেষণের জায়গা থেকে আরও একটি প্রশ্ন সামনে আসেÑভিন্ন ব্যক্তি, ভিন্ন অভিযোগ ও ভিন্ন মামলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি একই ধরনের প্রক্রিয়াগত ন্যায়, তদন্তের সুযোগ এবং বিচারিক মানদ- অনুসরণ করছে? রাজনৈতিক পরিচয় বা ক্ষমতার অবস্থান কি কোনো মামলার তদন্ত, জামিন, বিচার বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের বাস্তবতায় প্রভাব ফেলছে? এসব প্রশ্নের উত্তর আবেগ দিয়ে নয়, আদালতের নথি, তদন্তের অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের তুলনামূলক বিশ্লেষণ থেকেই পাওয়া সম্ভব।
ন্যায়বিচারের মৌলিক প্রশ্নটি এখানেইÑআইনের চোখে ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীন ব্যক্তির জন্য কি একই মানদ- কার্যকর হচ্ছে?
মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনাটিও এই প্রশ্নকে আরও গভীর করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর দিন ন্যাম ভবনের সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটে গাজী নজরুলের উপস্থিতি এবং তাঁর সঙ্গে মরিয়মের অবস্থানের বিভিন্ন বিবরণ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছিল, মরিয়মের মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সেখানে ছিলেন এবং কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলÑএসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত ও আদালতের নথি থেকেই নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
এখানে ব্যক্তিবিশেষের অপরাধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকের রয়েছে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও যদি ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অবশ্যই জনসমক্ষে আলোচনার দাবি রাখে।
আরও একটি প্রশ্ন হলোÑঅভিযোগ, তদন্ত, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির মধ্যে সীমারেখা কোথায়? কোনো দল কাউকে বহিষ্কার করলেই রাষ্ট্রীয় বা সংসদীয় দায়ের প্রশ্ন শেষ হয়ে যায় না। আবার কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করাও ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রয়োজন স্বচ্ছ তদন্ত, প্রমাণের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং আইনের সমান প্রয়োগ।
শুধু ন্যাম ভবনের ঘটনাই নয়Ñদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, গণপিটুনি এবং কথিত ‘মব জাস্টিস’ নিয়েও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো উদ্বেগ তৈরি করছে। ৫ আগস্টের পর একটি নতুন ও অধিকতর মানবিক রাষ্ট্রের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রত্যাশার সঙ্গে এসব ঘটনা সাংঘর্ষিক কি নাÑসেটিও এখন আলোচনার বিষয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও সহিংসতার অভিযোগ সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
খুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মাত্র দশ দিনের মাথায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেন ওরফে আযমকে ‘ভাত চুরি করে খাওয়ার’ অপবাদে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ঘটনায় তাঁর বাবা হত্যা মামলা করেছেন।
একজন তরুণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ যদি তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে সেটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়Ñএটি আমাদের সামাজিক ন্যায়বোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও গুরুতর সংকেত।
অন্যদিকে শিশুদের নিরাপত্তার চিত্র আরও উদ্বেগজনক। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ২০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর অন্তত ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় মোট ২৫৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য আসকের পর্যবেক্ষণে এসেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়; তাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হলেও ২ হাজার ৩৮ শিশু তখনও নিখোঁজ ছিল।
কুমিল্লায় শিক্ষক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাও নতুন করে শিশুদের নিরাপত্তার প্রশ্ন সামনে এনেছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র অপ্রতিমসহ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ হয়ে নিহত শিশুদের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
শিশুদের এমন পরিণতি আমাদের কোন সভ্যতার ইঙ্গিত দেয়?
একদিকে যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি, সাধারণ মানুষের জীবন ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে এত প্রশ্ন, অন্যদিকে জনপ্রতিনিধিদের আচরণও জনমনে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। সম্প্রতি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ চলাকালীন দলটির ৩৪ জন এমপিসহ মোট ৭১ জনের বিদেশ সফরের কথা প্রথম আলোসহ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সফরটি দলীয়ভাবে পূর্বপরিকল্পিত ও শিক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, এত বিপুলসংখ্যক এমপির একযোগে বিদেশ সফরের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সফরটিকে ঘিরে ‘প্রমোদ বিলাস’-কেন্দ্রিক সমালোচনাও দেখা গেছে।
এখানে প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিকÑএকসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক সংসদ সদস্য কেন বিদেশ সফরে গেলেন, সফরের সুনির্দিষ্ট ম্যান্ডেট কী, ব্যয়ের উৎস কী এবং জনগণের কাছে এর উদ্দেশ্য কতটা স্বচ্ছ?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ মোহাম্মদ শাহান এবং অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানও গণমাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের এমন বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য ও ম্যান্ডেট জনসম্মুখে পরিষ্কার থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, অর্ন্তর্বতী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম, ঘুষ ও অর্থপাচারের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করছেÑএমন প্রতিবেদন একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। একই অনুসন্ধান-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন গুরুতর অভিযোগের পরও তাঁর প্রকাশ্য কর্মকা- ও অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা গেছে।
এসব দৃশ্যমান অসঙ্গতি দেখে একজন সচেতন নাগরিক, সংবাদকর্মী ও আইন ও নীতি বিশ্লেষক হিসেবে প্রশ্ন করতেই হয়Ñরাষ্ট্রের আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান? নাকি ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের জন্য তার প্রয়োগের বাস্তবতা ভিন্ন?
ক্ষমতার অবস্থান যদি কখনো ন্যায়বিচারের সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে, তখন রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। আর বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা হারানো কোনো রাষ্ট্রের জন্যই ছোট সংকট নয়।
আজ মরিয়ম, আজমুল বা অপ্রতিমদের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা না গেলে রাষ্ট্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রমাণনির্ভর তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পূর্ববর্তী অভিযোগ, নথি, ভিডিও ফুটেজ, বয়স ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য, কথিত কাবিননামা এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর পুরো ঘটনাপ্রবাহও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যতই প্রভাবশালী হোন, তাঁর জন্য আলাদা কোনো বিচারিক মানদ- থাকতে পারে না। একইভাবে, কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে বিচার শেষ হওয়ার আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবেও চিহ্নিত করা যায় না। প্রয়োজনÑতদন্তে স্বচ্ছতা, প্রমাণের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন, বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বাধীনতা এবং আইনের সমান প্রয়োগ।
তাই আজকের প্রশ্ন শুধু মরিয়মের মৃত্যুর কারণ কীÑতা নয়। প্রশ্ন আরও গভীর: রাষ্ট্র কি প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান নিরাপত্তা, সমান আইনি সুরক্ষা এবং সমান বিচার নিশ্চিত করতে পারছে?
মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তেই নির্ধারিত হবে। আজমুলের মৃত্যুর দায়ও আদালতের বিচারেই নির্ধারিত হবে। অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও দায়ও তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হতে হবে। একইভাবে, কোনো জনপ্রতিনিধি, সাবেক বা বর্তমান রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগই।
কিন্তু রাষ্ট্রের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
কারণ রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কোনো বক্তব্যে তৈরি হয় না; তৈরি হয় তখনই, যখন একজন সাধারণ নাগরিক বিশ্বাস করতে পারেনÑক্ষমতার পরিচয় নয়, সত্য ও প্রমাণই শেষ পর্যন্ত আইনের ভিত্তি। লেখক: সাংবাদিক, আইন ও নীতি বিশ্লেষক এবং সমাজকর্মী

 

 

Ads small one

রানি মুখার্জি মা হারালেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
রানি মুখার্জি মা হারালেন

বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি মাকে হারালেন। তার মা কৃষ্ণা মুখার্জি মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। প্রযোজনা সংস্থা ‘যশ রাজ ফিল্মস’ এক বিবৃতিতে কৃষ্ণা মুখার্জির মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। শোকের এই সময়ে মুখার্জি পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মঙ্গলবার দুপুরে রানি মুখার্জির মা কৃষ্ণা মুখার্জি এই কঠিন সময়ে আপনাদের ভালোবাসা, প্রার্থনা ও সমর্থনের জন্য এই পরিবার কৃতজ্ঞ।’ শাস্ত্রীয় সংগীতে প্রশিক্ষিত শিল্পী ছিলেন কৃষ্ণা মুখার্জি। একসময় কয়েকটি সিনেমায় গানও করেছিলেন তিনি। তার স্বামী রাম মুখার্জি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক। ২০১৭ সালে মারা যান তিনি।

মুম্বাইয়ে মুখার্জি পরিবারের বিভিন্ন আয়োজনে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন কৃষ্ণা। পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজাতেও প্রতিবছর তার সরব উপস্থিতি দেখা যেত। মায়ের সঙ্গে রানির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সময়ে অভিনেত্রীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে।

রানির প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘রাজা কি আয়েগি বারাত’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে তার বাবার বন্ধু ও প্রযোজক সেলিম আখতারের মাধ্যমে। তবে সেই ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মায়ের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে জানিয়েছিলেন রানি।অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘মা ভেবেছিলেন, আমি যদি ভালো কাজ করি, তা আমাদের পরিবারের সবার জন্য ভালো হবে।’

‘মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে’ সিনেমায় অভিনয়ের ক্ষেত্রেও মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন রানি। ছবিতে এক মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ফিরে পেতে একজন মা কতটা দূর যেতে পারেন, সেই গল্পই তুলে ধরা হয়েছিল সিনেমাটিতে।

মাকে স্মরণ করে রানি একবার বলেছিলেন, ‘একজন আপাদমস্তক বাঙালি মানুষ। নিজ হাতে আমাদের খাইয়ে দিয়েছেন, কপালে টিপ পরিয়ে দিয়েছেন। আমি আমার মায়ের কাছ থেকেই শক্তি ও অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

চলতি বছর ‘মর্দানি ৩’ সিনেমায় দেখা গেছে রানিকে। এ ছাড়া আগামী ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে তার নতুন সিনেমা ‘কিং’-এর। ছবিটিতে শাহরুখ খান, তার মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন ও অভিষেক বচ্চনসহ বলিউডের একাধিক তারকা অভিনয় করেছেন।

ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ
ভয়ংকর শক্তি নিয়ে মেক্সিকোর কাছে হারিকেন পোলো

প্রশান্ত মহাসাগরে গত কয়েক দশকের অন্যতম শক্তিশালী ঝড়ে পরিণত হয়েছে হারিকেন ‘পোলো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের (এনএইচসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটি ইতোমধ্যে ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনে রূপ নিয়েছে। ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে ধীরে এগোচ্ছে এবং আরও কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

মার্কিন ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এনওএএ) ‘হারিকেন হান্টার’ বিমান পোলোর ভেতরে প্রবেশ করে ঝড়টির শক্তি পরিমাপ করে। এনএইচসির ২২ সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ২৮৫ কিলোমিটার এবং কেন্দ্রে সর্বনিম্ন বায়ুচাপ ৮৯২ মিলিবারে নেমে আসে।

এনএইচসি পোলোকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হারিকেন হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছ দিয়ে অগ্রসর হলেও স্থলভাগে সরাসরি আঘাত হানার সম্ভাবনা নেই। তবে এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, গেরেরো ও মিচোয়াকান রাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ৪ থেকে ৮ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টির পরিমাণ ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এ ছাড়া ওক্সাকা, কলিমা ও জালিস্কো উপকূলেও কয়েক ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

ঝড়ের কারণে সমুদ্রেও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। পোলোর প্রভাবে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে বড় ঢেউ ও প্রাণঘাতী রিপ কারেন্টের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এনএইচসির তথ্য বলছে, অত্যন্ত উষ্ণ সমুদ্রের পানি পোলোর দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২১ সেপ্টেম্বরের বুলেটিনে সংস্থাটি জানায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টির শক্তি অস্বাভাবিক দ্রুত বেড়েছে এবং অনুকূল পরিবেশের কারণে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবামও উপকূলীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে জালিস্কো, কলিমা ও মিচোয়াকানসহ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের রাজ্যগুলোকে ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছে।

ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় অফিস খুলতে আগ্রহী মেটা, জানালেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ নিউ ইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, মেটার সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ঢাকায় অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে ফেসবুকের বড় ব্যবহারকারী ভিত্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ডিজিটাল হয়রানি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হয়রানি কমাতে মেটা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, সরকারের প্রথম বাজেটে ই-কমার্স ও প্রযুক্তি খাতকে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট টিমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ঢাকায় কবে ও কীভাবে অফিস খুলবে, তা তারা পর্যালোচনা করবে।

বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। মক্কা প্যাক্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, বৈঠকটি আন্তরিক ছিল। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এলডিসি উত্তরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, গত ১৫ বছরের গণতান্ত্রিক ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা এবং বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়গুলো বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ-সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়ে বাংলাদেশ সমর্থন পাচ্ছে এবং এ নিয়ে সরকার ইতিবাচক। জ্বালানি সংকটের বিষয়টি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদেও সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।