যুব চেতনায় উপকূলীয় জলাবদ্ধতা মোকাবেলায় টিআরএম বইয়ের মোড়ক উন্মোচন
পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়াজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় সীমান্তে পুশইন বন্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থান বজায় রাখা,বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, যানজট নিরসনে বাস থামার স্থান চিহিৃতকরণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারকরণ, সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারকরণ, সরকারি খাস জমি উদ্ধার, অনলাইন জুয়া ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎপরতা বন্ধে পুলিশী ব্যবস্থা জোরদারকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম, সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নিজস্ব প্রতিনিধি: অফিসে অগ্নিসংযোগসহ ভাংচুর লুটপাট ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এবার সাতক্ষীরা সদর থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
গত ২০২৫ সালের ২০ মে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগরস্থ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি। পরদিন তাকে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৭৭/২৫ মামলার সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৯৬/২৫ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১১ জুন ২৫ তারিখে তাকে আসামী শ্রেণিভুক্ত করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাইকোট থেকে গত ফেব্রুয়ারি ২৬ মাসে দুটি মামলায় এবং সম্প্রতি একটি মামলায় জামিন পান।
লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী এড. আল মাহামুদ জানান, কারামুক্ত হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। নতুন এই মামলায় তার জামিন আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রবিবার আদালতে আসামির শ্যোন অ্যারেস্ট এর আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত উক্ত আবেদন মঞ্জুর করলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাৎখনিক জামিনের আবেদন পেশ করেন। শুনানি চলাকালে আসামি পক্ষ দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ১ বছর ১ মাস ধরে (অন্যান্য মামলায়) হাজতে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিকভাবে দীর্ঘ দিন পর এই মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে, এই মামলার এজাহারে তার নাম নেই, কোন সন্দেহ নেই, কেউ দোষ স্বীকারোক্তি করে এই আসামীর নাম বলেনি। তাছাড়া মামলায় গ্রেপ্তার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা একাধিক আসামী গ্রেপ্তার হলেও তারা সকলে জামিনে আছেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সিডব্লিউ মূলে আসামিকে জেলা হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞ আমলী সদর ১ম আদালতে (সাতক্ষীরা) দন্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারা মোতাবেক এই নতুন নালিশী মামলাটি দায়ের করেছেন সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৪৭)।
নথি পর্যালোচনা করে মামলার বিবরণীতে জানা যায়, বিগত ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মামলার এজাহারনামীয় ৪৭জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন আসামি পরিকল্পিতভাবে বাদীনির বসতবাড়িতে বেআইনি জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করে। সে সময় বাদীনির শিশু কন্যাকে ঘর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য মালামাল লুট করে প্রায় ৬/৭ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এছাড়া ঘর থেকে নগদ ৫০হাজার টাকা, ৩নং সাক্ষীর সোনার গহনা (৬ ভরি, মূল্য আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকা) এবং মৃত অহেদ আলীর ব্যবহৃত একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল (মূল্য ১ লক্ষ ৫০হাজার টাকা)সহ প্রয়োজনীয় দলিলপত্র লুট করে নেওয়া হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন সময়ে আসামিরা পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে ঘরে ঢুকে বাদীনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে বাদীনির স্বামী অহেদ আলীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বসতবাড়ি থেকে কিছু দূরে পাকা রাস্তার পাশে আমবাগানে তাকে নির্মমভাবে খুন করে ফেলে রাখা হয়। পরের দিন ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখ সকালে বাদীনির স্বামী অহেদ আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন সুপ্রতিষ্ঠিত না থাকায় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎকালীন প্রভাবশালীদের কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বাদীনি এতদিন কোনো ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাননি। বর্তমানে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বাদীনি বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
আদালত বাদীনির আবেদন আমলে নিয়ে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে সাতক্ষীরা সদর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। এই মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতক্ষীরা) মীর্জা সালাউদ্দীন, ডিবি ওসি মহিদুল, সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন ওসি মো. আসাদুজ্জামানসহ মোট ৪৭জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়।
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতাসহ ন্যায্য মুজুরীর দাবীতে রবিবার সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকেরা। বন্দরের পুরাতন পোর্ট থানার সামনে দাবী আদায়ে সমাবেশ করছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। ফলে পণ্য লোড-আনলোড রয়েছে বন্ধ। ব্যাহত হচ্ছে আমদানি রপ্তানিকৃত পন্য পরিবহন।
বন্দরে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন পূর্বে বেধে দেওয়া সময়সুচি অনুযায়ী রবিবার (১৪ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির শুরুর করেছেন। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল স্থলবন্দরে পন্য লোড আনলোডিংয়ে পাচ বছর আগে টেন্ডার পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হোসনেয়ারা এন্টারপ্রাইজ। শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৮৯১) এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৯২৫) বন্দর শ্রমিকের কাজ করে আসছিল। গত ৫ আগষ্টের পর থেকে শ্রমিকদের সাথে চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি প্রতিষ্টানটি। ফলে অনেক কষ্টে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছিলেন তারা। এসব বিষয়ে শ্রমিক নেতারা (৯ জুন) বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নিকট একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু জানান, ইতিপূর্বে কয়েক বার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি সহ সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক (টাফিক) শামীম হোসেন জানান, পোর্ট চেয়ারম্যানের নিকট দুইটি শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি আবেদন আমার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের সাথে বিষয়টি সুরাহের চেষ্টাসহ দ্রুত সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।