সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে নিরাপত্তাহীনতায় দুই হিন্দু পরিবার, থানায় লিখিত অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে নিরাপত্তাহীনতায় দুই হিন্দু পরিবার, থানায় লিখিত অভিযোগ

মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আড়পাংগাশিয়া গ্রামে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই হিন্দু পরিবার। ্এব্যাপারে আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন পরিবার দুটি। অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বধানখালি গ্রামের শহিদুল ইসলাম সফির ছেলে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির কথা বলা হয়েছে।

শ্যামনগরের তপোবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আড়পাংগাশিয়া গ্রামের দিনদয়ালের ছেলে সুকুমার মন্ডল লিখিত অভিযোগে বলেন, তার মেয়ে মোহনা রানী মন্ডল (১৮) মুন্সিগঞ্জ বাজারে পরিচালিত মাসুম বিল্লাহর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দোকানে প্রশিক্ষণ নিতে যেত। সেই সুবাদে মাসুম বিল্লাহ এর সাথে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ধর্মত্যাগ করে বিয়ে করে।

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মোহনা রানীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে কিছুদিন পর মেয়ের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে যান মাসুম বিল্লাহ। এরপর থেকে মেয়ের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।

সুকুমার মন্ডল বলেন, উক্ত ঘটনার পর হতে বিভিন্ন সময় অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে অভিযুক্ত তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে অপর অভিযোগকারি একই এলাকার অরবিন্দ বৈদ্যর ছেলে পরিতোষ কুমার বৈদ্য। তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যে প্ররোচনায় ধর্মান্তরিত হওয়া মোহনা রানী তার মামাতো বোন। সেই কারনে পরিবারের মান সম্মান রক্ষার্থে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনের শরণাপন্ন হতে তিনি পরিবারটিকে সহযোগিতা করেন। তার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মকিন্দ পাইকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অঙ্গীকারনামা ও তালাকনামা সম্পন্ন করে মোহনাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও মোহনা রানীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে যায় মাসুম বিল্লাহ।

পরিতোষ কুমার বৈদ্য জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয় মাসুম। এজন্য সে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমার অফিস সংলগ্ন মাসুমের বাড়ি হওয়ায় অফিসে যাওয়া আসার পথে প্রতিদিন আমাকে হুমকি ধামকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ বাজার থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মাসুম বিল্লাহ আমার জামার কলার ধরে টেনে দোকানের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন পাবে এই মর্মে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমাকে হেনস্তা করে।

স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে অভিযুক্ত মাসুম সেখান থেকে সরে যায়। পরে বিভিন্ন সময় পথেঘাটে পেলে সবকিছু কেড়ে নেওয়া, মিথ্যা মামলা দেওয়া ও খুনজখম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিতোষ বৈদ্য।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সুন্দরবন প্রেসক্লাব-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী দুই পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

শ্যামনগর হিন্দু পরিষদের আহ্বায়ক অনাথ মন্ডল ও যুগ্ম আহবায়ক সুজন কুমার দাস বলেন, হিন্দু পরিবার দুটির উপর হুমকি ধামকি আসলে দুঃখজনক। যেহেতু বিষয়টি আইনি পর্যায়ে আছে সেহেতু আমরা আইনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। একই সাথে প্রশাসনের কাছে পরিবার দুটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দাবি করি।

এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, ঘটনা দুইটি নিয়ে আলাদা আলাদা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় নারী ব্যবসায়ি হত্যা, গ্রেপ্তার কলেজ ছাত্রকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নারী ব্যবসায়ি হত্যা, গ্রেপ্তার কলেজ ছাত্রকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার মাগুরা বৌবাজারে নারী ব্যবসায়ি বীথিকা সাধুকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর পুকুরের পানিতে ফেলে লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত এইচএসসি পরীক্ষার্থী আবিদ হোসেনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ আদালতের নির্দেশে সোমবার বেলা ১১টার দিকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

আসামী আবিদ হোসেন খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলার পল্লীমধুর গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে ও তেরখাদা ডিগ্রী কলেজ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার্থী। এ নিয়ে এ মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মামলার বর্তমান তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ জানান, বীথিকা সাধুকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় তার ছেলে কার্তিক সাধু বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে ২৭ এপ্রিল থানায় একটি মামলা (জিআর-১৬১/২৬ সাতঃ) দায়ের করেন। মামলায় বীথিকা ২৬ এপ্রিল রাত সাড়ে সাতটার দিকে মাগুরা বৌবাজারে নিজের দোকানে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে বাঁশ বাগানের কাছে ইট দিয়ে থেঁতলে হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য পাশর্^বর্তী বাসুদেব সাধুর পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।

 

এ মামলায় ৫ মে মঙ্গলবার রাতে খুলনার তেরখাদা এলাকা থেকে কলেজ ছাত্র আবিদ হাসানকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৬ মে আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন জানান তিনি। রবিবার উভয়পক্ষের শুনানী শেষে আবিদ হোসেনকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমা- মঞ্জুর করেন অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস ম-ল। সোমবার বেলা ১১ টার দিকে কারাফটকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সুশান্ত কুমার ঘোষ আরো জানান, ইতিপূর্বে মাগুরার বৌবাজার এলাকার আমিত হাসানকে রিমা-ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কোন ক্লু উদ্ধার করা যায়নি। তবে সে ঘটনার সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে। যাদের মধ্যে অনেকেই নিরীহ। একইভাবে কারাফটকে আবিদ হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত এ মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৭ এপ্রিল রাতে এ মামলায় জাকির হোসেন ও সালাউদ্দিন মনা নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ এপ্রিল সামিউল আলম, ৪ মে অমিত হাসান ও ৫ মে আবিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাইকগাছায় মাদক বিরোধী যৌথ অভিযানে গাঁজাসহ আটক সাকিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় মাদক বিরোধী যৌথ অভিযানে গাঁজাসহ আটক সাকিবকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদন্ড

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় মাদকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মোঃ সাকিব গাজীকে (২১) গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আটক সাকিব গাজী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ সফিকুল গাজীর ছেলে।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১১ মে সোমবার বেলা ১১টার দিকে পৌরসভার শিবসা ঘাট সংলগ্ন একটি বাড়িতে উপজেলা প্রশাসন ও খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে সাকিবকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে তার কাছ থেকে গাঁজা বিক্রির নগদ ৬ হাজার ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ ফজলে রাব্বী ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২(১) ধারা অনুযায়ী সাকিব গাজীকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫শত টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত টাকাগুলো তার মায়ের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জব্দকৃত গাঁজা আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অভিযানকালে খুলনা বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই মোঃ সফিয়ার রহমানসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনারার বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহনারার বসত বাড়িতে অগ্নি সংযোগ

0-4480x2016-0-0-{}-0-12#

কৈখালী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী পূর্ব কৈখালী গ্রামের মোঃ জয়নাল সরদারের কন্যা মোছাঃ সাহানারা পারভীনের বসত বাড়িতে দূর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে। এতে তার ভুক্তভোগী পরিবারের বহু টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহানারার বসত বাড়ীর প্রাচীরের সাথে বিচুলী রাখার ঘর আছে। গত ১১ই মে (সোমবার) গভীর রাতে দূর্বৃত্তরা কৌশলে সাহানারার বসত বাড়ীর ভিতরে প্রবেশ করে বাইরের লাইট ভেঙ্গে ফেলে এবং বিচুলী ঘরে আগুন দেয়। রাত্র ২ টার দিকে শাহানারার বড় বোন হোসনেয়ারা বাইরে এসে দেখে বিচুলী ঘরে আগুন জ্বলছে।

 

তখন সে চিৎকার করলে এলাকার লোকজন ছুটে আসে এবং বালতিতে করে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। আগুনে বিচুলীসহ ঘর ভস্মীভুত হয়। এ বিষয়ে সাহানারা বলেন, আমি কৈখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ভোট করি। যার কারনে আমার বাড়ীর আশে পাশে অনেক শত্রু। পূর্ব শত্রুতা ও আমার ক্ষতি সাধনের জন্য আমার অনুপস্থিতিতে আমার বসত বাড়ীতে গভীর রাতে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, ভুক্তিভোগী আমার এখানে আসছিল। লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।