শ্যামনগরে নিরাপত্তাহীনতায় দুই হিন্দু পরিবার, থানায় লিখিত অভিযোগ
মুন্সীগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আড়পাংগাশিয়া গ্রামে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুই হিন্দু পরিবার। ্এব্যাপারে আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন পরিবার দুটি। অভিযোগে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বধানখালি গ্রামের শহিদুল ইসলাম সফির ছেলে মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির কথা বলা হয়েছে।
শ্যামনগরের তপোবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আড়পাংগাশিয়া গ্রামের দিনদয়ালের ছেলে সুকুমার মন্ডল লিখিত অভিযোগে বলেন, তার মেয়ে মোহনা রানী মন্ডল (১৮) মুন্সিগঞ্জ বাজারে পরিচালিত মাসুম বিল্লাহর কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দোকানে প্রশিক্ষণ নিতে যেত। সেই সুবাদে মাসুম বিল্লাহ এর সাথে তার মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং ধর্মত্যাগ করে বিয়ে করে।
পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মোহনা রানীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে কিছুদিন পর মেয়ের সাথে পুনরায় যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে যান মাসুম বিল্লাহ। এরপর থেকে মেয়ের সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
সুকুমার মন্ডল বলেন, উক্ত ঘটনার পর হতে বিভিন্ন সময় অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে অভিযুক্ত তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অন্যদিকে অপর অভিযোগকারি একই এলাকার অরবিন্দ বৈদ্যর ছেলে পরিতোষ কুমার বৈদ্য। তিনি অভিযোগ করেন, মিথ্যে প্ররোচনায় ধর্মান্তরিত হওয়া মোহনা রানী তার মামাতো বোন। সেই কারনে পরিবারের মান সম্মান রক্ষার্থে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনের শরণাপন্ন হতে তিনি পরিবারটিকে সহযোগিতা করেন। তার প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মকিন্দ পাইকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অঙ্গীকারনামা ও তালাকনামা সম্পন্ন করে মোহনাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে আবারও মোহনা রানীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে নিয়ে যায় মাসুম বিল্লাহ।
পরিতোষ কুমার বৈদ্য জানান, বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয় মাসুম। এজন্য সে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমার অফিস সংলগ্ন মাসুমের বাড়ি হওয়ায় অফিসে যাওয়া আসার পথে প্রতিদিন আমাকে হুমকি ধামকিসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ বাজার থেকে অফিসে যাওয়ার পথে মাসুম বিল্লাহ আমার জামার কলার ধরে টেনে দোকানের ভেতরে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আমার কাছে ৪০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন পাবে এই মর্মে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমাকে হেনস্তা করে।
স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে অভিযুক্ত মাসুম সেখান থেকে সরে যায়। পরে বিভিন্ন সময় পথেঘাটে পেলে সবকিছু কেড়ে নেওয়া, মিথ্যা মামলা দেওয়া ও খুনজখম করার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিতোষ বৈদ্য।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সুন্দরবন প্রেসক্লাব-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সামনেও প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী দুই পরিবার প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
শ্যামনগর হিন্দু পরিষদের আহ্বায়ক অনাথ মন্ডল ও যুগ্ম আহবায়ক সুজন কুমার দাস বলেন, হিন্দু পরিবার দুটির উপর হুমকি ধামকি আসলে দুঃখজনক। যেহেতু বিষয়টি আইনি পর্যায়ে আছে সেহেতু আমরা আইনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে চাই। একই সাথে প্রশাসনের কাছে পরিবার দুটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দাবি করি।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা ইমরান হোসেন জানান, ঘটনা দুইটি নিয়ে আলাদা আলাদা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।






