বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

শ্যামনগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে বহিস্কৃত যুবদল কর্মীদের তান্ডব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে বহিস্কৃত যুবদল কর্মীদের তান্ডব

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ‘জামান ট্রেডিং ব্রিকস’ নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে যুবদলের নেতাকর্মীরা তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার খোলপেটুয়া নদীর তীরবর্তী বড়কুপোট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৮)কে মারপিটসহ হামলায় জড়িতরা প্রায় তিন লাখ টাকা মুল্যের ইট, খোয়া, বালু লুট করে বলে অভিযোগ।

 

এর আগে তারা ঐ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে সিসি ক্যামেরাসহ মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে তারা। খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক মোরসালিনের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মালিক মোঃ কামরুজ্জামানের ভাষ্য বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব (বহিস্কৃত) আনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০/১২ জন যুবক তার প্রতিষ্ঠানে যায়। এসময় নিজেদের বালুভর্তি ডাম্পার ট্রাক চলাচলের জন্য তারা জামান ট্রেডিং ব্রিকস এর মুল ফটকের তালাগুলো খুলে দিতে বলে।

 

তবে ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন তাদের নির্দেশ না মানায় কিছুক্ষণ পরে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান, আলমগীর, রোকনুজ্জামান, বিল্লাল ও মহসীনসহ অপরিচিত সাত/আটজন সেখানে পৌছে গালিগালাজ শুরু করে।

 

একপর্যায়ে তারা হুইল রেন্স ও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মুল ফটকের তালাগুলো একে একে ভেঙে ফেলে এবং ইঞ্জিন ভ্যানযোগে ইট, বালু, খোয়াসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এসময় বেশকিছু গাছ-গাছালি কাটার পাশাপাশি তারা বাধা দিতে যাওয়া ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বেপরোয়া মারপিট করে। এঘটনায় শুক্রবার দুপুরে তিনি পাঁচ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিন/চারজনকে আসামী করে এজাহার জমা দিয়েছেন।

কামরুজ্জামানের অভিযোগ, গত ৫ আগষ্টের দুই সপ্তাহ পর মিজান ও আলমগীরের নেতৃত্বে তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ব্যাপক লুটপাট করা হয়। সে ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বাইরে সরবরাহ করায় পরবর্তীতে পুনরায় তারা হামলা চালিয়ে সিসি ক্যামেরাগুলো ভাংচুর করে হুমকি দিয়েছিল।

 

পরবর্তীতে ২১ জুন ২০২৫ তারিখে দলবল নিয়ে তার প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বদখলীয় প্রায় ১৭ শতক জায়গা দখল করে নিয়েছে। সে ঘটনায় আদালতে মামলা (১০৯৫/২৫) চলমান থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার পুনরায় একই দুবৃর্ত্তরা তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে। এর আগে একই গ্রুপের সদস্যরা ব্যাংকের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা চাঁদা গ্রহনের পাশাপাশি তার ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে যুবদলের (বহিস্কৃত) সদস্য সচিব আনোয়ারুল ইসলাম ও মিজানুর রহমান কল রিসিভ করেননি।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ খালেদুর রহমান জানান খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক এসআই মোরছালিন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান মালিক মোঃ কামরুজ্জামান কয়েকজনকে আসামী করে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Ads small one

সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:২১ পূর্বাহ্ণ
সিসিডিবি’র উদ্যোগে শ্যামনগরে সমমনা সংস্থাগুলোর কর্মশালা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৪ জুন দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিসিডিবি এই কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি’র উপজেলা সমন্বয়কারী স্টিভ রায় রূপন। সিসিডিবি’র রেজিলিয়েন্স বিল্ডিং ম্যানেজার সামিউল আলিম পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মূল বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনও শামসুজ্জামান কনক। এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সারিদ বিন শফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন ও স্থানীয় সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
জমি বিরোধে গাছ কাটার অভিযোগ, দেবহাটায় আদালতে মামলা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গাছপালা কেটে ফেলা এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বসন্তপুর গ্রামের বৈদ্যনাথ দাস বাদী হয়ে শংকর দাস ও দিপঙ্কর দাসসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা (নং-৪০৬/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বসন্তপুর মৌজার ৫৮ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একটি রাস্তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যা নিয়ে আগেও একটি মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। বাদীর অভিযোগ, চলমান মামলার তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ জোরপূর্বক তাঁর জমিতে প্রবেশ করে বিভিন্ন গাছগাছালি কেটে সাবাড় করেছে এবং জমি দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। বিবাদীদের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে তাঁর পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদ অভিযানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা: জেলা পরিষদ প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চান কুলিয়াবাসী

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আলিপুর থেকে কুলিয়া বাজার পর্যন্ত অংশে সরকারি খাস জমিতে উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে। সড়কের ‘অপ্রয়োজনীয় অংশ’ উচ্ছেদ না করে কেবল মূল কাজের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকু জমি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে গত ২৪ জুন জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি দিয়েছেন তাঁরা। আগামী ৮ ও ৯ জুলাই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের পক্ষ থেকে মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর হাতে আবেদনপত্রটি তুলে দেন।
এ সময় কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বাবলু, কুলিয়া বাজার কমিটির সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা এবং সমাজসেবক মোজাম্মেল হোসেনসহ (মিনু ডাক্তার) এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক ভুক্তভোগীদের বক্তব্য গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তবসম্মত সমাধানের আশ্বাস দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এলাকার অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরা-ভেটখালি মহাসড়কের উন্নয়ন কাজকে স্থানীয়রা স্বাগত জানান। তবে সওজ-এর নকশা অনুযায়ী ঢালাওভাবে উচ্ছেদ করা হলে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাঁদের দোকান, পুঁজি ও জীবিকা হারিয়ে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। গ্রামীণ অর্থনীতি, মাছের শেড ও স্থানীয় বাজার ব্যবস্থা এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ ছাড়া সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু ভূমিহীন পরিবার মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। মানবিক ও সামাজিক দিক বিবেচনা করে সড়ক উন্নয়নে যতটুকু জমি অপরিহার্য, ঠিক ততটুকু রেখে বাকি অংশ উচ্ছেদ না করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।