শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: উপকূলে মিঠাপানির সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: উপকূলে মিঠাপানির সংকট

সাতক্ষীরাসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে মিঠাপানির সংকট এখন আর কেবল একটি সাধারণ সমস্যা নয়, এটি রূপ নিয়েছে এক মানবিক ও অস্তিত্বের সংকটে। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব, তীব্র জলোচ্ছ্বাস, নদী-খাল ভরাট এবং আশঙ্কাজনকভাবে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানিতে লবণাক্ততার আগ্রাসন উপকূলের মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকাকে চরম বিপন্ন করে তুলেছে। এই বাস্তবতায় সম্প্রতি সাতক্ষীরায় ‘মিঠা পানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।

উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট আজ কতটা তীব্র, তা সেখানে না গেলে অনুধাবন করা কঠিন। মাইলের পর মাইল হেঁটে কলসি কাঁখে নারীদের একটু খাওয়ার পানির জন্য সংগ্রাম করা কিংবা লবণাক্ত পানি পানের ফলে নারীদের জরায়ুর রোগসহ নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়া নিত্যদিনের চিত্র। অন্যদিকে, মিঠাপানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি ও গবাদিপশু পালন। অর্থাৎ, পানির এই সংকট উপকূলের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনমিতিকেই বদলে দিচ্ছে।

সাতক্ষীরার কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠ থেকে যে উদ্বেগ ও সুপারিশগুলো উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা যথাযথই বলেছেন যে, মিঠাপানি কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। আর এই অধিকার রক্ষায় কেবল সরকারি আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না; প্রয়োজন স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা।

 

খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া স্থানীয় খাল ও ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো দ্রুত পুনঃখনন করে মিঠাপানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধানগুলোর একটি। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রযুক্তি ও সহায়তা বাড়াতে হবে। নদী, খাল ও সরকারি জলাশয় দখল করে যারা পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বেলা’ এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কর্মশালা থেকে উঠে আসা সুপারিশমালাকে কেবল কাগজের দলিলে বন্দি না রেখে, দ্রুত সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

উপকূলের মানুষের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থাসমূহ সাতক্ষীরার এই কর্মশালার সুপারিশগুলোকে আমলে নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান ও ‘সবুজ দিন’ বিনির্মাণে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উপকূলের মানুষকে বাঁচাতে মিঠাপানির অধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

 

Ads small one

ইমাম ফজলুর রহমানকে যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদের সম্মাননা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:২২ পূর্বাহ্ণ
ইমাম ফজলুর রহমানকে যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদের সম্মাননা

সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদ’-এর উদ্যোগে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এক ইমামকে বিশেষ সম্মাননা ও হাদিয়া প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) উপজেলার নতুন বাজার মাছখোলা পশ্চিম পাড়া বায়তুল্লাহ জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম ফজলুর রহমানের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে ধর্মীয় দায়িত্ব পালন এবং সমাজে ইসলামের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ সংগঠনের তরুণরা এই উদ্যোগ নেন। মসজিদের ডিজিটাল নামাজ সময়সূচির সামনে এক আন্তরিক পরিবেশে ইমাম সাহেবের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। উপহার প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন যুব সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাস্টার আশরাফুল ইসলাম, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

পাটকেলঘাটায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:১৯ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের ওপর কৃষক কর্মশালা

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: টেকসই কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বালাইনাশকের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় এক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে স্থানীয় ‘বাঁধন ফুড প্যালেস’-এ এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এলাকার ৫০ জন মডেল কৃষক এতে অংশ নেন।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ খুলনার রিজনাল সেলস ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক সিডের সাতক্ষীরা অঞ্চলের টিএসও রবিউল ইসলাম, পাটকেলঘাটা বাজারের ডিলার ও মেসার্স মায়ের দোয়া বীজ ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মো. রফিকুল ইসলাম টুটুল এবং মেসার্স মুকুন্দ সীড ফার্মের ডিলার কেশব কুমার সাধু। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, কৃষি উদ্যোক্তা ও খুচরা বিক্রেতারাও (রিটেইলার) উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় জৈব বালাইনাশকের (বায়োপেস্টিসাইড) গুরুত্ব, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং পরিবেশবান্ধব আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিষয়ে কৃষকদের ব্যবহারিক ধারণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে হাইব্রিড সবজি বীজ ও জৈব বালাইনাশক বিতরণ করা হয়।

পাটকেলঘাটায় প্রতারণার শিকার নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় প্রতারণার শিকার নারীর আত্মহত্যার চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক নারী প্রতারণা ও সর্বস্ব খোয়ানোর শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর লোকলজ্জা ও ক্ষোভে কপোতাক্ষ নদের তীরে ইকো পার্কে ওই নারী বিষাক্ত বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী অঞ্জনা দাসের (২৫) বাড়ি তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামে। পাঁচ বছর আগে বিয়ে হওয়া অঞ্জনার তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বনিবনা না হওয়ায় তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। এর মধ্যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর গ্রামের সুকুমার দাসের ছেলে সম্রাট দাসের (৩০) সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্রাট দাসও বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক।
গত ৫ জুন সন্ধ্যায় নতুন করে সংসার বাঁধার প্রলোভন দেখিয়ে অঞ্জনাকে পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ ইকো পার্কে ডেকে আনেন সম্রাট দাস। খিলঘাটা পপুলার ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অঞ্জনা দাস জানান, ইকো পার্কে দীর্ঘ সময় কাটানোর একপর্যায়ে সম্রাট তাঁর কানের দুল, গলার চেইন, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও মেমোরি কার্ড কেড়ে নেন এবং তাঁর ওপর নির্যাতন চালান। এরপর সম্রাট তাঁকে ফেলে রেখে পালিয়ে গেলে অঞ্জনা সেখানেই বিষাক্ত বড়ি খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় পথচারীরা অচেতন অবস্থায় অঞ্জনাকে উদ্ধার করে প্রথমে পাটকেলঘাটার ‘সেবা ক্লিনিক’ ও পরে ‘স্বাগতা ক্লিনিক’-এ নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে রাতে তাঁকে পাটকেলঘাটা বলফিল্ড মোড়ের ‘পপুলার ক্লিনিক’-এ ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ এক সপ্তাহ চিকিৎসার পর অঞ্জনা কিছুটা সুস্থ হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাঁর পরিবারের সন্ধান পায়।
এই ঘটনায় অঞ্জনার পরিবার পাটকেলঘাটা ও কালীগঞ্জÑউভয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্ত সম্রাট দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।