বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সাইফের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
সাইফের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রথম টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ৬ ওভারে ৪৪/১ (তানজিদ ১৬*, লিটন ২*; সাইফ ১৭)

নিউজিল্যান্ড ২০ ওভারে ১৮২/৬ (স্মিথ ২*, ক্লার্কসন ২৭*; রবিনসন ০, ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, জ্যাকবস ১, ফক্সক্রফট ৩, কেলি ৩৯)

১৮৩ রানের লক্ষ্যে সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান মিলে দারুণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন। তাদের ব্যাটে ৫ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৪০। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে অবশ্য টিকতে পারেননি সাইফ। মেরে খেলতে গিয়ে স্মিথের তৃতীয় ওভারে ১৭ রানে ক্যাচ আউট হয়েছেন। তার ১৬ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়। ভাঙে ৪১ রানের ওপেনিং জুটি। ফলে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে বাংলাদেশ সংগ্রহ করতে পারে ৪৪ রান।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড

সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করেছে নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান রবিনসন। তার পর দ্রুত ম্যাচের গতি বদলে দেন ডেন ক্লিভার। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। এরপর ক্লিভারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৮৮ রানের জুটি গড়েন কাটেনে ক্লার্ক। এই জুটি ভেঙে ছন্দ পতন ঘটান রিশাদ। ক্লিভারকে ৫১ রানে এলবিডাব্লিউ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, দুই সেট ব্যাটারই ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ক্লার্ক-ক্লিভারকে ফিরিয়েছেন রিশাদ।

তাদের বিদায়ে কিছুটা ছন্দ হারায় নিউজিল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকে, আর মাঝের ওভারগুলোতে কোনো স্থায়ী জুটিও গড়ে ওঠেনি। অধিনায়ক নিক কেলি ৩৯ রানের একটি ধীরস্থির ইনিংস খেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ১৮তম ওভারে তার বিদায়ের পর ইনিংসের গতি আরও কমে যায়।

বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। নিউজিল্যান্ড যখন ২০০ রানের পথে এগোচ্ছিল, তখনই তারা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। শেষ দিকে জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলের (২৭*) ছোট্ট ঝড়ে দলটি ১৮০ পার হতে সক্ষম হয়।

৩২ রানে ২ উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। একটি করে নেন শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান ও মেহেদী হাসান।

শরিফুলের প্রথম শিকার কেলি

দ্রুত উইকেট পতন হলেও প্রান্ত আগলে খেলছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নিক কেলি। রান বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন তিনি। ১৭.৫ ওভারে মেরে খেলতে গিয়ে শরিফুলের প্রথম শিকার হন তিনি। কেলি ২৭ বলে করেছেন ৩৯ রান। তাতে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছয়।

আলোর স্বল্পতায় খেলা বন্ধ

আলোর স্বল্পতায় ১৬.৩ ওভারে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ক্রিকইনফোর খবর অনুযায়ী মেঘলা আবহাওয়ায় ফ্লাডলাইটের কিছু বাতি আকস্মিকভাবে কাজ করছে না। তখনই খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

মেহেদীর ঘূর্ণিতে পড়লো পঞ্চম উইকেট

বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ বাড়ছিলো। রান বাড়াতে মরিয়া হওয়ার চেষ্টায় পঞ্চম উইকেটও গেছে নিউজিল্যান্ডের। মেহেদী হাসানের বল এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ৭ বলে ৩ রানে বোল্ড হয়েছেন ফক্সক্রফট। নিউজিল্যান্ড পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে ১৩০ রানে।

রিশাদের পর সাকিবের আঘাত

জুটি ভাঙার পর ছন্দ পতন ঘটেছে নিউজিল্যান্ড ইনিংসে। ক্লিভারের পর রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হয়েছেন কাটেনে ক্লার্ক। অবশ্য তার আগেই ৩৪ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি ছুঁয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৭ বলে ৫১ রানে হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। পরের ওভারে নতুন ব্যাটার বেভন জ্যাকবসকেও (১) তালুবন্দি করান তানজিম হাসান। তাতে দ্রুত আরও একটি উইকেটের পতন হয়েছে। নিউজিল্যান্ড চতুর্থ উইকেট হারায়১১৭ রানে।

৮৮ রানের জুটি ভাঙলেন রিশাদ

৯.১ ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। রিশাদের বলে কাটেনে ক্লার্কের ক্যাচ উঠলেও সেটা নিতে পারেননি সাইফ। তার পর টানা দুই চারে ২৭ বলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি পূরণ করেন ডেন ক্লিভার। চতুর্থ ডেলিভারিতে শেষ পর্যন্ত রিশাদের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোরে কাটা পড়েন তিনি। ক্লিভারের ২৮ বলে করা ৫১ রানের ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছয়। তার আউটে ভেঙেছে ৮৮ রানের জুটি (৫০ বলে)।

পাওয়ার প্লেতে নিউজিল্যান্ডের ৬১

১১ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ঝড়ো গতিতে খেলে রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে স্কোরবোর্ডে যোগ করেছে ৬১ রান। এই সময় ডেন ক্লিভার ও কাটেনে ক্লার্কের জুটি পঞ্চাশ স্পর্শ করেছে।

হৃদয়ের থ্রোতে রানআউট রবিনসন

প্রথম ওভারেই ১১ রান তুলে ফেলেছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ওভারে অবশ্য রানআউটে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রানআউট হয়েছেন টিম রবিনসন (০)। নিউজিল্যান্ড ১১ রানে হারায় তাদের প্রথম উইকেট।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

পাঁচ মাস বিরতির পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর এবার টি-টোয়েন্টি জয়ের মিশন। চট্টগ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরুতে আজ টসভাগ্য হেসেছে। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিং নিয়েছে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যান

মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশের অবস্থা খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দলের ২০টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র চারটিতে। নিউজিল্যান্ড জয় পেয়েছে ১৫ ম্যাচে, আর একটি ম্যাচে কোনো ফলাফল আসেনি।

তাছাড়া চট্টগ্রামের এই ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই হবে নিউজিল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। এর আগে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের ছয়টি টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হয়েছে মিরপুরে। দুই দলের মধ্যে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ হয়েছে ২০২৩ সালে। যা সমতায় শেষ হয়েছিল।

একাদশে কারা

বাংলাদেশের হয়ে প্রথমবার মূল জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন পেসার রিপন মন্ডল। যদিও এশিয়ান গেমসে তিনটি টি-টোয়েন্টিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

নিউজিল্যান্ড অবশ্য দুঃসংবাদ নিয়েই খেলতে নামছে। চোট পেয়ে ছিটকে গেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তার বদলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিক কেলি। এছাড়া অভিষেক হচ্ছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ন‍্যাথান স্মিথ ও পেসার ম‍্যাথু ফিশারের।

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), পারভেজ হোসেন, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, মেহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম ও রিপন মণ্ডল।

নিউজিল্যান্ড একাদশ: টিম রবিনসন, কাটেনে ক্লার্ক, ডেন ক্লিভার, নিক কেলি (অধিনায়ক), বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ম্যাথু ফিশার ও বেন লিস্টার।

Ads small one

আর্জেন্টিনার বড় জয়, মেসির হ্যাটট্রিকে মেতেছে শোবিজ অঙ্গন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার বড় জয়, মেসির হ্যাটট্রিকে মেতেছে শোবিজ অঙ্গন

লিওনেল মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে ৩–০ ব্যবধানে হারিয়ে জয় দিয়ে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। মাঠের এই দাপুটে পারফরম্যান্সে যেমন গ্যালারি মাতোয়ারা, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস—শোবিজ তারকারাও যোগ দেন সেই আনন্দে।

মাঠে উপস্থিত থেকে ম্যাচ দেখা অভিনেত্রী নাঈম নাদিয়া লিখেছেন, “ইয়েস, আমরা এখানে, আর্জেন্টিনা। গর্জন তুলুন!”

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অভিনেতা অমিত হাসান একটু খোঁচা মেরে লিখেছেন, “আমার পূর্বানুমান ঠিক হলো। তিন গোল দিলাম। রাগ করলা।” অর্থাৎ আগে থেকেই যেন তিনি স্কোর জানতেন!

অভিনেত্রী কেয়া পায়েল পুরো ম্যাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে বলেন, “তিনটি গোল। একজন সর্বকালের সেরা। সম্পূর্ণ আধিপত্য! এই মানুষটি যখন নিজের সেরা ছন্দে থাকে, তখন তাকে থামানোর কোনো উপায় থাকে না।”

অভিনেতা জায়েদ খান আবার ইতিহাস টেনে এনেছেন, লিখেছেন, “অভিনন্দন আর্জেন্টিনা। ম্যারাডোনার জন্যই আজকে ফুটবল ভালোবাসি, আর্জেন্টিনাকে ভালোবাসি। অসাধারণ লিওনেল মেসি।”

পরীমনি নিজের ছেলের ছবির সঙ্গে মেসি-ভাবনা মিশিয়ে লিখেছেন, “আমার ছোট্ট মেসি। মাশা আল্লাহ।”—যেখানে ফুটবল আর মাতৃত্ব এক ফ্রেমে এসে গেছে।

গায়িকা লুইপা আবার ফুটবলের চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন স্বামীকে নিয়ে, লিখেছেন, “আমার স্বামী আর্জেন্টিনা নাকি ব্রাজিলের সাপোর্টার এইটা কখনোই বলে না… কিন্তু আজকে আমার কেমন একটা সন্দেহ হচ্ছে…”—অর্থাৎ খেলা না দেখেই ঘুমিয়ে পড়া স্বামীই এখন মূল রহস্য!

অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া প্রথমবার সন্তানের সঙ্গে খেলা দেখে আবেগে ভেসে লিখেছেন, “সানার জীবনের প্রথম দেখা আর্জেন্টিনার ম্যাচ, আর সেই ম্যাচেই আর্জেন্টিনার জয়, মেসির হ্যাটট্রিক! বিশ্বকাপযাত্রার শুরুটা এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারে?”

অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম খুব সংক্ষেপে শান্ত ভঙ্গিতে লিখেছেন, “সবাইকে শুভ সকাল, অত্যন্ত চমৎকার একটি জয়।”—যেন পুরো ফুটবল উন্মাদনাকে এক লাইনে কুল ডাউন করে দিলেন তিনি।

আরেক অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তী মাঠ থেকেই পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, “মাই লাভ মেসি, প্রিয় দল আর্জেন্টিনার জন্য ভালোবাসা।”—মেসির প্রতি ভালোবাসা যেন স্কোরলাইনকেও ছাপিয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে মেসির হ্যাটট্রিক শুধু ম্যাচ জিতিয়ে দেয়নি, দেশের তারকাদের টাইমলাইনও পুরোপুরি দখল করে নিয়েছে—ফুটবল উৎসব এখন স্টেডিয়াম থেকে ফেসবুক পর্যন্ত!

রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে প্রথমার্ধে পর্তুগালকে রুখে দিলো কঙ্গো, ১-১ সমতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার দিনে প্রথমার্ধে পর্তুগালকে রুখে দিলো কঙ্গো, ১-১ সমতা

যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন স্টেডিয়ামে তীব্র উত্তেজনা আর রোমাঞ্চের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পর্তুগাল ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) মধ্যকার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচের প্রথমার্ধ। ম্যাচের শুরুতেই জোয়াও নেভেসের দুর্দান্ত গোলে পর্তুগাল লিড নিলেও, প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে কঙ্গোর স্ট্রাইকার ইয়োয়ান উইসার নাটকীয় গোলে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে গেছে দুই দল।

পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড ছোঁয়ার ঐতিহাসিক ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা পর্তুগালের জন্য হয়েছিল স্বপ্নের মতো। হিউস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের বাঁশি বাজার পর একটুও সময় নষ্ট করেনি রবার্তো মার্তিনেসের শিষ্যরা। খেলার ঠিক ৬ষ্ঠ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে আসা চমৎকার এক ক্রস বাতাসে ভেসে কঙ্গোর ডি-বক্সে ঢুকলে নিখুঁত পজিশন নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। নিজের মার্কারকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে এক বুলেট গতির হেডে কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসিকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি। গোল উদযাপনে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এই তরুণ। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরা কঙ্গোর জন্য এটি ছিল এক বিশাল ধাক্কা।

শুরুর গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে গেলেও দমে যায়নি কঙ্গোর ‘চিতারা’। পর্তুগালের তারকাখচিত মাঝমাঠ ও বার্নার্ডো সিলভাদের আক্রমণ সামলে ধীরে ধীরে কাউন্টার অ্যাটাকে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে তারা। পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই পর্তুগাল বল পজিশনে আধিপত্য বজায় রাখলেও কঙ্গোর রক্ষণভাগ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে কড়া পাহারায় রেখে বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে দেয়নি।

যখন মনে হচ্ছিল প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যাচ্ছে পর্তুগাল, ঠিক তখনই ম্যাচের ৪৫ মিনিটে (৪৫+৪ মিনিটে যোগ করা সময়ে) নাটকীয়ভাবে জ্বলে ওঠেন কঙ্গোর নিউক্যাসল ইউনাইটেড স্ট্রাইকার ইয়োয়ান উইসা। পর্তুগিজ ডিফেন্সের একটি মুহূর্তের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ডিওগো কস্তাকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি। উইসার এই অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় সমতাসূচক গোলে কঙ্গো শিবিরে উল্লাসের জোয়ার বয়ে যায়। ফলে ১-১ গোলের সমতা ও টানটান উত্তেজনা নিয়েই মাঠ ছেড়েছে দুই দল।

দ্বিতীয় হাফে রোনালদোরা পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেন, নাকি কঙ্গো বড় কোনো অঘটন ঘটায়— এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, কঙ্গোর মুখোমুখি পর্তুগাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, কঙ্গোর মুখোমুখি পর্তুগাল

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে আজ। লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। আর শেষবারের মতো সেই একমাত্র শিরোপাটা ছোঁয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়েই মাঠে নামছেন তিনি।

গ্রুপ ‘কে’-র উদ্বোধনী ম্যাচে রবার্তো মার্টিনেজের পর্তুগাল মুখোমুখি ডিআর কঙ্গোর, যারা ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে।

 

রোনালদো খেলবেন ৪-২-৩-১ ছকের একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে। তার পেছনে তিনজন— বের্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও পেদ্রো নেতো। মাঝমাঠের হোল্ডিং ভূমিকায় জোয়াও নেভেস ও ভিতিনহা। রক্ষণে কানসেলো, আরাউহো, ভেইগা ও মেন্দেস।

পর্তুগাল একাদশ: দিয়োগো কস্তা; তোমাস আরাউহো, রেনাতো ভেইগা, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস; জোয়াও নেভেস, ভিতিনহা; বের্নার্দো সিলভা, ব্রুনো ফার্নান্দেস, পেদ্রো নেতো; ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (অধিনায়ক)।

শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ থেকে বেঞ্চে গেছেন নেলসন সেমেদো, রুবেন দিয়াস, দিয়োগো দালোত, গনসালো ইনাসিও ও ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও।

ডিআর কঙ্গোতে চার পরিবর্তন

কোচ সেবাস্তিয়ান দেজাবরে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের একাদশে চারটি পরিবর্তন আনলেন। দলে এসেছেন স্টিভ কাপুয়াদি, সেদ্রিক বাকাম্বু, এদো কাইয়েম্বে ও আর্থার মাসুয়াকু— বেঞ্চে গেছেন নাথানিয়েল মবুকু, থিও বঙ্গোন্দা, জোরিস কাইয়েম্বে ও নোয়া সাদিকি।

ডিআর কঙ্গো একাদশ: লিওনেল এমপাসি; অ্যারন ওয়ান-বিসাকা, স্টিভ কাপুয়াদি, আক্সেল তুয়ানজেবে, চ্যান্সেল মবেম্বা (অধিনায়ক), আর্থার মাসুয়াকু; এনগালায়েল মুকাউ, স্যামুয়েল মুতুসামি, এদো কাইয়েম্বে; ইয়োয়ান উইসা, সেদ্রিক বাকাম্বু।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়ান-বিসাকা ও ব্রেন্টফোর্ডের উইসার মতো প্রিমিয়ার লিগ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকলেও কাগজে-কলমে পর্তুগালই স্পষ্ট ফেভারিট।

৬০ বছরের অপেক্ষা, একজনের শেষ সুযোগ

পর্তুগালের ইতিহাসে সেরা সাফল্য ১৯৬৬ সালে তৃতীয় স্থান— ইউসেবিওর সেই কীর্তির পর ছয় দশক কেটে গেছে। নেশনস লিগ চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল এবার ফেভারিটদের তালিকায়, আর রোনালদোর জন্য এটাই শেষ সুযোগ ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্নটা পূর্ণ করার।