সাতক্ষীরা দিবা-নৈশ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে এম নাজিম উল্লাহ আর নেই
সংবাদদাতা: দেবহাটায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেবহাটার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় তাঁদের ৮.১৫ একর পৈতৃক জমি রয়েছে। ২০১৮ সালে স্থানীয় রওশন আরা রুবি ও তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদেরসহ কয়েকজন উক্ত জমি জবরদখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও প্রশাসনের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রওশন আরা রুবি জানিয়েছেন, শরিফুল ইসলাম তাঁর দেবর। ২০০২ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষ পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছিল। পরবর্তীতে সন্তানরা বড় হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জমি উদ্ধার করেন। বালিথা মৌজার ওই জমি নিয়ে নি¤œ আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলায় শরিফুল ইসলামের পরিবার হেরে গিয়ে এখন ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ তুলছে বলে দাবি করেন তিনি।
খাল দখল ও নেটপাটায় পানিপ্রবাহ বন্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল অবৈধ দখল, নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষের কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত পরিবার ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত ১ আগস্ট জেলা নাগরিক কমিটির জলাবদ্ধতা নিরসনবিষয়ক পরামর্শ সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবলু ও কমিটির অন্যতম সদস্য শেখ সিদ্দিকুর রহমান সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, গাভা স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রের সামনে কালভার্টের মুখ বাঁশের নেটপাটা দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ঘের মালিক সুকুমার রায় মাছ চাষের স্বার্থে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রেখেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দম্ভভরে বলেন, “যারা জলাবদ্ধতার শিকার তারা তো কিছু বলে না, আপনি বলছেন কেন? আমি যা করেছি ঠিকই করেছি।”
এরপর প্রতিনিধি দল জোড়দিয়া কোচের বিল এলাকার সরকারি কোচের খাল পরিদর্শন করে। সেখানে অভিযোগ ওঠে, প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খালে জোড়দিয়া গ্রামের সদরউদ্দীনের ছেলে রেজাউল ইসলাম কেনা নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করছেন। স্থানীয়রা জানান, খালে সাদা মাছ ছাড়া থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে উপস্থিত শত শত গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে বছরের পর বছর মাছ চাষ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করলেও দখলদারদের প্রভাবের কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ সময় প্রাক্তন ইউপি সদস্য শেখ জাকিরুল হক, প্রাক্তন সদস্য নজরুল ইসলাম, মিন্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খাল দখল ও জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালে একই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে জোড়দিয়ার কোচের খাল ও বোড়ামারা খালের নেটপাটা এবং অবৈধ বাঁধ জনসাধারণ অপসারণ করেন। পরে গাভা গ্রামের মনজুরুল আহমেদ (পিতা: মৃত আলাউদ্দিন মোড়ল) সাতক্ষীরা সদর আদালতে নিরীহ ১০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সি আর-১২৫৭/২৪, তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৪, একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন স্থানে নেটপাটা ও বাঁধ দিয়ে সরকারি খালে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে জোড়দিয়া, কোচের বিল ও আশপাশের এলাকায় শত শত বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত, নেটপাটা ও বাঁধ অপসারণ এবং খাল খননের মাধ্যমে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, “গাভায় কালভার্টের মুখ বন্ধ করার ঘটনায় সুকুমারকে একাধিকবার তিরস্কার করা হলেও তিনি তা শোনেননি। জোড়দিয়ার কোচের বিল ও বোড়ামারা খালের নাব্যতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন প্রয়োজন। খাল বন্ধ করে মাছ চাষ করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৈখালী-২ স্লুইস গেটের পাট স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা এবং প্রভাবশালী দখলদারদের প্রতি পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণেই জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল দখলমুক্ত, নেটপাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা সদরের ধূলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী গ্রামের শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী আবুবকর সিদ্দিক (২৫) ও তাঁর বৃদ্ধা নানি সোনাভান বিবির মানবেতর জীবন নিয়ে পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম ৩ আগস্ট সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ ও দুই বান টিন তুলে দেন।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ২৩ বছর লালন-পালন করার পর দুই বছর আগে ক্যানসারে মা মারা গেলে আবুবকর তাঁর নানিকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েছিলেন। সহায়তার হস্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।