শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবহাটার চরবালিথায় ঘেরের নেট কেটে মাছ নেওয়ার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটার চরবালিথায় ঘেরের নেট কেটে মাছ নেওয়ার অভিযোগ

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া ইউনিয়নের চরবালিথা গ্রামে এক মৎস্যঘের মালিকের সীমানা নেট কেটে রুই মাছের পোনা নিজের ঘেরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ৩ আগস্ট সোমবার সকালে গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে বেড় জাল টেনে অভিযুক্তের ঘের থেকে প্রায় ৬-৭ মণ রুই মাছের পোনা উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত মালিকের ঘেরে ফেরত দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, গ্রামের রবিউল ইসলাম তাঁর সাড়ে তিন বিঘা জমিতে রুই মাছের পোনা চাষ করছিলেন। পাশের দেড় বিঘা উঁচু জমিতে ছোট চিংড়ি চাষ করছিলেন আ. মাজেদ। অভিযোগ ওঠে, বাঁধ ছিদ্র করে ও রাতের আঁধারে নেট কেটে রবিউলের ঘেরের রুই মাছের পোনা নিজের ঘেরে ঢুকিয়ে নেন মাজেদ।
সোমবার সকালে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলামসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে আব্দুল মাজেদের ঘেরে বেড় জাল টানা হলে ৬ থেকে ৭ মণ রুই মাছের পোনা পাওয়া যায়। পরে উপস্থিত সবার সম্মতিতে মাছগুলো রবিউলের ঘেরে ছেড়ে দেওয়া হয়। আব্দুল মাজেদ জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করেননি, ইঁদুরের গর্তের কারণে মাছ তাঁর ঘেরে ঢুকে থাকতে পারে।

Ads small one

বিএনপি পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
বিএনপি পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে: জামায়াত আমির

জনগণের উদ্দেশে জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আপনারা গণভোটে হ্যাঁ বলেছিলেন ৭০ ভাগ মানুষ। সরকার আপনাদের গণভোটকে অগ্রাহ্য করে অপমানিত করেছে। সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। জনগণের রায়ের বাস্তবায়ন এই বাংলার মাটিতে হবে, এই বিএনপিই করতে বাধ্য হবে। পানি খাবে, কিন্তু ঘোলা করে খাবে। সরকারকে আমরা বলে দিচ্ছি, আজকে ৮ দফা দাবিতে নেমেছি জনগণের জন্য। জনগণের প্রয়োজনে ৮ দফা যেকোনও সময় ১ দফায় পরিণত হতে পারে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া-বাইপাসের টাঙ্গাইল রোডে লংমার্চের পথসভার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, সকাল ৭টায় শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি বিজড়িত রংপুরের উদ্দেশে আমাদের লংমার্চ শুরু হয়েছে। আমাদের এই লংমার্চ জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার দাবিতে, ইন্ডাস্ট্রির চাকা ঘোরানোর দাবিতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে, পানির অভাবে হাহাকার করা মানুষের দুঃখ দূর করার দাবিতে, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, টেম্পু স্ট্যান্ডে সর্বত্র চাঁদাবাজি বন্ধ করার দাবিতে। আমাদের এই লংমার্চ দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার দাবিতে। আমাদের লংমার্চ আধিপাত্যিবাদের বিরুদ্ধে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি হয়েছে, তা থেকে উত্তোরণের দাবিতে আমাদের এই লংমার্চ।

উপস্থিত জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, এগুলো আপনাদের দাবি কি না। আপনাদের দাবিতে আমরা রাস্তায় নেমেছি। কোনও দলীয় দাবি নিয়ে নামিনি। ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে নেমেছি।

সকাল ১০টায় ভোগড়া বাইপাসে বক্তব্য দেওয়া শেষে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে লংমার্চ। সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাসে পথসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে। এ দিন সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চের উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান।

 

পাইকগাছায় পাটের চেয়ে পাটকাঠির চাহিদা বেশি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৪ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পাটের চেয়ে পাটকাঠির চাহিদা বেশি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গ্রামের পাশাপাশি এখন শহরাঞ্চলেও রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে পাটকাঠির কদর ও চাহিদা ব্যাপক। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি ও সহজলভ্যতার কারণে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এর ব্যবহার বাড়ছে। এক সময়ে গ্রামে রান্নার কাজে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান জ্বালানি ছিল পাটকাড়ি। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলে ঘরের বেড়া, ঘর ও চালা নির্মাণে পাটকাড়ি, ফসলের ক্ষেত, মাটির চুলায় রান্নায় পাটকাটি ব্যাবহার হতো। রান্নার জ্বালানি হিসেবে গ্রামের পাশাপাশি শহরের রয়েছে পাটকাড়ির ব্যাপক চাহিদা।

প্রাচীন কাল থেকে রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া, পানের বরজ, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন সৌখিন পাটজাত পণ্য তৈরির কাজে পাটকাঠির জুড়ি নেই। বর্তমানে বিভিন্ন পার্টিকেল বোর্ড তৈরি ছাড়াও বিভিন্ন কলকারখানায় পাটকাঠি ব্যবহার হচ্ছে। যার ফলে পাটকাঠির মূল্য ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একসময় শুধুমাত্র জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হতো পাটকাঠি। এখন পাটকাঠির বহুমুখী ব্যবহারের কারণে কদর বেড়েছে কয়েক গুন।

পাট চাষিরা জানান, পাটের যে বর্তমান বাজারমূল্য তাতে খুব একটা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না তারা, তবে তুলনামূলকভাবে পাটকাঠির মূল্য আগের চেয়ে অনেক বেশি। পাট বিক্রয় করে খুব বেশি লাভবান না হলেও পাটের কাঠিতে কিছুটা হলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন চাষিরা।

উপজেলার গোপালপুর গ্রামের পাটচাষী কেরামত সরদার জানান, শ্রমিকের দাম বেশি হওয়ায় পাটের আবাদের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। তবে পাটকাঠির দাম বেশি হওয়ায় সেটি পুশিয়ে যাচ্ছে। পাটকাঠির প্রচুর চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় পাট চাষীদের খরচ অনেকাংশে বেচে যাচ্ছে। ছোট ছোট আটি হিসাবে ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানী হিসাবে গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা খুব বেশি। পাটকাঠি দিয়ে সহজে উনুন জ্বালানো যায় ও সহজে রান্না করা যায়। এইজন্য গৃহবধুদের কাছে পাটকাঠির চাহিদা বেশি।

একসময় পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর অবহেলায় পড়ে থাকত পাটকাঠি। রান্নার জ্বালানি, ঘরের বেড়া কিংবা পানের বরজ তৈরিতে সীমিত ব্যবহারেই ছিল এর কদর। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র। এখন পাটকাঠিও হয়ে উঠেছে কৃষকের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎস।
একসময় যাকে অবহেলা করা হতো, আজ তা লাভজনক ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। পাটের পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করে এখন কৃষকরা বাড়তি আয় করছেন, যা তাদের আর্থিক স্বস্তি দিচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন বলেন, আগে শুধু পাটকাঠি রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন পাটকাঠি দিয়ে ঘরও নির্মাণ, পার্টিক্যাল বোর্ড ও পাটকাঠি পুড়িয়ে এর ছাই দিয়ে কম্পিউটারের প্রিন্টিং মেশিনের কালি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও চারকল গুলোতে ব্যাপক হারে ব্যবহার হচ্ছে পাটখড়ি। ফলে চাহিদাও বেড়েছে পাটকাঠির। উপজেলায় উৎপাদিত পাটের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এর চাহিদা রয়েছে। পাশাপাশি পাটকাঠি বিক্রি করেও কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

তিতাসে নতুন কূপ উদ্বোধন, দৈনিক মিলবে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
তিতাসে নতুন কূপ উদ্বোধন, দৈনিক মিলবে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক ১১ থেকে ১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কূপটির উদ্বোধন করা হয়।

বিজিএফসিএলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৫টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি খনন করা হয়েছে।

চীনের সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডের (সিসিডিসি) সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় কূপটির খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর। প্রায় ছয় মাসের কাজ শেষে ২০২৬ সালের ১১ জুন এর খননকাজ সম্পন্ন হয়।

বিজিএফসিএল জানায়, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের গভীরতা ৩ হাজার ৬০১ মিটার (এমডি) বা ৩ হাজার ৪৭১ মিটার (টিভিডি)। কূপটির কমপ্লিশন কাজ শেষ হওয়ার পর ডিএসটি (ড্রিল স্টেম টেস্ট) ও প্রোডাকশন টেস্টিং সম্পন্ন করা হয়েছে।

কূপটি খনন ও সম্পন্ন করতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পরীক্ষার পর কূপটি থেকে দৈনিক ১১–১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

বিজিএফসিএলের মতে, নতুন এই কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সংকট কিছুটা কমবে। পাশাপাশি শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

কোম্পানিটি আরও জানায়, সরকারের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে ১১টি কূপ খননের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২০৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।