রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় খুদে বিজ্ঞানীদের মেলা: নতুন উদ্ভাবনী ভাবনায় সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় খুদে বিজ্ঞানীদের মেলা: নতুন উদ্ভাবনী ভাবনায় সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি : বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক ও স্বনির্ভর উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো জেলা পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’। রবিবার (১৪ জুন) সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে শহরের ঐতিহ্যবাহী নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে দিনব্যাপী এ উদ্ভাবনী মেলার আয়োজন করা হয়।

​শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘এডুকেশন এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর অর্থায়নে ও সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক খুদে বিজ্ঞানী ও তরুণ উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী প্রজেক্ট ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এই প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করেন।

​বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা

রবিবার সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজ। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের নতুন প্রজন্ম। আজ এখানে খুদে শিক্ষার্থীরা যে সমস্ত বিজ্ঞান প্রজেক্ট এবং স্টার্টআপ আইডিয়া প্রদর্শন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকেই আগামী দিনের বিশ্বমানের বিজ্ঞানী ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি হবে।”

​তিনি আরও বলেন, “প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তাই হবে আমাদের ভবিষ্যতের হাতিয়ার। আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক বিজ্ঞানে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার (এসপি) আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলমের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমিনুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিজ্ঞান চর্চা মানুষকে কুসংস্কারমুক্ত ও সৃজনশীল করে তোলে। মাদকমুক্ত ও সুস্থ সমাজ গঠনে তরুণদের এ ধরনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চায় নিয়োজিত থাকা অত্যন্ত জরুরি।”

​সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল হাসেম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিজ্ঞান ক্লাবের কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। ইইএসএস-এর এই উদ্যোগ প্রান্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”

সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু বলেন, “স্মার্ট ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। আর এর জন্য হাতে-কলমে বিজ্ঞান শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের এই শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।” বর্তমান বৈশ্বিক বাজারে প্রথাগত শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। শিক্ষার্থীদের শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় না নামিয়ে, তাদের বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

​অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আলমগীর কবীর। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শরীফ আসিফ রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার মুহা. আবুল খায়ের, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবুল হোসেন, জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল মালেক গাজীসহ অন্যরা ।

মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব স্মার্ট সিটি, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুন্দরবন সুরক্ষা ও বনের নিরাপত্তা, স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, কৃষিকাজে ড্রোনের ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন যুগোপযোগী প্রজেক্ট প্রদর্শন করছে। এছাড়া ই-কমার্স ও স্থানীয় প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ আইডিয়া নিয়ে তরুণদের পরিকল্পনাগুলো আগত দর্শকদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করে। জেলার সাতটি উপজেলা থেকে সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জেলা পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

জেলা পর্যায় যাচাই-বাছাই কমিটির সূক্ষ্ম মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী সেরা প্রজেক্ট ও উদ্ভাবকদের মাঝে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ও জেলা পর্যায় যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মো. আলমগীর কবীর উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে এই উদ্ভাবনী ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা জেলা আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়াজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় সীমান্তে পুশইন বন্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থান বজায় রাখা,বাস টার্মিনাল স্থানান্তর, যানজট নিরসনে বাস থামার স্থান চিহিৃতকরণ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারকরণ, সুন্দরবনে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারকরণ, সরকারি খাস জমি উদ্ধার, অনলাইন জুয়া ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের তৎপরতা বন্ধে পুলিশী ব্যবস্থা জোরদারকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো: আশরাফুল আলম, সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, যুগ্ম আহবায়ক ড. মনিরুজ্জামান, জেলা জামায়াতের আমীর শহীদুল ইসলাম মুকুল, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি নতুন মামলায় গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: অফিসে অগ্নিসংযোগসহ ভাংচুর লুটপাট ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের তিনটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর এবার সাতক্ষীরা সদর থানার একটি হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৪ জুন ২০২৬) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডলের আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

গত ২০২৫ সালের ২০ মে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগরস্থ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি। পরদিন তাকে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৭৭/২৫ মামলার সন্ধিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৯৬/২৫ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ১১ জুন ২৫ তারিখে তাকে আসামী শ্রেণিভুক্ত করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দীর্ঘ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে হাইকোট থেকে গত ফেব্রুয়ারি ২৬ মাসে দুটি মামলায় এবং সম্প্রতি একটি মামলায় জামিন পান।

লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী এড. আল মাহামুদ জানান, কারামুক্ত হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। নতুন এই মামলায় তার জামিন আবেদন করা হলে বিজ্ঞ আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রবিবার আদালতে আসামির শ্যোন অ্যারেস্ট এর আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত উক্ত আবেদন মঞ্জুর করলে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাৎখনিক জামিনের আবেদন পেশ করেন। শুনানি চলাকালে আসামি পক্ষ দাবি করেন, দীর্ঘ প্রায় ১ বছর ১ মাস ধরে (অন্যান্য মামলায়) হাজতে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিকভাবে দীর্ঘ দিন পর এই মামলায় তাকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে, এই মামলার এজাহারে তার নাম নেই, কোন সন্দেহ নেই, কেউ দোষ স্বীকারোক্তি করে এই আসামীর নাম বলেনি। তাছাড়া মামলায় গ্রেপ্তার এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা একাধিক আসামী গ্রেপ্তার হলেও তারা সকলে জামিনে আছেন। উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সিডব্লিউ মূলে আসামিকে জেলা হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞ আমলী সদর ১ম আদালতে (সাতক্ষীরা) দন্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারা মোতাবেক এই নতুন নালিশী মামলাটি দায়ের করেছেন সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর স্ত্রী পারুল বেগম (৪৭)।

নথি পর্যালোচনা করে মামলার বিবরণীতে জানা যায়, বিগত ২৬ মার্চ ২০২০ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে মামলার এজাহারনামীয় ৪৭জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন আসামি পরিকল্পিতভাবে বাদীনির বসতবাড়িতে বেআইনি জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করে। সে সময় বাদীনির শিশু কন্যাকে ঘর থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য মালামাল লুট করে প্রায় ৬/৭ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এছাড়া ঘর থেকে নগদ ৫০হাজার টাকা, ৩নং সাক্ষীর সোনার গহনা (৬ ভরি, মূল্য আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকা) এবং মৃত অহেদ আলীর ব্যবহৃত একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেল (মূল্য ১ লক্ষ ৫০হাজার টাকা)সহ প্রয়োজনীয় দলিলপত্র লুট করে নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন সময়ে আসামিরা পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে ঘরে ঢুকে বাদীনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে বাদীনির স্বামী অহেদ আলীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বসতবাড়ি থেকে কিছু দূরে পাকা রাস্তার পাশে আমবাগানে তাকে নির্মমভাবে খুন করে ফেলে রাখা হয়। পরের দিন ২৭ মার্চ ২০২০ তারিখ সকালে বাদীনির স্বামী অহেদ আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন সুপ্রতিষ্ঠিত না থাকায় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎকালীন প্রভাবশালীদের কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বাদীনি এতদিন কোনো ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাননি। বর্তমানে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বাদীনি বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

আদালত বাদীনির আবেদন আমলে নিয়ে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে সাতক্ষীরা সদর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন। এই মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতক্ষীরা) মীর্জা সালাউদ্দীন, ডিবি ওসি মহিদুল, সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন ওসি মো. আসাদুজ্জামানসহ মোট ৪৭জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়।

 

ন্যায্য মুজুরীর দাবীতে বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
ন্যায্য মুজুরীর দাবীতে বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমন্বয়হীনতাসহ ন্যায্য মুজুরীর দাবীতে রবিবার সকাল থেকে বেনাপোল স্থলবন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকেরা। বন্দরের পুরাতন পোর্ট থানার সামনে দাবী আদায়ে সমাবেশ করছেন কয়েক হাজার শ্রমিক। ফলে পণ্য লোড-আনলোড রয়েছে বন্ধ। ব্যাহত হচ্ছে আমদানি রপ্তানিকৃত পন্য পরিবহন।

বন্দরে নিয়োজিত দুটি শ্রমিক সংগঠন পূর্বে বেধে দেওয়া সময়সুচি অনুযায়ী রবিবার (১৪ জুন) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির শুরুর করেছেন। ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল স্থলবন্দরে পন্য লোড আনলোডিংয়ে পাচ বছর আগে টেন্ডার পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হোসনেয়ারা এন্টারপ্রাইজ। শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৮৯১) এবং বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং-৯২৫) বন্দর শ্রমিকের কাজ করে আসছিল। গত ৫ আগষ্টের পর থেকে শ্রমিকদের সাথে চুক্তি, সমন্বয় বা কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করেননি প্রতিষ্টানটি। ফলে অনেক কষ্টে দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছিলেন তারা। এসব বিষয়ে শ্রমিক নেতারা (৯ জুন) বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নিকট একটি লিখিত আবেদন দেওয়া হয়।

বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু জানান, ইতিপূর্বে কয়েক বার কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বন্দর পরিচালকের আশ্বাসে তা স্থগিত করা হয়েছিল। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি সহ সব ধরনের পণ্য লোড-আনলোড কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।

বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক (টাফিক) শামীম হোসেন জানান, পোর্ট চেয়ারম্যানের নিকট দুইটি শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন দাবি সম্বলিত একটি আবেদন আমার মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্টানের সাথে বিষয়টি সুরাহের চেষ্টাসহ দ্রুত সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।