সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরার পরানদহে ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার পরানদহে ভাড়াটিয়া বাহিনী নিয়ে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ

পত্রদূত রিপোর্ট: ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হিন্দুদের বসত ভিটা ও ফসলীয় জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরার সাতক্ষীরা সদরের পরানদহ হরিতলায় এ ঘটনা ঘটে। জবরদখলের চেষ্টাকালে বাধা দিলে সংখালঘু সম্প্রদায়ের মানুষজনকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়।

সদর উপজেলার পরানদহা হরিতলা এলাকার মাখন লাল সরদার জানান, তাদের পূর্বপুরুষ কেদার সরদারের চার ছেলে ছিল। এদের মধ্যে রাজেন্দ্র সরকার ১৯৬৫ সালে স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। তার ফেলে রেখে যাওয়া জমি ১৯৬৫ সালের ৮ এপ্রিল ভারতীয় নাগরিক ছুকু বিশ^াসের স্ত্রী সুশীলা বিবি ও ফকির বিশ^াস একটি অনিবন্ধিত বিনিময় দলিলমূলে পরানদহ ও জগন্নাথপুর মৌজায় তিন একর ৭৪ শতক জমি দাবি করে আসছিলেন।

 

ওই জমির মধ্যে মোকলেম গাজী সাড়ে তিন বিঘা জমি সুশীলা বিবির কাছ থেকে খরিদ করেন। একই ব্যক্তির কাছ থেকে রহমান ও মজিদ সাড়ে ১৬ শতক জমি কেনেন। বিনিময় দলিলের বৈধতা না থাকলেও ঝামেলা এড়াতে ও বসবাসের সুবিধার্থে রাজেন্দ্র সরকারের ভাই অঘোর সরকার, তার ছেলে অধীর সরদার, সুধীর সরদার, ঘনশ্যাম সরদার বিনিময় দলিল মূলে দাবিদার সুশীলা বিবি ও শুকুর আলীর স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগমের কাছ থেকে ১৯৬৮, ১৯৭০, ১৯৭৯ ও ১৯৮০ সালে চারটি দলিল মূলে সাড়ে ৬৫ শতক জমি কিনে ভোগ দখল করতে থাকেন।

 

ফকির বিশ^াস ও তার ছেলে আবু বক্কর এ দেশে না থকেলেও তার দুই মেয়ে ওয়ারেশ সূত্রে পিতার সব সম্পত্তির মালিক হিসেবে দাবি করতে থাকে তাদের ছেলে শুকুর আলী ও হযরত আলী। বিনিময় দলিল বৈধ না হওযায় এসএ রেকর্ড ও বিআরএস রেকর্ডে ওই জমি অঘোর সরদার, সুরেন্দ্রনাথ সরদার, অধীর সরদার, সুধীর সরদার, কার্তিক সরদার ও কৃষ্ণপদ সরদার, ভদ্রমোহন, কৃষ্ণপদ ও নিরাপদ সরদারসহ কয়েকজনের নামে হয়। বর্তমানে ওই জমিতে পাট, পটল, কঢ়ুরমুখি ও ওলসহ বিভিন্ন ধরণের সবজি তাদের লাগিয়েছেন তারা।

মাখন লাল সরদার আরো জানান, ভারতে বসবাসকারি রাজেন্দ্র সরদারের কাছ থেকে (বিনিময় দলিলের জমি) ১৯৬৭ সালে ৩৯ শতক জমি সোলে ও ডিক্রি মুলে কিনেছেন মর্মে দাবি করেন জগন্নাথপুর গ্রামের সোনা কাজীর ছেলে খোকন কাজী। এ ছাড়াও কিছু জমি বন্দক হিসেবে দাবি করেন পরানদহের তমিজউদ্দিন মিস্ত্রীসহ কয়েকজন। ফলে সহকারি কমিশনারের (ভূমি) আদালতে বিনিময় দলিল সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হয়।

 

এরপরও অনিবন্ধিত বিনিময় দলিলমূলে ফকির বিশ^াসের নাতি শুকুর আলী বিশ^াস তাদের রেকডীয় ৩৫ শতক জমি দাবি করে আসছিল ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর। গত বছর তাদের কাটা ধান শুকুর আলীর লোকজন জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিলে মারপিটের ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় বসাবসি হয়। আদালতের আদেশ ছাড়া শুকুর আলী ও তাদের লোকজনদের ওই জমিতে যাওয়া যাবে না বলে আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়।

 

এরপর গোলাম হোসেনের ছেলে আবুল হোসেনে বিশ^াস, আব্দুস সালাম বিশ^াস, শুকুর আলী মোল্লা, হযরত আলীসহ ১০জন বাদি হয়ে গত ২৫ জানুয়ারি তাকে (মাখন) সুধীর সরকার, লক্ষণ সরকারসহ ১৯জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরার সদর সিভিল সহকারি জজ আদালতে ৪৯/২৬ নং মামলা দায়ের করেন। আগামি ৬ ডিসেম্বর বিবাদীপক্ষের জবাব দেওয়ার জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মাখন লাল সরদার আরো জানান, তাদের দখলীয় ও রেকডীয় ৩৩৯ ও ৩৪০ দাগের ৩৫ শতক জমি শুকুর আলী ও তার ছেলে সায়েম ও নাতি প্রান্ত দখল নেওয়ার চেষ্টা করলে এ নিয়ে থানা, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয়ভাবে বসাবসি হয়। রেকর্ডের বাইরে যেয়ে জমি কেউ মালিকানা দাবি করলে তা সঠিক হবে না মর্মে শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যানসহ থানা থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরও ৩৫ শতক জমির পরিবর্তে তারা আট লাখ টাকা দাবি করে আসছিল। বাধ্য হয়ে তারা রবিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্্েরট আদালতে শুকুর আলীসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে ১৪৫ ধারায় একটি পিটিশন মামলা করেন। এ খবর জানতে পেরেই শুকুর আলী, সামাদ, সায়েম ও প্রান্তের নেতৃত্বে সোমবার সকাল ৭টার দিকে ৫০/৬০ জন লাঠিয়াল বাহিনী একজন আমিন নিয়ে এসে জমির নিশানা করতে আসে। তারা বাধা দিলে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন চলে আসায় লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা চলে যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সার্ভেয়র শিয়ালডাঙা গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, ওই জমি দাবি করে শুকুর আলীর লোকজন আদালতে মামলা করেছে তা তিনি জানতেন না। শুকুর আলীর ছেলে রবিবার রাতে তাকে মাপার জন্য বলে। তিনি তড়িঘড়ি করে মাপ দিয়েই চলে যাচ্ছেন।

জগন্নাথপুর গ্রামের শুকুর আলী বলেন, ফকির বিশ^াসের ওয়ারেশ হিসেবে তিনি ৩৫ শতক জমি পাবেন মাখন লাল সরদার ও তাদের শরীকদের কাছে। বিনিময় দলিল বৈধতা পায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি তারা ওই জমি নিয়ে দেওয়ানী মামলা করেছেন। এরপরও বিভিন্ন পর্যায়ে বসবসি করে জমি বা টাকা না পাওয়ায় সোমবার সকালে আমিন দিয়ে মেপে জমি দখলে নিতে এসেছেন।

ডশবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম জানান, এসএ ও বর্তমান রেকর্ড অনুযায়ি ওই জমি অঘোর সরদার ও তার ভাই ও তাদের ওয়ারেশদের। শুকুর আলীর পক্ষে কাগজপত্রের কোন বৈধতা নেই। দেওয়ানী মামলা করার পর সোমবার যেভাবে লোকজন নিয়ে হিন্দুদের জমি দখল করার চেষ্টা করা হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কর্তব্যরত অফিসার উপপরিদর্শক পিংকি রানী বিশ^াস জানান, মাখন লাল সরদারের দায়ের করা পিটিশন মামলার কপি কার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে সেটা জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া জবরদখলের চেষ্টা নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করতে হবে।

 

Ads small one

বিশ্ব চকোলেট দিবস: ভালোবাসা, উপহার ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব চকোলেট দিবস: ভালোবাসা, উপহার ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির যাত্রা

সাকিবুর রহমান বাবলা

৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব চকোলেট দিবস। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যপণ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, এর দীর্ঘ ইতিহাস এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অবদানকে স্মরণ করতেই দিনটি উদযাপিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ১৫৫০ সালের ৭ জুলাই ইউরোপে চকোলেটের বিস্তৃত পরিচিতির সূচনা হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই বিশ্ব চকোলেট দিবস পালিত হয়।

চকোলেটের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। মধ্য আমেরিকার মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষ কোকো বীজ থেকে তৈরি পানীয়কে মূল্যবান সম্পদ ও বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড ভোগের দিক থেকে শীর্ষে। উন্নত উৎপাদন ও ঐতিহ্যের কারণে সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম বিশেষভাবে সমাদৃত। সুইজারল্যান্ড এবং বেলজিয়াম চকোলেটকে তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ও অন্যতম “জাতীয় প্রতীক” বা গৌরব হিসেবে গণ্য করে।

বিশ্বের বিলাসবহুল ও উচ্চমূল্যের চকোলেট ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ইকুয়েডরের টো’আক চকোলেট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিরল ‘ন্যাসিওনাল’ কোকো বীজ দিয়ে তৈরি এই পণ্যটি বিশ্বের অন্যতম দামি ও অভিজাত চকোলেট হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব নিপশিল্ট-এর তৈরি ‘লা মাদেলিন ও ট্রাফল’ বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ট্রাফল চকোলেট হিসেবে খ্যাত। ইতালির আমেদেই ব্র্যান্ডের ‘আমেদেই পোর্সেলানা’ ডার্ক চকোলেট বিরল সাদা কোকো বীজ থেকে প্রস্তুত হওয়ায় এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও সমাদৃত। সুইজারল্যান্ডের টয়শার ও লিন্ডট দীর্ঘ ঐতিহ্য, উৎকৃষ্ট মান এবং প্রিমিয়াম উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।

 

একইভাবে বেলজিয়ামের গোদাইভা ও গাইলিয়ান তাদের আভিজাত্য, নান্দনিক উপস্থাপন এবং রাজকীয় স্বাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। অন্যদিকে ফেরেরো রোশে, ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক, কিন্ডার, হার্শেজ, টোব্লেরোন ও লিন্ডট-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো আজ বিশ্বজুড়ে উৎসব, উদ্যাপন, উপহার প্রদান এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশে আশির দশকে ‘মিমি’ চকোলেটের মাধ্যমে এ দেশে চকোলেট সংস্কৃতির পরিচিতি ঘটে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে বাজার বিস্তৃত হয়েছে। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা ও উপহার সংস্কৃতির প্রসারে জন্মদিন, বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, করপোরেট অনুষ্ঠান ও ভালোবাসা দিবসে চকোলেটের ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে ‘ফেয়ার ট্রেড’ সার্টিফিকেশন কোকো চাষিদের ন্যায্য মূল্য ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ দাঁতের ক্ষয় ও স্থূলতার কারণ হতে পারে। তবে ডার্ক চকোলেটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের সুরক্ষা, হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি, রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। পরিমিতি বজায় রেখে সচেতন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই এটি গ্রহণ করা শ্রেয়।

বিশ্ব চকোলেট দিবসে আমরা কোকো চাষি, শ্রমিক ও উৎপাদনশিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের অবদানকে স্মরণ করি। একটি চকোলেট বারের পেছনে থাকে দীর্ঘ শ্রম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশাল শৃঙ্খল। এই দিবস কেবল স্বাদের উদযাপন নয়; বরং মানুষের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য স্বীকৃতি।

ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ন্যায়বিচারের রাষ্ট্র, নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতার পালাবদল গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিটি ক্ষমতার পরিবর্তনের পর যদি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে গণগ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানি, রাজনৈতিক প্রতিশোধ কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ সামনে আসে, তাহলে একটি মৌলিক প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে ওঠে আমরা কি সত্যিই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছি, নাকি প্রতিহিংসার এক অন্তহীন রাজনৈতিক চক্রের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছি?

‎বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখা গেছে, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির কাঙ্খিত পরিবর্তন সব সময় ঘটেনি। যে দল বিরোধী অবস্থায় থেকে দমন-পীড়নের অভিযোগ করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই তাদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এই পুনরাবৃত্তি বাস্তবতা জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা দুর্বল করে।

‎আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক হয়রানি ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগ তুলেছে। এসব অভিযোগের যেগুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হবে, সেগুলোর অবশ্যই আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত। একইভাবে বর্তমান সময়ে যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠলে তারও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ আইনের শাসনের মূলনীতি হলো আইন ব্যক্তি বা দলের পরিচয় নয়, প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োগ হবে।

‎বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিভিন্ন মহলে এমন অভিযোগও আলোচিত হচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল না এবং যারা নিজ নিজ এলাকায় সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ছিলেন, তারাও বিভিন্ন মামলায় আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের একমাত্র বৈধ ক্ষেত্র আদালত। তবে এ ধরনের আলোচনা যখন জনপরিসরে বিস্তৃত হয়, তখন বিচারব্যবস্থা ও আইনের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

‎একইভাবে আইনজীবী মহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মাঝে মাঝে এমন অভিযোগও উঠে আসে যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আদালত থেকে জামিন লাভের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট আদালত ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার অনুসন্ধান ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। তবে এমন ধারণা যদি জনমনে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

‎একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অপরাধের দায় ব্যক্তির, কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়। কোনো দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ডের দায় সেই দলের প্রতিটি সাধারণ কর্মীর ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বর্তায় না। অপরাধী যে-ই হোক, তার বিচার অবশ্যই হতে হবে। আবার নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আইনের শাসনের প্রকৃত চেতনা।

‎বাংলাদেশের ইতিহাস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয় প্রতিহিংসার রাজনীতি কখনো স্থায়ী সমাধান এনে দেয় না। আজ যারা ক্ষমতায়, কাল তারা বিরোধী দলে যেতে পারেন; আবার আজ যারা বিরোধী, ভবিষ্যতে তারাই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন। ফলে আজ যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে, আগামী দিনে তার প্রভাব পড়বে সব রাজনৈতিক দলের ওপরই।
‎গণতন্ত্রের শক্তি প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার মধ্যে নয়; বরং ভিন্নমতকে সাংবিধানিক ও আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে নিরাপদ রাজনৈতিক পরিসর দেওয়ার মধ্যেই নিহিত। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নিষ্পত্তি হওয়া উচিত জনগণের রায়ে, প্রশাসনিক প্রভাব বা প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে নয়।

‎বাংলাদেশের মানুষ বহু সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করেছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে তখনই, যখন আইনের শাসন বাস্তব অর্থে প্রতিষ্ঠিত হবে, বিচারব্যবস্থা হবে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ, মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো নাগরিক তার রাজনৈতিক বিশ্বাসের কারণে বৈষম্য বা অনিশ্চয়তার শিকার হবেন না।
‎আজ সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করা। সেই আস্থার ভিত্তি হতে পারে একটিই অপরাধীর বিচার হবে, কিন্তু নির্দোষের অধিকারও সমানভাবে সুরক্ষিত থাকবে; আইন হবে নিরপেক্ষ, বিচার হবে প্রমাণভিত্তিক এবং রাষ্ট্র হবে সব নাগরিকের সমান আশ্রয়স্থল।

‎প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো জাতির জন্য স্থায়ী সমাধান নয়। ন্যায়বিচার, জবাবদিহি, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর দাঁড়িয়েই একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

‎‎‎লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

পাইকগাছায় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় নানা আয়োজনে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস পালিত হয়েছে। উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ সবার আগে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৬ জুলাই সোমবার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ওয়াহিদ মুরাদ।

এসময়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একরামুল হোসেন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শোয়েব শাফিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা অনাথ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হুমায়ূন কবির, উপজেলা কেন্দ্রীয় সমিতির চেয়ারম্যান প্রাণকৃষ্ণ দাশ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী সমবায়ীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন। এ সময় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সমবায়ী, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।