সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্ব চকোলেট দিবস: ভালোবাসা, উপহার ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির যাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব চকোলেট দিবস: ভালোবাসা, উপহার ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির যাত্রা

সাকিবুর রহমান বাবলা

৭ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব চকোলেট দিবস। বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যপণ্যের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, এর দীর্ঘ ইতিহাস এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অবদানকে স্মরণ করতেই দিনটি উদযাপিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হয়ে আসছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ১৫৫০ সালের ৭ জুলাই ইউরোপে চকোলেটের বিস্তৃত পরিচিতির সূচনা হয়। সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করেই বিশ্ব চকোলেট দিবস পালিত হয়।

চকোলেটের ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। মধ্য আমেরিকার মায়া ও অ্যাজটেক সভ্যতার মানুষ কোকো বীজ থেকে তৈরি পানীয়কে মূল্যবান সম্পদ ও বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। বর্তমানে জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড ভোগের দিক থেকে শীর্ষে। উন্নত উৎপাদন ও ঐতিহ্যের কারণে সুইজারল্যান্ড ও বেলজিয়াম বিশেষভাবে সমাদৃত। সুইজারল্যান্ড এবং বেলজিয়াম চকোলেটকে তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ও অন্যতম “জাতীয় প্রতীক” বা গৌরব হিসেবে গণ্য করে।

বিশ্বের বিলাসবহুল ও উচ্চমূল্যের চকোলেট ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ইকুয়েডরের টো’আক চকোলেট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিরল ‘ন্যাসিওনাল’ কোকো বীজ দিয়ে তৈরি এই পণ্যটি বিশ্বের অন্যতম দামি ও অভিজাত চকোলেট হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব নিপশিল্ট-এর তৈরি ‘লা মাদেলিন ও ট্রাফল’ বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ট্রাফল চকোলেট হিসেবে খ্যাত। ইতালির আমেদেই ব্র্যান্ডের ‘আমেদেই পোর্সেলানা’ ডার্ক চকোলেট বিরল সাদা কোকো বীজ থেকে প্রস্তুত হওয়ায় এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও সমাদৃত। সুইজারল্যান্ডের টয়শার ও লিন্ডট দীর্ঘ ঐতিহ্য, উৎকৃষ্ট মান এবং প্রিমিয়াম উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত।

 

একইভাবে বেলজিয়ামের গোদাইভা ও গাইলিয়ান তাদের আভিজাত্য, নান্দনিক উপস্থাপন এবং রাজকীয় স্বাদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে। অন্যদিকে ফেরেরো রোশে, ক্যাডবেরি ডেইরি মিল্ক, কিন্ডার, হার্শেজ, টোব্লেরোন ও লিন্ডট-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো আজ বিশ্বজুড়ে উৎসব, উদ্যাপন, উপহার প্রদান এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশে আশির দশকে ‘মিমি’ চকোলেটের মাধ্যমে এ দেশে চকোলেট সংস্কৃতির পরিচিতি ঘটে। বর্তমানে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে বাজার বিস্তৃত হয়েছে। মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা ও উপহার সংস্কৃতির প্রসারে জন্মদিন, বিবাহোত্তর সংবর্ধনা, করপোরেট অনুষ্ঠান ও ভালোবাসা দিবসে চকোলেটের ব্যবহার বেড়েছে। একই সঙ্গে ‘ফেয়ার ট্রেড’ সার্টিফিকেশন কোকো চাষিদের ন্যায্য মূল্য ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।

শিশুদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ দাঁতের ক্ষয় ও স্থূলতার কারণ হতে পারে। তবে ডার্ক চকোলেটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষের সুরক্ষা, হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি, রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি ও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। পরিমিতি বজায় রেখে সচেতন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেই এটি গ্রহণ করা শ্রেয়।

বিশ্ব চকোলেট দিবসে আমরা কোকো চাষি, শ্রমিক ও উৎপাদনশিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের অবদানকে স্মরণ করি। একটি চকোলেট বারের পেছনে থাকে দীর্ঘ শ্রম ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিশাল শৃঙ্খল। এই দিবস কেবল স্বাদের উদযাপন নয়; বরং মানুষের সৃজনশীলতা, পরিশ্রম ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক অনন্য স্বীকৃতি।

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।