মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরার ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও: শিক্ষক সংকট ও বেতনহীনতার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার ৪ প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি একজনও: শিক্ষক সংকট ও বেতনহীনতার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রকাশিত মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে সাতক্ষীরা জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো পরীক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার তালিকায় উঠে এসেছে উপজেলা পর্যায়ের নিম্ন মাধ্যমিক ও নৈশ বিদ্যালয়ের নাম। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

সাতক্ষীরায় শতভাগ ফেল করা ৪ প্রতিষ্ঠান হলো -আশাশুনি উপজেলার, আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়। সাতক্ষীরা সদরের সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয় (নাইট স্কুল)। দেবহাটা উপজেলার: বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়। শ্যামনগর উপজেলার সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়।

আশাশুনি গোদাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জেবুন্নেছা জানান, এ বছর তাদের বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে মোট চারজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তবে প্রকাশিত ফলাফলে তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।

দেবহাটার বাবুরাবাদ ঢেবুখালী বিদ্যালয়ের বেহাল দশার কথা তুলে ধরে কার্যালয় সহকারী (অফিস সহকারী) নূর হোসেন জানান, ২০০১ সাল থেকে শিক্ষকরা কোনো বেতন-ভাতা পান না। ফলে শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। কাগজে-কলমে আটজন শিক্ষক থাকলেও তারা অনুপস্থিত থাকেন; একজন শিক্ষিকা ও ধর্ম শিক্ষক থাকলেও তারা ঠিকমতো সময় দেন না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বলতে গেলে আমি অফিস সহকারী হিসেবে একাই স্কুলটি দেখে-শুনে টিকিয়ে রেখেছি। গত বছরও পাঁচজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে চারজন পাস করেছিল, তবে এবার চরম বিপর্যয় ঘটেছে।

সাতক্ষীরা নৈশ বিদ্যালয়ের ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান জানান, ফলাফলের সঠিক তথ্য এই মুহূর্তে তার জানা নেই। বোর্ড ও অনলাইন কেন্দ্রীক নথি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

শ্যামনগরের কৈখালি ইউনিয়নের সাহেবখালী সিদ্দিকগাজী বিদ্যালয়টি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে প্রধান শিক্ষকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবুল খায়ের বলেন, যশোর শিক্ষা বোর্ড থেকে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ফলাফলের বিস্তারিত পাঠানো হচ্ছে। যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার *৬২.২৫ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সারা দেশের ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।

এ বছর সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।

Ads small one

তালায় এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
তালায় এক বছরের মধ্যে কারিগরি শিক্ষা চালুর ঘোষণা হাবিবের

তালা প্রতিনিধি: এসো উন্নত তালা গড়ি স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার তালায় তালা সদর উন্নয়নে নাগরিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে মোবারকপুরের উত্তরণ ট্রেনিং সেন্টারে তালা উন্নয়ন কমিটির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব তালার উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে তালায় কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপযুক্ত জায়গা পাওয়া গেলে শিশু পার্ক স্থাপন করা হবে। তালা বাজারের পুকুর ভরাট করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ কপোতাক্ষ নদের পাশ দিয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং সরকারি খাসজমি উদ্ধার করে জনস্বার্থে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব আরও বলেন, তালার রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে। হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের সাইকেল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তালা প্রেসক্লাব ভবনের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো এবং তালায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, সাতক্ষীরার মধ্যে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে অগ্রাধিকার দিয়ে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড সঠিক ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ এবং কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উত্তরণ পরিচালক শহিদুল ইসলাম। উন্নয়ন প্রচেষ্টা পরিচালক শেখ ইয়াকুব আলীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, তালা উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মির্জা আতিয়ার রহমান, তালা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক, মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন জোয়াদ্দার, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুলফিকার রায়হানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

সভায় তালা সদরকে পৌরসভায় উন্নীতকরণ, উপজেলা প্রশাসন ও সেবাকেন্দ্রগুলো এককেন্দ্রীককরণ, রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি জনস্বার্থে ব্যবহার, বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন, সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পার্ক স্থাপন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থার দাবি তুলে ধরা হয়।

সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান, নতুন যুক্ত হলেন ৪৫ জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান, নতুন যুক্ত হলেন ৪৫ জন

সংবাদদাতা: সাংবাদিকদের সংগঠন সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সংগ্রহ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নতুন সদস্য হিসেবে ৪৫ জন সাংবাদিকের নাম ঘোষণা করা হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরা সাংবাদিক ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দৈনিক দেশের কণ্ঠ পত্রিকার সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ও সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এস এম মহিদার রহমান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক হৃদয় বার্তার সম্পাদক জি এম মোশাররফ হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, অধিকার সংরক্ষণ, মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।

 

সংগঠনের নতুন সদস্যদের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

নতুন সদস্যরা হলেন- দৈনিক বিডি খবরের জেলা প্রতিনিধি অধ্যাপক নূর মোহাম্মাদ পাড়, দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি মোঃ আবিদুল হক মুন্না, দৈনিক রূপবানী পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এম ঈদুজ্জামান ইদ্রিস, দৈনিক যুগের বার্তার স্টাফ রিপোর্টার প্রফেসর রজব আলী, দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার ওমর ফারুক মুকুল, দৈনিক ঢাকা পত্রিকার মোঃ মোরশেদুল হক, দৈনিক কৃষক কণ্ঠের সহ-সম্পাদক আবু জাফর মোঃ সালেহ, দৈনিক কাফেলা পত্রিকার মোঃ আমির হামজা, দৈনিক কলম সৈনিকের জেলা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল মান্নান, দৈনিক ভোরের চেতনার জেলা প্রতিনিধি মোঃ রমজান আলী, দৈনিক সারাদেশের স্টাফ রিপোর্টার অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, দৈনিক খবরের আলোর জেলা প্রতিনিধি মোঃ কামাল উদ্দীন সরদার, সাপ্তাহিক চাকরির পয়গামের সহকারী সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইবাদুল হক, দৈনিক দিনের আলোর জেলা প্রতিনিধি মোঃ আসাদুজ্জামান খান, দৈনিক আজাদের জেলা প্রতিনিধি হাফেজ মোঃ আবুল হোসেন, দৈনিক জনদর্পন পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মাদ হাফিজ, সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন-এর স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আরিফুর রহমান, দৈনিক গড়ব বাংলাদেশ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এনামুল হক সিকদার, গাজী হাবিব, সাপ্তাহিক চাকরির পয়গামের স্টাফ রিপোর্টার আশরাফ আলী হাওলাদার, দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আমিরুল ইসলাম, নাজমুল আলম মুন্না, দৈনিক আজকের বাংলা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি জোবায়ের আল জামান, দৈনিক আলোকিত সকাল পত্রিকার মোঃ জাহাঙ্গীর সরদার, দৈনিক দিনের আলো পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ আনিছুর রহমান, দৈনিক ভোরের কথা পত্রিকার গোলাম রব্বানী, দৈনিক চৌকস পত্রিকার মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ, ভয়েস অব টাইগারের জেলা প্রতিনিধি মোঃ মিহিরুজ্জামান, দৈনিক বিডি খবরের স্টাফ রিপোর্টার মোঃ হাবিবুল্লাহ বাহার, দৈনিক প্রতিদিনের কথা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ রুহুল আমিন, সাপ্তাহিক অপরাধ অনুসন্ধানের জেলা প্রতিনিধি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, দৈনিক পরিবর্তন সংবাদের জেলা প্রতিনিধি মোঃ জাকির হোসেন জনি, দৈনিক সোনালী কণ্ঠের জেলা প্রতিনিধি মাসুদুর রহমান মনি, দৈনিক সাতক্ষীরা সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার এম এম রবিউল ইসলাম, দৈনিক ভোরের চেতনার আব্দুর রশিদ, দৈনিক সাতক্ষীরা সংবাদ পত্রিকার মোঃ আজিজুল ইসলাম, দৈনিক গণমানুষের আওয়াজের জেলা প্রতিনিধি মোঃ মনিরুজ্জামান, সাপ্তাহিক মুক্ত স্বাধীন পত্রিকার মোঃ গোলাম মোস্তফা, দৈনিক সংগ্রাম প্রতিদিন পত্রিকার মোঃ শামীম হোসেন, দৈনিক সত্যছায়া’র সম্পাদক মোঃ খায়রুল বাসার, এবং দৈনিক দৃষ্টিপাতের মোঃ ইছহাক আলী।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ সভাপতি ও দৈনিক আমার বার্তা পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মীর আবু বকর, যুগ্ সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক লাখোকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ফিরোজ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের বসুন্ধরা পত্রিকার এস এম রবিউল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক অনির্বাণের জেলা প্রতিনিধি জি এম সোহরাব হোসেন, নির্বাহী সদস্য শাহাজান আলী মিটন ও দৈনিক সংবাদ সংযোগ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি মোঃ হাফিজুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

নবনির্বাচিত ও নতুন সদস্যরা সাংবাদিকতার নীতি, পেশাগত দায়িত্বশীলতা এবং সংগঠনের ঐক্য বজায় রেখে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এমপির সামনে গ্রামের নারীরা ১৭ বিষয়ে উন্নয়ন চাইলেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০২ অপরাহ্ণ
এমপির সামনে গ্রামের নারীরা ১৭ বিষয়ে উন্নয়ন চাইলেন

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের যুগিপোতা গ্রাম চারদিকে সবুজে ঘেরা। গ্রামের মেঠোপথ পেরিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে যুগিপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল, সারি সারি চেয়ারে বসে আছেন গ্রামের নারী-পুরুষ। সামনে ছোট একটি মঞ্চ।

 

সেখানে চলছিল যুগিপোতা উন্নয়ন সংগঠনের বার্ষিক সাধারণ সভা। সভায় সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের সামনে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ গ্রামের উন্নয়নে ১৭ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য সিমা ম-ল ও চম্পা ম-ল। এসব দাবির মধ্যে রয়েছে শিবেরডাঙ্গী খাল খনন, সুপেয় পানির প্ল্যান্ট স্থাপন, কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ, লবণাক্ত পানি ঠেকানো, হাঁস পালনের যৌথ খামার, ধান ও মাছ চাষের সুযোগ তৈরি, পলি অপসারণ, সুইচগেট নির্মাণ, রাস্তা সংস্কার ও কালভার্ট নির্মাণ। এ ছাড়া জৈব সার ব্যবহার, ভূমি ও পানির ব্যবস্থাপনায় নারীর অংশগ্রহণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির বিষয়ও রয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বর্ষায় গ্রামের নিচু এলাকা সাত থেকে আট মাস পানিতে ডুবে থাকে। এতে সময়মতো বীজতলা করা যায় না, ব্যাহত হয় ফসলের চাষ। পানি সরাতে নিজেদের উদ্যোগে বিভিন্ন বাড়ির পানি মাটির নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে নেহালপুর খালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তাঁরা। কয়েকটি চেম্বারও তৈরি করা হয়েছে। তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য শিবেরডাঙ্গী খাল খননের দাবি তাঁদের।

যুগিপোতা উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘খালটা পুরোপুরি ভরাট হয়ে গেছে। খালটি সংস্কার না করলে বর্ষায় সাত থেকে আট মাস জলাবদ্ধতা থাকে। মাঠে ফসল করা যায় না, সময়মতো বীজতলাও করা যায় না।’ রবিউল ইসলাম বলেন, যুগিপোতা, সুখদেবপুর, পুরুষোত্তমপুর, বয়রবাতান ও দুর্গডাঙ্গাসহ কয়েকটি এলাকার পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পথ শিবেরডাঙ্গী খাল। খালটি খননের জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কয়েকবার আবেদন করেও আশানুরূপ সাড়া পাননি তাঁরা।

 

জলাবদ্ধতার পাশাপাশি গ্রামের মানুষ একটি সাইক্লোন শেল্টার কাম স্কুল নির্মাণেরও দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, দুর্যোগপ্রবণ এ এলাকায় এমন একটি স্থাপনা হলে একদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের সংকট কমবে, অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয়ের ব্যবস্থা হবে।

দুই বছর আগে ১৭৬টি পরিবার নিয়ে গড়ে ওঠা যুগিপোতা উন্নয়ন সংগঠনটি নিজেদের উদ্যোগেও বেশ কিছু কাজ করেছে। সংগঠনের উদ্যোগে একটি ডোবা ভরাট করে বিদ্যালয়ের মাঠ তৈরি করা হয়েছে, রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং গত বছর প্রায় ৭০০ গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া ৪২ জন হতদরিদ্র, বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীকে প্রায় ৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সদস্য চম্পা ম-ল বলেন, ২০১৪ সালে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের জন্য জমি দেওয়া হলেও এখনো সেখানে ক্লিনিক হয়নি। গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

সভায় বেসরকারি সংস্থা উত্তরণ কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জমাদ্দার বলেন, তাঁদের প্রকল্পের অর্থ দিয়ে স্থানীয় মানুষ নিজেরাই এলাকার অগ্রাধিকার ঠিক করে উন্নয়নকাজ করেছেন। তিনি বলেন, ‘কোন কাজ হবে, কী হবে না—সেই সিদ্ধান্ত তাঁরাই নেন।’

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বলেন, যুগিপোতা ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা রয়েছে। সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাভুক্ত কোনো কাজ করার সুযোগ থাকলে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, যে এলাকার প্রয়োজন বেশি, সেখানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, ‘যে কাজটা আগে হওয়া দরকার, যে এলাকা বেশি অবহেলিত, যার হক আগে, সেটাকে আগে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

সংগঠনের দাবিগুলো লিখিতভাবে তাঁর কাছে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করবেন। জলাবদ্ধতার জন্য পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে বাড়িঘর নির্মাণ বা বাঁধ দেওয়ার প্রবণতাকেও দায়ী করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘একজন বা দুইজন মানুষের জন্য শত মানুষ কষ্ট পাবে, এটা হতে দেওয়া যাবে না।’ প্রেস বিজ্ঞপ্তি