বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে ৪১ শতাংশ, জমা দাঁড়ালো কত?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:০৭ অপরাহ্ণ
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বেড়েছে ৪১ শতাংশ, জমা দাঁড়ালো কত?

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ দশমিক ২ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বার্ষিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানিয়েছে।

এই পরিমাণ আমানত বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত সর্বোচ্চ ৮৭১ দশমিক ১ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে পৌঁছেছিল। এরপর দুই বছর ধারাবাহিকভাবে আমানত কমে গেলেও ২০২৪ সালে তা আবার বাড়তে শুরু করে এবং ২০২৫ সালে আরও বড় উল্লম্ফন দেখা গেল।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল ৫৯০ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়েছে প্রায় ২৪৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ।

আমানত বৃদ্ধির মূল উৎস ব্যাংকগুলো

এসএনবির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আমানত বৃদ্ধির প্রায় পুরো অংশই এসেছে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর সুইস ব্যাংকে রাখা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা আগের বছরের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে ৪৩ শতাংশ বেশি।

অর্থাৎ, সুইস ব্যাংকে থাকা মোট বাংলাদেশি আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই এখন ব্যাংকগুলোর নামে রাখা অর্থ। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ ২০২৩ সালে এ হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ।

অন্যদিকে ব্যক্তি পর্যায়ের হিসাবগুলোতে রাখা অর্থ কমেছে। ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে থাকা আমানত ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে।

ব্যাংকারদের মতে, এ ধরনের অর্থ কোনো ব্যক্তিগত গচ্ছিত সম্পদ নয়। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের ব্যাংক বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অর্থ সংরক্ষণ করে থাকে। কোথায় বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে, তার ওপর নির্ভর করে এসব তহবিল স্থানান্তর করা হয়।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিদেশে ব্যাংকগুলোর রাখা অর্থকে কালো টাকা বা পাচারকৃত অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত আন্তর্জাতিক লেনদেন, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ কৌশলের অংশ।

তাহলে কি কালো টাকার হিসাব পাওয়া যায়

সুইস ব্যাংকের আমানত নিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ সুইজারল্যান্ডে পাচার হয়ে থাকে। তবে এসএনবির প্রকাশিত তথ্য সেই বিতর্কের সরাসরি উত্তর দেয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে শুধুমাত্র সুইস ব্যাংকগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত দায় ও সম্পদের তথ্য থাকে। এখানে কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে, অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে বা তৃতীয় দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে অর্থ জমা রাখলে তা বাংলাদেশি আমানত হিসেবে গণনা নাও হতে পারে।

এছাড়া গচ্ছিত স্বর্ণ, মূল্যবান সম্পদ বা ট্রাস্টের আওতায় থাকা অনেক সম্পদের তথ্যও এ পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হয় না।

ফলে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের ঘোষিত আমানতের পরিমাণ এবং সম্ভাব্য পাচার হওয়া সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ এক নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

গোপনীয়তার যুগ শেষ, তবুও কেন সুইস ব্যাংক

একসময় সুইস ব্যাংক ছিল কঠোর গোপনীয়তার প্রতীক। বিশ্বের ধনী ব্যক্তি, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীরা পরিচয় গোপন রেখে অর্থ সংরক্ষণের জন্য সুইজারল্যান্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করতেন।

তবে গত এক দশকে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সুইজারল্যান্ড স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে দেশটি ‘অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন’ (এএইওআই) কাঠামোর আওতায় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আর্থিক তথ্য বিনিময় করছে।

বর্তমানে ১০০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড ব্যাংক হিসাব সম্পর্কিত তথ্য বিনিময় করে। এতে হিসাবধারীর নাম, ঠিকানা, কর শনাক্তকরণ নম্বর, হিসাবের স্থিতি এবং আয়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট দেশের কর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে যায়।

তবে বাংলাদেশ এখনো এএইওআই কাঠামোয় যোগ দেয়নি। ফলে সুইস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় তথ্য বিনিময়ের সুবিধা পাচ্ছে না বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে এই ব্যবস্থার আওতায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এ ব্যবস্থায় যুক্ত হলে বিদেশে গচ্ছিত সম্পদ শনাক্ত এবং কর ফাঁকি অনুসন্ধানে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থান

সুইস ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরেই রয়েছে বাংলাদেশ।

২০২৫ সালে ভারতীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আমানত ছিল ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ। যদিও আগের বছরের তুলনায় ভারতের আমানত ৮ শতাংশ কমেছে।

বাংলাদেশের আমানত ৮৩৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং এ অঞ্চলের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

আফগানিস্তানের আমানত শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে—৪৮ শতাংশ। তবে দেশটির মোট আমানত মাত্র ৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ হওয়ায় এর আর্থিক গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম।

অন্যদিকে নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানের আমানত কমেছে। শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের আমানত বেড়েছে।

এই তথ্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

সুইস ব্যাংকের আমানতের এই পরিসংখ্যান শুধু বিদেশে রাখা অর্থের হিসাব নয়; এটি দেশের আর্থিক প্রবণতা, ব্যাংকিং খাতের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম এবং অর্থপাচার বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষ করে এমন সময়ে এই তথ্য প্রকাশিত হলো, যখন বাংলাদেশ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনর্গঠন, অর্থপাচার রোধ এবং কর ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কাজ করছে। ফলে সুইস ব্যাংকে আমানতের এই বড় উল্লম্ফন অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে একটি বিষয় স্পষ্ট—২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধির মূল কারণ ব্যক্তি পর্যায়ের অর্থ নয়, বরং বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের আওতায় বিদেশে রাখা তহবিলের বৃদ্ধি।

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চব্বিশ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে চব্বিশ লক্ষাধিক টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ পদ্মশাখরা, তলুইগাছা, ভোমরা, কালিয়ানী, কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এবং ঝাঁউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্প এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদকসহ চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, ঔষধ এবং মদ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, পদ্মশাখরা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার হাড়দ্দাহ হতে ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। কালিয়ানী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ছয়ঘরিয়া পাকা রাস্তার মোড় হতে ৬৪ হাজার ৮০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। ভোমরা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার লক্ষীদাড়ি দক্ষিণ পাকা রাস্তা হতে ৪ হাজার ৭৫০ টাকার ভারতীয় মদ আটক করে।

 

তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার শাল বাগান হতে ৬ লাখ ৪ হাজার ৮০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি ও ভাদিয়ালি হতে ১০ লাখ ৮২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইলে ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানাধীন চান্দা হতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, ঝাঁউডাঙ্গা বিশেষ ক্যাম্প এর আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার কামারবাইসা হতে ৩ লাখ ১৪ হাজার ৩০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ২৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৫০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদক ও চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

দেবহাটার মাঝ সখিপুর থেকে ১,০৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৫:৩৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটার মাঝ সখিপুর থেকে ১,০৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক ব্যক্তি গ্রেপ্তার

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার মাঝ সখিপুর এলাকা থেকে ১ হাজার ৩৫ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করেছে র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উক্ত ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। এসময় আটক করা হয়, দেবহাটা থানার মাঝ সখিপুর গ্রামের নওসের আলী সরদারের ছেলে মোঃ কবির হোসেন (৩৮) নামক এক ব্যক্তিকে।

র‌্যাব-৬, সিপিসি-১, সাতক্ষীরা ক্যাম্প জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবহাটা থানার মাঝ সখিপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় অবৈধ মাদক ১ হাজার ৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ আসামি মোঃ কবির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু পূর্বক উদ্ধারকৃত মাদক ও আসামিকে সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ জানান, অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের অভিযান চলমান থাকবে।

শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে প্রয়োজন পরিকল্পিত কর্মসংস্থান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে প্রয়োজন পরিকল্পিত কর্মসংস্থান

এম.এম হায়দার আলী

বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। বিগত সরকারের আমলে দৃষ্টিনন্দন ব্রিজ, কালভার্ট, সড়ক-মহাড়ক, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নানা অবকাঠামোগত উন্নয়ন দেশের অগ্রগতির সাক্ষ্য বহন করছে। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার মাঝেও একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, আর সেটা হলো বেকারত্ব। কর্মক্ষম হয়েও যখন একজন মানুষ কাজের সুযোগ পান না, তখন তা শুধু একটি ব্যক্তিগত সংকট নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা আনুমানিক ২৭ থেকে ২৮ লাখ। এর মধ্যে পুরুষ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ এবং নারী প্রায় ১০ লাখ। উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও অসংখ্য তরুণ-তরুণী বছরের পর বছর চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে অনেকে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত কাজ না পেয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। বেকারত্ব কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি সামাজিক অবক্ষয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকলে অনেকেই হতাশা, মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকেন।

 

এই পরিস্থিতিতে কিছু মানুষ মাদকাসক্তি, জুয়া, অনৈতিক কর্মকান্ড কিংবা অন্যান্য সমাজ বিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন। যদিও এসব অপরাধের পেছনে নানা সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারণও থাকে। তবুও কর্মসংস্থানের অভাব একটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়। আমাদের সমাজে প্রচলিত প্রবাদ আছে, অলস মস্তিষ্ক শয়তানের বাসা, এই বাস্তবতারই প্রতিফলন। তাই দেশের প্রতিটি জেলায় শিল্পকারখানা, কৃষিভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং দক্ষতা উন্নয়ন ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এখন সময়ের দাবি।

 

রাজধানী কেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে স্থানীয় পর্যায়েই লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে। এতে শহরমুখী জনগ্রোতও কমবে এবং আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস পাবে। বিশেষ করে নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ, সহজ ঋণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে তরুণদের আধুনিক প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে হবে।

 

সরকার, বেসরকারি খাত এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিত উদ্যোগ নিলে বেকারত্ব উল্লেখযোগ্য ভাবে কমানো সম্ভব। পরিকল্পিত শিল্পায়ন, স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা, বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের কার্যকর পথ। একটি কর্মসংস্থান শুধু একজন মানুষের আয়ের পথ খুলে দেয় না; এটি একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটায়, সমাজে স্থিতিশীলতা আনে এবং অপরাধপ্রবণতা কমাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। যেমন, মাদক, জুয়া, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও অনেক ক্ষেত্রে হ্রাস পেতে পারে।

 

এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার ব্যবস্থার ওপরও, মামলার চাপ কমলে তারা আরও দক্ষতার সঙ্গে জনগণের সেবা দিতে পারবেন। ফলে দেশের প্রতিটি জেলায় সন্তোষজনক কর্মসংস্থানের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলেই সত্যিকার অর্থে শান্তির সুবাতাস বইবে। সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হতে পারে সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান। সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, বেকারত্ব দূর করা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশ্ন নয়, এটি একটি মানবিক, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। একটি চাকরি শুধু একজন মানুষের জীবন বদলে দেয় না,বদলে দেয় একটি পরিবার, একটি সমাজ, এমনকি একটি জাতির ভবিষ্যৎ ও…।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট