বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস: হারানো খেলার পুনর্জাগরণ ও ক্রীড়া সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস: হারানো খেলার পুনর্জাগরণ ও ক্রীড়া সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস: হারানো খেলার পুনর্জাগরণ ও ক্রীড়া সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ

সাকিবুর রহমান বাবলা

সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে খেলাধুলা মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খেলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির পরিচয়, সংস্কৃতির ধারক, সামাজিক সংহতি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রীতির প্রতীক। আর এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে বিশ্বের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তাদের এই অসামান্য অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই প্রতি বছর ২ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস’।

এই দিবসের পেছনে রয়েছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। ১৯২৪ সালের জুলাই মাসে ফ্রান্সের প্যারিসে অলিম্পিক গেমস চলাকালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন’। সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার রক্ষা, সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে এই সংগঠনটি যাত্রা শুরু করে। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে ১৯৯৫ সাল থেকে প্রতি বছর ২ জুলাই এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

বর্তমানে এআইপিএস বিশ্বের অন্যতম বড় পেশাজীবী সাংবাদিক সংগঠন। এতে ১৬০টিরও বেশি দেশের প্রায় ৯,৫০০-এর অধিক ক্রীড়া সাংবাদিক যুক্ত আছেন। পাঁচটি মহাদেশীয় অঞ্চলের মাধ্যমে পরিচালিত এই সংস্থার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের ‘অলিম্পিক রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত লুসান শহরে অবস্থিত।

বাংলাদেশেও ১৯৯৫ সাল থেকে দিবসটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি এই আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হিসেবে প্রতি বছর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করে। এদিন বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা বিশ্বের সাংবাদিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা ও ক্রীড়া সংস্কৃতির বিকাশে নিজেদের নতুন করে শপথ নেন।

ক্রীড়াঙ্গনের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুগে যুগে হাজার হাজার খেলার জন্ম হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে কয়েক হাজার খেলার প্রচলন রয়েছে। অলিম্পিক আন্দোলনের আওতায় ৩০টিরও বেশি প্রধান ক্রীড়া শাখা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ফেডারেশনভুক্ত খেলার সংখ্যাও শতাধিক। কিন্তু এর বাইরেও রয়ে গেছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী অসংখ্য লোকজ ও আঞ্চলিক খেলা। কালের বিবর্তনে এসব খেলার অনেকগুলোই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

এই সংকটময় মুহূর্তে ক্রীড়া সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কেবল ম্যাচের স্কোর বা পদক জয়ের খবর পরিবেশন করেন না, বরং তারা ইতিহাসের ধারক এবং ঐতিহ্য সংরক্ষক। হারিয়ে যেতে থাকা কোনো খেলা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসবের ওপর প্রামাণ্যচিত্র বা ঐতিহ্যবাহী খেলার সামাজিক গুরুত্ব নিয়ে ধারাবাহিক লেখনী জনমত গঠন ও নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আধুনিক ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, পডকাস্ট এবং অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে এখন খুব সহজেই স্থানীয় কোনো খেলাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তাই আজকের ক্রীড়া সাংবাদিক কেবল সংবাদকর্মী নন; তিনি একাধারে গবেষক, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দূত, তিনি হতে পারেন ক্রীড়াসামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর।

পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও ক্রীড়া সাংবাদিকদের একটি বড় দায়িত্ব। ম্যাচ ফিক্সিং, ডোপিং, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সাহসী লেখনী ক্রীড়াঙ্গনকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে তারা খেলাধুলার ইতিবাচক সেই শক্তিকে সামনে নিয়ে আসেন, যা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে।

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস কেবল পেশাজীবীদের একটি দিন নয়; এটি খেলাধুলার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে এক সুতায় গাঁথার একটি অঙ্গীকার। মাঠে খেলোয়াড়রা ইতিহাস সৃষ্টি করেন, আর সাংবাদিকরা সেই ইতিহাসকে মানুষের হৃদয়ে গেঁথে দেন। তারা বিজয়ের আনন্দ, পরাজয়ের বেদনা এবং সংগ্রামের গল্পগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন।

আজ যখন অনেক ঐতিহ্যবাহী খেলা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে, তখন ক্রীড়া সাংবাদিকদের কলম ও ক্যামেরাই হতে পারে সেই খেলার পুনর্জাগরণের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। খেলাধুলার বৈচিত্র্য রক্ষা এবং নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ক্রীড়া সাংবাদিকতার কোনো বিকল্প নেই।

বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে সকল ক্রীড়া সাংবাদিকের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। তাদের নিরলস পরিশ্রম এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা কেবল ক্রীড়াজগতকেই সমৃদ্ধ করে না, বরং বিশ্বশান্তি ও সংস্কৃতির সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Ads small one

সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কলেজছাত্রী অপহরণের দুই সপ্তাহ, উদ্ধার ও মামলা নিয়ে অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে অপহরণের দুই সপ্তাহ পার হলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এই ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দেওয়া হলেও পুলিশ এখনো মামলা রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে অপহৃত ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিখোঁজ রিফা তাসফিয়া সদর উপজেলার শ্রীরামপুর মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। তার বাবা ও ওই কলেজের শিক্ষক ফিরোজ হোসেন জানান, গত ১৭ জুন দুপুর দেড়টার দিকে কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাসে করে রিফাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় তিনি চৌবাড়িয়া গ্রামের অয়েজ কুরুনি, আল আমিন ও আল মামুনুল হকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে ২৩ জুন থানায় এজাহার দেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও মেয়েকে উদ্ধার বা মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। রিফা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
মামলা ও উদ্ধারের অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিছুজ্জামান জানান, ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুর রহমান জানান, অভিযুক্তরা কোনো ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার না করায় তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে অপহরণের পরও মামলা না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

 

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কোটি টাকার সড়ক যখন ‘কাদার মহাসড়ক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: কোটি টাকার সড়ক যখন ‘কাদার মহাসড়ক’

সাতক্ষীরা সদরের কুশখালী ইউনিয়নে সদ্য সমাপ্ত হওয়া কোটি টাকার একটি পিচঢালা সড়কের যে করুণ দশা চিত্রিত হয়েছে, তা এককথায় উদ্বেগজনক ও চরম জনদুর্ভোগের কারণ। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি সড়ক নির্মাণের কিছুদিন যেতে না যেতেই সামান্য বৃষ্টিতে ‘কাদার মহাসড়কে’ পরিণত হবেÑতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে সড়কটির পিচকরণের কাজ শেষ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে পিচ ও পাথরের আস্তরণ ঢাকা পড়ে পুরো সড়ক জুড়ে এখন ঘন কাদার আস্তরণ জমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে মাটিবাহী ট্রলি, হল্লাগাড়ি ও মিনিট্রাকে করে অবাধে মাটি বহন করার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। গাড়ি থেকে পড়ে যাওয়া মাটির বড় বড় দলা যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে শুকনোর সময় ধুলা আর বর্ষায় মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। এর ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির পিচ গলে যাচ্ছে ও পাথর উঠে যাচ্ছে।
এই পিচ্ছিল ও বিপজ্জনক রাস্তার কারণে এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান বা মোটরসাইকেল চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলার উপায়ও নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এমন জনদুর্ভোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অনতিবিলম্বে এই সড়কটির দুরবস্থার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। শুধু কুশখালি সড়ক নয়, জনস্বার্থে জেলার সকল সড়কে মাটিবাহী ট্রলি, হল্লাগাড়ি ও মিনিট্রাক বন্ধ হওয়া জরুরী। একই সাথে, সড়ক আইন লঙ্ঘন করে সড়ক নষ্টকারী অবৈধ মাটিবাহী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বার্থে রাস্তাগুলো দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

কয়রায় গাঁজাসহ আটক দুজনের কারাদন্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় গাঁজাসহ আটক দুজনের কারাদন্ড

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রায় ৬৫ গ্রাম গাঁজাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার কয়রা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সঞ্জয় পাল সংক্ষিপ্ত বিচার (সামারি ট্রায়াল) শেষে এই আদেশ দেন। দ-প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের আলামিন হোসেন (৩৫) ও গাজিনগর গ্রামের আব্দুস সালাম (১৯)।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে ইসলামপুর চৌরাস্তা এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে এই দুজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে আব্দুস সালামের কাছ থেকে ৩৫ গ্রাম এবং আলামিন হোসেনের চায়ের দোকান থেকে আরও ৩০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অভিযোগ দাখিলের পর আদালত এই রায় দেন। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।