মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সুন্দরবনে অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডে বাহিনী প্রধান মেজ জাহাঙ্গীর অস্ত্রসহ আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ডে বাহিনী প্রধান মেজ জাহাঙ্গীর অস্ত্রসহ আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানকে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করেছে কোস্টগার্ড পশ্চিমজন। মঙ্গলবার সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এর অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

 

এই অভিযানের ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে চতুর্থ বারের মতো “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” -এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়।

সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত মেজ জাহাঙ্গীর দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের শিবসা নদীর আদাচাই ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন কালীর খাল এলাকায় অবস্থান করছে বলে জানা যায়। প্রাপ্ত গোপন তথ্যের ভিত্তিতে, আজ ১২ মে (মঙ্গলবার) মধ্যরাত ১ টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে ২ টি একনলা বন্দুক ও ৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজসহ আটক করা হয়।

আটককৃত ডাকাত মোঃ জাহিদুল ইসলাম ওরফে মেজ জাহাঙ্গীর (৫৬) নড়াইল জেলার নড়াগাতী থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ এ বাহিনীর প্রধান হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং সাধারণ জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আটককৃত ডাকাতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।

 

Ads small one

দেবহাটায় ২৫ এতিম শিশু পেল খাদ্য, পোশাক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় ২৫ এতিম শিশু পেল খাদ্য, পোশাক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী

দেবহাটা প্রতিনিধি: সীমান্তবর্তী দেবহাটা উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত ২৫ জন এতিম শিশুর মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি। চলতি বছরের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন মাসের খাদ্যসামগ্রী, নতুন জামাকাপড়, জুতা-মোজা ও হাইজিন প্যাক (স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী) পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিশুরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন সংস্থা ‘ইমপ্যাক্ট ইনিশিয়েটিভ’-এর ‘অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রাম’-এর অধীনে এই সহায়তা বিতরণ করা হয়। দেশে মোট ৪০০ এতিম শিশুকে এ প্রকল্পের আওতায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিশুদের হাতে উপহার তুলে দেন সংস্থার অরফ্যান কেয়ার প্রোগ্রামের জুনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মো. সাজিদ আল আহাদ, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মো. শরিফুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু, ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা প্রবীর হ্যাজারী, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডা. অহিদুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
সহায়তা হিসেবে প্রতি শিশুর জন্য ছিল ৩০ কেজি চাল, ৬ কেজি সয়াবিন তেল, ৩ কেজি মসুরের ডাল, ৩ কেজি চিনি, ১.৫ কেজি গুঁড়ো দুধ, ৩ জার হরলিক্স, ৩ প্যাকেট নুডুলস, ১.৫ কেজি বাদাম, ৩ জার বিস্কুট, ৩ বক্স চকলেট ও ৬ কেজি মৌসুমি ফল।
এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেওয়া হয় ৪টি টুথপেস্ট, ৪টি ব্রাশ, ৬টি গায়ে মাখার সাবান, ১২টি কাপড় কাচার সাবান, ৪টি হ্যান্ডওয়াশ, ৪টি বডি লোশন, ৪টি পেট্রোলিয়াম জেলি, চিরুনি ও নেল কাটার। নতুন পোশাক ও জুতা পেয়ে আগামীর দিনগুলোতে আরও ভালোভাবে থাকার স্বপ্ন বুনছে এই শিশুরা।

কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

কলারোয়া প্রতিনিধি: মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হাটবাজারগুলোতে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া বাজার ও সরসকাটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন দিন আগেও ছিল ৩৫ টাকা। অন্যদিকে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০ টাকা।

নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ভ্যানচালক রসুল আমিন ও ক্রেতা মনিরুজ্জামান জানান, আদা, আলুসহ সব পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন ও বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আড়ত এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মৌসুমের প্রভাব কেটে গেলে ও আমদানি স্বাভাবিক হলে বাজার দর পুনারায় কমে আসবে।

 

 

ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম যেন মঙ্গলবার শোকের জনপদে পরিণত হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিকালে বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর কান্নায় পুরো গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।

ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসেন। ছোট্ট এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিত সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাদের ফারজানাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফারজানার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

ফারজানার মৃত্যুতে পুরো নলতা ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় তারা আগে কখনও এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখেননি। ছোট্ট ফারজানার শেষ বিদায়ে মানুষের এই ঢল তার প্রতি সবার ভালোবাসা ও ঘটনার প্রতি গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে কানের স্বর্ণের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত সুমা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান এনামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে স্কুলের সামনের এক ঝালমুড়ির দোকানে যায়। দোকানটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় আমিরুলের স্ত্রী সুমা বেগম। ফারজানার কানের স্বর্ণের দুলের লোভে সুমা তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর আটকে রেখে হত্যা করা হয় এবং মরদেহটি সেখানেই লুকিয়ে রাখা হয়।