স্মৃতির নীরব প্রদর্শনী
জহুরুল হক জুলু
শহরের ধুলোয় ভিজে থাকা এক ফেলে আসা বিকেল
হঠাৎই ফিরে আসে মনের অলিগলিতে
যেন অদেখা কোনো প্রদর্শনী চলছে ভিতরে ভিতরে,
চোখ নয়, স্মৃতিই সেখানে দর্শক।
ঘাসের ডগায় লেগে থাকা আলো
আজও অদ্ভুত নির্ভুলতায় জ্বলে ওঠে,
যেন ভুলের কোনো অধিকার নেই তার,
শুধু সত্যের মতো নীরব দীপ্তি।
কোথাও এক সুর ভেসে আসে-
অচেনা অথচ ভীষণ পরিচিত,
বুকের ভেতর দিয়ে পেরিয়ে
অন্য কারো নিঃশ্বাসে গিয়ে লাগে।
দূরের জমিনে রোদ থমকে থাকে,
দিনের ক্লান্তি গাঢ় হয়ে ওঠে সেখানে,
সময় যেন নিজের ছায়াকে
ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেয়।
নির্জন দুপুরে চাকা ঘোরার শব্দ,
শীতল মিষ্টির স্বাদে ভেজা জিহ্বা,
অথবা টক কোনো স্মৃতি
হঠাৎই জেগে ওঠে অনাহূত।
পাতার পর পাতা উল্টায় মন,
অপ্রকাশিত কিছু কথা খুঁজতে খুঁজতে-
বলতে চেয়েও না বলা শব্দগুলো
নিজের ভেতরেই ঘুরপাক খায়।
অন্ধকার নামলে একধরনের গন্ধ
ঘিরে ধরে চারপাশ,
যেন আলো নিভে গেলে
স্মৃতিরাই জ্বলে ওঠে নিঃশব্দে।
পড়ার আড়ালে লুকিয়ে থাকা গল্পগুলো
এখনো দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না,
চোখে চোখ পড়লে বুঝি—
কিছু কথা আজও বেঁচে আছে।
শৈশবের খেলা শেষ হয় দীর্ঘশ্বাসে,
হালকা বাতাসেও জমে ওঠে ভার,
কোনো এক অদৃশ্য বিশ্বাস
এখনো বুকের কোণে টিকে থাকে।
দুটি পাখি একসাথে উড়লে
মনে হয় সুখের বার্তা আসছে,
প্রথম উচ্চারণেই ভেসে ওঠে প্রার্থনা—
তুমি যেখানেই থাকো, শান্তিতে থেকো।












