মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হার তুলে ধরা হয়। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি দেশের আগের অর্জনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ হাজার ৩১৮ জন চিকিৎসাধীন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের কবলে। দেশের আট বিভাগে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। ১৫ মার্চ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি দেখা গেছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকায়। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী (৩,৭৪৭ জন), চট্টগ্রাম (২,৫১৪ জন) এবং খুলনা বিভাগে (১,৫৬৮ জন) সংক্রমণ তীব্র হচ্ছে।

হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের ৭৯ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নিচে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ২ বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের প্রায় সবাই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া (এক ডোজ)। ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী, যা এই বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতির প্রমাণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। ২০০০ সালে যেখানে টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী কোনো নিয়মিত সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি (এসআইএ) পালিত না হওয়া এ ঝুঁকির পথ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ও মস্তিষ্কে প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Ads small one

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

সরকার গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সেক্রেটারি অ্যান্ডা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ আছে।

এ সময় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীদের গুম, খুন ও হয়রানির বিষয়গুলো তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন অ্যান্ডা ফিলিপ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য শক্তিশালী বলে মনে করেন আইপিইউ সেক্রেটারি। সাক্ষাতে নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা মেসির

অবশেষে সেই ঘোষণা এলো যেটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হচ্ছিল আর্জেন্টিনা ও ফুটবল বিশ্বকে। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানান আর্জেন্টিনার এই মহাতারকা।

ইনস্টাগ্রামে হাতে লেখা নোটের ছবি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি। নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে মেসি লিখেছেন, ‘ফাইনালের পর সময় পেরিয়ে গেছে। অনেক ভেবেচিন্তে সবাইকে জানাতে চাই, আমি আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসর নিচ্ছি।’

‘এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমাকে কষ্ট দিয়েছে—এখনো ভেতর থেকে গভীরভাবে কষ্ট দেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি, সময় এসে গেছে।’

আর্জেন্টিনার হয়ে শুধু শেষ কয়েক বছরে নয়, পুরো ক্যারিয়ারজুড়েই নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেসি, ‘আমি সবসময় আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরে যখন আমরা সবকিছু জিতেছি, তখন নয়; তার আগেও। এই জার্সির জন্য সবসময় লড়েছি, মাঠে সবকিছু দিয়েছি—ফুটবলের মাধ্যমে আপনাদের আনন্দ দিতে এবং আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত করতে।’

মেসির এই ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন এক ব্যক্তিগত অধ্যায়ও। তার বাবা হোর্হে মেসি গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরের একটি হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত লেখার শেষে মেসি একটি বিশেষ নোটও যোগ করেছেন, ‘আমি এই কথাগুলো ২১ জুলাই লিখেছিলাম, ফাইনালের দুই দিন পর। আজ, আমার বাবার সঙ্গে যা ঘটেছে, তার পর আমি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত।’

অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি একদিনে নেওয়া নয়। বিশ্বকাপের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন মেসি। বাবার মৃত্যুর পর সেই সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে নিজের গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরে মেসি লিখেছেন, ‘আমি জাতীয় দলের অংশ হতে ভালোবাসি, ভালোবেসেছি এবং সবসময় ভালোবাসবো। আমি আমার সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু দেওয়ার নেই। তাছাড়া দারুণ কিছু তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে, যারা এখানে থাকার যোগ্য।’

দুই দশক ধরে সমর্থকদের ভালোবাসার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, ‘গত ২০ বছরের সব ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। মাঠ থেকে আপনাদের কণ্ঠ শুনতে আমি ভীষণ মিস করবো। এখন আমি আপনাদেরই একজন হয়ে বাইরে থেকে দলকে সমর্থন করবো—ভালো সময়েও, খারাপ সময়েও; বিশেষ করে খারাপ সময়গুলোতে।’

পরিবার, কোচ, সতীর্থ ও দলের কর্মকর্তাদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাদের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোকে জীবনের ‘অবিস্মরণীয় স্মৃতি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির ক্যারিয়ার শেষ হচ্ছে একেবারে রূপকথার মতো। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জেতান তিনি। এটি ছিল আর্জেন্টিনার ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বকাপ। তার আগে দীর্ঘ ২৮ বছরের শিরোপা-খরা কাটিয়ে ২০২১ কোপা আমেরিকা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে ২০২৪ সালেও কোপা আমেরিকার শিরোপা ধরে রাখে তারা।

তবে সেই সাফল্যের আগে আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির পথচলা ছিল হতাশায় ভরা। ২০১৬ সালে টানা তিনটি ফাইনালে হারের পর একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে ফিরে আসেন এবং শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতান।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসিই সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করা খেলোয়াড়। জাতীয় দলের হয়ে ২০৩ ম্যাচে তার গোল ১২৪টি।

দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল ইতিহাসেও সর্বোচ্চ গোলদাতা পুরুষ খেলোয়াড় তিনি। দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মেসি শুধু রেকর্ডই গড়েননি, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোরও অংশ হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ হাতে তুলে ধরেই পূর্ণতা পেয়েছে তার স্বপ্ন।

দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
দাপুটে জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

নারী এশিয়া কাপে দারুণ জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে নাহিদা আক্তারের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ইন্দোনেশিয়াকে ৭১ রানে হারিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

১৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আক্রমণাত্মক করেছিল ইন্দোনেশিয়া। ওপেনার মারিয়া ও প্যাঙ্গেসতুতির ব্যাটিং কিছুটা শঙ্কাও জাগিয়েছিল বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে।

তবে মারুফা আক্তারের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এরপর মেঘলা, নাহিদা ও ফাহিমাদের দারুণ বোলিংয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১২ রান করেন ওপেনার মারিয়া।

বাংলাদেশের হয়ে সেরা বোলিং করেছেন নাহিদা আক্তার। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৭ দশমিক ৫ ওভারে ৫৮ রানেই গুটিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়ার ইনিংস।

এর আগে দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ইন্দোনেশিয়া। দলীয় ১৬ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ফিরে গেলে জুটি গড়েন দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি।

দুজনের ৪০ রানের জুটি ভাঙে ২৭ রান করা দিলারা ফিরলে। এরপর সোবহানা মোস্তারি দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করে ফেরেন। ৪২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় এই রান করেন তিনি।

শেষ দিকে স্বর্ণা আক্তারের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ১০০ রান পেরোয় বাংলাদেশের স্কোর। ১৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ক্যামিও খেলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।