শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

শুক্রবারে ফার্মেসি বন্ধ, চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে রোগীরা-সাতক্ষীরায় বাড়ছে ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
শুক্রবারে ফার্মেসি বন্ধ, চিকিৎসা নিতে এসে বিপাকে রোগীরা-সাতক্ষীরায় বাড়ছে ভোগান্তি

oplus_0

মিলন বিশ্বাস: প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে সাতক্ষীরায় ভিড় করেন হাজারো রোগী। অথচ প্রয়োজনের সময় ফার্মেসি বন্ধ থাকায় ঔষধ সংগ্রহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, সঙ্গে বৈষম্যমূলক সেবার অভিযোগ-সব মিলিয়ে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রতি শুক্রবার বিভিন্ন ক্লিনিক ও চিকিৎসকদের চেম্বারে রোগী দেখার জন্য ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শতাধিক চিকিৎসক সাতক্ষীরায় আসেন। একই দিনে জেলার সাতটি উপজেলা থেকে প্রায় দুই হাজারেরও বেশি রোগী শহরে ভিড় জমান চিকিৎসা নিতে।
কিন্তু এই দিনেই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের। বিসিডিএস (ইঈউঝ) সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক শুক্রবার পপুলার ফার্মেসি, সাতক্ষীরা ড্রাগ ও জিন্না ফার্মেসি বন্ধ থাকে, আর পরের শুক্রবার বন্ধ থাকে সাতক্ষীরা ফার্মেসি, নাহিদ মেডিকেল ও আলী মেডিকেল। ফলে সীমিত সংখ্যক ফার্মেসিতে কয়েকগুণ বেড়ে যায় রোগীদের চাপ।
এর ফলে সিরিয়াল ধরে ঔষধ কিনতে রোগীদের এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রয়েছে-যেসব রোগী অল্প পরিমাণ ঔষধ কিনতে চান, তাদের প্রেসক্রিপশন নিতে অনীহা দেখায় কিছু ফার্মেসি। বিপরীতে যারা এক সপ্তাহ, পনেরো দিন বা এক মাসের বেশি সময়ের ঔষধ নেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এ অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, জনস্বার্থে প্রতি শুক্রবার সব ফার্মেসি খোলা রাখা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর থেকে আসা রোগী সাধন বিশ্বাস বলেন, ভোরে রওনা হয়ে ডাক্তার দেখানো ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করতে করতে সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এখন ঔষধ কিনতে এসে দেখছি বিশাল ভিড়-কখন ঔষধ পাব, আর কখন বাড়ি ফিরব, সেটাই চিন্তা।
শ্যামনগর উপজেলার গড়কুমারপুর গ্রামের আফজাল শরীফ বলেন, আমার মা দীর্ঘদিন অসুস্থ। চিকিৎসার জন্য প্রায়ই সাতক্ষীরায় আনতে হয়। ভোরে বের হয়ে তিন ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে আসি। তারপর ডাক্তার দেখানো, রিপোর্ট—সব মিলিয়ে দিন শেষ। এরপর ঔষধের দোকানে এসে আবার দীর্ঘ অপেক্ষা। অসুস্থ মা কষ্টে ছটফট করছে, কিন্তু কিছু করার নেই।
এ বিষয়ে বিসিডিএস সাতক্ষীরার ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কর্মচারীদের নির্দিষ্ট শিফট না থাকায় সারাদিন কাজ করতে গিয়ে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাদের বিশ্রামের সুযোগ দিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যসেবায় কোনো অনৈতিকতা বা বৈষম্যের অভিযোগ উঠলে আমরা গুরুত্বসহকারে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এমন ভোগান্তি দ্রুত নিরসনের দাবি এখন সর্বমহলের।

Ads small one

আশাশুনিতে ইঞ্জিনভ্যান থেকে পড়ে গৃহবধূ নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে ইঞ্জিনভ্যান থেকে পড়ে গৃহবধূ নিহত

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ইঞ্জিনভ্যান থেকে পড়ে গিয়ে ফরিদা খাতুন (৫৬) নামের এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আশাশুনি উপজেলাধীন কাদাকাটি-গাবতলা সড়কের বশিরাবাদ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ ফরিদা খাতুন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী।

নিহতের ননদ রিনা আক্তার জানান, ফরিদা খাতুন শুক্রবার বিকালে সাতক্ষীরা শহরে জামাইয়ের বাসা থেকে গ্রামের বাড়ি কাটাখালিতে ফিরছিলেন। কুল্ল্যার মোড়ে বাস থেকে নেমে একটি ইঞ্জিন ভ্যানে চড়ে তিনি বাড়ির পথে রওনা দেন। পথিমধ্যে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আশাশুনি উপজেলাধীন কাদাকাটি-গাবতলা সড়কের বসিরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে তাকে বহনকারি ইঞ্জিন ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

 

এ সময়ে রাস্তায় পড়ে গেলে চলন্ত ভ্যানটি ফরিদা খাতুনের গায়ের উপর দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি মারা যান। আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক মোঃ রশিদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

শিগগিরই স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নতুন করে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন জয়েন্ট সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠান শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নতুনভাবে নিয়োগ করতে যাচ্ছি। প্রক্রিয়া চলছে, ইনশাআল্লাহ কিছুদিনের মধ্যে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ৫শ’ হাসপাতালে ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার নিয়োগ করতে যাচ্ছি। চিকিৎসকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কিছুদিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি বলেন, দেশে টিকার কোনো সংকট নেই। আগামী ৬ মাস পর্যন্ত আমরা টিকা দিয়ে যেতে পারব। তারপরও মজুদের জন্য আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এছাড়া সারাদেশে প্রতিদিন আমরা টিকা দিয়ে যাচ্ছি। যেখানে আগে প্রতি ৪ বছর পরপর ক্যাম্পেইন করা হতো। যেটি ২০২০ সালের পর সরকার আর দেয়নি। কিন্তু আমরা সারাদেশে প্রতিদিন টিকাদান ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছি।

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মূল্যায়ন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া, টিকার ঘাটতি এবং মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান হার তুলে ধরা হয়। বর্তমান সংক্রমণ পরিস্থিতি দেশের আগের অর্জনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে দেশে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ হাজার ১৬১ সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৭৩ জনের। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১২ হাজার ৩১৮ জন চিকিৎসাধীন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯১ শতাংশ জেলা এখন হামের কবলে। দেশের আট বিভাগে সংক্রমণ শনাক্ত হলেও ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত। ১৫ মার্চ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৮ হাজার ২৬৩ জন সন্দেহভাজন রোগী।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি দেখা গেছে ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও বস্তি এলাকায়। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহী (৩,৭৪৭ জন), চট্টগ্রাম (২,৫১৪ জন) এবং খুলনা বিভাগে (১,৫৬৮ জন) সংক্রমণ তীব্র হচ্ছে।

হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। আক্রান্ত শিশুদের ৭৯ শতাংশের বয়স ৫ বছরের নিচে। এর মধ্যে ৬৬ শতাংশের বয়স ২ বছরের কম এবং ৩৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে।

সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মৃত শিশুদের প্রায় সবাই টিকা না পাওয়া অথবা আংশিক টিকা পাওয়া (এক ডোজ)। ৯১ শতাংশ রোগী ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী, যা এই বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ঘাটতির প্রমাণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ২০২৪-২৫ সালে দেশে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। ২০০০ সালে যেখানে টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ২০২০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী কোনো নিয়মিত সম্পূরক হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি (এসআইএ) পালিত না হওয়া এ ঝুঁকির পথ তৈরি করেছে।

এ ছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব ও মস্তিষ্কে প্রদাহের (এনসেফালাইটিস) মতো জটিলতা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।