শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা এড়ানোর ৫ উপায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা এড়ানোর ৫ উপায়

অনলাইন জগতে প্রতারণার কৌশল প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে। কখনও কোনও সরকারি কর্মকর্তা, কখনও নামী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, আবার কখনও বা কাছের কোনও মানুষের পরিচয় দিয়ে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে সাইবার অপরাধীরা। হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা জরুরি অর্থসহায়তার নামে মোটা অঙ্কের টাকা। সাধারণত মানুষের মনে আতঙ্ক বা তাড়াহুড়ো তৈরি করে এই ধরনের প্রতারণাগুলো করা হয়ে থাকে।

ডিজিটাল জালিয়াতির এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মাথায় রেখে নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ। ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে, সন্দেহজনক কার্যকলাপ শনাক্ত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করতে প্ল্যাটফর্মটি নতুন ৫টি অ্যান্টি-স্ক্যাম (প্রতারণাবিরোধী) ফিচার নিয়ে এসেছে।

হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং স্ক্যামারদের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকতে যে বিষয়গুলো ও নতুন ফিচারগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে—

১. অচেনা নম্বরের কল ‘সাইলেন্স’ করা

অপরিচিত নম্বর থেকে আসা স্প্যাম এবং প্রতারণামূলক কল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিল্টার বা স্ক্রিন করার জন্য রয়েছে ‘সাইলেন্স আননোন কলারস’ ফিচার। এই ফিচার চালু থাকলে কন্টাক্ট লিস্টে সেভ না থাকা কোনো নম্বর থেকে কল এলে রিংটোন বাজবে না। তবে কলগুলো অ্যাপের ‘কলস’ ট্যাব এবং নোটিফিকেশনে দেখা যাবে। ফলে ব্যবহারকারীরা আকস্মিক বিরক্তিকর পরিস্থিতি বা ফাঁদ থেকে রক্ষা পাবেন।

২. কনটেক্সট কার্ড

কোনও অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এলে বা গ্রুপে যুক্ত করা হলে চ্যাটের ভেতরেই বাড়তি তথ্য দেখাবে এই ‘কনটেক্সট কার্ড’। যেমন— নম্বরটি কন্টাক্ট লিস্টে সেভ করা আছে কি না, কোনও মিউচুয়াল বা সাধারণ গ্রুপ আছে কি না, অ্যাকাউন্টটি একদম নতুন তৈরি করা কি না, কিংবা এটি অন্য কোনও দেশের নম্বর কি না। এই তথ্যগুলো দেখে ব্যবহারকারী সহজেই বুঝতে পারবেন চ্যাটটি নিরাপদ কি না।

৩. স্ক্রিনশেয়ার সতর্কতা

ভিডিও কলে কথা বলার সময় অনেক স্ক্যামার ব্যবহারকারীকে চাপ দিয়ে ফোনের স্ক্রিন শেয়ার করতে বলে, যাতে পিন, পাসওয়ার্ড বা গোপন তথ্য চুরি করা যায়। এখন থেকে কোনও অপরিচিত নম্বরের সাথে ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় স্ক্রিন শেয়ার করতে গেলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীকে একটি সতর্কবার্তা দেখাবে। এর ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারী আগেভাগেই সচেতন হতে পারবেন।

৪. ডিভাইস লিংকিং অ্যালার্ট

প্রতারকরা অনেক সময় কৌশলে ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি অন্য কোনও ডিভাইসে লিঙ্ক বা যুক্ত করে নেয়। এই জালিয়াতি রুখতে যুক্ত হয়েছে ডিভাইস লিংকিং অ্যালার্ট। কোনও সন্দেহজনক ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট লিঙ্কের অনুরোধ এলে এটি ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে, অনুরোধটি কোথা থেকে আসছে তা দেখাবে এবং চূড়ান্তভাবে লিঙ্ক করার আগে ব্যবহারকারীকে সাবধান করবে।

৫. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট যাচাইকরণ বা টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন

হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর একটি ফিচার হলো টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন। এটি চালু থাকলে অ্যাকাউন্ট রিসেট বা অন্য কোনও ডিভাইসে নতুন করে ভেরিফাই করার সময় একটি নিজস্ব ৬ ডিজিটের পিন নম্বরের প্রয়োজন হয়। ফলে অন্য কেউ চাইলেই সহজে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ বা টেকওভার করতে পারে না।

সচেতনতামূলক বার্তা এবং ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত এই ফিচারগুলোর সমন্বয়ে হোয়াটসঅ্যাপ মূলত একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে চাইছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধের ধরন যেভাবে জটিল হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় এবং তাদের নিজেদের অ্যাকাউন্টের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।

Ads small one

যুব নেতৃত্বে সংগঠন উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
যুব নেতৃত্বে সংগঠন উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবে যুব নেতৃত্বে যুব সংঘের বিকাশের জন্য সংগঠন উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সকাল ৯ টায় সাতক্ষীরা ইয়ূথ হাবে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা সিডো, সাতক্ষীরার বাস্তবায়নে এবং একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় এফরটি প্রকল্পের আওতায় যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন উন্নয়ন বিষয়ক প্রশিক্ষণটিতে স্বাগত বক্তব্য ও উদ্বোধন করেন সিডো সংস্থার প্রধান নির্বাহী শ্যামল কুমার বিশ্বাস।

 

প্রশিক্ষণে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং তালা উপজেলার ধানদিয়া ও নগরঘাটা ইউনিয়নের ১৩টি যুব সংঘ থেকে তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণটি ৩ দিন চলবে।

প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ তহিদুজ্জামান (তহিদ), ইন্সপিরেটর নয়ন হোসেন, প্রোগ্রাম অফিসার চন্দ্র শেখর হালদার, ফাইন্যান্স অফিসার চন্দন কুমার বৈদ্য, এসোসিয়েট ট্রেইনার সাকিব হাসান প্রমুখ।

সাতক্ষীরার মাছখোলায় রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে অর্ধশতাধিক পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার মাছখোলায় রাস্তার অভাবে দুর্ভোগে অর্ধশতাধিক পরিবার, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

সংবাদদাতা: স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাছখোলা পশ্চিম মাঝেরপাড়ার বাসিন্দাদের ভাগ্যে জোটেনি একটি চলাচলের পথ। সামান্য বৃষ্টিতেই কোমর সমান পানি আর কাদা মাড়িয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে অবহেলিত এই এলাকার সাধারণ মানুষকে। যাতায়াতের সুনির্দিষ্ট কোনো রাস্তা না থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় অর্ধশতাধিক পরিবার। এই মানবিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, লতিফ হাজীর মিলের অপর পাশের এই অবহেলিত এলাকায় নির্বাচনের সময় এলেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা পাকা করার বড় বড় আশ্বাস দেন। কিন্তু ভোট শেষ হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতির কথা আর কেউ মনে রাখেন না। বর্তমান বর্ষা মৌসুমে এলাকার চিত্র অত্যন্ত করুণ। কাদা আর জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী এবং বয়োবৃদ্ধরা। হঠাৎ কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো ন্যূনতম কোনো পথও অবশিষ্ট নেই।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, জনস্বার্থে এলাকার প্রতিটি বাসিন্দা রাস্তার জন্য নিজেদের পৈতৃক জমি ছেড়ে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের এই দুর্ভোগ লাঘবে ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান এবং স্থানীয় প্রতিনিধি শাহিনুর রহমান নিজ উদ্যোগে রাস্তাটিতে মাটি কাটার কাজ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এক অনাকাঙ্খিত বাধা ও স্থানীয় কিছু জটিলতার মুখে সেই উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সামান্য কিছু প্রতিবন্ধকতার কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে অর্ধশতাধিক পরিবারের মৌলিক অধিকার।

ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এলাকার সবাই নিজের জমি ছেড়ে দেওয়ার পরেও কেন অর্ধশত মানুষের যাতায়াত বন্ধ থাকবে? আমরা এই অবর্ণনীয় কষ্ট ও দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।” এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াতের কথা বিবেচনা করে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত রাস্তার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

ঐতিহ্যগত উপকরণ আটং বা চাই আশাশুনি থেকে হারাতে বসেছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্যগত উপকরণ আটং বা চাই আশাশুনি থেকে হারাতে বসেছে

আশাশুনি সংবাদদাতা: আর কয়েক দিনের মধ্যে বর্ষা শুরু হবে। এ সময়ে প্লাবিত খাল-বিল, নদ-নদী, পুকুর-জলাশয়গুলো পানিতে ভরে উঠবে। সেই পানি উজান দেওয়ার সময় খাল বিলগুলোতে মাছ-ভাতের বাঙালিরা মেতে উঠে মাছ শিকারে। মাছ শিকারের উপকরণ হিসেবে এদেশে হাজার বছর ধরে হরেক রকমের জাল, পলো, বড়শা, বড়শি, ফালা, ফাঁদসহ নানান কৌশল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব উপকরণের সাথে লোকজ বাঙ্গালি জীবনে মাছ ধরার ‘চাই’ ‘আঠং’এখনো জনপ্রিয়। এটি বাঁশের তৈরি মাছ ধরার এক ধরণের ফাঁদ।আর এই ‘চাই’ বা আটং জন্য বিখ্যাত আশাশুনির বুধহাটা ও বড়দল হাট।

 

আশাশুনি অঞ্চলের তৈরি ‘চাই’ বা আটং ও বেশ জনপ্রিয় এবং শৈল্পিক। তবে বর্তমান সময়ে এই ঐতিহ্যগত উপকরণটি আশাশুনির হাতে গোণা কয়েকটি জায়গায় ও পরিবার তৈরি হয় মাত্র। কালের বিবর্তনে ঘর গেরস্তের মাছ শিকার ও উপার্জনের এই বস্তুটি বলা যায় জাদুঘরে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনির বুধহাটা, বড়দল, কাদাকাটি, কচুয়া, পরোহিতপুর, খজরা, দরগাপুর খরিয়াটি, প্রতাপনগর অঞ্চলে এখনো তৈরি করা হয় মাছ ধরার ‘চাই’ বা আটং।

 

এসব অঞ্চলের কৃষি ও মৎসজীবীদের অনেকেই বংশ পরম্পরার এই সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন। মৌসুমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের হাট-বাজারে বিক্রি করা হয় ‘চাই’। আশাশুনির বুধহাটা হাটে আটং বা ‘চাই’ বিক্রি করতে আসা শুকদেব দাস বলেন, আমার বাড়ি কালিবাড়ী। সংসারের অন্য কাজ কর্মের ফাঁকে অবসরে আমি বাঁশের কাজ করি। কুলা, চালন, চাই, আটং ডুলাসহ নানা জিনিসপত্র আমি বানাতে পারি। চাই’য়ের মধ্যে কয়েক ধরণের স্টাইল আছে। বিভিন্ন নামের বা বিভিন্ন ধরনের।

 

কোনটার নাম ঘরচাই (এটা দেখতে ঘরের কামড়ার মত চতুস্কোণ আকার)। একটা চাই বানাতে সপ্তাহ খানেক লাগে। তবে সময় দিলে তিনচারদিনের মধ্যেও বানানো যায়। মাছের সাইজ ছোট মাঝারি বা বড় বিবেচনা করে একেক স্টাইলের চাই বানানো হয়। একটা চাইয়ের দাম ৫০০ টাকা/৭০০ টাকার মধ্যে। বাঁশের দাম বেশি। এখন আগের মত চাই কেনার লোক নেই।

 

জানা গেছে, আশাশুনি এলাকায় বর্ষার শুরুতে, ঘেরে বা বিলের ব্যবহার করার জন্য মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ বিক্রির মৌসুম শুরু হয়। কারণ পানি কমার সঙ্গে-সঙ্গে নি¤œাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করে। ওই সময় চাই গুলো পানি প্রবাহের মুখ- যেমন জমির আল, খানা-খন্দের পাড় কেটে তৈরি করা পানির রাস্তায় বা ঘেরের নালায় বিশেষ কাদায় পুঁতে রাখতে হয়। তখন পুঁতে রাখা চাইয়ে ছোট, মাঝারি বিভিন্ন আকারের মাছ আটকে যায়। ৩ ঘন্টা থেকে ৫ ঘন্টা পর চাই পর্যবেক্ষণ করতে হয়।