শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঐতিহ্যগত উপকরণ আটং বা চাই আশাশুনি থেকে হারাতে বসেছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্যগত উপকরণ আটং বা চাই আশাশুনি থেকে হারাতে বসেছে

আশাশুনি সংবাদদাতা: আর কয়েক দিনের মধ্যে বর্ষা শুরু হবে। এ সময়ে প্লাবিত খাল-বিল, নদ-নদী, পুকুর-জলাশয়গুলো পানিতে ভরে উঠবে। সেই পানি উজান দেওয়ার সময় খাল বিলগুলোতে মাছ-ভাতের বাঙালিরা মেতে উঠে মাছ শিকারে। মাছ শিকারের উপকরণ হিসেবে এদেশে হাজার বছর ধরে হরেক রকমের জাল, পলো, বড়শা, বড়শি, ফালা, ফাঁদসহ নানান কৌশল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এসব উপকরণের সাথে লোকজ বাঙ্গালি জীবনে মাছ ধরার ‘চাই’ ‘আঠং’এখনো জনপ্রিয়। এটি বাঁশের তৈরি মাছ ধরার এক ধরণের ফাঁদ।আর এই ‘চাই’ বা আটং জন্য বিখ্যাত আশাশুনির বুধহাটা ও বড়দল হাট।

 

আশাশুনি অঞ্চলের তৈরি ‘চাই’ বা আটং ও বেশ জনপ্রিয় এবং শৈল্পিক। তবে বর্তমান সময়ে এই ঐতিহ্যগত উপকরণটি আশাশুনির হাতে গোণা কয়েকটি জায়গায় ও পরিবার তৈরি হয় মাত্র। কালের বিবর্তনে ঘর গেরস্তের মাছ শিকার ও উপার্জনের এই বস্তুটি বলা যায় জাদুঘরে চলে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনির বুধহাটা, বড়দল, কাদাকাটি, কচুয়া, পরোহিতপুর, খজরা, দরগাপুর খরিয়াটি, প্রতাপনগর অঞ্চলে এখনো তৈরি করা হয় মাছ ধরার ‘চাই’ বা আটং।

 

এসব অঞ্চলের কৃষি ও মৎসজীবীদের অনেকেই বংশ পরম্পরার এই সংস্কৃতি ধরে রেখেছেন। মৌসুমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের হাট-বাজারে বিক্রি করা হয় ‘চাই’। আশাশুনির বুধহাটা হাটে আটং বা ‘চাই’ বিক্রি করতে আসা শুকদেব দাস বলেন, আমার বাড়ি কালিবাড়ী। সংসারের অন্য কাজ কর্মের ফাঁকে অবসরে আমি বাঁশের কাজ করি। কুলা, চালন, চাই, আটং ডুলাসহ নানা জিনিসপত্র আমি বানাতে পারি। চাই’য়ের মধ্যে কয়েক ধরণের স্টাইল আছে। বিভিন্ন নামের বা বিভিন্ন ধরনের।

 

কোনটার নাম ঘরচাই (এটা দেখতে ঘরের কামড়ার মত চতুস্কোণ আকার)। একটা চাই বানাতে সপ্তাহ খানেক লাগে। তবে সময় দিলে তিনচারদিনের মধ্যেও বানানো যায়। মাছের সাইজ ছোট মাঝারি বা বড় বিবেচনা করে একেক স্টাইলের চাই বানানো হয়। একটা চাইয়ের দাম ৫০০ টাকা/৭০০ টাকার মধ্যে। বাঁশের দাম বেশি। এখন আগের মত চাই কেনার লোক নেই।

 

জানা গেছে, আশাশুনি এলাকায় বর্ষার শুরুতে, ঘেরে বা বিলের ব্যবহার করার জন্য মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ বিক্রির মৌসুম শুরু হয়। কারণ পানি কমার সঙ্গে-সঙ্গে নি¤œাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করে। ওই সময় চাই গুলো পানি প্রবাহের মুখ- যেমন জমির আল, খানা-খন্দের পাড় কেটে তৈরি করা পানির রাস্তায় বা ঘেরের নালায় বিশেষ কাদায় পুঁতে রাখতে হয়। তখন পুঁতে রাখা চাইয়ে ছোট, মাঝারি বিভিন্ন আকারের মাছ আটকে যায়। ৩ ঘন্টা থেকে ৫ ঘন্টা পর চাই পর্যবেক্ষণ করতে হয়।

Ads small one

শেষ বেঞ্চের ছেলেটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
শেষ বেঞ্চের ছেলেটা

 

তারিক মোহাম্মদ ত্বকী
রাফি ক্লাস এইটে পড়ে। ওর সবচেয়ে বড় ভয় হলো সবার সামনে কথা বলা।
স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রতিটা ক্লাস থেকে একটা করে কবিতা আবৃত্তি করতে হবে। স্যার রাফির নাম ডেকে বললেন, “তুমি করবা।”
রাফির বুকের ভিতর ধড়াস করে উঠলো। ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেলো। ক্লাসের সবাই হাসাহাসি শুরু করলো। শেষ বেঞ্চের রাফি, ও আবার কবিতা বলবে!
বাসায় এসে রাফি আয়নার সামনে দাঁড়ালো। মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। আব্বু পাশে এসে দাঁড়ালেন। আব্বু কিছু বললেন না। শুধু রাফির কাঁধে হাত রাখলেন।
পরদিন থেকে রাফি ছাদে গিয়ে কবিতা বলা শুরু করলো। প্রথম দিন গাছের সাথে। দ্বিতীয় দিন পাখির সাথে। তৃতীয় দিন আব্বুর সামনে। আব্বু শুধু হাসলেন।
অনুষ্ঠানের দিন এলো। রাফির সিরিয়াল সবার শেষে। স্টেজে উঠে রাফি দেখলো, পুরা হল ভরা মানুষ। ওর গলা শুকিয়ে কাঠ। মনে পড়লো লেখক তারিক মোহাম্মদ ত্বকীর কথা, “ভয় পেলে পিছিয়ে যাবি, ভয় না পেলে এগিয়ে যাবি।
রাফি একবার চোখ বন্ধ করলো। তারপর চোখ খুলে কবিতা শুরু করলো।
প্রথম দুই লাইন তোতলালো। তিন নাম্বার লাইনে গিয়ে গলা পরিষ্কার হলো। শেষ লাইন শেষ হতেই পুরা হল তালিতে ফেটে পড়লো।
স্যার স্টেজে এসে রাফির মাথায় হাত রাখলেন। বললেন, শেষ বেঞ্চের ছেলেরাই একদিন সামনের বেঞ্চে বসে ইতিহাস গড়ে।
সেদিন রাফি বুঝলো, ভয়টা আসলে কিছুই না। ভয়টা শুধু মনের ভিতর। তাকে জয় করলেই মানুষ যোদ্ধা হয়।

‘প্রকৃত হাসি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
‘প্রকৃত হাসি’

 

শহীদুল্লা হক ভূইয়া
হাসি হাসি হাসি
মিষ্টি হাসি রাশি রাশি
তার শুবাস বড় ভালবাসি।

কে যেন ভাই বলে
দুঃখ ঘটে হাসির ছলে
সুখী জীবন নিরবতায় মিলে।

আমি বলি বার বার
হাসি ছাড়া নয় কিছু আর
চির শান্তি আছে সেই হাসিতে আবার।

জ্ঞানী গুনী জন হাসিতে দিয়া মন
অন্তরালে হাসি হাসে সারাক্ষন
সেই হাসি স্বার্থক এই মোদের পণ।

আমার কেবলি মনে হয়
প্রকাশ্যে হাসি ফেটে রয়
নির্জনে দুঃখের পরিচয়।

গ্রীষ্মের উপহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
গ্রীষ্মের উপহার

আসাদুজ্জামান খান মুকুল
গ্রীষ্মজুড়ে রোদ্দুর যখন
ধরার নামায় খরা,
ফলের ঘ্রাণে মনটা জুড়ায়
স্নিগ্ধ মায়া ভরা।

পাকা আমের মিষ্টি হাসি
শোভে গাছে গাছে,
রসে-গন্ধে ভরা সে আম
জিভ খুশিতে নাচে।

জাম-জামরুলের শীতল রসে
শান্তি নামে বুকে,
গরম দিনে তার ছোঁয়াতে
রাখে কত সুখে।

পাকা লিচুর টক-মিষ্টি স্বাদ
তৃপ্তি আনে প্রাণে,
তরমুজে রয় জলের ধারা
সবাই তারে টানে।