সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ দখলের দাবি ইসরায়েলের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
৯০০ বছরের পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ দখলের দাবি ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিউফোর্ট দুর্গ (বিউফোর্ট ক্যাসেল) দখলের দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ঘটনাকে হিজবুল্লাহবিরোধী অভিযানে ‘সিদ্ধান্তমূলক পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের স্থল সেনারা এখন লিতানি নদীকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত আগের সীমারেখার আরও গভীরে প্রবেশ করছে। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তৃত এলাকায় নতুন করে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলের এই সামরিক তৎপরতার সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেছেন, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও অবকাঠামো ধ্বংসের কারণ হচ্ছে এবং এর অবসান হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহকেও ইসরায়েলের ওপর হামলা বন্ধ করে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ ও ‘ভূমি পুড়িয়ে দেওয়ার নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তুলেছেন।

ফ্রান্স এ পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক চেয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে চলমান বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং দ্রুত অস্ত্রের নীরবতা প্রয়োজন। জার্মানিও ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

প্রায় ৯০০ বছর আগে ক্রুসেডারদের নির্মিত বিউফোর্ট দুর্গ লিতানি উপত্যকার ওপর অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান। ১৯৮২ সালে প্রথম লেবানন যুদ্ধে ইসরায়েল এটি দখল করেছিল। পরে ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় দুর্গটি ছেড়ে দেয়।

দুর্গটি পুনর্দখলের পর নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল এখন ‘ভয়ের বাধা ভেঙে’ উদ্যোগী ভূমিকা নিচ্ছে এবং হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।

ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ার জবাবে তারা অভিযান জোরদার করেছে। তবে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের ২৫ জন সেনা নিহত হয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

Ads small one

বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): যশোরের বেনাপোল সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে পুশইনেরর চেষ্টা। বিজিবি বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। ভারতীয় বিএসএফ বেশ কিছু বাংলাদেশিকে পুশব্যাকের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় কড়া নজর দারীতে রয়েছে বিজিবি।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটলিয়নের অধিনায়ক গোলম মোহাম্মদ সাইফুল আলস খান নিশ্চিত করে জানান, বেনাপোল সাদিপুর খড়েরমাঠ এলাকা  ২১/৬ নং পিলারের কাছ দিয় ভারতীয় বিএসএফ বেশকিছু নগরিককে পুশব্যাকের চেষ্টা করলে জিরো লাইন এলাকায় রুখে দিয়েছে বিজিবি।
স্থানীয়রা জানান সোমবার গভীর রাতে ৮/১০ জনের মত একদল নাগরিককে বাংলাদেশের দিকে টেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। প্রবেশে বাধা দেয় বিজিবি। রাত থেকে জিরো লাইনে অবস্থান করছেন তারা।
বিজিবি কর্পকর্তারা জানান, সকাল দশটার দিকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সুরাহের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান বিজিবি কর্মকর্তা।

প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ণ
প্রাকৃতিক চাকের মধু বিক্রি করে মৌয়াল বারিকের জীবন জীবিকা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): পাইকগাছার মৌয়াল বারিক স্থানীয় গাছ ও বাসা-বাড়ি থেকে মৌমাছির চাক কেটে সরাসরি ক্রেতার সামনে মধু বিক্রি করেন। এটি খাঁটি মধু পাওয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপায়। প্রাকৃতিক মৌমাছির চাক থেকে মধু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মৌয়াল আব্দুল বারিক। এলাকায় তিনি মধু বারিক নামে পরিচিত।

 

সবাই খাটি ভালো মধু চায়। ভেজাল মুক্ত মধু পেতে ক্রেতার বিড়ম্বানার শেষ নেই। তাই ভেজাল মুক্ত খাটি মধু পেতে সবাই বারিকের উপর আস্থা রেখেছে। বারিক চাক কেটে বাগানে বসে ক্রেতাকে মধু দিচ্ছে। কেহ চাইলে চাক সহ মধু নিতে পারে। তাই খাটি মধু পেতে বারিকের উপর ভরসা।

 

খুলনা জেলার পাইকগাছার মটবাটি গ্রামে আব্দুল বারিকের বাড়ি। তিনি এলাকার বিভিন্ন গাছ বা বাসা বাড়িতে মৌমাছির চাক কেটে মধু সংগ্রহ করেন। সেই মধু বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেন তাই দিয়েই চলে তার সংসার। মধু আহরণের পাশাপাশি সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করেন।

 

গ্রামের কোথাও মৌচাকের সন্ধান পেলেই মৌয়াল বারিককে ডাকা হয়। অত্যন্ত যত্নসহকারে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন। বারিক মৌচাক থেকে কীভাবে মধু সংগ্রহ করেতে হয় তার কৌশল আয়ত্ত করেছেন । মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহের পেশাদার মৌয়াল হয়ে ওঠেছেন তিনি। কয়েক বছর সুন্দরবনের মধু আহরণে মৌয়ালদের সাথে মধু আহরণ করেছেন। সুন্দরবনের পার্শবর্তি উপকূল এলাকায় বড় বা দাশ মৌমাছির চাক বেশী পাওয়া যায়।

 

মৌয়াল বারিক বলেন, আমি প্রায় ২০ -২৫ বছর যাবৎ মৌমাছির চাক থেকে মধু সংগ্রহ করি। মৌচাক কেটে মালিকদের অর্ধেক আমি অর্ধেক নিয়ে থাকি। মৌমাছির চাকের প্রতি কেজি মধু এক হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা দরে বিক্রি করি। চাক থেকে মধু সংগ্রহের আগে কয়েকটি ধাপ রয়েছে। শুরুতে মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীরা বেশ কিছু খড় জড়ো করে শুকনা কাচা পাতা পেচিয়ে মশালের মতন তৈরি করা হয়। একে কোনো কোনো এলাকায় বোলেন বা বুন্দা বলা হয়। এ মশাল জ্বালিয়ে ধোয়া তৈরি করে মূলত মৌমাছি তাড়ানো হয়। আগুনে সৃষ্ট ধোঁয়া একেবারে কাছাকাছিতে নিয়ে গেলে মৌমাছিগুলো চাক ছেড়ে আশপাশে উড়তে থাকে। এ সময় চাকের কিছু অংশ রেখে মৌয়াল দা বা কাঁচি দিয়ে চাক কেটে বালতিতে রাখেন। এরপর সে চাক থেকে মধু হাত দিয়ে চিপে আলাদা করা হয়। চাক কাটা হয়ে গেলে কিছুক্ষণ পর মৌমাছি আবার চাক বানাতে তৈরি শুরু করে ।

 

মৌয়াল বারিক আরও জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার গ্রামে-গ্রামে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে হয়। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণ ও তাপমাত্রা বেশী হওয়ায় চাকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতিরিক্ত তাপে অনেক চাক নষ্ট হয়ে ছিড়ে পড়ছে। তাছাড়া এ বছর এই অঞ্চলে সে রকম বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টি না হওয়ায় ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, তাই মধু জমে কম। বর্তমানে পর্যাপ্ত মৌচাক না পাওয়ার কারণে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফাল্গুন মাস থেকে আষাড় মাস পর্যন্ত চাকে মধু বেশী পাওয়া যায়। এসময় প্রায় সকল গাছে ফুল ফোটে। আর বাকী মাস গুলোতে চাকে তেমন মধু পাওয়া যায় না।

 

আব্দুল বারিক পাইকগাছা এলাকার একজন সুপরিচিত পেশাদার মৌচাক সংগ্রহকারী। তিনি এলাকার বিভিন্ন বাড়ি বা গাছের প্রাকৃতিক চাক থেকে সরাসরি মধু সংগ্রহ করেন। তিনি কোনো ভেজাল বা কৃত্রিম উপাদান ছাড়াই ক্রেতাদের সামনে সরাসরি চাক থেকে মধু চিপে বা কেটে বিক্রি করেন, যার ফলে মধু শতভাগ খাঁটি থাকে।

ঈদের ছুটি শেষে ভোমরা স্থলবন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
ঈদের ছুটি শেষে ভোমরা স্থলবন্দরে শুরু হয়েছে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম
ইব্রাহিম খলিল : পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকে বন্দরের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু হয়। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল, পণ্য খালাস ও লোড-আনলোড কার্যক্রম আবারও স্বাভাবিক হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষে গত ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে এ সময়ে ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছুটি শেষে সোমবার সকাল থেকে বন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ভোমরা সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা বলেন, ঈদের ছুটি শেষে সোমবার সকাল থেকে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি গতিশীল হয়ে উঠবে।