রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনির্বাণ নজরুল: ইতিহাসের অলংকার নয়, এক জ্বলন্ত মশাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
অনির্বাণ নজরুল: ইতিহাসের অলংকার নয়, এক জ্বলন্ত মশাল

নজরুলবর্ষে-

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এবং প্রমিলা দেবীর বিয়ে ও তাদের দাম্পত্য জীবনের শুরুর অধ্যায়টি ছিল একাধারে এক সাহসী প্রেমের আখ্যান এবং তৎকালীন সমাজবাস্তবতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। ১৯২৪ সালের এপ্রিল মাসে কুমিল্লায় তাদের বিয়ের পর নজরুল যখন প্রমিলা দেবীকে নিয়ে কলকাতায় সংসার পাতার সিদ্ধান্ত নেন, তখন এক চরম সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই দম্পতিকে। তৎকালীন কলকাতার রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় এক মুসলিম যুবক ও এক হিন্দু তরুণীর পরিণয়কে সহজভাবে গ্রহণ করার মতো উদারতা খুব একটা ছিল না। ফলে কলকাতায় একটি উপযুক্ত মাথা গোঁজার ঠাঁই বা বাসা খোঁজার ক্ষেত্রে তাদের যে ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তা ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়।
সাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও বাসা খোঁজার বিড়ম্বনা

কলকাতায় এসে নজরুল ও প্রমিলা দেবী প্রথম যে সংকটে পড়েন, তা হলো বাড়িওয়ালাদের চরম সাম্প্রদায়িক গোঁড়ামি ও কুসংস্কার। কবি হিসেবে নজরুল তখন যথেষ্ট পরিচিত এবং জনপ্রিয়, কিন্তু যখনই কোনো বাড়িওয়ালা জানতে পারতেন যে ভাড়াটিয়া একজন মুসলমান এবং তার স্ত্রী হিন্দু পরিবারের মেয়ে, তখনই তারা বাসা ভাড়া দিতে সোজা অস্বীকৃতি জানাতেন। হিন্দু প্রধান এলাকার বাড়িওয়ালারা একজন মুসলমান যুবককে ঘর ভাড়া দিতে রাজি ছিলেন না। অন্যদিকে, মুসলিম প্রধান এলাকার রক্ষণশীল সমাজও একজন হিন্দু রমণীকে ঘরের বউ হিসেবে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে চরম অনুদারতা দেখাত। প্রমিলা দেবীর মা গিরিবালা দেবীও এই বিয়ের পক্ষে থাকায় নিজের আত্মীয়স্বজন ও সমাজ কর্তৃক চরমভাবে লাঞ্ছিত ও বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।

 

কলকাতায় এসে এই তিনজনের ছোট পরিবারটি যখনই কোনো বাড়ির খোঁজ পেত, সমাজের তথাকথিত ‘জাত’ যাওয়ার ভয়ে বাড়িওয়ালারা দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিতেন। নজরুল তখন বাংলার বুকে সাম্যের গান গাইছেন, কিন্তু কলকাতার বুকে নিজের স্ত্রীর মাথা গোঁজার একটুখানি ঠাঁই মেলাতে তাকে লড়তে হচ্ছিল সমাজের অদৃশ্য এক সাম্প্রদায়িক দেয়ালের বিরুদ্ধে।”
হুগলি ও কৃষ্ণনগরে নির্বাসন

কলকাতার এই তীব্র বিড়ম্বনা, অপমান ও আবাসন সংকটের কারণেই নজরুল শেষ পর্যন্ত কলকাতায় স্থায়ী হতে না পেরে শহর ছাড়তে বাধ্য হন। কলকাতার দমবন্ধ করা পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে এবং প্রমিলা দেবীর শান্তিতে বসবাসের জন্য তিনি বেছে নেন কলকাতার বাইরের মফস্বল শহরগুলোকে। কলকাতা থেকে দূরে হুগলিতে গিয়ে তারা একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানেও দারিদ্র্য এবং সামাজিক কানাঘুষা তাদের পিছু ছাড়েনি, তবে কলকাতার সেই প্রকাশ্য বিড়ম্বনার চেয়ে তা ছিল কিছুটা সহনীয়। পরবর্তীতে তারা নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের এক চুনকাম-খসে-পড়া সস্তা বাড়িতে আশ্রয় নেন। এই কৃষ্ণনগরেই নজরুল তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা কিছু কবিতা ও গান রচনা করেছিলেন, যা ছিল মূলত এই সামাজিক বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এক একটি অগ্নিস্ফূলিঙ্গ। নজরুল ও প্রমিলার এই বিড়ম্বনা কেবল একটি বাসা না পাওয়ার গল্প ছিল না; এটি ছিল মূলত তৎকালীন বাঙালি সমাজের তীব্র সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার এক জীবন্ত দলিল। যে কবি সারাজীবন হিন্দু-মুসলমানের মিলন চেয়েছেন, “মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান” লিখেছেন তাঁকে নিজের ব্যক্তিগত জীবনেই প্রথম ঘর বাঁধার সময় এই সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের সবচেয়ে বড় আঘাতটি সইতে হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত সামাজিক ও আবাসন বিড়ম্বনাকে তুচ্ছ করে প্রমিলা দেবী আমৃত্যু নজরুলের পাশে থেকে তাঁর সৃষ্টিশীলতার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে ছিলেন। নজরুল যখন কলকাতায় প্রমীলাকে নিয়ে বাসা পাচ্ছিলেন না হিন্দু-মুসলমান দম্পতি বলে তখনই তাঁর কলম থেকে বের হয়েছিল এই আগুন। তিনি তাঁর সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থেও মানুষ কবিতায় লিখেছিলেনÑ

গাহি সাম্যের গান
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান,
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।…

কবি দেখিয়ে দিলেন- মসজিদের মোল্লা মন্দিরের পুরহিত দুজনেই ভুখা মানুষকে তাড়িয়ে দেয়। অথচ দুজনেই দাবি করে তারা “খোদা/ভগবানের ঘর” পাহারা দিচ্ছে। নজরুল লিখেছেন, “খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা ? সব দ্বার খোলা রবে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা।” আর প্রথম লাইন ছিল “গাহি সাম্যের গান, মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান”।

কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর চার সন্তানের নামকরণে শুধু স্নেহ নয়, তাঁর সাহিত্যিক মনন, আধ্যাত্মিক ভাবনা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চেতনারও প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি এমন নাম বেছে নিয়েছিলেন, যেখানে আরবি-ফারসি ও সংস্কৃত দুই ধারার শব্দের অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়।

চার ছেলের নাম ও তার প্রেক্ষাপট সংক্ষেপে : কৃষ্ণ মুহাম্মদ: (জন্মের কিছুদিন পরই মারা যায়) “কৃষ্ণ” হিন্দুধর্মের অন্যতম প্রধান দেবতার নাম। “মুহাম্মদ” ইসলাম ধর্মের মহানবীর নাম। এই দুটি নাম একত্রে রেখে নজরুল বোঝাতে চেয়েছিলেন ধর্ম মানুষের বিভেদের নয়, মিলনের প্রতীক। তাঁর অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য প্রকাশ এটি। অরিন্দম খালেদ (বুলবুল) (১৯২৬-১৯৩০)“অরিন্দম” একটি সংস্কৃত শব্দ, অর্থ শত্রুবিজয়ী। “খালেদ” আরবি শব্দ, অর্থ চিরস্থায়ী বা অমর। পরিবারের সবার কাছে তিনি “বুলবুল” নামেই পরিচিত ছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সে গুটিবসন্ত-এ তাঁর মৃত্যু নজরুলের জীবনে গভীর শোক নিয়ে আসে। পরে সেই স্মৃতিতে কবি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ বুলবুল-এর নামকরণ করেন।

 

কাজী সব্যসাচী: “সব্যসাচী” শব্দটি মহাভারত-এ অর্জুন-এর একটি উপাধি; অর্থ যিনি দুই হাতেই সমান দক্ষ। নজরুল আশা করেছিলেন, তাঁর ছেলে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হবে। পরবর্তীকালে কাজী সব্যসাচী একজন খ্যাতিমান আবৃত্তিশিল্পী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। কাজী অনিরুদ্ধ: “অনিরুদ্ধ” সংস্কৃত শব্দ; অর্থ অপ্রতিরোধ্য, যাকে রোধ করা যায় না।হিন্দু পুরাণে অনিরুদ্ধ শ্রীকৃষ্ণ-এর পৌত্র। এই নামেও নজরুল শক্তি, অগ্রযাত্রা ও উদার সাংস্কৃতিক চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

 

নজরুলের সন্তানদের নাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, তিনি কেবল কবিতায় নয়, নিজের পারিবারিক জীবনেও ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাঁর কাছে মানুষের পরিচয় ছিল মানবতা; ধর্ম ছিল ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের মিলনক্ষেত্র। তাই তাঁর সন্তানদের নাম আজও বাংলা সংস্কৃতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য প্রতীক হিসেবে স্মরণ করা হয়। লেখক : সাবেক ব্যাংকার, গবেষক।

 

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।