সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য জ্ঞানের আলোকবর্তিকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস: মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য জ্ঞানের আলোকবর্তিকা

সাকিবুর রহমান বাবলা

একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বে উন্নয়ন, মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই সমৃদ্ধির কথা বলা হলেও বাস্তবতা হলোÑএখনও কোটি কোটি মানুষ পড়তে, লিখতে কিংবা দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় তথ্য বুঝতে সক্ষম নন। প্রযুক্তির অভূতপূর্ব অগ্রগতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং ডিজিটাল অর্থনীতির যুগেও সাক্ষরতা মানবজাতির অন্যতম মৌলিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ১৯৬৬ সালে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে এবং ১৯৬৭ সাল থেকে দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য কেবল মানুষকে অক্ষরজ্ঞান দেওয়া নয়; বরং সাক্ষরতাকে মানবমুক্তি, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং উন্নয়নের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। কারণ সাক্ষরতা এমন একটি ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে ব্যক্তি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়, তথ্য বিশ্লেষণ করতে শেখে, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ায় এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।

এ বছর আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’। দিবসটির ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই প্রতিপাদ্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। কারণ আজকের বিশ্বে সাক্ষরতা শুধু ব্যক্তি উন্নয়নের বিষয় নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই জীবনযাপন, পরিবেশ সংরক্ষণ, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

বিশ্বব্যাপী সাক্ষরতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হলেও চ্যালেঞ্জ এখনও বিশাল। ইউনেস্কোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালেও প্রায় ৭৩ কোটি ৯০ লাখ যুবক-যুবতী ও প্রাপ্তবয়স্ক মৌলিক সাক্ষরতা দক্ষতা থেকে বঞ্চিত। একই সঙ্গে প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় ৪ জন ন্যূনতম পাঠদক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি ২০ লাখ শিশু ও কিশোর-কিশোরী বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল। এসব পরিসংখ্যান শুধু শিক্ষা খাতের দুর্বলতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে সাক্ষরতার বৈষম্য এখনও উদ্বেগজনক। দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার বহু দেশে প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষরতার হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় কম। অন্যদিকে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো প্রায় শতভাগ সাক্ষরতার মাধ্যমে দেখিয়েছে যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ কীভাবে একটি জাতিকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজে রূপান্তর করতে পারে। বিপরীতে নাইজার, চাদ ও মালির মতো দেশগুলো এখনও দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং শিক্ষার সীমিত সুযোগের কারণে পিছিয়ে রয়েছে।

সাক্ষরতার প্রশ্নে লিঙ্গ বৈষম্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশ্বব্যাপী নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর বড় অংশই নারী। অনেক দেশে দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, সামাজিক কুসংস্কার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সীমিত প্রবেশাধিকার মেয়েদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সাক্ষরতার উন্নয়নকে কেবল শিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং নারী ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আন্দোলন হিসেবেও দেখতে হবে।

বর্তমান সময়ে সাক্ষরতার সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে। একসময় সাক্ষরতা বলতে শুধু পড়া ও লেখা বোঝানো হলেও এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল সাক্ষরতা, তথ্য সাক্ষরতা, গণমাধ্যম সাক্ষরতা এবং আর্থিক সাক্ষরতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন লেনদেন, ডিজিটাল সেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির যুগে তথ্য যাচাই, ভুয়া খবর শনাক্তকরণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহারও সাক্ষরতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তাই নতুন প্রজন্মকে শুধু বিদ্যালয়মুখী শিক্ষা নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাক্ষরতা অর্জনের যাত্রা আশাব্যঞ্জক হলেও এখনও অনেক পথ বাকি। স্বাধীনতার পর দেশের সাক্ষরতার হার ছিল অত্যন্ত নি¤œ। ধারাবাহিক সরকারি উদ্যোগ, প্রাথমিক শিক্ষার সম্প্রসারণ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে সাক্ষরতার হার প্রায় ৭৮ থেকে ৭৯ শতাংশের মধ্যে পৌঁছেছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় অর্জন। তবে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য, নারীদের তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা, চর, হাওড়, পাহাড়ি অঞ্চল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষাবঞ্চনা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

বাংলাদেশে ব্র্যাক, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইভাবে ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাপী সাক্ষরতা উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখছে। ডিজিটাল শিক্ষা, মোবাইলভিত্তিক শেখার ব্যবস্থা, অনলাইন লাইব্রেরি এবং বিকল্প শিক্ষার সুযোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। তবে প্রযুক্তির সুবিধা যাতে কেবল শহর বা সচ্ছল জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি আমাদের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে শিক্ষাকে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান। কারণ সাক্ষর মানুষ শুধু নিজের জীবনই বদলায় না, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকেও এগিয়ে নিয়ে যায়। জলবায়ু সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সামাজিক বিভাজন এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের এই সময়ে সাক্ষরতা হচ্ছে সেই শক্তি, যা মানুষকে সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে, পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং একটি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করে।

সুতরাং আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের মূল বার্তা হওয়া উচিতÑকোনো মানুষ যেন জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত না থাকে। শিক্ষা ও সাক্ষরতায় বিনিয়োগকে ব্যয় নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে লাভজনক সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। কারণ একটি সাক্ষর জনগোষ্ঠীই পারে বৈষম্য কমাতে, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য একটি আরও সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে।

 

Ads small one

পথের বিরোধে যুবককে মারধরের অভিযোগ থানায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
পথের বিরোধে যুবককে মারধরের অভিযোগ থানায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তা দখল ও জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক যুবককে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়নের একটি চায়ের দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ ফিংড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোছা. জাহানারা খাতুনের (৬০) সঙ্গে তার দেওর মো. গোলাম রসুল গাজী (৫০) ও ভাতিজা মো. আসাদুল গাজীর (২৫) ভিটাবাড়ির জমি ও পারিবারিক চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর আগে রাস্তা সংস্কার করতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারকে একাধিকবার বাধা ও হুমকি দেওয়া হয়।
​রোববার আনুমানিক সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জাহানারা খাতুনের মেজো ছেলে মো. জাহাঙ্গীর গাজী (৩০) স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় ১ নম্বর অভিযুক্ত আসাদুল গাজী হাতে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করলে তার শরীরে গুরুতর নীলাফোলা জখম হয়। জাহাঙ্গীর ডাক-চিৎকার শুরু করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করা হয় এবং ধারালো দা দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা মো. জুলফিকার কারিগরসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
​ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে সালিস-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে জমি দখল ও পুনরায় ক্ষতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তারা।
​আহত জাহাঙ্গীরকে চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জাহানেরা খাতুন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বর্তমানে পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহমুদুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন তদন্ত করে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষে আহত ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষে আহত ১

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আগরদাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রুহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১ সেপ্টেম্বর ভোরে জমিতে পাট শুকানোকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন ব্যক্তি রুহুল আমিনের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
মাদক ও অনলাইন জুয়ার ভয়াল থাবা: প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ

সম্পাদকীয়

সাতক্ষীরায় শহরাঞ্চল থেকে শুরু করে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত তরুণ ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিপজ্জনক আসক্তিতে পথ হারাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে উঠে এসেছে কিভাবে এই ভয়াল নেটওয়ার্ক জেলাজুড়ে বিস্তৃত হচ্ছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং অবৈধ মাদকের অবাধ প্রবাহের সুযোগে কেবল প্রাপ্তবয়স্করাই নন, কিশোরেরা পর্যন্ত জড়িয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়া ও মাদকের নীল চক্রে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জনজীবনে; আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ।

মাদক ও অনলাইন জুয়া কেবল কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে না, তা একটি পুরো পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া করে সামাজিক কাঠামো ভেঙে দিচ্ছে। এসব অনৈতিক অভ্যাসের টাকা জোগাড় করতেই অপরাধের পথে নামছে আসক্ত যুবকেরা, যার ফলে সাধারণ মানুষকে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। জেলাজুড়ে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া অপরাধপ্রবণতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এখনই কঠোর ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।

এই সংকট নিরসনে সামাজিক ও প্রশাসনিক উভয় স্তরেই জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মাদক সরবরাহকারী ও অনলাইন জুয়ার চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ও আপসহীন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি এলাকায় শিক্ষক, পুলিশ, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গড়ে তোলা যেতে পারে, যা স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করবে।

তবে কেবল আইন প্রয়োগ করেই এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তরুণদের মেধা ও শক্তিকে সুস্থ ধারার শিক্ষা, খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকা-ে যুক্ত করতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে বা ডিজিটাল মাধ্যমে কী করছেÑসে বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক ও অনলাইন জুয়ার হাত থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।