অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির সর্বোচ্চ সতর্কতা, টহল জোরদার
এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০২ কিলোমিটার সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত পথে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে যশোরের শার্শা ও বেনাপোলসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ওপার থেকে কোনো জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হতে পারেÑএমন আশঙ্কায় আগাম সতর্কতা হিসেবে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
যশোর ৪৯ বিজিবি ও খুলনা ২১ বিজিবির আওতাধীন শার্শা ও বেনাপোল সীমান্তের রঘুনাথপুর, শিকারপুর, সাদীপুর, ঘিবা, পুটখালী, পাঁচভুলট ও গোগা এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব পয়েন্টে রাত-দিন সমানতালে টহল দিচ্ছেন বিজিবি সদস্যরা।
এ বিষয়ে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকা- এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন, “সীমান্তে আমাদের নজরদারি কঠোর করা হয়েছে যাতে করে কোনো অপরাধী বা অবৈধ কোনো ব্যক্তি অনুপ্রবেশ করতে না পারে। সাধারণ টহলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।”
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওপারে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার খবর আসার পর থেকেই সীমান্তে বিজিবির গতিবিধি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে চোরাই পথগুলোতে বিজিবির তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে। চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবির এই বাড়তি তৎপরতায় সীমান্ত এলাকায় এক ধরনের কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ সতর্কাবস্থা এবং বাড়তি টহল অব্যাহত থাকবে।









