বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩

অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মুনাফার লোভে জীবনের ঝুঁকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৪৫ অপরাহ্ণ
অবৈধ জ্বালানি মজুদ: মুনাফার লোভে জীবনের ঝুঁকি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
দেশের অর্থনীতি, জনজীবন এবং নিরাপত্তা-এই তিনটি স্তম্ভকে একসঙ্গে নাড়িয়ে দিতে পারে এমন সংকট খুব বেশি দেখা যায় না। কিন্তু জ্বালানি তেলকে ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ঠিক সেই বিরল উদাহরণগুলোর একটি, যেখানে বাজারের অনিশ্চয়তা, সামাজিক মনস্তত্ত্ব এবং অসাধু চক্রের অপতৎপরতা মিলেমিশে এক জটিল পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। এই সংকটের দৃশ্যমান অংশটি হলো সরবরাহের ঘাটতি কিংবা মূল্যবৃদ্ধি; কিন্তু এর অদৃশ্য ও অধিক বিপজ্জনক দিকটি হলো-অবৈধ মজুদ, যা ধীরে ধীরে জননিরাপত্তার জন্য এক নীরব হুমকিতে পরিণত হচ্ছে। প্রথমেই স্বীকার করতে হবে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের বাজার দীর্ঘদিন ধরেই অস্থির। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধ, উৎপাদন হ্রাস কিংবা সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘœ-এসব কারণে তেলের দাম ওঠানামা করছে।

 

এই বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রভাব বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আরও বেশি প্রকট হয়ে ওঠে। কারণ, এসব দেশের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর এবং বাজার ব্যবস্থাপনা তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে সামান্য গুজব কিংবা অনিশ্চয়তাও এখানে দ্রুত আতঙ্কে রূপ নেয়। এই আতঙ্কের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হলো ‘প্যানিক বায়িং’। সাধারণ মানুষ যখন আশঙ্কা করে যে সামনে জ্বালানি সংকট হতে পারে, তখন তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিনে মজুদ করতে শুরু করে।

 

এটি মানুষের স্বাভাবিক মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া হলেও এর ফলাফল মোটেও নিরীহ নয়। কারণ, এই আচরণ বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করে, সরবরাহের ওপর অস্বাভাবিক চাপ ফেলে এবং স্বাভাবিক চাহিদা-যোগানের ভারসাম্যকে নষ্ট করে দেয়। কিন্তু সমস্যার মূল উৎস কেবল সাধারণ মানুষের আতঙ্ক নয়; বরং এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে একটি অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল মজুদ করে বাজারে সংকট তৈরি করে এবং পরে উচ্চ দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে।

 

অর্থনীতির ভাষায় একে বলা হয় ‘হোয়ার্ডিং’ বা মজুদদারি-যা একটি গুরুতর বাজার বিকৃতি। এটি শুধু ভোক্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এই আলোচনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-অবৈধ মজুদের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি। জ্বালানি তেল, বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেন, অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। এগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয় এবং বাতাসের সঙ্গে মিশে বিস্ফোরক মিশ্রণ তৈরি করতে পারে।

 

একটি ছোট্ট স্ফুলিঙ্গ, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা অসাবধানতাবশত আগুনের সংস্পর্শেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাস্তবতা হলো, যারা অবৈধভাবে তেল মজুদ করছেন, তাদের অধিকাংশেরই এ বিষয়ে ন্যূনতম জ্ঞান বা প্রস্তুতি নেই। তারা ড্রাম, প্লাস্টিকের বোতল, এমনকি বসতবাড়ির অপ্রচলিত পাত্রে তেল সংরক্ষণ করছেন-যা সম্পূর্ণ অনিরাপদ। এতে শুধু মজুদকারীর নিজের জীবনই নয়, তার পরিবার, প্রতিবেশী এবং আশপাশের পুরো এলাকার মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

 

সাম্প্রতিক কয়েকটি দুর্ঘটনা এই বাস্তবতাকে নির্মমভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। কোথাও শিশু খেলতে গিয়ে ড্রামে রাখা ডিজেলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে, কোথাও তেলের ড্রাম পরিষ্কার করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে মানুষ। এসব ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়; এগুলো আমাদের সামাজিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার প্রতিচ্ছবি। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে-কেন মানুষ এত বড় ঝুঁকি জেনেও এই কাজ করছে? এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের সমাজের অর্থনৈতিক ও মানসিক বাস্তবতার দিকে তাকাতে হবে।

 

একদিকে রয়েছে অনিশ্চয়তার ভয়, অন্যদিকে রয়েছে দ্রুত লাভের প্রলোভন। এই দুইয়ের সংমিশ্রণ মানুষকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় তারা নিত না। আমাদের সমাজে এখনো একটি প্রবণতা রয়েছে-আইনকে পাশ কাটিয়ে ব্যক্তিগত লাভের পথ খোঁজা। জ্বালানি মজুদের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অনেকেই মনে করেন, কিছু অতিরিক্ত তেল মজুদ করে রাখলে ভবিষ্যতে লাভবান হওয়া যাবে। কিন্তু তারা উপলব্ধি করেন না, এই ‘সামান্য’ সিদ্ধান্তই বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।

 

আইনগত দিক থেকেও বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট। লাইসেন্স ছাড়া এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা মানদ- অনুসরণ না করে জ্বালানি তেল মজুদ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। বিস্ফোরক অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত অভিযান চালালেও বাস্তবতা হলো-এই সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। কারণ, এটি কেবল আইন প্রয়োগের বিষয় নয়; এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক সমস্যা।

 

যতক্ষণ না মানুষ নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে, ততক্ষণ এই প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন। প্রশাসন হয়তো কিছু মজুদ জব্দ করতে পারবে, কিছু মানুষকে শাস্তি দিতে পারবে; কিন্তু সামগ্রিক আচরণগত পরিবর্তন ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা সৃষ্টি, তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন এবং জনমত গঠনের মাধ্যমে গণমাধ্যম এই সমস্যার বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় নেতৃত্বকেও এগিয়ে আসতে হবে।

 

সরকারের দায়িত্বও কম নয়। জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল রাখা, বাজারে গুজব প্রতিরোধ করা এবং অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি উৎসের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করাও সময়ের দাবি। সবশেষে বলা যায়, অবৈধ জ্বালানি মজুদ একটি বহুমাত্রিক সংকট-যার মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি একসঙ্গে জড়িত। এটি কেবল একটি আইনি সমস্যা নয়; এটি আমাদের সচেতনতা, দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধেরও একটি পরীক্ষা।

 

জ্বালানি তেলকে কেন্দ্র করে যে অস্থিরতা আমরা সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যক্ষ করছি, তার পেছনে কেবল সরবরাহ ঘাটতি বা বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামা দায়ী-এমনটি ভাবলে বাস্তবতার একটি বড় অংশ অদেখাই থেকে যায়। প্রকৃতপক্ষে এই সংকটের গভীরে রয়েছে বাজার কাঠামোর দুর্বলতা, তথ্যের অসমতা এবং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের সক্রিয় উপস্থিতি। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের আলোকে দেখলে বোঝা যায়, অবৈধ মজুদদারি কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ব্যক্তির অনৈতিক কর্মকা- নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যার লক্ষণ।

 

প্রথমেই আসা যাক বাজারের মৌলিক নীতির কথায়। একটি সুস্থ বাজারব্যবস্থায় চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে মূল্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু যখন কোনো পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সরবরাহ কমিয়ে দেয়-যেমন মজুদ করে রাখার মাধ্যমে-তখন বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এর ফলে মূল্য বেড়ে যায়, এবং সেই বাড়তি দামের সুযোগ নিয়ে মজুদকারীরা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করে। এই প্রক্রিয়াটি অর্থনীতিতে ‘মার্কেট ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে পরিচিত।

 

বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এই ধরনের কারসাজির সুযোগ তৈরি হওয়ার পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, জ্বালানি সরবরাহ একটি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত খাত হলেও এর বিতরণ ব্যবস্থায় রয়েছে বহুস্তরীয় মধ্যস্বত্বভোগী। ডিপো, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা-এই দীর্ঘ শৃঙ্খলের প্রতিটি স্তরেই স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ফলে কোথায় কত তেল মজুদ আছে, কোথায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে-এই তথ্যগুলো সব সময় পরিষ্কারভাবে পাওয়া যায় না। এই তথ্যের অসাম্য বা ‘ইনফরমেশন অ্যাসিমেট্রি’ই সিন্ডিকেটদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

 

তারা বাজারের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের চেয়ে বেশি জানে এবং সেই জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। অন্যদিকে, সাধারণ ভোক্তা গুজব ও অনিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-গুজবের অর্থনীতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে একটি ভুল তথ্য বা অর্ধসত্য খবর মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

 

“তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে”, “আগামীকাল দাম বাড়বে”-এ ধরনের বার্তা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এর ফলে তারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনতে শুরু করে, যা আবার বাজারে চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। এই বাড়তি চাহিদা সিন্ডিকেটদের পরিকল্পনাকে সফল করে তোলে।

অর্থাৎ, এখানে একটি ‘সেল্ফ-ফালফিলিং প্রফেসি’ কাজ করে-গুজব থেকেই যে সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়, সেই গুজবই শেষ পর্যন্ত সংকটকে বাস্তবে রূপ দেয়। এই চক্রটি ভাঙা না গেলে বাজার কখনোই স্থিতিশীল হতে পারে না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মূল্যনিয়ন্ত্রণ নীতি। অনেক সময় সরকার জনগণের স্বার্থে জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে রাখে। কিন্তু যদি এই মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক কম হয়, তাহলে চোরাচালান ও মজুদদারির প্রবণতা বাড়ে।

 

কারণ, তখন ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির আশায় তেল ধরে রাখে বা অন্যত্র পাচার করার চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে অর্থনীতির একটি পরিচিত ধারণা প্রযোজ্য-‘প্রাইস ডিস্টরশন’। যখন বাজারমূল্য বাস্তব চাহিদা-যোগানের প্রতিফলন না হয়ে প্রশাসনিকভাবে নির্ধারিত হয়, তখন বাজারে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দেয়। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও আমরা তার ব্যতিক্রম দেখি না। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরেকটি সমস্যা হলো-বিকল্প জ্বালানি উৎসের সীমাবদ্ধতা।

 

যখন একটি অর্থনীতি একটি নির্দিষ্ট জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সেই জ্বালানির সরবরাহে সামান্য বিঘœও বড় সংকটে রূপ নেয়। এই নির্ভরশীলতা সিন্ডিকেটদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে, কারণ তারা জানে-বাজারে চাহিদা যেকোনো পরিস্থিতিতেই থাকবে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন আসে-সিন্ডিকেট কীভাবে কাজ করে? সাধারণত তারা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত থাকে। তারা সমন্বিতভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে দেয়, মজুদ করে রাখে এবং নির্দিষ্ট সময়ে উচ্চ দামে বাজারে ছাড়ে।

 

অনেক ক্ষেত্রে তারা গুজব ছড়ানোর মাধ্যমেও বাজারকে প্রভাবিত করে। এটি একধরনের ‘কার্টেল বিহেভিয়ার’, যেখানে কয়েকটি পক্ষ একসঙ্গে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। এই ধরনের কর্মকা- প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থার পরিপন্থী এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তবে সমস্যার সমাধান খুঁজতে গেলে আমাদের কেবল সিন্ডিকেটকে দায়ী করলেই চলবে না। আমাদের বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোও স্বীকার করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বাড়ানো যায়, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং তথ্য সহজলভ্য করা যায়, তাহলে মজুদদারির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।

 

এছাড়া প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। যদি বাজারে আরও বেশি অংশগ্রহণকারী থাকে এবং কোনো একক গোষ্ঠীর আধিপত্য না থাকে, তাহলে কার্টেল গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করাও জরুরি, যাতে তারা গুজবের ফাঁদে না পড়ে। এখানে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিনির্ধারণ, তদারকি এবং আইন প্রয়োগ-এই তিনটি ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে, বাজারে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো অত্যন্ত জরুরি।

 

কারণ, তথ্যের অভাবই গুজবের জন্ম দেয়, আর গুজবই সংকটকে ত্বরান্বিত করে। সবশেষে বলা যায়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ একটি জটিল অর্থনৈতিক সমস্যা, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাজার কাঠামো, মানব আচরণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। এই সমস্যার সমাধানও তাই বহুমাত্রিক হতে হবে-শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং নীতি সংস্কার, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সামাজিক সচেতনতার সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

লেখক: সংবাদ কর্মী

 

Ads small one

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৫ পূর্বাহ্ণ
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত সুযোগ, নাকি নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি?

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইতিপূর্বে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই জোটকে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্যে এক বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ৭ আগস্ট এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর ঢাকার পক্ষ থেকে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টি নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের যে স্বাধীন ও সুষম পররাষ্ট্রনীতি, তার আলোকেই এই জোটে অংশগ্রহণের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তাজনিত লাভ-ক্ষতি গভীর পর্যালোচনার দাবি রাখে। কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন: বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল স্তম্ভ হলো “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। একটি বহুজাতিক সামরিক বা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত এই নীতিনির্ধারণী ভিত্তিকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

‎এ ধরনের চুক্তিতে সরাসরি যোগ দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটি নির্দিষ্ট ব্লকের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে ধারণা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, যেখানে মক্কা চুক্তিতে ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের মতো ‘একজনের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ’ নীতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক সংঘাতের জটিলতায় জড়িয়ে বাংলাদেশের সৈন্যদের অন্য দেশের যুদ্ধে নিয়োজিত করার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। একই সাথে অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের অন্যতম বড় চালিকাশক্তি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স এবং বিভিন্ন প্রধান শক্তির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক। কোনো সামরিক ব্লকে জড়ানোর ফলে যদি ভারত, যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটে, তবে তার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের রপ্তানি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

আঞ্চলিক পরাশক্তি, সামরিক বাজার ও ভূ-রাজনৈতিক চাপ
‎দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতেও এই সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান এবং শক্তিশালী সামরিক প্রবিধিসম্পন্ন তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের যেকোনো সামরিক সম্পৃক্ততা প্রতিবেশীদের দৃষ্টিতে একটি নতুন কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের সীমানা সংলগ্ন অঞ্চলে কৌশলগত চাপ বাড়াবে এবং আন্তর্জাতিক দরকষাকষিতে ঢাকার পথ জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের উদীয়মান প্রসার ও বাণিজ্যিক স্বার্থও এখানে স্পষ্ট। তুরস্কের সামরিক আধুনিকায়ন প্রকল্প ‘ঋড়ৎপবং এড়ধষ ২০৩০’-এর আওতায় তাদের আধুনিক ড্রোন, প্রযুক্তিসম্পন্ন নৌ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বড় বাজার হতে পারে।

‎বৈশ্বিক মঞ্চে ইতিবাচক কূটনীতি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সভাপতি নির্বাচিত হওয়া আন্তর্জাতিক মঞ্চে ঢাকার কূটনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবকেই পুনর্ব্যক্ত করে। বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই বর্ধিত দরকষাকষির ক্ষমতাকে সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও সুষম কূটনীতির কাজে ব্যবহার করাই যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ ইতিপূর্বে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৪টি দেশের ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’-এ যুক্ত হয়েছে। কিন্তু ওই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সরাসরি বাণিজ্যিক নিরাপত্তা দেওয়া, যা দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে, সরাসরি কোনো বহুজাতিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়া ভিন্ন হিসাব-নিকাশের বিষয়।

‎বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রভাব, ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য ও কূটনৈতিক সম্ভাবনা
‎১. অর্থনৈতিক রূপরেখা: মক্কা চুক্তির মতো জোটে যোগ দিলে স্বল্পমেয়াদে সৌদি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা মিললেও, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা বা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে জ্বালানি আমদানির খরচ ও শিপিং বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুণœ রাখা।

‎২. ত্রিমুখী কৌশলগত ভারসাম্য (ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্র): বাংলাদেশ বর্তমানে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সফলভাবে ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। মক্কা চুক্তিতে পাকিস্তানের উপস্থিতি এবং তুরস্কের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ঢাকার এই সূক্ষ্ম ভারসাম্যমূলক অবস্থানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
‎৩. জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে ভূমিকা: সরাসরি কোনো সামরিক বলয়ে না গিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের মধ্যস্থতাকারী ও শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী ভাবমূর্তিকে জোরদার করা প্রয়োজন। এতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি উভয়ই সুরক্ষিত থাকবে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা।

 

শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কারাগারে থাকায় প্রশাসক নিয়োগ

সংবাদদাতা: চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে থাকা সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামের পক্ষে ফেসবুকে সরব হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে তাকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

গত ২৪ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে শ্যামনগর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ আগস্ট সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পোস্ট দেন। চেয়ারম্যানকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাকে তিনি ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে শ্যামনগরবাসীকে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

গাজী নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ‘দুবারের সফল চেয়ারম্যান’ হাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার নয়, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো এবং তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মুখরোচক অপপ্রচার’ প্রতিপক্ষের ‘কঠিন চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের ফল’। তিনি ‘প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের’ মাধ্যমে নিজেদের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন।

তবে যে মামলায় হাজী নজরুল ইসলাম কারাগারে রয়েছেন, সেই মামলার এজাহারে চাঁদা দাবি, প্রকল্পের কাজে বাধা, হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ রয়েছে। হাজী নজরুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। তাঁর ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি করে কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। চাঁদা না দেওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।

এরপর ২৩ মে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর এবং তাঁকে রক্ষা করতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ আনা হয়। প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলো মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডল ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে গত ১০ আগস্ট তাঁরা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন করেন।

শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই হাজী নজরুলের পক্ষে ফেসবুকে সরব হন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তার বক্তব্যে চেয়ারম্যানের কারাগারে যাওয়ার ঘটনাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এদিকে জেলা প্রশাসনের চিঠিতে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম কারাগারে থাকায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

ফলে চাঁদাবাজির মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে যাওয়ার পর এবার তার দায়িত্বে প্রশাসক বসানোর মধ্য দিয়ে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার নতুন ব্যবস্থা করা হলো।

 

 

শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার জসনে জুলুস এর আয়োজনে পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে শ্যামনগরে উপজেলা জসনে জুলুস এর র‌্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতি ছিলেন মাস্টার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম (হেলাল)। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মাওলানা বেলাল হোসেন। পবিত্র কুরআন তেলওয়াত এর মাধ্যমে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভাপতি বক্তব্য শুরুতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নবী প্রেমিক মুসল্লীদেরকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জসনে জুলুস এর উপর গুরুত্বারোব করে এক দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি বলেন, অত্র সংগঠনটি একটি অ-রাজনৈতিক সংগঠন।

 

হুজুর পাক (সাঃ) এর আবির্ভাবের মূহুর্তে সমগ্র সৃষ্টিকুলের মধ্যে যে জাগরণ, শিহরণ ও উচ্ছাস সৃষ্টি হয়েছিল সেই দিনের অনুসরণে নবী প্রেমিকদের নিয়ে র‌্যালি, যাহা জসনে জুলুস র‌্যালী নামে আখ্যায়িত।

 

এই র‌্যালী অনন্তকাল ব্যাপী জারি থাকবে ইনশাআল্লাহ। সভায় হায়বাতপুর শেখ পাড়া জামে মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ও খায়রিয়া আজিজিয়া ফাউন্ডেশনের সুজগ্য সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোস্তাক আহম্মাদ জসনে জুুলুস উদযাপন সুশৃঙ্খল ও সুন্দর করার জন্য উপস্থিত সকলকে পরামর্শ পদান করেন। পর্যায়ক্রমে উপজেলা ব্যাপী বিভিন্ন মসজিদ ও সংগঠন থেকে র‌্যালী সহকারে উপজেলা ঈদগাহ ময়দানে আলোচন সভায় মিলিত হয়।