শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: বিপন্ন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট: বিপন্ন দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবন

চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন এখন লোডশেডিংয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট। বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে বিদ্যুতের এই লাগামহীন বিভ্রাট কেবল মানুষের দৈনন্দিন স্বস্তিই কেড়ে নেয়নি, বরং বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী খাত হিমায়িত চিংড়ি শিল্প, কৃষি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে। পত্রপত্রিকার খবর অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখতে গিয়ে কারখানা মালিকদের প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিলের তুলনায় জেনারেটরের জ্বালানি খরচ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় অনেক কারখানা এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

হিমায়িত চিংড়ি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে এসব কারখানাকে ডিজেল সংগ্রহের জন্য প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। এই শিল্পকে গার্মেন্টস খাতের মতো অগ্রাধিকার দিয়ে সরাসরি ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ দেওয়া এবং বিশেষ বিদ্যুৎ ফিডারের আওতায় আনা জরুরি। অন্যথায় এই রপ্তানি খাতটি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা হারাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব কেবল শিল্পে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আঘাত হেনেছে কৃষিখাতেও। বোরো চাষের এই ভরা মৌসুমে সেচ পাম্পগুলো পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় মাঠের ফসল শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ডিজেল চালিত পাম্প ব্যবহার করে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একইভাবে, উপকূলীয় উপজেলা কয়রা, দেবহাটা ও আশাশুনিসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবীদের আয় তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহন চার্জ দিতে না পেরে নি¤œআয়ের মানুষগুলো এক মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ। প্রখর রোদ আর ভ্যাপসা গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের মূল্যবান সময়গুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়াশোনা করা বর্তমান যুগে অকল্পনীয়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অর্ধেক হওয়াটা গভীর এক সংকটের ইঙ্গিত দেয়। উৎপাদন ঘাটতি মেনে নিলেও অন্তত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়টুকুতে এবং সেচ মৌসুমে সুপরিকল্পিত লোডশেডিং সূচি প্রণয়ন করা একান্ত প্রয়োজন।

আমরা মনে করি, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জেলা পর্যায়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প এলাকা এবং সীমান্তবর্তী কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়া সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। বিদ্যুৎ বিভাগ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে অতি দ্রুত এই অচলাবস্থা নিরসন করতে হবে। নতুবা বিদ্যুৎ সংকটের এই নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও আগামী প্রজন্মের শিক্ষাজীবনকে এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত করবে।

 

Ads small one

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যা জানালো আইভ্যাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৯:০০ অপরাহ্ণ
ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যা জানালো আইভ্যাক

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা আবেদন চালু হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)। ভিসা আবেদনের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে তারা।

আইভ্যাক বলছে, সব আবেদনকারীকে অবহিত করা হচ্ছে যে, ঢাকার হাইকমিশন এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় সহকারী হাই কমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে রবিবার (২৮ জুন) থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হবে।

সোমবারের (২৯ জুন) ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লটগুলি রবিবার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলির (আইভিএসি) অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

ভিসার জন্য সাইন-আপ এবং ওয়েবফাইল আপলোডের সুযোগ দেওয়া হবে দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং শুধু বিকাল ৫টায় খোলা হবে। শুধু যারা তাদের ওয়েবফাইলগুলো সফলভাবে আপলোড করেছেন তাদের জন্য স্লট খোলা থাকবে।

‘সামথিং বিগ’ নিয়ে আসছেন জাজের ‘ডানাকাটা’ পরী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
‘সামথিং বিগ’ নিয়ে আসছেন জাজের ‘ডানাকাটা’ পরী

ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি আবারও নতুন প্রজেক্টের ইঙ্গিত দিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে তার সম্ভাব্য নতুন কাজ ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। দীর্ঘ বিরতির পর এই খবর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।

পরীমণি ২০১৫ সালে বড়পর্দায় অভিষেক করেন। এরপর ২০১৬ সালে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নির্মিত ‘রক্ত’ চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। অ্যাকশন-রোম্যান্টিক ঘরানার এই ছবিতে তার গ্ল্যামার ও পর্দার উপস্থাপনা তাকে ‘ডানাকাটা পরী’ ইমেজ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

এই ছবিরই সেই সাড়া জাগানো আইটেম গান— “স্ট্যাটাস আমার সিঙ্গেল দেখে, লাগায় হুড়োহুড়ি, হায়রে কি যে করি, আমি ডানা কাটা পরী”— দুই বাংলায় দেখিয়েছিল গ্ল্যামারের ঝলক। জাজ মাল্টিমিডিয়ার সাথে পরীমনির সে একটি চলচ্চিত্রের পর এবার ফের নতুন সম্ভাবনার ডাক এসেছে।

এরপর ধীরে ধীরে পরীমনির ক্যারিয়ারে আসে একাধিক উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। ২০১৮ সালে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘স্বপ্নজাল’ তার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর তিনি অভিনয় করেন ‘বিশ্বসুন্দরী’ (২০২০), ‘গুণিন’ (২০২১), ‘স্ফুলিঙ্গ’ (২০২১) এবং ‘মুখোশ’ (২০২২) চলচ্চিত্রে।

সবশেষে বড়পর্দায় তাকে দেখা যায় ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এ, যার পর থেকে তিনি কিছুটা বিরতিতে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবন, মাতৃত্ব এবং নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি কমে যায়।

সম্প্রতি ‘বিশ্ব পরী দিবস’ উপলক্ষে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজক আব্দুল আজিজ পরীমনির বাসায় যান। সেখানে পরীমনির সন্তান রাজ্যের সঙ্গে কেক কাটার মুহূর্তও দেখা যায়। পরীমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে লেখেন— “সেলিব্রেটিং সামথিং বিগ! কামিং সুন!! জাজ মাল্টিমিডিয়া এক্স পরীমনি এগেইন”।

তবে নতুন এই প্রজেক্ট নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি নন জাজের প্রযোজক আব্দুল আজিজ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়ে এখনই আমরা কিছু বলতে চাই না। অফিসিয়ালি ঘটা করে জানাবো।”

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাজের সঙ্গে নতুন কাজের ইঙ্গিত পাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে— দর্শক যে ‘ডানাকাটা পরী’কে একসময় বড়পর্দায় দেখেছিল, তিনি কি আবারও স্বরূপে ফিরতে পারবেন?

পরীমণিও মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এ বিষয়ে এখনই মুখ খুলছেন না তিনিও। তবে, ‘সামথিং বিগ’ কিছু যে আসছে, তার ইঙ্গিত তো তিনি দিয়েছেনই।

ভক্তদের প্রত্যাশা, নতুন এই প্রজেক্টের মাধ্যমে পরীমনি আবারও শক্তিশালী উপস্থিতি নিয়ে বড়পর্দায় ফিরবেন।

৩ বছর পর খুললো গাজার চোখের ক্লিনিক, তবু কাটছে না সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
৩ বছর পর খুললো গাজার চোখের ক্লিনিক, তবু কাটছে না সংকট

প্রায় তিন বছর পর আবার চালু হয়েছে গাজার একমাত্র কৃত্রিম চোখের ক্লিনিক। ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য নিবন্ধন করেছেন শত শত মানুষ। তবে প্রয়োজনীয় কৃত্রিম চোখের সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক ইব্রাহিম আল-খালিলি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় মাত্র ১৪০টি কৃত্রিম চোখ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অথচ ক্লিনিকটি পুনরায় চালু হওয়ার প্রথম দুই সপ্তাহেই চিকিৎসার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৮৫০ জনের বেশি রোগী।

কৃত্রিম চোখ বিশেষজ্ঞ সাবরি হাজাজ বলেন, যেসব কৃত্রিম চোখ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর কিছু রোগীদের প্রয়োজনীয় আকারের সঙ্গে মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে রঙও উপযুক্ত নয়।

ইবোলা শঙ্কায় বদলে গেল ভারতে প্রবেশের নিয়মইবোলা শঙ্কায় বদলে গেল ভারতে প্রবেশের নিয়ম
তিনি আরও জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে চোখের গহ্বরের অবস্থান সামান্য ভিন্ন হওয়ায় কৃত্রিম চোখ ঠিকভাবে বসানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার অস্ত্রোপচারের পর জটিলতার কারণে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে কৃত্রিম চোখ লাগানোই সম্ভব হচ্ছে না।