শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

অভিশপ্ত নাকি নিছক কাকতাল? কোহিনূরের চেয়েও ভয়ঙ্কর হীরার ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
অভিশপ্ত নাকি নিছক কাকতাল? কোহিনূরের চেয়েও ভয়ঙ্কর হীরার ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন

অভিশপ্ত রত্নপাথরের গল্প ইতিহাসে নতুন নয়, তবে ‘হোপ ডায়মন্ড’-এর মতো এত অন্ধকার ও ভয়াল ইতিহাস আর কোনও রত্নের ভাগ্যে জোটেনি। ৪৫ ক্যারেটেরও বেশি ওজনের এই গাঢ় নীল রঙের হীরাটিকে বলা হয় ‘বিশ্বের সবচেয়ে অভিশপ্ত হীরা’। কারণ, এর পেছনে লুকিয়ে আছে একের পর এক দুর্যোগ, দেউলিয়াপনা ও মৃত্যুর দীর্ঘ ইতিহাস। বর্তমানে এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে সংরক্ষিত থাকলেও, এই অভিশপ্ত হীরার মূল উৎপত্তি ভারতে।

হোপ ডায়মন্ডের লিখিত ইতিহাস শুরু হয় ১৬৬৬ সালে, যখন ফরাসি ভ্রমণকারী ও রত্ন ব্যবসায়ী জাঁ-ব্যাপটিস্ট তাভেরনিয়ে ভারতে এটি ক্রয় করেন। পরে ১৬৬৮ সালে তিনি এটি ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুইয়ের কাছে বিক্রি করে দেন। স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামের তথ্যমতে, সে সময় ভারতই ছিল হীরার একমাত্র বাণিজ্যিক উৎস এবং হীরাটি ভারতের গোলকোণ্ডা অঞ্চলের কোল্লুর খনি থেকে সংগৃহীত হয়েছিল।

তবে এই হীরার প্রকৃত উৎপত্তি ঘিরে ছড়িয়ে আছে এক রোমাঞ্চকর রহস্য। একটি প্রচলিত উপকথা অনুযায়ী, আদিতে ১১১ ক্যারেটের এই নীল হীরাটি ভারতের একটি মন্দির থেকে চুরি করা হয়েছিল, যা হিন্দু দেবী সীতাদেবীর মূর্তির চোখ হিসেবে বসানো ছিল। চুরির ঘটনা জানতে পেরে ক্রুদ্ধ গ্রামবাসীরা শাপ দেয়, যিনিই এই হীরার মালিক হবেন, তার জীবনে নেমে আসবে ঘোর বিপর্যয়। যদিও এই কাহিনীর পক্ষে কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই, তবে রত্নটির ওপর চেপে বসা অভিশাপের তকমাটিকে তা আরও জোরালো করেছে।

অভিশপ্ত নাকি নিছক কাকতাল? কোহিনূরের চেয়েও ভয়ঙ্কর হীরার ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন

পরবর্তীতে চতুর্দশ লুইয়ের জন্য তাভেরনিয়ের মূল ১১১ ক্যারেটের হীরাটি কেটে প্রায় ৬৯ ক্যারেটের ‘ফ্রেঞ্চ ব্লু’ তৈরি করা হয়। ফরাসি বিপ্লবের অরাজকতার সময় ১৭৯২ সালে রাজকীয় সংগ্রহশালা থেকে এটি চুরি হয়ে যায়। প্রায় দুই দশক গায়েব থাকার পর ১৮১২ সালে লন্ডনে হুবহু একই বৈশিষ্ট্যের একটি নীল হীরা দৃশ্যমান হয়। গবেষকদের মতে, চুরি হওয়া ফ্রেঞ্চ ব্লুকে আবার কেটে আধুনিক হোপ ডায়মন্ডে রূপ দেওয়া হয়েছিল। ১৮৩৯ সালে ‘হোপ’ ব্যাংকিং পরিবারের এক রত্ন ক্যাটালগে ৪৫.৫ ক্যারেটের এই নীল হীরার উল্লেখ মেলে এবং সেখান থেকেই এর নাম হয় ‘হোপ ডায়মন্ড’।

অভিশপ্ত রত্ন বললেই অনেক ভারতীয়র মনে কোহিনূরের কথা আসে, কিন্তু মালিকদের ধ্বংস করার ক্ষেত্রে কোহিনূরও হোপ ডায়মন্ডের সমকক্ষ নয়। ১৯১১ সালে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে লেখা হয়েছিল, শতবর্ষ আগে ভারত থেকে খনন করে আনা হোপ ডায়মন্ডের চেয়ে বেশি অশুভ ইতিহাস সম্ভবত আর কোনও রত্নের নেই। এটি এর মালিকদের জন্য বিভিন্ন সময়ে মৃত্যু, বিপর্যয়, অপমান ও চরম দারিদ্র্য বয়ে এনেছে।

 

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, হোপ ব্যাংকিং পরিবারের লর্ড হেনরি ফ্রান্সিস হোফ ও তার স্ত্রী মে ইয়োহে চরম অর্থকষ্টে পড়ে ১৯০২ সালে বিচ্ছেদ ঘটান। সর্বস্ব হারিয়ে লর্ড হেনরি হীরাটি সাইমন ফ্রাঙ্কেল নামের এক জহুরির কাছে বিক্রি করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কেল থেকে হীরাটি কেনা জাক কোলে পরবর্তীতে আত্মহত্যা করেন। এরপর এটি যায় রুশ যুবরাজ ইভান কানিটোভস্কির হাতে, যিনি হীরাটি কেনার কিছুদিনের মধ্যেই রুশ বিপ্লবীদের হাতে খুন হন। এছাড়া, প্যারিসের নৃত্যশিল্পী লরেন্স লাডু এই হীরাটি পাওয়ার পর ঈর্ষান্বিত প্রেমিকের হাতে নিহত হন। এমনকি হীরাটির মালিক গ্রিক ব্যবসায়ী সাইমন মানচারাইডেস ১৯১০ সালে এটি বিক্রি করার পর সপরিবারে গাড়ি দুর্ঘটনায় পাহাড়ি খাদে পড়ে মারা যান।

হীরাটির এই ভয়ঙ্কর দুর্নামকে বিক্রির কৌশল বানিয়েছিলেন ফরাসি রত্ন ব্যবসায়ী পিয়েরে কার্টিয়ার। আমেরিকার ধনকুবের ঐশ্বর্যময়ী এভলিন ওয়ালশ ম্যাকলিনের কাছে হীরাটি বিক্রির জন্য কার্টিয়ার চুরির গল্প ও অভিশাপের ইতিহাসকে আরও রঙিন ও নাটকীয় করে তোলেন। ১৯১১ সালে এভলিন হীরাটি কিনে নেন। তবে এটি কেনার পর তার নয় বছরের ছেলে দুর্ঘটনায় মারা যায়, স্বামী অন্য নারীর জন্য তাকে ছেড়ে যান, মেয়ে মারা যান অতিরিক্ত ওষুধ সেবনে এবং চরম দেনায় ডুবে তিনি তার সংবাদপত্র দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট বিক্রি করতে বাধ্য হন।

১৯৪৭ সালে এভলিনের মৃত্যুর পর জহুরি হ্যারি উইনস্টন তার রত্ন সংগ্রহ কিনে নেন এবং ১৯৫৮ সালে হীরাটি স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামে দান করেন। অবশ্য স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এই অশুভ দুর্ঘটনার তালিকাগুলোকে অনেকটাই অতিরঞ্জিত ও ঐতিহাসিক তথ্যের ঘাটতিযুক্ত বলে মনে করে। তথ্যভিত্তিক প্রমাণ যাই থাক না কেন, মৃত্যুর মিছিলে ভরা হোপ ডায়মন্ড আজও বিশ্বের ইতিহাসের এক রহস্যময় আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

Ads small one

দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

আজ মহাষষ্ঠী।‌ দেবী দুর্গার আনুষ্ঠানিক জাগরণের মধ্য দিয়ে শুরু হলো বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর মন্দিরগুলোতে ধূপ-ধুনুচি, পঞ্চপ্রদীপ, উলুধ্বনি ও ঢাকের তালে দেবী দুর্গাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। দেবীর বোধন, আবাহন এবং অধিবাসের মধ্য দিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে পূজা-অর্চনা করা হয়েছে।

এ দিন সকাল থেকে চণ্ডিপাঠে মুখরিত ছিল পূজামণ্ডপ। শঙ্খ ধ্বনি, ধূপের সুঘ্রাণ, আর ঢাকঢোলের বাদ্যের সঙ্গে ভক্তি-মন্ত্রে মেতে উঠেছে দেবী ভক্তরা। এরপর সায়ানকালে দেবীদুর্গার আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ভক্তদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে দুর্গার প্রতিমা। খড়গ-কৃপাণ, চক্র, গদা, তীর-ধনুক, ত্রিশূল আর কল্যাণ নিয়ে উপস্থিত হবেন এবং মহিষাসুর বধ করে হেসে উঠবেন দেবী।

সনাতন ধর্মমতে, যা কিছু দুঃখ-কষ্টের বিষয়, যেমন—বাধা-বিঘ্ন, ভয়, দুঃখ-শোক, জ্বালা-যন্ত্রণা এসব থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন দেবী দুর্গা। শাস্ত্রকাররা দুর্গা নামের অর্থ করেছেন—দুঃখের দ্বারা যাকে লাভ করা যায়, তিনিই দুর্গা। দেবী দুঃখ দিয়ে মানুষের সহ্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। তখন মানুষ অস্থির না হয়ে তাকে ডাকলেই তিনি তার কষ্ট দূর করেন। এ বছর ভক্তদের কষ্ট দূর করতে দেবী দুর্গা আসবেন ঘোড়ায় চড়ে, আর দশমীর দিন বিদায় নেবেন নৌকায়।

মহালয়াতেই দেবী আগমনের ঘণ্টা বাজে আর বিজয়া দশমী দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানোর দিন। এ দিনটি শেষ হয় মহা-আরতির মাধ্যমে। এর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠী থেকে দশমী প্রতিদিনই নানান আয়োজনে চলবে পূজা উৎসব। আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুই দিন মহাসপ্তমী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) অষ্টমী, মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মহানবমী এবং বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর মাধ্যমে বিদায় নেবেন দুর্গা দেবী।

গতকাল বৃহস্পতিবার সায়ংকালে দেবীর বোধন সম্পন্ন করা হয়েছে। বোধন মানে জাগ্রত করা বা জাগানো। বোধন হয় বেল গাছের তলায়। দেবতারাও বেল গাছের তলায় বোধন করেছিলেন, এ গাছের অন্য নাম শ্রীবৃক্ষ। শ্রী অর্থ সম্পদ বা সৌন্দর্য। তাই পুরোহিতরা সম্পদ বা সৌন্দর্য বা সংসারের উন্নতির জন্য, জ্ঞান ভক্তি লাভের জন্য বেল গাছের মূলে দুর্গাপূজার বোধন করেন।

এদিকে প্রতিমার সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জায় রাজধানীসহ সারাদেশের মন্দির চত্বর উৎসবমুখর। শঙ্খ ও উলুধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে ভক্তরা দেবীকে বরণ করে নিয়েছেন। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

দেশজুড়ে এবার ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে চলবে দেবীর আরাধনা। গত বছরের তুলনায় এ বছর মণ্ডপের সংখ্যা দেড় হাজার বেশি। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরে ২৫৮টি মন্দির-মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটি থাকছে। ২০ অক্টোবর নবমী উপলক্ষে সরকারের নির্বাহী আদেশে ছুটি, ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি, আর ২২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরপর ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, ফিরতে দেরি হবে’, এটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
‘বাচ্চাদের খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও, ফিরতে দেরি হবে’, এটাই ছিল স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথা

নেত্রকোনায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

 

‘বাচ্চাদের ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দাও। আমার আসতে একটু দেরি হবে, একটা নিউজ নিয়ে ব্যস্ত আছি।’ স্ত্রী আনন্দিতা সাংমাকে কথাগুলো বলেই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির (৪৪)। দুই সন্তানকে নিয়ে রাতের খাবার খেয়ে তার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্ত্রী। কিন্তু স্বামীর ফেরা আর হয়নি। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার কাছে পৌঁছায় লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে হত্যার খবর।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত পৌনে আটটার দিকে দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ানকে স্ত্রীর কাছে রেখে বেরিয়ে যান লুৎফুজ্জামান। পরে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন তিনি।

স্বামীর নিথর দেহের পাশে সন্তানকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আনন্দিতা। তার কাছে ঘটনাটি ছিল অবিশ্বাস্য। তিনি বলেন, স্বাভাবিক একটি সন্ধ্যায় সন্তানদের খাওয়ানোর সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনেছিলেন। প্রথমে ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো পটকা ফুটিয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই লোকমুখে জানতে পারেন, আমার স্বামীকে গুলি করা হয়েছে।

স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে আনন্দিতা বলেন, আমি তো আমার স্বামীকে আর ফিরে পাবো না। তবে যারা তাকে হত্যা করেছে, আমার অবুঝ দুটি শিশুকে পিতৃহারা করেছে, পুলিশ তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনুক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপিটিভি চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধ নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি। তার বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামে। তিনি মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। বসবাস করতেন দুর্গাপুরের তেলনজিয়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে।

রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের রাস্তার পাশে একটি বাড়ির বারান্দায় চায়ের দোকানটি। চারদিকে নীরবতা। দোকানটি থেকে লুৎফুজ্জামানের শ্বশুরবাড়ির দূরত্ব প্রায় ২০ গজ। বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনেরা কান্নাকাটি করছেন। তেলনজিয়া গ্রামে অধিকাংশ বাসিন্দাই গারো সম্প্রদায়ের।

লুৎফুজ্জামানের ফুফুশাশুড়ি নিরালা রেমা ও রুলি রেমা জানান, তারা বাড়ির বারান্দায় বসে গল্প করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে দোকানের কাছে গিয়ে দেখেন, লুৎফুজ্জামানের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে। তার মাথা, গলা ও বুক থেকে রক্ত ঝরছিলো।

স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে তেলনজিয়া গ্রামের শিলা সাংমা ও প্রয়াত ফিলিপ রাংসার মেয়ে আনন্দিতাকে বিয়ে করেন লুৎফুজ্জামান। তাদের দুই সন্তান- চার বছর বয়সী মেয়ে প্রান্তি ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আইয়ান সাফয়ান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে চা পান করেন লুৎফুজ্জামান। পরে বিরিশিরি উতরাইল বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। নিজের মুঠোফোন দোকানে ফেলে যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে মিনিট তিনেকের মধ্যে আবার ফিরে আসেন তিনি।

মুঠোফোন নিয়ে দোকান থেকে বের হওয়ার সময় দুই যুবক সেখানে এসে দোকানদারের কাছে সিগারেট চান। এরপর তারা লুৎফুজ্জামানকে লক্ষ্য করে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে ওই দুই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যান।

পরে লুৎফুজ্জামানকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দোকানি রবিন রাংসা বলেন, আমি তখন চায়ের কাপ ধুচ্ছিলাম। লুৎফুজ্জামান চা খেয়ে যাওয়ার সময় মুঠোফোন ফেলে যাওয়ায় আবার ফিরে আসেন। তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক এসে আমার কাছে সিগারেট চায়। এরপর লুৎফুজ্জামানকে গুলি করে। আমি পরপর চারটি গুলির শব্দ শুনেছি। ভয়ে বাসায় গিয়ে ঢুকে পড়ি।

রবিন রাংসার ভাষ্য, দুই যুবকের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হবে। তাদের একজনের পরনে লুঙ্গি, অন্যজনের পরনে থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট ছিলো। গুলি করার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যান। খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়েছিলো বলে জানান তিনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নেত্রকোনার এসপি তরিকুল ইসলাম, এএসপি (অপরাধ) মাহফুজা খাতুন, এএসপি (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম, দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমদ খান এবং দুর্গাপুরের ইউএনও আহমেদ সাদাতসহ পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এসপি তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জেলার সব থানাকে সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা লুৎফুজ্জামানকে কুপিয়ে জখম করেছিলো। সে সময় তার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে গুলিতে নিহত লুৎফুজ্জামানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় পুজা উপলক্ষে হাজার পরিবারের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। টাটা ক্রপকেয়ার কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেশব সাধু শুক্রবার সকাল দশটায় তার নিজ গ্রাম তৈলকুপিতে প্রায় হাজার পরিবারের মাঝে উক্ত শাড়ি লুঙ্গি নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

 

কেশব সাধু বলেন, প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা উপলক্ষে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করে আসছেন।

 

কেবশ সাধু বলেন, আমি এলাকার মানুষের ভালবাসায় সিক্ত। গতবছর পুজায় আমার বাবা আনন্দ সাধু নিজ হাতে বিতরণ কাজ করেছিলেন। এ বছর বাবা নেই, বাবা থাকলে তিনি নিজ হাতে এ কাজ করতেন। তিনি সকলের কাছে বাবার জন্য আর্শিবাদ কামনা করেন, বাবা যেন পরপারে সুখে শান্তিতে থাকতে পারেন। বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাটা ক্রপকেয়ারের স্বত্বাধিকারী গোবিন্দ সাধু, ব্যবসায়ী নারায়ণ চন্দ্র সাধুসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।